পুজো পরিক্রমা ২০২৪: হাজরা পার্ক দুর্গোৎসব
নমস্কার বন্ধুরা,
৮২ বছরে পদার্পণ করে হাজরা পার্ক-এর ভাবনা, "শুদ্ধি"। যার মূল কেন্দ্রে রয়েছে, হাজরা পার্ক-এর দুর্গা পুজোর ইতিহাস। হাজরা পার্কের বিস্তৃত অঞ্চল জুড়ে বহু কাল ধরে বহু বহুজন সম্প্রদায়ের মানুষ বাস করে। তাঁদের অধিকাংশ ছিলেন, তৎকালীন কলকাতা পৌরসভার কর্মী। আর্থ-সামাজিক ভাবে দুর্বল এই মানুষ গুলো সমাজের মূলস্রোত থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলো। এমন সময় ১৯৪২ সালে এ অঞ্চলের কিছু মানুষ উদ্যোগ নেন নিজেরাই দুর্গাপুজো করবেন। উদ্দেশ্য, নিজেদের পুজো, নিজেদের মত করে। সেই ভাবনা থেকেই জন্ম হয়েছে হাজরা পার্ক দুর্গোৎসবের। ১৯৪২ সালের সাহসী প্রয়াস আজ ৮২ বছরে। বহু বাঁধা বিপত্তির, বহু ঝড় ঝাপটার সাক্ষী পরে অটল ভাবে দাঁড়িয়ে। সব প্রতিকূলতা কাটিয়ে মায়ের পুজো চালু থেকেছে নিজের ঐতিহ্যে।
১৯৪২ সাল ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তখন দেশজুড়ে ইংরেজবিরোধী তীব্র আন্দোলনের আবহ। সেই বছরই গান্ধিজীর নেতৃত্বে ভারত ছাড়ো আন্দোলন শুরু হয়। গোটা দেশে টালমাটাল পরিস্থিতি, দেশের অর্থনীতিও বেহাল। তবুও এঅঞ্চলের মানুষরা সাহস করে দুর্গা পুজো শুরু করেন। ঘুরে ঘুরে চাঁদা সংগ্রহ করে, পুজোর উপকরণ কিনে প্রতিষ্ঠা করেন মা দুর্গা-কে। ১৯৬০-এর দশকের শেষ দিকে হাজরা পার্ক আরো গতি পায়। পুজোর থিম সেই সময় থেকেই। শুরু থেকে আজ দক্ষিন কলকাতার অন্যতম পুজো কমিটি হয়ে ওঠার পেছনে কাহিনীকে কেন্দ্র করে এই বছরের থিম “শুদ্ধি”। মূল ভাবনা আত্মবিশ্লেষণ। আত্মার শুদ্ধি, চিন্তার শুদ্ধি, এবং তা থেকে সমাজের শুদ্ধি।
রাসবিহারী এভিনিউয়ে দক্ষিণ কলকাতার সুপরিচিত পুজো সমিতিতে মায়ের দর্শন করে মধ্য কোলকাতায় যাওয়ার পথে রাস্তার পাশেই পড়লো, হাজরা পার্ক দুর্গোৎসব। এক অনন্য এবং চিন্তনশীল ভাবনা নিয়ে গড়ে উঠেছে পুরো পুজো। সমাজের এক দীর্ঘকালীন যন্ত্রণার ইতিহাস, অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের এক বার্তা। ধীরে ধীরে মণ্ডপের আ অন্দরে ঢুকে পড়লাম। পুরো মণ্ডপ জুড়ে বেতের কাজ করা হয়েছে, অন্দরের আলোকসজ্জায় রাতে উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে।
মণ্ডপের ঠিক মধ্যিখানে প্রতিষ্ঠিত হয়ে আছেন মা দুর্গা। মায়ের দ্যুতিতে অন্ধকারের মধ্যে মন, আত্মা পরিশুদ্ধ করে তুলছে।
"আমার বাংলা ব্লগ" কমিউনিটির প্রথম MEME Token : $PUSS by RME দাদা
"আমার বাংলা ব্লগের" প্রথম FUN MEME টোকেন $PUSS এখন SUNSWAP -এ লিস্টেড by RME দাদা
X-প্রোমশনের ক্ষেত্রে যে ট্যাগ গুলো ব্যবহার করবেন,
@sunpumpmeme @trondao $PUSS
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.