শৈশবের স্মৃতিতে:"ঝিঁঝিঁপোকার ডাক"
নমস্কার
শৈশবের স্মৃতিতে:"ঝিঁঝিঁপোকার ডাক"
আমরা সবাই ফিরে পেতে চাই আমাদের শৈশবের কিছু সুন্দর মুহূর্তগুলিকে।কিন্তু কিছু মুহূর্ত এমন স্মৃতি হয়ে যায় যেটির সম্মুখীন আমরা দ্বিতীয়বার হতে চাই না।আবার কিছু মিষ্টি স্মৃতি ফিরে পেতে চাই বারেবারে।আবার কিছু স্মৃতি সাময়িক সময়ের জন্য আনন্দ দেয়,আবার কিছু স্মৃতি ভয়ভীতু করে তোলে।তেমনি একটি মিষ্টি শৈশবের স্মৃতি আজ আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করবো।যেটি বারেবারে ফিরে পেতে মন চাইছিলো।তো আশা করি ভালো লাগবে আপনাদের সকলের কাছে আমার আজকের লেখা শৈশবের ছোট্ট অনুভূতিখানি।তো চলুন শুরু করা যাক----
গ্রীষ্মকালের দুপুর গড়িয়ে বিকেল।যেহেতু আমাদের দুটি ভিটা ছিল,তাই বাড়ি থেকে বের হয়ে চলে যেতাম মাঠের দিকের আরেকটি ভিটায়।যেখানে সবজি,ফলচাষ ও মাছ চাষ করা হতো।তার থেকেও বড় কথা বিকেল হলেই এই পথ দিয়েই আমাদের যেতে হতো মাঠে ,আমাদের পোষ্য গরু নিয়ে আসার জন্য।তো গ্রীষ্মের বিকেল ওই ভিটায় কাটাতে আমার বেশ ভালো লাগতো।
আমাদের বাড়ির প্রত্যেক কাকা-জেঠুর দুটি করে ভিটা ছিল।সবই বাড়ির সঙ্গে লাগোয়া করে, তবে বড় ভিটার খন্ডগুলি রাস্তার দিকে আর সকলের ছোট ভিটার খন্ডগুলি ছিল মাঠের দিকে।তো মেজো জেঠুর দ্বিতীয় ভিটার পাড় ছিল আমাদের দ্বিতীয় ভিটার লাগোয়া করে।গ্রীষ্মের বিকেলগুলি কাটতো আমার ওই পাড়ে কখনো একা, কখনো বড় জেঠুর ছোট মেয়ের সঙ্গে আবার কখনো আমার মায়ের সঙ্গে।
মাঝে মাঝেই পাড়ে বসে জেঠুর গাছের দেশি পেয়ারা খেতাম,ক্যানেল পাড়ের কাউফল খেতাম।আবার কখনো কাঁটা ঝাড়ে ফুটে থাকা অপরূপ সুন্দর ফুলগুলি গামছার কোচর ভরে তুলে নিয়ে একটির সঙ্গে আরেকটি গেঁথে কানের দুল, মাথায়,গলার মালা এবং হাতের বালা তৈরি করে পড়ে নিতাম।সঙ্গে আমার ওই জেঠুর মেয়েটিও থাকতো মাঝে মাঝেই, ওই ফুলগুলো সুতা ছাড়াই গেঁথে পড়া যেত,তবে ওর গাছে খুবই কাঁটাযুক্ত পাতা ছিল।তাই সাবধানে তুলতে হতো।
আমরা সবাই জানি, রাতের অন্ধকারে ঝিঁঝিঁপোকার ডাক শোনা যায়।কিন্তু দিনের বেলাও ঝিঁঝিঁপোকার ডাক শোনা যায় গ্রীষ্মের সারাটা দিন কিংবা বিকেলে।ফুরফুরে হাওয়ায় যখন বিকেলে বসে থাকতাম পাড়ে তখন তীব্র ও ঝাঁঝালো স্বরে এই ঝিঁঝিঁপোকাগুলি গলা ছেড়ে ডাকতো নারিকেল গাছের গায়ে বসে।একসঙ্গে অনেকগুলো ডাকতো, ফলে এর ডাক বহুদূর অব্দি পৌঁছাতো।তো এতটাই জোড়ালো সুরে এক একটি ঝিঁঝিঁপোকা অবিরত ডাকতো,যে কানে তালা ধরে যাওয়ার উপক্রম হতো।আমার তো মনে হতো এরা চি----------- চি–------------ঝি----------- ঝি----------- টানা করেই যেত,থামার নাম -ই নেই।তার উপরে পোকাগুলি বেশি বড় নয় সাইজে,উপরের ওই ছবির মতোই।কিন্তু ডাক তার খুবই তীব্র,মাঝে মাঝেই এক প্রকার এই পোকা ধরার পিছনে ছুটতাম আমরা।তবে একে খুঁজে পেতে বেশ বেগ পেতে হতো।
অনেক কষ্টের পর যখন একটি পোকা পলিথিন ব্যাগে ভরে ফেলতাম।তখন পোকার ডাক বন্ধ হয়ে যেত।ঝিঁঝিঁপোকাটি চলে আসতো আমার বশে, আমার আয়ত্তে।অর্থাৎ আমি যখনই পলিথিন ব্যাগ হাত দিয়ে নাড়া দেব তখনই সে সেটুকু ডাকবে, বেশ মজার বিষয় ছিল এটি।
এত বছর পর এখানে সেই ঝিঁঝিঁপোকার ডাক শুনছি প্রতিদিন।আর একটি ঝিঁঝিঁপোকা তো উড়ে এসে আমার একটি পোশাকের উপর বসেছিলো।তাই তার ছবি তুলে তাকে পলিথিন ব্যাগে পর্যন্ত ভরলাম ছোটবেলার মতো করে।কিন্তু ছোটবেলার অবুঝ মনের মতো ওই ভুলটি আমি আর এখন করিনি।একটি ছবি তুলেই ঝিঁঝিঁপোকাকে মুক্ত করে দিয়েছি খোলা প্রকৃতিতে---------।।
পোষ্ট বিবরণ:
| শ্রেণী | জেনারেল রাইটিং |
|---|---|
| ডিভাইস | poco m2 |
| অভিবাদন্তে | @green015 |
| লোকেশন | বর্ধমান |
| আমার পরিচয় |
|---|
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
টাস্ক প্রুফ:
কমেন্টস লিংক--
https://x.com/green0156/status/1926387183952220182
https://x.com/green0156/status/1926388671378268398
https://x.com/green0156/status/1926390537889706379
https://x.com/green0156/status/1926393628156440754
টুইটার লিংক