আবোল তাবোল জীবনের গল্প [ শৈশবের স্বাদের স্মৃতি ]
হ্যালো বন্ধুরা,
কেমন আছেন সবাই? আশা করছি সবাই ভালো আছেন এবং সুস্থ আছেন। আলহামদুলিল্লাহ, আমি ভালো আছি এবং সুস্থ আছি। ব্যস্ততার সাথে জীবনের সময়গুলোকে সঠিকভাবে ব্যবহার করার চেষ্টা করছি। কারণ ব্যস্তময় জীবনে আমরা অনেক ক্ষেত্রেই অনাকাংখিত ভুল করে বসি এবং পরবর্তীতে সেটা নিয়ে বেশ আফসোস করে থাকি। যেহেতু ব্যস্ততা আমাদের জীবনে একটা অংশ সেহেতু সেখানে সতর্কতা ধরে রাখার চেষ্টা করতে হবে এবং সঠিকবাবে সেটার ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। আর সতর্কতা যেখানে উপস্থিত থাকে ভুল নামক বস্তুটি সেখান হতে বিদায় নিয়ে আড়ালে চলে যায়।
আজকে শৈশবের কিছু স্মৃতি শেয়ার করবো কারণ বয়সের কারণে এখন চাইলেও অনেক কিছু করতে পারি না। আর সেই কারণে বর্তমানে সময়ের চারপাশের পরিবেশটা অতীতের সেই সুখের স্মৃতির কাছে বার বার টেনে নিয়ে যাচ্ছে। আমাদের শৈশবটা সত্যি অনেক বেশী আনন্দময় ও উপভোগ্য ছিলো। আমরা চাইলেই সময়গুলোকে আনন্দময় ও স্বাদময় করে তুলতে পারতাম, পরিবেশটা তখন তেমনই ছিলো। এখন অবশ্য সেই পরিবেশ কিংবা প্রকৃতি কোনটাই নেই, তাই বর্তমান প্রজন্ম চাইলেও সেই অবস্থানে যেতে পারবেন না। অবশ্য তারা সেগুলো পছন্দও করবেন না এখন।
গ্রীস্মের গরমে যখন সবাই হা হুতাশ করতো, রোদের তীব্রতা হতে বাঁচার জন্য একটু আড়ালে থাকার চেষ্টা করতেন। তখন আমরা দারুণভাবে কিছু সুযোগ কাজে লাগাতাম, কাঁঠাল গাছের নিচে চলে যেতাম এবং মুচি নাম একটা জিনিষ থাকতো সেগুলোকে বাছাই করে পেড়ে নিতাম। এক বাড়ির গাছ হতে সেটা কাংখিত পরিমানে না হলে আমরা চলে যেতাম অন্য গাছের কাছে, এভাবে বেশ কিছু পরিমানে মুচি সংগ্রহ করতাম। গ্রীষ্মের গরম উষ্ণতায় তখন এটা আমাদের কাছে দারুণ প্রিয় একটা খাবার ছিলো। এখন তো অনেকেই জানেন না মুচি কিভাবে খায়? এগুলো আবার খাওয়ার জিনিষ নাকি?
অদ্ভুত অদ্ভুত নানা প্রশ্নও জুড়ে দেন অনেকেই। আসলে এটা তাদের দোষ নয় বরং অতীত ঐতিহ্য ধরে রাখতে না পারায় কিছুটা দোষী আমরা নিজেরাও। সে সময় প্রায় বাড়িতে কাঁঠাল, আম, বড়ই, এই গাছগুলো থাকতো বাধ্যতামূলভাবে। আমাদের এলাকায় প্রায় বাড়িতে এই গাছগুলো উপস্থিতি ছিলো। যার কারণে আমরা আনন্দের সাথে সেগুলোর নেয়ার সুযোগ পেতাম। এখন খোঁজ নিয়ে দেখুন তো, আপনার এলাকায় কয়টি বাড়িতে এই গাছগুলো আছে? থাকলেও সেটা পরিমান খুবই নগন্য আর সেখান হতে কিছু পাওয়ার প্রত্যাশাও খুবই কম। কিন্তু আমাদের সময় পরিবেশ ভিন্ন ছিলো, অনেক সময় ঢেকে নিয়ে গাছের ফল খেতে দিতেন।
এরপর তেঁতুল, গুড়া মরিচ ও লবন দিয়ে ভর্তা বানিয়ে ফেলতাম মুচিগুলোকে। মাঝে মাঝে গুড়া মরিচ না পেলে কাঁচা মরিচ দিয়ে চালিয়ে যেতাম। একটু ঝাল, একটু টক, আহা! কি দারুণ একটা স্বাদের সাক্ষাত পেতাম আমরা। সেটা হয়তো লেখার মাধ্যমে বুঝানো সম্ভব না। কিন্তু যারা শৈশবে এগুলোর স্বাদ নেয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন তারা হয়তো কেবল সেটা উপলব্ধি করতে পারবেন। বৈশাখের তীব্র উষ্ণতায় সেই স্বাদের বিষয়টি এখনো বার বার হৃদয়ের সীমানায় ভেসে উঠে, মনে চায় ফের ছুটে যাই অতীতের স্বাদময় সেই সময়ের মাঝে।
Image Taken From Pixabay
ধন্যবাদ সবাইকে।
@hafizullah
আমি মোঃ হাফিজ উল্লাহ, চাকুরীজীবী। বাংলাদেশী হিসেবে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করি। বাঙালী সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য লালন করি। ব্যক্তি স্বাধীনতাকে সমর্থন করি, তবে সর্বদা নিজেকে ব্যতিক্রমধর্মী হিসেবে উপস্থাপন করতে পছন্দ করি। পড়তে, শুনতে এবং লিখতে ভালোবাসি। নিজের মত প্রকাশের এবং অন্যের মতামতকে মূল্যায়নের চেষ্টা করি। ব্যক্তি হিসেবে অলস এবং ভ্রমন প্রিয়।
|| আমার বাংলা ব্লগ-শুরু করো বাংলা দিয়ে ||


>>>>>|| এখানে ক্লিক করো ডিসকর্ড চ্যানেলে জয়েন করার জন্য ||<<<<<

Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
Support @Bangla.Witness by Casting your witness vote
Support @Bangla.Witness by Casting your witness vote
VOTE @bangla.witness as witness
OR
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
কাঁঠালের মুচি কখনোই খাওয়া হয় নি, তবে আপনার লেখা পড়ে খেতে মন চাইছে।সঙ্গে জিভে জল চলে এলো তেতুলের কথা শুনে।যদিও আমাদের বাড়িতে অনেক ফলের গাছ ছিল আম,কাঁঠাল তবে এই মুচি সম্পর্কে জানা ছিল না।ধন্যবাদ ভাইয়া।