চট্টগ্রাম ভ্রমণের অনুভূতি (পর্ব-১)
হ্যালো বন্ধুরা,
কেমন আছেন সবাই? আশা করছি সবাই ভালো আছেন এবং সুস্থ আছেন। আলহামুদলিল্লাহ, আমিও ভালো আছি এবং সুস্থ আছি। সুন্দর অনুভূতির সাথে সুন্দর মানসিকতা ধরে রাখার চেষ্টা করছি। যদিও কয়েক দিনের হঠাৎ মেঘলা পরিবেশ চারপাশের প্রকৃতিকে অনেক বেশী শীতল করে দিয়েছে এবং উষ্ণতার তিক্ত অনুভূতি নিমিষেই দারুণ মুগ্ধতা ফিরিয়ে দিয়েছে। এটাই হলো প্রকৃতির বৈশিষ্ট্য, মুহুর্তের মাঝেই সেটা পরিবর্তন হয়ে যায় এবং আমাদের অনুভূতিগুলোকে পরিবর্তন করে দিতে পারে, বিষন্নতা হারিয়ে আমাদের হৃদয়ের মাঝে চঞ্চলতাকে নতুনভাবে ফিরিয়ে আনতে পারে।
আজকে অবশ্য চট্টগ্রাম ভ্রমণের কিছু অনুভূতি শেয়ার করবো। যদিও কোন ভ্রমণের অনুভূতিই আমি এখন পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করতে পারি নাই, কয়েকটি পর্ব শেয়ার করার পরই সেটার খেই হারিয়ে ফেলি এবং অন্য কিছুর মাঝে ডুবে যাই। না না সাঁতার জানি কিন্তু সেটা নিয়ে চিন্তা কইরেন না হি হি হি। চিন্তার মাঝে ডুবে যাই তারপর চলমান বিষয়গুলো নিয়ে অনুভূতি শেয়ার করি। যাইহোক, আজকে চট্টগ্রামে যাওয়ার মাঝ পথে বিরতি দেয়ার অনুভূতি শেয়ার করবো। সত্যি বলতে আট বছর পর চট্টগ্রাম যাওয়া, তাও বড় ভাই এক প্রকার জোর করে নিয়ে গেছেন।
বড় বোনের বড় মেয়ে এবার এস.এস.সি পরীক্ষার্থী এবং ভাগনির বাবা যেহেতু দেশের বাহিরে থাকেন সেহেতু তাকে একটু উৎসাহ ও সাহস দেয়ার জন্য সেখানে যাত্রা। যদিও এই জেনারেশন অতো বেশী ভীত না, তাদের মেলা সাহস। কিন্তু আমরা কিছুটা ভীত ছিলাম, সাহসের ভিটামিন আমাদের খাওয়ানো লাগতো, পরীক্ষার হলে যাওয়ার আগেই বাহিরে বাবা/মা দাঁড়িয়ে থাকতেন আর মাথায় হাত বুলিয়ে সাহস যোগাতেন ভয় পেয়ো না আমরা আছি। কিন্তু এখন পুরো উল্টে গেছে দৃশ্যপট। পরীক্ষার্থীরা উল্টো তাদের বাবা-মাকে বলে তোমার আসা লাগবে না, তুমি বাড়িতে থাকো হি হি হি।
খুব সকালে বাড়ি হতে বের হতে হয়েছিলো আমাকে, কারণ বেশ সময় ব্যয় করে আমাকে আগে মতিঝিল আসতে হয়েছিলো তারপর টিকেট কেটে দ্রুত বাসে উঠা এবং তারপর চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়া। যেহেতু আমাদের দেশের বাড়িও চট্টগ্রাম বিভাগে সেহেতু সেই ছোটবেলা হতেই চট্টগ্রামে যাতায়াত ছিলো আমাদের। আর সেই ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশী যাতায়াত করেছি সোহাগ পরিবহনে। এবারও ঠিক সেইটা করলাম। যথা সময়ে বাস ছেড়ে গেলো মতিঝিল এবং দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলতে লাগলো চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে। কুমিল্লা শহর পার হয়ে Highway Inn এ ছোট একটা বিরতি দিয়েছিলো।
চট্টগ্রামের এই সড়কে ঢাকা হতে আসা সব গাড়িই মাঝে একটা বিরতি দিয়ে থাকে, হালকা নাস্তা অথবা ফ্রেশ হওয়ার একটা সুযোগ পাওয়া যায়। আমি প্রথমে নামাজ পড়ার সুযোগ নিয়েছিলাম, আর সেখানেই দারুণ মুগ্ধ হয়েছিলাম। কারণ নামাজের জন্য আমাকে ছাদে যেতে হয়েছিলো, তারপর সেখানের পরিবেশ এবং সৌন্দর্য দেখে সত্যি আমি দারুণ মুগ্ধ হয়েছিলাম। ছোট পরিসরে এতো সুন্দর ডেকোরেশন এবং সবুজে ঢেকে দেয়া যায়, সেটা না দেখলে হয়তো আপনি বিশ্বাসই করতে পারবেন না। যাত্রা পথে এমন সুন্দর পরিবেশে বিরতি মানেই দারুণ অনুভূতি জাগ্রত করার দারুণ সুযোগ।
তারিখঃ এপ্রিল ০৯, ২০২৫ইং।
লোকেশনঃ হাইওয়ে ইন, কুমিল্লা।
ক্যামেরাঃ রেডমি-৯ স্মার্টফোন।
ধন্যবাদ সবাইকে।
@hafizullah
আমি মোঃ হাফিজ উল্লাহ, চাকুরীজীবী। বাংলাদেশী হিসেবে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করি। বাঙালী সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য লালন করি। ব্যক্তি স্বাধীনতাকে সমর্থন করি, তবে সর্বদা নিজেকে ব্যতিক্রমধর্মী হিসেবে উপস্থাপন করতে পছন্দ করি। পড়তে, শুনতে এবং লিখতে ভালোবাসি। নিজের মত প্রকাশের এবং অন্যের মতামতকে মূল্যায়নের চেষ্টা করি। ব্যক্তি হিসেবে অলস এবং ভ্রমন প্রিয়।
|| আমার বাংলা ব্লগ-শুরু করো বাংলা দিয়ে ||


>>>>>|| এখানে ক্লিক করো ডিসকর্ড চ্যানেলে জয়েন করার জন্য ||<<<<<

Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
Support @Bangla.Witness by Casting your witness vote
Support @Bangla.Witness by Casting your witness vote
VOTE @bangla.witness as witness
OR
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
এটা ঠিক বলেছেন ভাইয়া আমাদের সময় পরীক্ষা দিতে গেলে বাবা মা হলের বাহিরে দাঁড়িয়ে থাকতো। আর এখন তো সবাই একা একা যেতেই পছন্দ করে। ভাইয়া আপনি চট্টগ্রাম গিয়েছিলেন জেনে ভালো লাগলো।