শৈশবের স্মৃতিতে: "সফেদা ফলের জাফ মাখা"

in আমার বাংলা ব্লগlast year

নমস্কার

কেমন আছেন বন্ধুরা? আশা করি সবাই ভালো ও সুস্থ আছেন ঈশ্বরের কৃপায়।কয়েক দিন ধরেই আমার এক্সাম চলছে।তার উপরে তীব্র গরমে শরীরটা এতই ক্লান্ত হয়ে পড়ে 40 কিলোমিটার যাতায়াতে ,যে বাড়ি ফিরে ফ্রেশ হয়ে আর এনার্জি থাকে না।তাই আমার মনে অফুরন্ত ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও পোষ্ট করতে পারছি না ঠিকমতো।যাইহোক আজ একটা শৈশবের গল্প নিয়ে হাজির হয়েছি।

শৈশবের স্মৃতিতে: "সফেদা ফলের জাফ মাখা"

free-photo-of-close-up-of-sapodilla-fruit-on-branch-outdoors.jpeg

সোর্স

আমরা সবাই ফিরে পেতে চাই আমাদের শৈশবের কিছু সুন্দর মুহূর্তগুলিকে।কিন্তু কিছু মুহূর্ত এমন স্মৃতি হয়ে যায় যেটির সম্মুখীন আমরা দ্বিতীয়বার হতে চাই না।আবার কিছু মিষ্টি স্মৃতি ফিরে পেতে চাই বারেবারে।আবার কিছু স্মৃতি সাময়িক সময়ের জন্য আনন্দ দেয়,আবার কিছু স্মৃতি ভয়ভীতু করে তোলে।তেমনি একটি মিষ্টি শৈশবের স্মৃতি আজ আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করবো। আশা করি ভালো লাগবে আপনাদের সকলের কাছে আমার আজকের লেখা শৈশবের ছোট্ট অনুভূতিখানি। চলুন শুরু করা যাক--

যখন আমি ছোট ছিলাম, তখন থেকেই দেখতাম আমাদের সবজি ক্ষেতের মাঝামাঝি এক পাশে একটি সফেদা গাছ রয়েছে।দিন যতই গভীর হয় গাছ ততই ডাল বৃদ্ধি করে বড় হতে লাগে।আর তাতে বড় বড় গোল সফেদা ধরে থাকে।যদিও গ্রামে আমরা সেগুলোকে গবেদা বলতাম।

গরম পড়লেই পুষ্ট গবেদাগুলি পেড়ে মাটির পাত্রের মধ্যে চালের কুড়ো দিয়ে তার মধ্যে ঢুকিয়ে রেখে দিতাম আবার কখনো খড়ের গাদার মধ্যে।তারপর সকাল বেলা দাঁত ব্রাশ করতে করতে সেগুলো একটি একটি করে বের করে চেক করতাম নরম হয়ে পেকে গিয়েছে কিনা ,পেকে গেলেই খেতাম আর না হলে আবার খড়ের গাদায় বন্দি কিংবা মাটির পাত্রে বন্দি করে রেখে দিতাম।

সফেদাগুলো পরিপক্ক হলে কয়েকটি নামিয়ে নিয়ে সোজা পুকুর ঘাটে চলে যেতুম।তারপর একটি একটি করে ঘষে তার গা থেকে সাদা ফোট অংশগুলো তুলে নিয়ে ধুয়ে নিতাম।সফেদার যখন নীল অংশ বের হতো তখন সেগুলো ভালোভাবে ধুয়ে শীল-পাটার সাহায্যে কিংবা গ্রেটার দিয়ে গ্রেট করে নিতাম।তারপর শুকনো লঙ্কা পুড়িয়ে,নুন-হলুদ দিয়ে মেখে খেয়ে নিতাম।

তখন অবশ্য তেঁতুলের কথ দেওয়া হতো কিনা ঠিক মনে পড়ছে না।তবে এটা বেশ ঝাল ঝাল করে মেখে খেতাম,যতক্ষণ সফেদার আঠায় গলা একেবারে বন্ধ হয়ে না আসতো ততক্ষণ পর্যন্ত চিবিয়ে খেয়েই যেতুম।তারপর চিবিয়ে রস খেয়ে ঠিতে ফেলে দিতাম।কি যে মজা হতো বলে বোঝানো যাবে না, চোখ দিয়ে জল ঝরবে টপ টপ করে ঝালের ঝাঁঝে,গলা জ্বলবে আবার আটকে আসবে সফেদার আঠায় আর জিভে স্বাদ নিতে নিতে ছুলে যাবে।সবমিলিয়ে এক অন্যরকম ভালোলাগার অনুভূতি।

গাছটি বেশ বড় হয়ে সবজি ক্ষেতের মধ্যে ছায়া পড়ছে ডাল ছেঁটেও কাজ হয় না তাই বাবা গাছটি একেবারেই কেটে ফেলে দিলেন।গাছটির ডালে উঠে বসে থাকতুম, কখনো আবার সফেদা নামাতুম ডাল বেয়ে উপরে উঠে।কি আর করার!তবে হ্যাঁ, বাবা পুকুর পাড়ে আর একটি সফেদা গাছ লাগিয়ে ছিলেন চারা বের হয়েছিল সেটা নিয়ে।তখন ঐ বড় বড় গোল জাতের গবেদা-ই ধরা শুরু করলো।

কিন্তু আমার দাদা একটি সংস্থা থেকে ছোট্ট একটি সফেদা গাছ উপহার পেয়েছিলো।সেই গাছটি প্রকৃত সফেদা গাছ ছিল, ছোট ছোট সফেদা ধরে থাকতো।আর গাছেই পেকে থাকতো কখনো কখনো ,সরাসরি গাছ থেকে নামিয়েই খোসা ছাড়িয়ে টপ করে খেয়ে ফেলা যেত।সে কি মিষ্টি স্বাদ,যেন এক অমৃত তৃপ্তি।গাছে পেকে যাওয়া ছোট্ট সফেদাগুলো যখন পাতলা ছিপছিপে খোসা ছাড়িয়ে ফেলা হতো তখন দেখতে একেবারে রসগোল্লার মতো মনে হতো।কিন্তু এখন সেই সফেদার জাফ মাখা গুলোকে খুবই মিস করি, সফেদা দেখতেই পাই না এখন বাজার ঘাট কিংবা মানুষের বাড়িতে।কিন্তু আমরা আবার একটা সফেদা গাছ লাগিয়েছি বাড়িতে।।


আশা করি আমার আজকের লেখা শৈশবের গল্পটি আপনাদের সকলের কাছে ভালো লাগবে।পরের দিন আবার নতুন কোনো বিষয় নিয়ে হাজির হবো আপনাদের মাঝে, ততক্ষণ সকলেই ভালো ও সুস্থ থাকবেন।

পোষ্ট বিবরণ:

6nSeSEzKEwjJN68tMqgZXvpyk1cf2ihqXgmWESDgXSh21PkpkXyXwzmWEkSA7U2PjRr7VoGxjyzQFnZHCkVBWn57JTVUvY7omc512mhJJX...vDZX3Fcaov38Zxjxq21rAE9wN1b8HnrBKZamZjaRXZMJVUcaVKGLWFRFVNG6MXCo9ptvvGTefY61oasZ4TrQFVwMiYWBFUH8ivxFm1LbtvBRqtkowye4ZCeEyk.png

শ্রেণীজেনারেল রাইটিং
ডিভাইসpoco m2
অভিবাদন্তে@green015
লোকেশনবর্ধমান

3DLAmCsuTe3bV13dhrdWmiiTzq9WMPZDTkYuSGyZVu3GHrVMeaaa5zs2PBqZqSpD3mqpsYSX3wFfZZ5QwCBBzTwH9RFzqAQeqnQ3KuAvy8Nj1ZK1uL8xwsKK6MgDT8xwdHqPK76Y63rPyW9N4QaubxdwM3GV2pD.gif

আমার পরিচয়
আমি রিপা রায়।আমার স্টিমিট ইউজার আইডি @green015.আমি একজন ভারতীয়।আমি বর্ধমান ইউনিভার্সিটি থেকে গ্রাজুয়েশন কমপ্লিট করেছি,ইতিহাস বিষয় নিয়ে।বর্তমানে আমি ওখানেই অধ্যয়নরত আছি।এখানে বাংলা ভাষায় মন খুলে লেখালেখি করতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত।এছাড়া আমি একজন বাঙালি হিসেবে গর্ববোধ করি।

IMG_20240429_201646.jpg
আমি সবসময় ভিন্নধর্মী কিছু করার চেষ্টা করি নিজের মতো করে।কবিতা লেখা ও ফুলের বাগান করা আমার শখ।এছাড়া ব্লগিং, রান্না করতে, ছবি আঁকতে,গল্পের বই পড়তে এবং প্রকৃতির নানা ফটোগ্রাফি করতে আমি খুবই ভালোবাসি।।

Sort:  

Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.

 last year 

অনেক ভালো লাগলো আপনার শৈশবের সফেদার জাফ মাখা খাওয়ার এবং শৈশবের স্মৃতি জেনে। আমিও এমনভাবে সফেদা অনেক খেয়েছি। ধন্যবাদ এমন সুন্দর একটি পোস্ট আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।

 last year 

তাই,আপনিও এভাবে সফেদা খেয়েছেন জেনে ভালো লাগলো দাদা।ধন্যবাদ আপনাকে।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.082
BTC 60051.75
USDT 1.00
ETH 1521.77
SBD 0.47