জীবনের গল্প || একাল সেকালের যত পার্থক্য

in আমার বাংলা ব্লগ11 months ago

হ্যালো বন্ধুরা,

কেমন আছেন সবাই? আশা করছি সবাই ভালো আছেন এবং সুস্থ আছেন। আলহামদুলিল্লাহ, আমিও ভালো আছি এবং সুস্থ আছি। ভিন্ন প্রকৃতির ভিন্ন স্বাদ দারুণভাবে উপভোগ করছি। ঐ যে এর আগেও বলেছিলাম, সকালে বাসা হতে বের হই বৃষ্টি মাথায় নিয়ে আবার অফিসে ঢোকার পর দেখি চারপাশটা উষ্ণতায় উষ্ণ হয়ে উঠেছে। কেমন একটা পরিবর্তন হয়ে গেছে প্রকৃতি, না শুধু যে প্রকৃতির পরিবর্তন হয়েছে সেটা অবশ্য ঠিক না, বরং আমাদের মাঝেও পরিবর্তন এসেছে। মানসিকতার দিক হতে আমরাও পরিবর্তন হয়ে গেছি। পরিবর্তন হয়তো সময়ের দাবী, কিন্তু কখন কতটা হতে হবে সেটা নির্ধারণ করতে হবে আমাদের নিজেদেরকেই।

অতীতে আমরা কোথায় ছিলাম আর এখন কোথায় আছি, এটা বুঝতে পারলেই পার্থক্যটা স্পষ্ট হয়ে যাবে আপনার কাছে। আমার দৃষ্টিতে পরিবর্তনটা আমাদের কাংখিতভাবে হয় নাই, যার কারণেই আজকে আমাদের এই দুর্দশা। কিন্তু আমরা কি কখনো এই অবস্থান কিংবা পরিবর্তন নিয়ে চিন্তা করেছি, একটু সময় বের করে কখনো আফসোস করেছি, এমনটা তো হওয়ার কথা ছিলো না। ভিন্ন কিছু হওয়ার কথা ছিলো, ভিন্ন পরিবেশ কিংবা পরিস্থিতি তৈরী হওয়ার কথা ছিলো। একটা উদাহরণ দেই তাহলে হয়তো আপনাদের কাছে বিষয়টি আরো বেশী স্পষ্ট হবে।

eibsee-8572003_1280.jpg

তখন হয়তো আমি ক্লাস নাইনে পড়ি, বেশ কিছু দিনের জন্য সীতাকুন্ডে ছিলাম। সীতাকুন্ড ইকোপার্কের সামনেই একটা আবাসন প্রকল্প তৈরী হচ্ছিলো তখন। আমাদের এক আত্মীয় একটা প্লট কিনবেন বলে সেখানে গিয়েছিলেন, সাথে অবশ্য আমি ছিলাম সেদিন। প্লটটার অবস্থান বেশ সুন্দর ছিলো এবং একটু দূরেই সীতাকুন্ড মহাসড়ক ছিলো। সব দিক বিবেচনায় আমার কাছে দারুণ অবস্থান ছিলো, যেহেতু কাছেই ছিলো সীতাকুন্ড ইকোপার্ক। কিন্তু সেই আত্মীয় সেটা অপছন্দ করলেন, আমিও অবাক হয়ে গেলাম। পরবর্তীতে জানতে পারলাম আসে পাশে মসজিদ এবং স্কুল নেই বিধায় উনি সেই প্লটটি অপছন্দ করেছিলেন।

এমন অনেক ঘটনার স্বাক্ষী আমি, আসে পাশে সুন্দর প্রকৃতি কিংবা মসজিদ অথবা স্কুল/খেলার মাঠ নেই বিদায় সেখানে জায়গা কিনতে অনেকেই অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। কিন্তু এখন মানুষ কি করে কিংবা কি খোঁজে? স্কুল-কলেজ? খেলাধুলার মাঠ কিংবা মসজিদ? একদমই না বরং এখন মানুষ খোঁজে শপিং সেন্টার, বাজার, রেস্টুরেন্ট, হাসপাতাল ইত্যাদি। কতটা পরিবর্তন এসেছে আমাদের মাঝে, কতটা পরিবর্তন হয়ে গেছি আমরা। আমরা এখন বাড়ি হতে নেমেই বাজার করতে চাই, শপিং সেন্টার চাই, রেষ্টুরেন্টে খাবার খেতে চাই, পার্কে গিয়ে আড্ডা মারতে চাই।

যার কারণে আজকে আমাদের এই অবস্থা, প্রকৃতি এতো খারাপ অবস্থা এবং সর্বোপরি সব কিছুর জন্য দায়ী আমাদের এই পরিবর্তন, আমাদের এই মানসিকতা। আজকে আমরা হুটহাট করে অসুস্থ হয়ে যাই, আজকে আমরা একটু বেশী উষ্ণময় পরিবেশ সহ্য করতে পারি না, একটু এদিক সেদিক হলেই আমাদের হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়, এই অবস্থান হতে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে, বের হয়ে আসার চেষ্টা করতে হবে, না হলে বভিষ্যত আরো বেশী খারাপ হবে আমাদের।

Image Taken From Pixabay

ধন্যবাদ সবাইকে।
@hafizullah

break .png
Leader Banner-Final.pngbreak .png

আমি মোঃ হাফিজ উল্লাহ, চাকুরীজীবী। বাংলাদেশী হিসেবে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করি। বাঙালী সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য লালন করি। ব্যক্তি স্বাধীনতাকে সমর্থন করি, তবে সর্বদা নিজেকে ব্যতিক্রমধর্মী হিসেবে উপস্থাপন করতে পছন্দ করি। পড়তে, শুনতে এবং লিখতে ভালোবাসি। নিজের মত প্রকাশের এবং অন্যের মতামতকে মূল্যায়নের চেষ্টা করি। ব্যক্তি হিসেবে অলস এবং ভ্রমন প্রিয়।

break .png

Banner.png

Sort:  

Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.

Coin Marketplace

STEEM 0.05
TRX 0.33
JST 0.079
BTC 63244.09
ETH 1685.25
USDT 1.00
SBD 0.39