ঈশানের জন্মদিন এর জন্য কেনাকাটা
নমস্কার বন্ধুরা ।আশা করছি আপনারা সকলে সুস্থ আছেন। আজকে আমি আপনাদের সকলের সাথে শেয়ার করতে চলেছি পুজোর আগের আরো কিছু কেনাকাটার কথা।
বাড়িতে পুজো দেওয়া হচ্ছিল বুদ্ধ পূর্ণিমার দিন অর্থাৎ ১২ই মে। আর সেদিনকে ছিল ঈশানের জন্মদিন। ঈশান এরও ১২ বছর পূর্ণ হয়ে ১৩ তে পা। যেহেতু পূজোর দিনকেই ওর জন্মদিন পড়েছিল । তাই আমরা চিন্তাধারা করেছিলাম লোকজন যেহেতু বাড়িতেই থাকবে । ওর বন্ধুরাও আসছে পুজোর কারণে। আমাদের সবার আত্মীয়-স্বজন এমনকি বাবার বন্ধুরাও সকলে থাকছে, তাই জন্মদিনটাও ১৫-২০ মিনিট সময় দিয়ে একটু সেলিব্রেট করে নেওয়া যেতেই পারে।
এইজন্য আমি অনেক আগে থেকেই ভেবে রেখেছিলাম যে সেদিনকে নিরামিষ কেকের অর্ডার দেবো। যাই হোক সেসব নিয়ে অন্যদিন আলোচনা করব। তো পুজোর কেনাকাটার থেকেও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল ঈশানের জন্য কিছু কেনা। ওর জন্য জন্মদিন উপলক্ষে একটা পাঞ্জাবী কিনব ভেবেছিলাম। এছাড়াও আরো অনেক কিছু কেনার ছিল ওর জন্য। তাই আজকে যেটা শেয়ার করছি ,পুরোপুরি ঈশানকে কেন্দ্র করে। ওনার প্রবল চাহিদা ছিল অনেক কিছুর। কিন্তু আমি শুধু বলেছিলাম যে আপাতত আমার সাথে চল ,তোর জামাটা আগে কিনে নিয়ে আসি ,যেটা পড়েই তুই কেক কাটবি।।
এছাড়াও ফ্ল্যাট চটি বাড়িতে পড়ার মত দরকার ছিল। ওর পা খুব তাড়াতাড়ি বড় হচ্ছে। ও এক-দুই বছরের মধ্যে বেশ লম্বা হয়ে গেছে। আর যত লম্বা হচ্ছে। রোগা হচ্ছে আর গায়ের রং চাপা হচ্ছে। আর সারাদিন যেভাবে দুষ্টুমি করে বেড়ায় ,ওর চেহারার এই হালের পেছনে এটাও একটা কারণ।।
সেদিনকে ওকে নিয়ে আমি একা বের হইনি। ছিল আমার সাথে আমার পার্টনার ও। আমার পার্টনারের গাড়ি করেই আমি আর ঈশান প্রথমেই গিয়েছিলাম আমাদের কৃষ্ণনগরের যশোরেশ্বরী বস্ত্রালয় এ । ওখানে গিয়ে বাচ্চাদের সেকশনে চলে গেলাম। ওর জন্য দেখতে থাকলাম প্যান্ট। ওর জন্য কটোনের প্যান্ট কেনার দরকার ছিল। অনেকদিন ধরে ভাবছিলাম কটোনের একটা প্যান্টও কিনে দেবো। তাই প্রথমে ওটাই করতে চলে গেলাম।।
এদিক ওদিক ঘুরতে যাওয়ার সময় সব সময় জিন্স পড়া যায় না। গরম কালে কটন টাইপের প্যান্টগুলো সত্যিই বাচ্চারা পড়ে আরাম পায়।। এর আগেও ওর কটনের প্যান্ট আমি এই দোকান থেকেই কিনেছি বলে ওখানে ভালোভাবে দেখে শুনে একটা প্যান্ট চয়েস করলাম। আর ওখান থেকে কেনা হয়ে গেলে বেরিয়ে গেলাম অন্য দোকানের উদ্দেশ্য।
চলে গেলাম এবার পাঞ্জাবির দোকানে। পাঞ্জাবির দোকানে বিভিন্ন রকম পাঞ্জাবি দেখতে থাকলাম। ওর সাইজ অনুযায়ী পাঞ্জাবি বার করতে বললাম। ওরা বিভিন্ন ধরনের কালারের পাঞ্জাবি বার করছিল। তবে একটা কালারে এসে চোখটা থেমে গেল। কারণ এই কালারটা ঈশানের নেই, আবার দেখতেও ভালো লাগবে। ছোট ছোট প্রিন্ট এর মধ্যে বেশ সুন্দর কাজ। অতিরিক্ত ভারী কাজের পাঞ্জাবি আমরা চাইছিলাম না ।কারণ এটা কোন বিয়ে বাড়ির অনুষ্ঠান না। জাস্ট হালকা-পাতলা পাঞ্জাবি চাইছিলাম।
পছন্দ হয়ে যাওয়ার সাথে সাথে পাঞ্জাবি পাজামা নেয়া হয়ে গেল। তবে টাকা দেওয়ার সময় আমার পার্টনার টাকা দিল। ওর কথা হলো ভাইকে জন্মদিনে ওর কিছু দিতে হতো , তো ও পাঞ্জাবিটাই দেবে।
এ নিয়ে ওর সাথে আমার বেরোনোর আগেও তর্ক হচ্ছিল। কারণ পাঞ্জাবিটা আমি ভেবেছিলাম আমি কিনে দেব। কিন্তু কিছুতেই রাজি হচ্ছিল না ও। আসলে এখানে একটা বড় কারণ আছে, প্রায় তিন চার বছর হল ,প্রত্যেক বছর ঈশানকে আমার পার্টনার পাঞ্জাবি কিনে দেয় পুজোর আগে।
এবার যেহেতু জন্মদিন এ এরকমভাবে একটা ছোট্টখাটো অনুষ্ঠান হচ্ছে ।তাই ও ঠিক করে নিয়েছিল যে ভাইকে পাঞ্জাবিটা পুজোর আগে না দিয়ে জন্মদিনের সময় দিয়ে দেবে। তাই ও বলার পর আমিও মেনে নিলাম। দিদির কাছে ঈশানের প্রবল ডিমান্ড রয়েছে। আমাকে অলরেডি অনেক কিছু বায়না করেছে ও। তাই পাঞ্জাবির টাকাটা আমি ওকে দিতে দিলাম।
ওখান থেকে আমরা বেরিয়ে গেলাম জুতোর দোকানে। জুতার দোকানে কিছুক্ষণ দেখেশুনে ওর জন্য একটা বাড়িতে পড়ার মতো জুতো কিনলাম। আর এসব কেনাকাটা শেষ করে বাড়ির দিকে আবার রওনা হলাম। আজ এখানেই শেষ করছি। সকলে ভালো থাকুন।