মোয়ার টানে জয়নগর: জটার দেউল পর্ব ২
নমস্কার বন্ধুরা,
জটার দেউল মূলত একচূড়া বিশিষ্ট মন্দির, যার গঠনশৈলী দেখে সহজেই বোঝা সম্ভব যে, এটি আদপে একটি শিব মন্দির। শুধুমাত্র নাম নয়, মূলত গঠন শৈল্পী অনেকটা শিব মন্দিরের অনুকরণে বানানো। বর্তমানে মন্দিরের গর্ভগৃহে কোনো বিগ্রহ নেই, শুধুমাত্র একটি শিবলিঙ্গ বিদ্যমান। মুখ বাড়িয়ে দেখলাম বেশ কিছু শিবের প্রতিমা রয়েছে যার সবই নতুন। অর্থাৎ শিব রাত্রির দিনে স্থানীয় মানুষরা এখানে পুজো দিতে আসেন। মন্দিরের সিঁড়ি সম্পূর্ন ইটের তৈরি এবং চওড়া। মন্দিরের বাইরের অংশে তেমন কোনো জটিল অলংকরণ নেই, কিংবা থাকলেও সেগুলো হয়তো কালের নিয়মে বিস্মৃত। মন্দিরটির আকৃতি বিশাল এবং স্থাপত্যশৈলী প্রাচীন বাংলার দেউল মন্দির নির্মাণ কৌশলের এক উৎকৃষ্ট উদাহরণ।
"জটার দেউল" ভারতের প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগের তত্তবাবধানে থাকায় তারা মন্দির মোটামুটি সংরক্ষন করবার চেষ্টা করেছে। সিঁড়ি বেয়ে মন্দির দালানে উঠে আশপাশের সৌন্দর্য থেকে মুগ্ধ হলাম। চার পাশটা মাঠে ঘেরা মাঝে এই মন্দির। মন্দিরের চারপাশটা একবার ঘুরে নিলাম। পুরোনো বহু অলংকরণ ক্ষয়ে গিয়েছে তবে আগে একসময় মন্দিরের গাত্রে অলংকরণ ছিলো তা বোঝা যাচ্ছিল। পুরোটা প্রদক্ষিণ করে মন্দির দালান থেকে নেমে পড়লাম।
মন্দিরের মূল ভিত্তি প্রস্তর এখন অনেকটা অক্ষত আছে। আর সেটার জন্যই ১০০০ বছরের পুরোনো মন্দির এখন মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে। সবচাইতে অবাক হলাম মন্দিরের গাত্র অনেকটা ক্ষয়ে গেলেও ভিত্তি এখন খুব সুন্দর অবস্থায় আছে, অন্তত যেটুকু এখন মাটির উপরে উঠে আছে। তখনকার স্থপতির কাজ এবং ভাবনা আজকের সময়ে এসেও অবাক করে। ফের মন্দির গর্ভগৃহের কাছে উঠে পড়লাম। গর্ভগৃহের ভেতরে উঁকি দিয়ে দেখে বুঝলাম, পার্শ্ববর্তী গ্রামবাসীরা এখানে শিবরাত্রি পালন করে।
মন্দির ঘুরে বটের ছায়া দেখে ঘাসে বসে পড়লাম। বাংলার প্রাচীন স্থাপত্য ও ইতিহাস প্রেমীদের আদর্শ জায়গা। যেহেতু এখন পর্যন্ত পর্যটন পরিকাঠামো নেই বললেই চলে, তাই এখানে পর্যটকের ভীড় ছিলো না। যেটা আমার জন্য আদর্শ।
"আমার বাংলা ব্লগ" কমিউনিটির প্রথম MEME Token : $PUSS by RME দাদা
"আমার বাংলা ব্লগের" প্রথম FUN MEME টোকেন $PUSS এখন SUNSWAP -এ লিস্টেড by RME দাদা
X-প্রোমশনের ক্ষেত্রে যে ট্যাগ গুলো ব্যবহার করবেন,
@sunpumpmeme @trondao $PUSS
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
১০০০ বছরের পুরনো মন্দির এখনো মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে, এটা দেখে কিছুটা অবাক হলাম দাদা। যদিও পুরনো দিনের কাজগুলো বেশ পোক্ত হতো এবং প্রায় প্রতিটি কাজ একেবারে নিখুঁতভাবে করার চেষ্টা করা হতো। যাইহোক ফটোগ্রাফি গুলো দারুণভাবে ক্যাপচার করেছেন দাদা। বেশ ভালো লাগলো ফটোগ্রাফি গুলো দেখে। এতো চমৎকার একটি পোস্ট আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।