জীবনের গল্প || শিক্ষার অবক্ষয়
হ্যালো বন্ধুরা,
কেমন আছেন সবাই? আশা করছি সবাই ভালো আছেন এবং সুস্থ আছেন। আলহামদুলিল্লাহ, আমিও ভালো আছি এবং সুস্থ আছি। যদিও হৃদয়ের মাঝে থাকা ভয় কিংবা শংকা কোনটাই কমে নাই। মশা দেখলেই কেমন জানি একটা ভয় চঞ্চল হয়ে উঠে, এটা মশা নাকি এডিস মশা একটা প্রশ্ন সামনে চলে আসে। আজকাল তো দিন কিংবা রাত কোনটাই বাদ যায় না, হুটহাট করে কামড় বসিয়ে দেয়। অথচ একটা সময় ছিলো যখন শুধু রাতেই মশাদের উপস্থিতি দেখা যেতো, সন্ধ্যা নামলেই মনে হতো মশারা ঘুম হতে উঠেছে। কিন্তু এখন আর সেই পরিবেশ নেই, সকাল কিংবা দুপুরেও মশাদের মিছিল দেখা যায়।
সত্যি পরিবর্তন হয়েছে অনেক কিছুর, প্রকৃতির সাথে সাথে বাস্তুসংস্থান এর ক্ষেত্রেও সেটা প্রযোজ্য। যার কারণেই এমনটা দেখা যায়। গত শুক্রবারে সম্মান নিয়ে কিছু অনুভূতি শেয়ার করেছিলাম। যেখানে আমাদের মানসিকতার ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। আজকেও সেই সম্পর্কে আরো কিছু অনুভূতি প্রকাশ করার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ। আমাদের সময় সামাজিক অবস্থা এর চেয়ে অনেক বেশী ভালো ও উন্নত ছিলো। যার কারণে আমরা কিছুটা হলেও সুন্দর শিক্ষা পেয়েছিলাম, মানে কিছু দেখে দেখে শেখার সুযোগ পেয়েছিলাম। আসলে সব কিছু পড়াশুনা করে শেখা যায় না।
অনেক কিছুই আমাদের দেখে দেখে শিখতে হয় বা শিখে নিতে হয়। এখন তো সেই পরিবেশ নেই যার কারণে বর্তমান প্রজন্মও কিছু শেখার বা দেখার সুযোগ পায় না। চিন্তা করে দেখুন তো একটু, আপনি যদি ছিলের শিক্ষককে দেখে সম্মান দিয়ে কিংবা আপনি সম্বোধন করে কথা বলেন, তাহলে আপনার সন্তান কখনো তাকে সম্মান না দিয়ে কথা বলার সাহস পাবেন? একদমই না। এই জন্যই আমাদের মুরুব্বীরা বলতেন সন্তানদের সামনে যথাযথ ব্যবহার করার, যাতে মা-বাবার ব্যবহার দেখে তারাও বুঝতে পারেন ব্যবহার কেমন হওয়া উচিত কিংবা সেটা কেমন হওয়া উচিত।
সত্যি বলতে আমাদের বাড়ির পরিবেশ কি তেমন আছে? একদমই না। বাবা যেমন মার সাথে ভালো ব্যবহার করছেন না ঠিক তেমনি মাও বাবার সাথে সুন্দর ব্যবহার করছেন না, একে অন্যের প্রতি সম্মান নিয়ে কথা বলছেন না। কথায় কথায় ঝগড়া লেগে যায়, উল্টা পাল্টা কথা বলার সাথে সাথে গালাগালও শুরু করে দেন। যা দেখে ছোট্ট শিশুও কথার ফাঁকে ফাঁকে গালি দিয়ে দেয়। এটাই হলো আমাদের বাস্তবতা, বাড়িতে কিংবা পরিবারের মাঝে আমরা যা দেখছি ঠিক সেটাই শেখার চেষ্টা করছি। কারণ ছোটরা সবচেয়ে বেশী অনুকরণপ্রিয় হয়ে থাকে, যা দেখে তাই শেখে।
আলু গাছের চারা রোপন করে যেমন আপেল এর প্রত্যাশা করা যায় না ঠিক তেমনি পারিবারিক পরিবেশ কিংবা সুন্দর ব্যবহারের পরিবেশ তৈরী করতে না পারলে আমাদের সন্তানরা সুন্দর কিছু শিখবে কিভাবে? পরিবর্তন হচ্ছে কিন্তু সেটা যেভাবে হচ্ছে সেখান হতে আমাদের নতুন প্রজন্ম ভালো কিছু শিখতে পারছেন না, যার কারণে তাদের নিকট হতে ভালো কিছুও বের হয়ে আসছে না। সুতরাং আলু গাছের চারা রোপন করলে আলুই পাওয়া যাবে অন্য কিছু না।
Image Taken From Pixabay
ধন্যবাদ সবাইকে।
@hafizullah
আমি মোঃ হাফিজ উল্লাহ, চাকুরীজীবী। বাংলাদেশী হিসেবে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করি। বাঙালী সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য লালন করি। ব্যক্তি স্বাধীনতাকে সমর্থন করি, তবে সর্বদা নিজেকে ব্যতিক্রমধর্মী হিসেবে উপস্থাপন করতে পছন্দ করি। পড়তে, শুনতে এবং লিখতে ভালোবাসি। নিজের মত প্রকাশের এবং অন্যের মতামতকে মূল্যায়নের চেষ্টা করি। ব্যক্তি হিসেবে অলস এবং ভ্রমন প্রিয়।
|| আমার বাংলা ব্লগ-শুরু করো বাংলা দিয়ে ||


>>>>>|| এখানে ক্লিক করো ডিসকর্ড চ্যানেলে জয়েন করার জন্য ||<<<<<

Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
Support @Bangla.Witness by Casting your witness vote
Support @Bangla.Witness by Casting your witness vote
VOTE @bangla.witness as witness
OR
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.