আবোল তাবোল জীবনের গল্প [ ফ্রাইডে স্পেশাল ]
হ্যালো বন্ধুরা,
কেমন আছেন সবাই? আশা করছি সবাই ভালো আছেন এবং সুস্থ আছেন। আলহামদুলিল্লাহ, আমিও ভালো আছি এবং চঞ্চল থাকার চেষ্টা করছি। যদিও সেটা আমার জন্য খুব বেশী কঠিন কিছু। কারণ এই সময়টা আমার জন্য ভীষণ একটা চ্যালেঞ্জের মতো। সত্যি বলতে কি, আপনার কোন সমস্যা কিংবা দূর্বলতা নিয়ে আপনার কাছের মানুষগুলো খুব বেশী আপনাকে বিরক্ত বা উত্যক্ত করবে। এটা আমি বেশ ভালোভাবেই উপলব্ধি করতে পেরেছি। কারণ ঐ যে বললাম, খাবারের বিষয়ে আমাকে সব সময়ই খুব বেশী সতর্ক থাকতে হয়, একটু এদিক সেদিক হলেই দৌড় শুরু হয়ে যায়, হি হি হি।
আর সেটার পরিমান বেড়ে যায় রমজান মাসে, ছোটবেলা হতেই এটা আমি ফেস করে আসছি। এবারও বেশ ভয়ে ভয়ে আছি, যদিও প্রথম রোজায় একটা ধোক্কা খাইছি, মানে পেট একটা মিসকল দিয়েছিলো হি হি হি। প্রথম দিন ইফতারির পর পরই পেট একটা মিসকল মারে, তারপর আর কি সবাই আমার দিকে কেমন করে জানি তাকায়? আসলে সবার মাঝেও একটা ভয় কাজ করে, আমার শরীর বা পেট যেটাই বলেন না কেন, একটু বেগতিক হলেই বাড়িতে ইফতারির আয়োজন বন্ধ হয়ে যায়। আমি না খেলে তারা কেউ খাবে না, ইফতারির কিছু তৈরীও করবে না।
সেই জন্য মাঝে মাঝে কিছু মিসকল আমি ইচ্ছে করেই চেপে যাই, যতক্ষণ পর্যন্ত না ফুলকল আসে ততোক্ষণ পর্যন্ত আমি সেটা চেপে থাকি। আসলে জীবনের এমন কিছু মুহুর্ত আসে আমাদের সামনে যেখানে ইচ্ছে করেই আমাদের অনেক কিছু চেপে যেতে হয়। সম্পর্ক ভালো রাখতে গেলে কিংবা চারপাশের মানুষগুলোকে একটু হাসিখুশিতে রাখার জন্য আমাদের জীবনে অনেক কিছুই যেমন সহ্য করতে হয় ঠিক তেমনি অনেক কিছুই চেপে যেতে হয়। এটা যে শুধু আমরা পুরুষরা করি তা কিন্তু না বরং অনেক ক্ষেত্রেই মেয়েরা আমাদের তুলনায় অনেক বেশী করে থাকে।
তারা খুব কম সময় সেটা প্রকাশ করে, মেয়ের অবস্থা অনেকটাই এমন মরে যাবে, জান বের হয়ে যাবে কিন্তু তবুও তাদের মুখ হতে কিছু বের হবে না। এটা নিয়ে চরম একটা অভিজ্ঞতা আছে আমার, অন্যকোন দিন সেটা শেয়ার করবো। আমাদের সমাজে আমরা পুরুষরা কোন বিষয়ে সামান্যতম অবদান রাখতে পারলে সেটা নিয়ে খুব বেশী হৈ চৈ করি, নিজের অবস্থান হতে সামান্য অবদান রেখে নিজেকে অনেক বড় কিছু মনে করতে শুরু করে দেই। কিন্তু বাস্তবতা হলো উল্টো কিছু, আমাদের পরিবারে থাকা, মা-বোন-স্ত্রী তারা অনেক বেশী সহ্য করেন, চেপে যান কিংবা অবদান রাখেন।
সুতরাং তাদের সাথে আমাদের কোন কিছুতে তুলনা হয় না, তুলনা করাও ঠিক হবে না। আমি জাস্ট কথা প্রসঙ্গে সত্যিটা একটু সামনে আনার চেষ্টা করেছি। সময়ের সাথে সাথে আমাদের যেমন এগিয়ে যেতে হয়, জীবনকে গতিশীল রাখতে হয়, ঠিক তেমনি সম্পর্কের খাতিরে অনেক কিছু চেপে যেতে হয়, ভালোর জন্য কিছু সহ্য করা অবশ্যই পুণ্যের কাজ ।
Image Taken from Pixabay
ধন্যবাদ সবাইকে।
@hafizullah
আমি মোঃ হাফিজ উল্লাহ, চাকুরীজীবী। বাংলাদেশী হিসেবে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করি। বাঙালী সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য লালন করি। ব্যক্তি স্বাধীনতাকে সমর্থন করি, তবে সর্বদা নিজেকে ব্যতিক্রমধর্মী হিসেবে উপস্থাপন করতে পছন্দ করি। পড়তে, শুনতে এবং লিখতে ভালোবাসি। নিজের মত প্রকাশের এবং অন্যের মতামতকে মূল্যায়নের চেষ্টা করি। ব্যক্তি হিসেবে অলস এবং ভ্রমন প্রিয়।
|| আমার বাংলা ব্লগ-শুরু করো বাংলা দিয়ে ||


>>>>>|| এখানে ক্লিক করো ডিসকর্ড চ্যানেলে জয়েন করার জন্য ||<<<<<

Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
Support @Bangla.Witness by Casting your witness vote
Support @Bangla.Witness by Casting your witness vote
VOTE @bangla.witness as witness
OR
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
Thank you for sharing on steem! I'm witness fuli, and I've given you a free upvote. If you'd like to support me, please consider voting at https://steemitwallet.com/~witnesses 🌟
এটা কিন্তু আসলেই ঠিক। আমরা অর্থাৎ পুরুষ মানুষেরা কোনো কিছুতে একটু অবদান রাখতে পারলেই ক্রেডিট নেওয়া শুরু করে দেই এবং নিজেকে অনেক বড় কিছু মনে করি। কিন্তু মেয়েদের ব্যাপারটা একেবারেই উল্টো। তারা তাদের অবদানের কথা একেবারেই স্বীকার করে না। যাইহোক রমজান মাসে যাতে আপনার ইঞ্জিন ডাউন না হয়,সেদিকে খেয়াল রাখবেন ভাই হা হা হা। আপনার জন্য শুভকামনা রইলো ভাই।
আসলে অনেক ক্ষেত্রে মেয়েরা এমন এমন কিছু করে থাকে যেটা আসলে তাদের সহ্য সীমার বাইরে হলেও তারা চেপে রাখে। আবার পুরুষেরাও কম নয়। তারা তাদের জীবন বাজি রেখে পরিবারের জন্য পরিশ্রম করে যায়। নিজের কষ্ট গুলো লুকিয়ে রাখে। সবার অবদানই কিন্তু শ্রেষ্ঠ ভাইয়া। তবে এরকম অবদানগুলো মনে রেখে আমাদেরকেও অন্যের জন্য ত্যাগ করতে হবে। আপনার জন্য যেমন আপনার পরিবারের মানুষেরা ইফতার তৈরি করা বা অন্যান্য ভাজাপোড়া খাবার খাওয়া বন্ধ করে দেয় এর মধ্যেই তো ভালোবাসা লুকিয়ে আছে। যাই হোক আশা করি সুস্থ থাকবেন। এ রমজান মাসে অন্তত আর আপনাকে বারবার মিসকলের জন্য দৌড়াদৌড়ি করতে হবে না।