ফটোগ্রাফি পোস্ট- "পদ্মা নদীর সাথে মিশে যাওয়া মেঘলা আকাশের কিছু ফটোগ্রাফি"

in আমার বাংলা ব্লগ10 months ago

আসসালামু আলাইকুম

কেমন আছেন সবাই ? আশা করি আপনারা সবাই বেশ ভালো আছেন। চলে গেল ঈদ। সেই সাথে চলে গেল পবিত্র রমজান মাস। আবার এক বছর পর আমরা ফিরে পাবো এই রমজান মাস। জানিনা কে কতটুকু নিজেকে পরিশুদ্ধ করে নিতে পেরেছি। যাই হোক প্রতিদিনের মত করে আজও চলে আসলাম আপনাদের মাঝে আমার আরও কিছু ফটোগ্রাফি শেয়ার করার জন্য। আসলে চলতে ফিরতে এত এত ফটোগ্রাফি করেছি যে প্রতিটি ফটোগ্রাফি আমার মোবাইলে জমে একেবারে মোবাইল কে হ্যাংঙ করে দিয়েছে। এই ফটোগ্রাফি করে শেষ হবে কে জানে।

image.png

আমার কাছে ফটোগ্রাফি করা একটি আর্ট। আর সেই ফটোগ্রাফি যদি করা যায় মনের মনের মাধুরী মিশিয়ে তাহলে কিন্তু ফটোগ্রাফি হয়ে উঠে বেশ আকর্ষনীয় এবং দৃষ্টিনন্দন। অবশ্য সবার পক্ষে সুন্দর সুন্দর ফটোগ্রাফি করা হয়ে উঠে না। তবে আমরা যদি ক্যামেরার লেন্স এবং ফোকাস বুঝে একটু সময় নিয়ে ফটোগ্রাফি করতে পারি তাহলে কিন্তু আমরাও একজন দক্ষ ফটোগ্রাফার হতে পারবো। আর নিজেদের দক্ষতাকে সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলতে পারবো। তাই আমাদের উচিত হবে সুন্দর এই শিল্পটিকে সুন্দর করে শিখে নেওয়া।

WhatsApp Image 2025-08-18 at 23.14.23_2da99414.jpg

পদ্মার পাড় মানেই এক অন্যরকম অনুভূতি। কিছুদিন আগে আমার হাজবেন্ড আর আমার আপুরা মিলে হঠাৎ করেই ঠিক করলাম আমরা মাওয়া ঘাটে যাবো। সেদিন সকাল থেকেই আবহাওয়া ছিল মেঘলা। আকাশে রোদ ছিল না, আবার পুরোপুরি বৃষ্টিও নামেনি। মেঘগুলো যেন আকাশের কোলে নরম তুলার মতো ভেসে বেড়াচ্ছিল। এমন আবহাওয়া ভ্রমণের জন্য যেন একেবারেই উপযুক্ত। আমরা গাড়িতে চেপে রওনা হলাম মাওয়ার উদ্দেশ্যে। রাস্তায় চলতে চলতে দুইপাশে যতদূর চোখ যায় শুধু সবুজ আর প্রকৃতির রঙের খেলা দেখতে পাচ্ছিলাম। মনে হচ্ছিল শহরের ভিড় আর কোলাহল ছেড়ে আমরা সত্যিই অন্য এক দুনিয়ায় চলে যাচ্ছি।

মাওয়া ঘাটে পৌঁছেই মনে হলো যেন আমরা অনেক বড় এক আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে আছি। বিশাল পদ্মা নদী দূরে দূরে গিয়ে মিলিয়ে গেছে আকাশের সঙ্গে। যেন বোঝাই যাচ্ছে না কোথায় নদীর শেষ আর কোথায় আকাশের শুরু। নদীর বুকের ওপর ভেসে থাকা মেঘের প্রতিফলন এতটাই সুন্দর লাগছিল যে মনে হচ্ছিল স্বপ্নের ভেতরে দাঁড়িয়ে আছি। চারপাশে তখন হালকা বাতাস বইছিল। সেই বাতাসে পদ্মার ঢেউ গুলো একটু একটু করে দুলছিল, আর তার সঙ্গে মনেও তৈরি হচ্ছিল এক অদ্ভুত প্রশান্তি।

WhatsApp Image 2025-08-18 at 23.14.23_43df4c00.jpg

আমরা একটা রেস্টুরেন্টে গিয়ে বসলাম যেখান থেকে পুরো নদীর দৃশ্য চোখে পড়ছিল। জানালার পাশের সিটটা যেন একেবারে স্বর্গীয় জায়গা। সেখান থেকে নদী, ঘাটে বাধা বড় বড় লঞ্চ আর ফেরি, চারপাশের সবুজ গাছপালা আর মেঘলা আকাশ—সব একসাথে দেখা যাচ্ছিল। আমি জানালা দিয়ে তাকিয়ে শুধু ভাবছিলাম, জীবনের কত দৌড়ঝাঁপ, কত ব্যস্ততা, কত চাপের মাঝে এমন কিছু মুহূর্ত সত্যিই মানুষকে ভীষণ শান্তি দেয়। সেই মুহূর্তে মনে হচ্ছিল সময় থেমে যাক, আমি শুধু চুপচাপ বসে এই দৃশ্য দেখি আর উপভোগ করি।

WhatsApp Image 2025-08-18 at 23.14.23_59dfd205.jpg

রেস্টুরেন্টের বাইরে ঘাটের কাছেই ছোট ছোট ডিঙ্গি নৌকা বাঁধা ছিল। নৌকাগুলো দেখেই মনে হচ্ছিল এই নদী আসলে কেবল নদী নয়, মানুষের জীবনের সঙ্গে মিশে থাকা এক ইতিহাস। নদীর ওপর দিয়ে যে নৌকাগুলো ভেসে চলছিল, সেগুলোর ভেতরে হয়তো কেউ মাছ ধরছে, কেউ বা যাত্রী নিয়ে অন্য পারে যাচ্ছে। আবার কিছু নৌকা ঘাটেই বাধা, যেন একটু বিশ্রাম নিচ্ছে। ডিঙ্গি নৌকাগুলোর পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলোর মুখে ছিল ভ্রমণের উচ্ছ্বাস। অনেকে ছবি তুলছে, কেউ চিৎকার করে ডাকছে বন্ধুদের, আবার কেউ শুধু চুপচাপ দাঁড়িয়ে নদীর সৌন্দর্য দেখছে। এই সবকিছুর মাঝে একটা মিল খুঁজে পেলাম—সবাই যেন প্রকৃতির কাছে এসে কিছুক্ষণের জন্য হলেও মুক্তি খুঁজে নিচ্ছে।

WhatsApp Image 2025-08-18 at 23.14.22_636d5737.jpg

মেঘলা আকাশটা পুরো দৃশ্যকে যেন আরও বেশি সুন্দর করে তুলেছিল। হালকা আলো আর অন্ধকারের মিশ্রণে পদ্মার পানি একেক সময় একেক রঙ নিচ্ছিল। কখনো মনে হচ্ছিল হালকা নীল, কখনোবা ধূসর, আবার কখনো সেই পানির ওপর সূর্যের ক্ষীণ আলো এসে পড়লে সোনালি আভা ছড়িয়ে পড়ছিল। আমি বারবার তাকিয়ে থাকছিলাম, চোখ সরাতে পারছিলাম না। মনে হচ্ছিল প্রকৃতি তার সব রঙ মেলে ধরে আমাদের জন্য একটা বিশেষ ছবি এঁকেছে। আমার পাশে বসে আমার আপুরা মজা করছিল, হাসাহাসি করছিল। ওদের আনন্দ আমার আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছিল। আমরা একসাথে ছবি তুললাম, ভিডিও করলাম, কিন্তু সবচেয়ে বেশি উপভোগ করছিলাম সেই পরিবেশ। জীবনের যতো দুঃখ কষ্ট, টেনশন বা চিন্তা, সেদিন যেন সব ভুলে গিয়েছিলাম। শুধু নদী, আকাশ আর সবুজ পরিবেশ আমাকে এক অন্যরকম জগতে নিয়ে গিয়েছিল।

WhatsApp Image 2025-08-18 at 23.14.22_9ab09bf0.jpg

পদ্মা নদীর পাশ দিয়ে যখন বড় বড় লঞ্চ বা ফেরি যাচ্ছিল, তখন এক অদ্ভুত শব্দ শোনা যাচ্ছিল। পানির ঢেউ ভেঙে সেই নৌযানগুলো সামনে এগিয়ে যাচ্ছিল। সেই শব্দের সঙ্গে মিশে যাচ্ছিল মানুষের উচ্ছ্বাসের শব্দ। মনে হচ্ছিল নদী, আকাশ, মানুষ—সব মিলে যেন একসাথে গান গাইছে। এটা এমন একটা অনুভূতি যা ভাষায় পুরোপুরি বোঝানো সম্ভব নয়, শুধু মন দিয়ে অনুভব করা যায়। আমি জানালার পাশে দাঁড়িয়ে অনেকক্ষণ ধরে নদীর দিকে তাকিয়ে ছিলাম। দূরে নদী আর আকাশ একসাথে মিশে গেছে। মনে হচ্ছিল এটাই হয়তো প্রকৃতির সবচেয়ে বড় জাদু। কত কিছু আমাদের চোখের সামনে আছে, অথচ আমরা ব্যস্ততার কারণে সেগুলো দেখতে পাই না। মাওয়া ঘাটে এসে বুঝলাম প্রকৃতি আসলে মানুষের সবচেয়ে কাছের বন্ধু। এখানে এসে মনে হলো আমি নিজের ভেতরের ক্লান্তি, একঘেয়েমি আর চাপ সব নদীর জলে ভাসিয়ে দিলাম।

একসময় আকাশে হালকা করে বৃষ্টি নামলো। খুব বেশি না, টুপটাপ কয়েক ফোঁটা। সেই ফোঁটা নদীর পানির ওপর পড়তেই পানির রঙ যেন আরও গভীর হয়ে গেল। মানুষজন ছাতা খুললো, কেউ বা ভিজে গেল আনন্দে। আমরাও একটু ভিজলাম। সেই মুহূর্তটা ভীষণ শান্তিময় আর আনন্দদায়ক ছিল। বৃষ্টির ফোঁটার সঙ্গে মিশে থাকা নদীর হাওয়া যেন মনে এক অদ্ভুত প্রশান্তি এনে দিল। সেদিনের ভ্রমণ আমাকে সত্যিই নতুন করে ছুঁয়ে গিয়েছিল। শুধু ঘুরতে আসা নয়, বরং প্রকৃতিকে কাছ থেকে অনুভব করা হয়েছিল। মনে হচ্ছিল জীবন আসলে এমন কিছু ছোট ছোট মুহূর্তের জন্যই এত সুন্দর। আমরা সবসময় বড় বড় স্বপ্নের পেছনে ছুটি, অথচ প্রকৃতির এই শান্ত দৃশ্যগুলোই হয়তো আমাদের সবচেয়ে বেশি সুখ দেয়।

WhatsApp Image 2025-08-18 at 23.14.22_1d9a6cd9.jpg

সেদিন মাওয়া ঘাট থেকে ফেরার সময় বারবার মনে হচ্ছিল আমি যেন একটু সময় নিয়ে আবারও এখানে আসি। পদ্মার পাড়ে দাঁড়িয়ে মেঘলা আকাশ দেখি, নৌকা দেখি, মানুষের হাসি দেখি। হয়তো আবারও একদিন আসবো, আবারও সেই অনুভূতি খুঁজে নেবো। আজও যখন চোখ বন্ধ করি তখনই মনে পড়ে সেই নদীর ঢেউ, সেই মেঘলা আকাশ, সেই সবুজ পরিবেশ আর আমাদের হাসি খুশির মুহূর্তগুলো। সেদিনের সেই ভ্রমণ আমার মনে এক সুন্দর স্মৃতি হিসেবে থেকে গেছে।

WhatsApp Image 2025-08-18 at 23.14.24_25d1dbb6.jpg

জানিনা আমার আজকের ফটোগ্রাফি গুলো আপনাদের কাছে কেমন লেগেছে। আমার কাছে কিন্তু প্রতিটি ফটোগ্রাফি বেশ ভালো লেগেছে। আপনাদের মতামতের অপেক্ষায় রইলাম।

পোস্ট বিবরণ

শ্রেণীফটোগ্রাফি
ক্যামেরাVivo y18
পোস্ট তৈরি@maksudakawsar
লোকেশনঢাকা , বাংলাদেশ

আমার পরিচিতি

আমি মাকসুদা আক্তার। স্টিমিট প্লাটফর্মে আমি @maksudakawsar হিসাবে পরিচিত। ঢাকা হতে আমি আমার বাংলা ব্লগের সাথে যুক্ত আছি। আমি একজন গৃহিনী এবং চাকরিজীবী। তারপরও আমি ভালোবাসি আমার মাতৃভাষা বাংলায় নিজের মনের কথা গুলো আমার বাংলা ব্লগের প্লাটফর্মে শেয়ার করতে। আমি ভালোবাসি গান শুনতে এবং গাইতে। আমি অবসর সময়ে ভ্রমন করতে এবং সেই সাথে সুন্দর কিছু ফটোগ্রাফি নিজের ক্যামেরায় বন্দী করতে ও ভালোবাসি। মাঝে মাঝে নিজের মনের আবেগ দিয়ে দু চার লাইন কবিতা লিখতে কিন্তু আমার বেশ ভালোই লাগে। সর্বোপরি আমি ভালোবাসি আমার প্রাণপ্রিয় মাকে।


3W72119s5BjVs3Hye1oHX44R9EcpQD5C9xXzj68nJaq3CeF5StuMqDPqgYjRhUxqFbXTvH2r2mDgNbWweA4YGBo825oLh4oqEqeynn5EZL11LdCrppngkM (1).gif

VOTE @bangla.witness as witness

witness_vote.png

OR

SET @rme as your proxy

witness_proxy_vote.png

1000206266.png

1000206267.png

❤️❤️ধন্যবাদ সকলকে❤️❤️

Sort:  
 10 months ago 

পদ্মা নদীর পাড়ের সৌন্দর্য দেখতে অনেক ভালো লাগে। ফটোগ্রাফি গুলো খুবই সুন্দর হয়েছে। দারুন সব ফটোগ্রাফি গুলো শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি আপু।

 10 months ago 

পদ্মা নদী মাওয়া ঘাটে গিয়ে তো চমৎকার ফটোগ্রাফি করেছেন আপু। নদী এবং আকাশের ফটোগ্রাফি একসাথে যখন করা হয় দেখতেও কিন্তু চমৎকার লাগে। যদিও আপনি এমনিতে চমৎকার ফটোগ্রাফি করেন। আর আপনার ফটোগ্রাফি গুলো দেখেই বোঝা যাচ্ছে আপনি দক্ষ ফটোগ্রাফার। ভালো লাগলো আপনার প্রতিটা ফটোগ্রাফি দেখে।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.082
BTC 59298.43
ETH 1556.82
USDT 1.00
SBD 0.42