মোয়ার টানে জয়নগর: জটার দেউল পর্ব ১
নমস্কার বন্ধুরা,
শেষ পাঁচ কিলোমিটার পথ স্কুটার চালিয়ে কোমড় খুলে যাওয়ার জোগাড় হয়েছিল। সেটা আরো বোঝা গেলো যখন স্কুটার থেকে মূল গন্তব্যে নামলাম। নেমে কিছুটা সময় শুধুই গাছের আড়াল থেকে জটার দেউল দেখলাম। কালের আবর্তেও কিসুন্দর মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। বাংলার প্রাচীন ইতিহাস ও স্থাপত্যের এক অনন্য নিদর্শন হলো এই দেউল। দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুন্দরবন সংলগ্ন অবস্থিত এই মন্দিরটি আজও সাধারণের কাছে রহস্যে মোড়া। সময়ের সঙ্গে মন্দির স্থাপত্য কিছুটা বিস্মৃত হলেও, বাংলার অন্যতম প্রাচীন ইটের মন্দিরগুলোর মধ্যে জটার দেউল অন্যতম।
মন্দিরটি ২০০২ সালে ভারতের প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগ বা ASI এটিকে সংরক্ষিত স্থাপত্য হিসেবে ঘোষণা করে এবং তারাই এখন তার রক্ষণাবেক্ষণ করে। দেউল যতটা সুন্দর ঠিক ততটা মনোরম এক স্থানে অবস্থিত। চারিদিকে চাষের মাঠ তার ঠিক মাঝখানে। দূর থেকে জলের মেশিনের আওয়াজ ছাড়া কিচ্ছু নেই। শহরের কোলাহল থেকে বেরিয়ে এসে এই অদ্ভূত নিস্তব্ধতা পেয়ে প্রাণ জুড়িয়ে গেলো। মন্দিরটি যেহেতু বর্তমানে ভারতের প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগ তাই মন্দির চত্বর ঘিরে রাখা হয়েছে। সামনের দরজা দিয়ে ঢুকে পড়লাম।
জটাধারী দেবাদিদেব মহাদেবের নামানুসারে এই দেউলের নাম জটার দেউল। যা এক শৃঙ্গ বিশিষ্ট দেউলের আকৃতির। জটার দেউলের সঠিক নির্মাণ কাল নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতানৈক্য আছে। কিছু ঐতিহাসিকের মতে জটার দেউল পাল বা সেন যুগ অর্থাৎ ৯ম থেকে ১২শ শতাব্দীর স্থাপত্য, আবার কেউ মনে করেন এটি প্রথম সহস্রাব্দের বা ৭ম থেকে ৮ম শতকে নির্মিত। মন্দিরটি এক শিখর-বিশিষ্ট নগর শৈলীর মন্দির, যা বাংলার মন্দির স্থাপত্যে সত্যিই বিরল। উচ্চতায় ৬৫ ফুটের মন্দিরটি ইট দিয়ে তৈরি এবং কাঠামোগত দিক থেকে অনেকটা উড়িষ্যার মন্দির স্থাপত্যের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
পুরো মন্দিরে আমাকে নিয়ে হাতে গুণে, ৭ জন। অল্প কজনের মাঝে আমি ধীরে ধীরে মূল মন্দিরের কাছে পৌঁছে গেলাম। কাছে পৌঁছে মন্দিরের মূল উচ্চতা ঠাহর হলো। সিঁড়ি বেয়ে মন্দির দালানে উঠে পড়লাম। পিছন ফিরে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য থেকে অবাক হলাম
"আমার বাংলা ব্লগ" কমিউনিটির প্রথম MEME Token : $PUSS by RME দাদা
"আমার বাংলা ব্লগের" প্রথম FUN MEME টোকেন $PUSS এখন SUNSWAP -এ লিস্টেড by RME দাদা
X-প্রোমশনের ক্ষেত্রে যে ট্যাগ গুলো ব্যবহার করবেন,
@sunpumpmeme @trondao $PUSS
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
জটার দেউল মন্দিরের এরিয়াটা খুবই সুন্দর। এমন নিরিবিলি পরিবেশে সময় কাটাতে সত্যিই খুব ভালো লাগে। তবে আপনি যখন সেখানে গিয়েছেন,তখন পুরো মন্দিরে আপনি সহ মাত্র ৭ জন মানুষ ছিলো, সেটা জেনে বেশ অবাক হলাম। যাইহোক পোস্টটি দেখে ভীষণ ভালো লাগলো। শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।