বাংলাদেশ এয়ারপোর্ট থেকে সিঙ্গাপুর এয়ারপোর্ট
আসসালামু আলাইকুম/আদাব আমার বাংলা ব্লগ স্টিম কমিউনিটির বন্ধু গন আমি @kibreay001 বাংলাদেশ থেকে বলছি আজ (২৫-০১-২০২৫)
আসসালামু আলাইকুম আমার স্টিম বন্ধু গন আশা করি আপনারা অনেক ভালো আছেন । আপনাদের দোয়ায় আমিও অনেক ভালো আছি। আমি @kibreay001 আমি আজকে আপনাদের মাঝে শেয়ার করতে যাচ্ছি বাংলাদেশ এয়ারপোর্ট থেকে সিঙ্গাপুর এয়ারপোর্ট। আজকে সকাল বেলায় ঘুম থেকে ওঠার পর থেকেই বেশ ব্যস্ত সময় পার করছি। ঘুম থেকে উঠে হাত মুখ ধুয়ে হালকা একটু নাস্তা খেয়ে নিয়েছিলাম। তারপরে হঠাৎ মোবাইল ফোন হাতে নিয়ে দেখি অফিস থেকে আমাকে মেসেজ দেওয়া হয়েছে। সোমবারের দিন অফিসে আমাকে দেখা করতে বলা হয়েছে। আসলে বিদেশ আসার পরে বুঝতে পারছি বিদেশ বাড়ি প্রত্যেকটা মানুষের জন্যই বেশ কষ্টকর। তবে প্রত্যেকটা মানুষ পরিবারের সুখের কথা চিন্তা করে বিদেশ করে এটাই স্বাভাবিক। আমিও সেই চিন্তা ভাবনা মাথায় রেখে পরিবারকে একটু ভালো রাখার জন্য বিদেশ বাড়িতে পাড়ি দেওয়া হয়েছে। আশা করছি বিদেশী বাড়িতে আপনাদের সাথে সময় ভাগাভাগি করে নিতে পারব সব মিলিয়ে বেশ দারুন সময় কাটাবো এটাই সব সময় প্রার্থনা করি। আসলে মাত্র একদিন হল সিঙ্গাপুরে এসে পৌঁছেছি মানসিক অবস্থা খুব একটা ভালো নেই এর মধ্যেও চেষ্টা করছি আপনাদের সাথে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রাখার জন্য। তবে চলুন আজকের পোস্ট আপনাদের মাঝে শেয়ার করা যাক.........
আপনারা উপরে লক্ষ্য করলে দেখতে পারবেন আমি খুবই সুন্দরভাবে আপনাদের মাঝে তিনটি ছবি শেয়ার করেছি। বাংলাদেশ এয়ারপোর্ট থেকে আমার গ্রামের বাড়ি অনেক দূরে আমার ফ্লাইট ছিল ২৩ তারিখ রাত দশটার সময়। আমি গ্রামের বাড়ি থেকে রওনা দিয়েছিলাম ২৩ তারিখ ভোর সাতটার সময়। আমি ঢাকাতে এয়ারপোর্ট এসে পৌঁছেছিলাম বিকেল পাঁচটার সময়। সেখানে এক ঘন্টা রেস্ট নেওয়ার পরে আমার কাকা ছিল আমার সাথে দেখা করতে এসেছিল। সেখানে হালকা একটু খাওয়া-দাওয়া শেষ করে আমি বিমানবন্দরের মধ্যে ঢুকে পড়েছিলাম এবং আমার কাকা এবং আমার ভাই সেখান থেকেই বিদায় নিয়ে চলে গিয়েছিল। এয়ারপোর্ট এর মধ্যে ঢোকার পরে আমি জানতে পারি আমার ফ্লাইট ক্যানসেল হয়েছে। তারপরে সেখানে কথা বলার পরে জানতে পারলাম ফ্লাইট যেতে এখনো ২ ঘন্টা লেট। দশটা ফ্লাইট হওয়ার কথা ছিল সেই ফ্লাইট হতে প্রায় বারোটা বেজে গিয়েছে আসলে বিমানের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এমনটাই সমস্যা হয়েছে। সেখানে বেশ কিছু সময় বসে রেস্ট নেওয়ার পরে আমি আমার লাগেজ গুলো বুকিংয়ে দিয়ে দিয়েছিলাম এবং টিকিট সংগ্রহ করেছিলাম। তারপর সেখান থেকে আমি ইমিগ্রেশন পার হয়ে ভিতরে গিয়ে বসে ছিলাম। এভাবে বাংলাদেশ এয়ারপোর্ট এর মধ্যে প্রায় ছয় ঘন্টা সময় অতিক্রম করেছিলাম।
আপনারা উপরে লক্ষ্য করলে দেখতে পারবেন আমি আবারও আপনাদের মাঝে দুটি ছবি শেয়ার করেছি। ইমিগ্রেশন কমপ্লিট করার পরে আবারও চেকপোস্ট দেখতে পায় আমি। সেখানে আমার অল বডি চেক করা হয়েছিল। চেকপোস্ট অতিক্রম করে দেখি আমাদের বিমানে নিয়ে যাওয়ার জন্য একটি বাস বিমানবন্দরের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে। আমি বাসে গিয়ে উঠেছিলাম এবং সেখানে অনেক মানুষ দেখতে পেয়েছিলাম। বাস যখন সম্পন্ন হয়েছিল তখন সেখান থেকে আমাদের বিমানের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। আসলে আমাদের হাতে টিকিট দিয়েছিল us-Bangla airlines । কিন্তু আমাদের ইউক্রেন বিমানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। আসলে বিমানের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ফ্লাইট ও দুই ঘন্টা লেট হয়েছিল। সবমিলিয়ে সেখানে বেশ অস্বস্তির মধ্যে পড়েছিলাম। তারপরে বিমানের মধ্যে গিয়ে বসেছিলাম আসলে আমার সিট হয়েছিল বিমানের শেষের দিকে। সেখানে আমি বসার পরে পুরো বিমানের মধ্যে একটি ছবি তুলেছিলাম। বাংলাদেশ সময় যখন রাত বারোটা তখন আমাদের বিমান সেখান থেকে ছেড়ে রওনা দিয়েছিল। প্রায় চার ঘন্টা আকাশ পথ পাড়ি দেওয়ার পরে আমরা সিঙ্গাপুর এয়ারপোর্টে এসে পৌঁছেছিলাম। সেখানে এয়ারপোর্টের মধ্যে আমি একটি ছবি ক্যামেরা বন্দী করেছিলাম ওপরে শেয়ার করেছি।
এবার আপনারা উপরে লক্ষ্য করলে দেখতে পারবেন সিঙ্গাপুর এয়ারপোর্ট এর মধ্যে থেকে আমি আমার লাগেজ এবং সবকিছু গুছিয়ে নেওয়ার পরে এয়ারপোর্টে ছেড়ে যখন বের হয়েছিলাম সামনে দেখতে পাই মামা দাঁড়িয়ে আছে। অনেকদিন পর মামার সাথে দেখা হয়ে সত্যি দুজনের মধ্যে বেশ ভালো লাগা কাজ করছিল। মামার সাথে সেখানে বসে বেশ কিছু সময় গল্প করার পরে দেখতে পারি আমাকে যে কোম্পানিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে সে কোম্পানি থেকে মেসেজ দেওয়া হয়েছিল। তারপরে কোম্পানির একটি গাড়ি এসে আমাকে বিমানবন্দর থেকে নিয়ে গিয়েছিল মামা আমাকে গাড়িতে তুলে দিয়ে আবারো নিজের কাজের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল। সব মিলিয়ে আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহর অশেষ রহমতে বেশ ভালোভাবেই বাংলাদেশ থেকে সিঙ্গাপুর এসে পৌঁছাতে পেরেছি এটাই আমার জন্য সবথেকে বড় প্রাপ্তি। যতদিন সিঙ্গাপুর থাকবো আশা করছি এভাবেই আনন্দ এবং দুঃখ বেদনা সুখ-শান্তি সকলের সাথে ভাগাভাগি করে নিতে পারব। আপনাদের মাঝে চেষ্টা করব নিজের কিছু সময় ভাগাভাগি করে নেওয়ার জন্য। আশা করছি আজকের লেখা পোস্ট আপনাদের সকলের কাছে ভালো লাগবে। সকলের মতামত নিচে কমেন্ট বক্সের মাধ্যমে জানাবেন। সকলের জন্য আমার পক্ষ থেকে শুভকামনা রইল।
আমি মোঃ কিবরিয়া হোসেন। আমি বাংলাদেশ খুলনা বিভাগে মেহেরপুর জেলার গাংনী থানা কামারখালী গ্রামে বসবাস করি। আমার পক্ষ থেকে আপনাদের সবাইকে জানাই প্রাণঢালা শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। আমার মাতৃভাষা বাংলা। আমি বাংলা ভাষায় কথা বলতে এবং লিখতে অনেক ভালোবাসি। সব থেকে আমি বেশি পছন্দ করি ফটোগ্রাফি ক্যামেরাবন্দি করতে। আমি বেশিরভাগ সময় বিভিন্ন জায়গা ঘোরাঘুরি করে থাকি। কয়েকটি শখের মধ্যে আমার প্রধান শখ হচ্ছে বিভিন্ন জায়গা ভ্রমণ করা এবং ফটোগ্রাফি ধারণ করা। আমি স্টিমিট প্ল্যাটফর্মে যাত্রা শুরু করেছি ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসের ০১ তারিখে । স্টিমিট প্ল্যাটফর্মকে আঁকড়ে ধরে ভবিষ্যতে আরো অনেক দূরে এগিয়ে যেতে চাই এটাই আমার লক্ষ্য। সংক্ষিপ্ত আকারে আমি আমার নিজের পরিচয় শেয়ার করলাম আপনাদের মাঝে। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন। আমার পক্ষ থেকে আপনাদের জন্য শুভকামনা রইল।
(১০% প্রিয় লাজুক খ্যাঁক এর জন্য )
VOTE @bangla.witness as witness
OR
যাবো যাবো করে যে একেবারে চলেই গেলেন সেটা কিন্তু বিশ্বাস হচেছ না। ওকে গেলেন যেহেতু আশা করবো আপনি আপনার আগামীকে বেশ সুন্দর করে সাজাতে পারবেন। সব সময় মনে রাখবেন যে আপনি আর আপনার স্বপ্ন যেন আলাদা না হয়। শুভ কামনা রইল আপনার জন্য।
ধন্যবাদ আপু আপনার মূল্যবান মতামত শেয়ার করে উৎসাহ দেওয়ার জন্য।
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
https://x.com/kibreay001/status/1883002629804220603?t=krBd0SZHVf-hswVnsKs_fg&s=19
আমি প্রথমে ভাবলাম হয়তোবা স্বপ্ন দেখছেন। আসলেই যে আপনি চলে গিয়েছেন সেটা শুনে খুব খারাপ লাগছে। পরিবারের জন্য, পরিবারের মানুষদের ভালো রাখার জন্য ছেলেদেরকে সব সময় দূরে অবস্থান করতে হয়। বাংলাদেশ থেকে সিঙ্গাপুর যাওয়ার পুরো জার্নিটা আমাদের মাঝে শেয়ার করছেন দেখে খুব ভালো লাগলো। সুস্থ ভাবে সেখানে পৌঁছেছেন দেখেও খুব ভালো লাগছে।আপনার জন্য অনেক দোয়া রইল।
আসলে দেশের বাইরে চলে আসার পর আমার নিজের কাছেও বেশ খারাপ লাগছে। পরিবার আত্মীয়-স্বজন সকলকে ছেড়ে দূরে থাকতে।
জীবনের নতুন একটি অধ্যায়ে পদার্পণ করেছেন ভাই। পরিবারের প্রত্যেকটা সদস্যের মুখে সামান্য হাসি ফোটানোর জন্য এতটুকু বয়সেই নিজ মাতৃভূমি পরিত্যাগ করে বিদেশ গমন করেছেন। স্রষ্টা আপনার মনের সকল আশা গুলোকে সাফল্যের দ্বারে পৌঁছে দিক এটাই প্রার্থনা করি। আর আপনাদের মামা ভাগ্নার সম্পর্ক অটুট থাকুক অনন্তকাল। আশা করছি এভাবেই আমাদের সাথে দুঃখ কষ্ট এবং সমস্ত অনুভূতিগুলি শেয়ার করে যাবেন। আপনার জীবনের নতুন অধ্যায় ভরে উঠুক সাফল্য দিয়ে ,শুভকামনা রইল ভাই।
ধন্যবাদ ভাই আপনার মূল্যবান মতামত শেয়ার করে আমাকে উৎসাহ দেওয়ার জন্য।
জীবনের তাগিদে মানুষকে কত কিনা স্টেপ নিতে হয়। যেমন আপনি বিদেশের মাটিতে পা রাখলেন। তবে আত্মীয়-স্বজন ছেড়ে বিদেশ গেলে মন তেমন একটা ভালো থাকে না। যাই হোক তারপরও আপনার মামা আছে হিসেবে আশা করছি ভালই দিন কাটবে। ধন্যবাদ আপনাকে ভালো থাকবেন এবং আপনার জন্য শুভকামনা রইল ভাই।
ঠিক বলেছেন ভাই জীবন যুদ্ধে মানুষ অনেক কিছুই করে। ধন্যবাদ আপনার মতামত শেয়ার করার জন্য।
আপনি পরিবারকে ভালো রাখার জন্য সিঙ্গাপুরের উদ্দেশ্যে পারি জমিয়েছেন। আপনার ভবিষ্যৎ জীবন অনেক সুন্দর হোক সেই কামনা করি আপনার পরিবারকে আপনি অনেক ভাল রাখতে পারেন যেন সেই দোয়াই করি। পরিশেষে সেটাই বলবো নিজের খেয়াল রাখবেন কারণ যারা বিদেশে থাকে তাদের কাছে আপন কেউ থাকেনা কিন্তু পরিবারের সবাই একসাথে থাকতে পারে।
ধন্যবাদ এত সুন্দর ভাবে আপনার গঠনমূলক মূল্যবান মতামত শেয়ার করে আমাকে উৎসাহ দেওয়ার জন্য।
ঢাকা থেকে সিঙ্গাপুর যাওয়ার বিমান যাত্রা যে অভিজ্ঞতা আপনি শেয়ার করলেন তা পড়তে খুব ভালো লাগলো। আমি ঢাকা এয়ারপোর্ট থেকে কলকাতায় যাত্রা করেছিলাম। তাই আপনার লেখা পড়তে পড়তে ঢাকা এয়ারপোর্ট এর সমস্ত ছবি চোখের উপর ভেসে উঠলো। আপনার যাত্রা খুব ভালো হয়েছে শুনে ভালো লাগলো। বিদেশে সাবধানে থাকুন। বাড়ির থেকে দূরে থাকা সত্যিই বড় কষ্টকর।
ঠিক বলেছেন ভাই বাড়ি থেকে দূরে থাকা সত্তি খুবই কষ্ট।
একদিন বলেছিলেন দেশের বাইরে চলে যাবেন।আজ দেখছি সত্যিই চলে গেলেন।পরিবারের কথা ভেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে যেতে হয় আসলে।সব সময় পরিবারের খেয়াল রাখবেন।পরিবারের জন্য নিজে ও সুস্থ থাকবেন। ধন্যবাদ ভাইয়া অনুভূতি গুলো শেয়ার করার জন্য।
ধন্যবাদ আপু আপনার মূল্যবান মতামত শেয়ার করার জন্য।