শৈশবের স্মৃতিতে: "কাটাকুটির গল্প"

in আমার বাংলা ব্লগ8 months ago (edited)

নমস্কার

কেমন আছেন বন্ধুরা? আশা করি সবাই ভালো ও সুস্থ আছেন ঈশ্বরের কৃপায়।আমিও মোটামুটি ভালো আছি,আর তাই চলে আসলাম ছোটবেলার একটি স্মৃতিচারণ নিয়ে।

শৈশবের স্মৃতিতে: "কাটাকুটির গল্প"

IMG_20250927_101344.jpg
সোর্স

আমরা সবাই ফিরে পেতে চাই আমাদের শৈশবের কিছু সুন্দর মুহূর্তগুলিকে।কিন্তু কিছু মুহূর্ত এমন স্মৃতি হয়ে যায় যেটির সম্মুখীন আমরা দ্বিতীয়বার হতে চাই না।আবার কিছু মিষ্টি স্মৃতি ফিরে পেতে চাই বারেবারে।আবার কিছু স্মৃতি সাময়িক সময়ের জন্য আনন্দ দেয়,আবার কিছু স্মৃতি ভয়ভীতু করে তোলে।তেমনি একটি শৈশবের স্মৃতি আজ আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করবো।তো আশা করি ভালো লাগবে আপনাদের সকলের কাছে আমার আজকের লেখা শৈশবের ছোট্ট অনুভূতিখানি।তো চলুন শুরু করা যাক----

না না বন্ধুরা, একদমই খাতায় আঁকা কাটাকুটি খেলার কথা বলছি না আমি।আমি বলছি ছোট্ট ছোট্ট কচি হাত পায়ে কেটে যাওয়া আঘাতের কথা।

একবার বাড়িতে আমি একাই খেলাধুলা করছি।খেলার বিষয় মাংস রান্না হবে।এখন মাংস বলতে সেই সুন্দরী গাছের শ্বাসমূল।আর নারিকেলের মালা ছিল আমাদের কড়াই।যাইহোক একটি দা নিয়ে শ্বাসমূল কাটছি।সুন্দরী গাছ আমাদের বাড়িতেই কয়েকটি লাগানো ছিল।নদীর একপাশে যেমন আমাদের গ্রাম।তেমনি সেই নদীর সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে বয়ে চলা ছোট্ট ক্যানেলটিও আমাদের ঘরের পিছনেই।তাই জোয়ার -ভাটার জল সেখানে যাতায়াত করে।আর আমাদের নদীটি সরাসরি গিয়ে মিলিত হয়েছে সুন্দরবনের সঙ্গে।

শ্বাসমূলের ভিতরে কাঠটি খুবই শক্ত।তাই কচি কচি হাতে সজোরে দা দিয়ে কোপ মারতেই একটি কোপ গিয়ে লাগলো আমার আঙুলের ডগায়। তখন দরদর করে লাল রক্ত ঝরে পড়ছে।আঙুলের ডগা চেপে ধরে নরম কাদা মাটি লাগিয়ে দিয়েছি তবুও রক্ত থামছে না।আবার অন্যদিকে মায়ের সঙ্গে বলতেও পারছি না, কারন দা হাতে নিয়েছি এটা দেখলেই সে রেগে যাবে।দা তে হাত দেওয়াই নিষেধ,তার উপরে হাতের এই অবস্থা কিছুতেই রক্ত পড়া বন্ধ হচ্ছিলো না।আর জ্বালা করছিলো খুবই তাই মায়ের চোখ এড়িয়ে পুকুর ঘাটে গেলাম।

হাতের আঙুলের ডগা জলে দিতেই লাল রক্তগুলি জলের সঙ্গে মিশে যাচ্ছিলো।তখন লক্ষ্য করলাম আঙুলের ডগার মাংস গোল আকারে কেটে গিয়ে ঝুলছে।একটুখানি কোনো মতে বেঁধে আছে তাই টান দিয়ে একেবারে আলাদা করে ফেলে দিলাম।কারন কাটা অংশ ঝুলছে আরো বিরক্তিকর লাগছে।কিন্তু ছোট্ট মনে আমার ভয় ঢুকে গেছে যে ওই কাটা অংশ কখনো মাংস গজিয়ে পূরণ হবে তো।নাকি কাটা আঙ্গুল বহন করে চলতে হবে সারাজীবন!তখন অনুভব করছিলাম কেন যে মায়ের নিষেধ সত্ত্বেও দা এ হাত দিলাম!!


আশা করি আমার আজকের লেখা শৈশবের গল্পটি আপনাদের সকলের কাছে ভালো লাগবে।পরের দিন আবার নতুন কোনো বিষয় নিয়ে হাজির হবো আপনাদের মাঝে, ততক্ষণ সকলেই ভালো ও সুস্থ থাকবেন।

পোষ্ট বিবরণ:

6nSeSEzKEwjJN68tMqgZXvpyk1cf2ihqXgmWESDgXSh21PkpkXyXwzmWEkSA7U2PjRr7VoGxjyzQFnZHCkVBWn57JTVUvY7omc512mhJJX...vDZX3Fcaov38Zxjxq21rAE9wN1b8HnrBKZamZjaRXZMJVUcaVKGLWFRFVNG6MXCo9ptvvGTefY61oasZ4TrQFVwMiYWBFUH8ivxFm1LbtvBRqtkowye4ZCeEyk.png

শ্রেণীজেনারেল রাইটিং
ডিভাইসpoco m2
অভিবাদন্তে@green015
লোকেশনবর্ধমান

3DLAmCsuTe3bV13dhrdWmiiTzq9WMPZDTkYuSGyZVu3GHrVMeaaa5zs2PBqZqSpD3mqpsYSX3wFfZZ5QwCBBzTwH9RFzqAQeqnQ3KuAvy8Nj1ZK1uL8xwsKK6MgDT8xwdHqPK76Y63rPyW9N4QaubxdwM3GV2pD.gif

আমার পরিচয়
আমি রিপা রায়।আমার স্টিমিট ইউজার আইডি @green015.আমি একজন ভারতীয়।আমি বর্ধমান ইউনিভার্সিটি থেকে গ্রাজুয়েশন কমপ্লিট করেছি,ইতিহাস বিষয় নিয়ে।বর্তমানে আমি ওখানেই অধ্যয়নরত আছি।এখানে বাংলা ভাষায় মন খুলে লেখালেখি করতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত।এছাড়া আমি একজন বাঙালি হিসেবে গর্ববোধ করি।

IMG_20240429_201646.jpg
আমি সবসময় ভিন্নধর্মী কিছু করার চেষ্টা করি নিজের মতো করে।কবিতা লেখা ও ফুলের বাগান করা আমার শখ।এছাড়া ব্লগিং, রান্না করতে, ছবি আঁকতে,গল্পের বই পড়তে এবং প্রকৃতির নানা ফটোগ্রাফি করতে আমি খুবই ভালোবাসি।।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.081
BTC 58423.66
USDT 1.00
ETH 1523.07
SBD 0.42