শৈশবের স্মৃতিতে:"ঝিঁঝিঁপোকার ডাক"

in আমার বাংলা ব্লগlast year

নমস্কার

কেমন আছেন বন্ধুরা? আশা করি সবাই ভালো ও সুস্থ আছেন ঈশ্বরের কৃপায়।আমিও মোটামুটি ভালো আছি,আর তাই চলে আসলাম ছোটবেলার একটি স্মৃতিচারণ নিয়ে।

শৈশবের স্মৃতিতে:"ঝিঁঝিঁপোকার ডাক"

IMG_20250521_223004.jpg

আমরা সবাই ফিরে পেতে চাই আমাদের শৈশবের কিছু সুন্দর মুহূর্তগুলিকে।কিন্তু কিছু মুহূর্ত এমন স্মৃতি হয়ে যায় যেটির সম্মুখীন আমরা দ্বিতীয়বার হতে চাই না।আবার কিছু মিষ্টি স্মৃতি ফিরে পেতে চাই বারেবারে।আবার কিছু স্মৃতি সাময়িক সময়ের জন্য আনন্দ দেয়,আবার কিছু স্মৃতি ভয়ভীতু করে তোলে।তেমনি একটি মিষ্টি শৈশবের স্মৃতি আজ আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করবো।যেটি বারেবারে ফিরে পেতে মন চাইছিলো।তো আশা করি ভালো লাগবে আপনাদের সকলের কাছে আমার আজকের লেখা শৈশবের ছোট্ট অনুভূতিখানি।তো চলুন শুরু করা যাক----

গ্রীষ্মকালের দুপুর গড়িয়ে বিকেল।যেহেতু আমাদের দুটি ভিটা ছিল,তাই বাড়ি থেকে বের হয়ে চলে যেতাম মাঠের দিকের আরেকটি ভিটায়।যেখানে সবজি,ফলচাষ ও মাছ চাষ করা হতো।তার থেকেও বড় কথা বিকেল হলেই এই পথ দিয়েই আমাদের যেতে হতো মাঠে ,আমাদের পোষ্য গরু নিয়ে আসার জন্য।তো গ্রীষ্মের বিকেল ওই ভিটায় কাটাতে আমার বেশ ভালো লাগতো।

আমাদের বাড়ির প্রত্যেক কাকা-জেঠুর দুটি করে ভিটা ছিল।সবই বাড়ির সঙ্গে লাগোয়া করে, তবে বড় ভিটার খন্ডগুলি রাস্তার দিকে আর সকলের ছোট ভিটার খন্ডগুলি ছিল মাঠের দিকে।তো মেজো জেঠুর দ্বিতীয় ভিটার পাড় ছিল আমাদের দ্বিতীয় ভিটার লাগোয়া করে।গ্রীষ্মের বিকেলগুলি কাটতো আমার ওই পাড়ে কখনো একা, কখনো বড় জেঠুর ছোট মেয়ের সঙ্গে আবার কখনো আমার মায়ের সঙ্গে।

মাঝে মাঝেই পাড়ে বসে জেঠুর গাছের দেশি পেয়ারা খেতাম,ক্যানেল পাড়ের কাউফল খেতাম।আবার কখনো কাঁটা ঝাড়ে ফুটে থাকা অপরূপ সুন্দর ফুলগুলি গামছার কোচর ভরে তুলে নিয়ে একটির সঙ্গে আরেকটি গেঁথে কানের দুল, মাথায়,গলার মালা এবং হাতের বালা তৈরি করে পড়ে নিতাম।সঙ্গে আমার ওই জেঠুর মেয়েটিও থাকতো মাঝে মাঝেই, ওই ফুলগুলো সুতা ছাড়াই গেঁথে পড়া যেত,তবে ওর গাছে খুবই কাঁটাযুক্ত পাতা ছিল।তাই সাবধানে তুলতে হতো।

IMG_20250521_223101.jpg

আমরা সবাই জানি, রাতের অন্ধকারে ঝিঁঝিঁপোকার ডাক শোনা যায়।কিন্তু দিনের বেলাও ঝিঁঝিঁপোকার ডাক শোনা যায় গ্রীষ্মের সারাটা দিন কিংবা বিকেলে।ফুরফুরে হাওয়ায় যখন বিকেলে বসে থাকতাম পাড়ে তখন তীব্র ও ঝাঁঝালো স্বরে এই ঝিঁঝিঁপোকাগুলি গলা ছেড়ে ডাকতো নারিকেল গাছের গায়ে বসে।একসঙ্গে অনেকগুলো ডাকতো, ফলে এর ডাক বহুদূর অব্দি পৌঁছাতো।তো এতটাই জোড়ালো সুরে এক একটি ঝিঁঝিঁপোকা অবিরত ডাকতো,যে কানে তালা ধরে যাওয়ার উপক্রম হতো।আমার তো মনে হতো এরা চি----------- চি–------------ঝি----------- ঝি----------- টানা করেই যেত,থামার নাম -ই নেই।তার উপরে পোকাগুলি বেশি বড় নয় সাইজে,উপরের ওই ছবির মতোই।কিন্তু ডাক তার খুবই তীব্র,মাঝে মাঝেই এক প্রকার এই পোকা ধরার পিছনে ছুটতাম আমরা।তবে একে খুঁজে পেতে বেশ বেগ পেতে হতো।

অনেক কষ্টের পর যখন একটি পোকা পলিথিন ব্যাগে ভরে ফেলতাম।তখন পোকার ডাক বন্ধ হয়ে যেত।ঝিঁঝিঁপোকাটি চলে আসতো আমার বশে, আমার আয়ত্তে।অর্থাৎ আমি যখনই পলিথিন ব্যাগ হাত দিয়ে নাড়া দেব তখনই সে সেটুকু ডাকবে, বেশ মজার বিষয় ছিল এটি।

এত বছর পর এখানে সেই ঝিঁঝিঁপোকার ডাক শুনছি প্রতিদিন।আর একটি ঝিঁঝিঁপোকা তো উড়ে এসে আমার একটি পোশাকের উপর বসেছিলো।তাই তার ছবি তুলে তাকে পলিথিন ব্যাগে পর্যন্ত ভরলাম ছোটবেলার মতো করে।কিন্তু ছোটবেলার অবুঝ মনের মতো ওই ভুলটি আমি আর এখন করিনি।একটি ছবি তুলেই ঝিঁঝিঁপোকাকে মুক্ত করে দিয়েছি খোলা প্রকৃতিতে---------।।


আশা করি আমার আজকের লেখা শৈশবের গল্পটি আপনাদের সকলের কাছে ভালো লাগবে।পরের দিন আবার নতুন কোনো বিষয় নিয়ে হাজির হবো আপনাদের মাঝে, ততক্ষণ সকলেই ভালো ও সুস্থ থাকবেন।

পোষ্ট বিবরণ:

6nSeSEzKEwjJN68tMqgZXvpyk1cf2ihqXgmWESDgXSh21PkpkXyXwzmWEkSA7U2PjRr7VoGxjyzQFnZHCkVBWn57JTVUvY7omc512mhJJX...vDZX3Fcaov38Zxjxq21rAE9wN1b8HnrBKZamZjaRXZMJVUcaVKGLWFRFVNG6MXCo9ptvvGTefY61oasZ4TrQFVwMiYWBFUH8ivxFm1LbtvBRqtkowye4ZCeEyk.png

শ্রেণীজেনারেল রাইটিং
ডিভাইসpoco m2
অভিবাদন্তে@green015
লোকেশনবর্ধমান

3DLAmCsuTe3bV13dhrdWmiiTzq9WMPZDTkYuSGyZVu3GHrVMeaaa5zs2PBqZqSpD3mqpsYSX3wFfZZ5QwCBBzTwH9RFzqAQeqnQ3KuAvy8Nj1ZK1uL8xwsKK6MgDT8xwdHqPK76Y63rPyW9N4QaubxdwM3GV2pD.gif

আমার পরিচয়
আমি রিপা রায়।আমার স্টিমিট ইউজার আইডি @green015.আমি একজন ভারতীয়।আমি বর্ধমান ইউনিভার্সিটি থেকে গ্রাজুয়েশন কমপ্লিট করেছি,ইতিহাস বিষয় নিয়ে।বর্তমানে আমি ওখানেই অধ্যয়নরত আছি।এখানে বাংলা ভাষায় মন খুলে লেখালেখি করতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত।এছাড়া আমি একজন বাঙালি হিসেবে গর্ববোধ করি।

IMG_20240429_201646.jpg
আমি সবসময় ভিন্নধর্মী কিছু করার চেষ্টা করি নিজের মতো করে।কবিতা লেখা ও ফুলের বাগান করা আমার শখ।এছাড়া ব্লগিং, রান্না করতে, ছবি আঁকতে,গল্পের বই পড়তে এবং প্রকৃতির নানা ফটোগ্রাফি করতে আমি খুবই ভালোবাসি।।

Sort:  

Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.

 last year 

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.078
BTC 62578.73
ETH 1647.54
USDT 1.00
SBD 0.41