"ব্যস্ততম আরো একটি দিন"

in আমার বাংলা ব্লগ10 months ago

নমস্কার

কেমন আছেন বন্ধুরা? আশা করি সবাই ভালো ও সুস্থ আছেন ঈশ্বরের কৃপায়।আমিও মোটামুটি ভালোই আছি।যাইহোক আজ চলে আসলাম আপনাদের মাঝে নতুন একটি অনুভূতি শেয়ার করতে।আশা করি ভালো লাগবে আপনাদের সকলের কাছে আমার আজকের লেখা অনুভূতিটি।তো আর কথা না বাড়িয়ে চলুন শুরু করা যাক----

ব্যস্ততম আরো একটি দিন:

IMG_20250815_065335.jpg

মাত্র আর কয়েকটি দিন বাকি,তারপর এম.এ ফার্স্ট ইয়ারের সেকেন্ড সেমিস্টারের এক্সাম শুরু।যেহেতু ফার্স্ট সেমিস্টারে নতুন ভর্তি হয়েছিলাম তাই সবকিছুই অনলাইনে হয়েছিল।কিন্তু এইবার আমাদের এক্সামের জন্য ফর্ম ফিলাপ করতে হচ্ছে অনলাইনে আর টাকা জমা দিতে হবে অফলাইনে।সেটাও আবার ঢের ফরমায়েশ পূরণ করে তবে।তো আমি বাড়ি থেকে অনলাইনের এক্সামের ফর্ম ফিলাপ তো করেই নিলাম।কিন্তু বৃহস্পতিবার আমার আরো কিছু বান্ধবী যেহেতু অফলাইনে টাকা জমা দিতে যাবে তাই আমিও বৃহস্পতিবারেই চলে গেলাম ওদের সঙ্গে ট্রেন,টোটো করে একেবারে রাজবাড়ী।যেটি আমাদের বর্ধমান ইউনিভার্সিটির মূল প্রাণকেন্দ্র অর্থাৎ সমস্ত সমস্যা সমাধানের কাজ এই রাজবাড়িতেই করা হয়।যেহেতু পূর্বে এটি রাজার বাড়ি ছিল তাই এটিকে রাজবাড়ী বলা হচ্ছে।

IMG_20250815_065759.jpg

আমরা চারজন একসঙ্গে একই ডিপার্টমেন্ট থেকে গিয়েছিলাম।তো রাজবাড়ী ঢুকেই আমরা আমাদের নাম,ফোন নাম্বার সবই এন্ট্রি করে নিলাম।সেখানে আমি 35 সিরিয়াল নম্বরে লাইন দিয়েছি।লাইন টেনে দীর্ঘ অপেক্ষার পর যখন 11 টা থেকে কাজ শুরু হলো তখন রুমের ভিতরে গিয়ে একই ফর্ম দুটি দিলো।তারপর বললো কেউ পূরণ করবে না, তখন আবার রুমের ভিতরে লাইন দিতে হলো।কিছুক্ষণ পর তারা ফর্ম ফিলাপের বিষয় বলে দিলে আমরা পূরণ তো করে ফেললাম কোনরকমে কিন্তু আমাদের সেই লাইনের 34 জনের পর থেকে চলে গেলাম 200 জনের পর।

কারন কেউ পরে এসে ফর্ম নিয়ে জায়গায় দাঁড়িয়ে ওখান থেকেই সিগনেচার নিয়ে নিচ্ছে।কি আর করা,লাইন টেনে সিগনেচার তো করে নিলাম কিন্তু আবার টাকা জমা দেওয়ার জন্য ফের লাইনে দাঁড়ানো।লাইন যেন কমতেই চায় না, পা ব্যথা ধরে গিয়েছে।তার উপরে গরমে ফ্যানগুলি অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে।গরমে যেমন দমবন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম তেমনি আবার পা দুটো মনে হচ্ছিলো এখুনি ভেঙে পড়ে যাবে।এমতাবস্থায় আমরা দুইজন লাইন টেনেছি আর বাকি দুজন বাইরে একটু বসতে চলে গিয়েছে।তার উপরে তারা দুজন লাইন টেনেছে আমরা বসতে চলে গিয়েছি।এভাবে আরো 250-300 জনের পর অবশেষে টাকা জমা দিতে পারলাম।

IMG_20250815_065751.jpg

এরপর তারা টাকা জমা নিয়ে ফর্মের একটি কেটে রেখে দিলো বাকিটা সিল মেরে আমাদের কাছে দিয়ে দিলো।এবারে আবার গুগল স্ক্যান করে আরেকটি ফর্ম ফিলাপ করতে হয়েছে ফোনে ।সেটি করার পর একটি টোকেন নম্বর আসবে যেটি আমাদেরকে ওই অবশিষ্ট ফর্মের নীচে লিখতে হয়েছে।এরপর বলা হলো ওই অবশিষ্ট ফর্মের জেরক্স জমা নেবেন তাই আবার জেরক্সের দোকানে গিয়ে জেরক্স করে নিয়ে আসতেই ইয়া বড় লাইন দিতে হয়েছে।এখানে আবার লাইন টেনে ভর্তির পেমেন্ট স্লিপ আর জেরক্সের এক কপি তো জমা দিলাম।তখন রুমের ভিতরে আবার লাইন দিতে বললো টোকেন নম্বরের জন্য।এরপর আবার দীর্ঘক্ষণ লাইন টেনে টোকেন নম্বর বলে তবেই আমাদের কাজ সম্পন্ন হলো।

জীবনের প্রথমবার মনে হয় এতোটা লাইন টানলাম, সেটিও আবার 4-5 জায়গায় প্রায় 5-6 ঘন্টার মতো টানা।পা দুটো খসে পড়ার উপক্রম, এরপর বাইরে এসে কিছু ছবি সংগ্রহ করে আমরা সবাই ঘোরাঘুরির চেষ্টা করছিলাম।একটি পুরোনো বট গাছের নিচে কয়েকটি ছবি তুললাম কিন্তু ওদিকে যাওয়া নিষেধ বলে আর না গিয়েই সবাই বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলাম।দিনটি যেমন বিরক্তিকর ছিল, তেমনি ব্যস্ততাপূর্ন তেমনি আবার কাজ শেষ হওয়ার পর অন্যরকম ভালোলাগার বিষয়ও বটে।


আশা করি আমার আজকের অনুভূতিগুলি আপনাদের সকলের কাছে ভালো লাগবে।পরের দিন আবার নতুন কোনো বিষয় নিয়ে হাজির হবো আপনাদের মাঝে, ততক্ষণ সকলেই ভালো ও সুস্থ থাকবেন।

পোষ্ট বিবরণ:

6nSeSEzKEwjJN68tMqgZXvpyk1cf2ihqXgmWESDgXSh21PkpkXyXwzmWEkSA7U2PjRr7VoGxjyzQFnZHCkVBWn57JTVUvY7omc512mhJJX...vDZX3Fcaov38Zxjxq21rAE9wN1b8HnrBKZamZjaRXZMJVUcaVKGLWFRFVNG6MXCo9ptvvGTefY61oasZ4TrQFVwMiYWBFUH8ivxFm1LbtvBRqtkowye4ZCeEyk.png

শ্রেণীজেনারেল রাইটিং
ডিভাইসpoco m2
অভিবাদন্তে@green015
লোকেশনবর্ধমান

3DLAmCsuTe3bV13dhrdWmiiTzq9WMPZDTkYuSGyZVu3GHrVMeaaa5zs2PBqZqSpD3mqpsYSX3wFfZZ5QwCBBzTwH9RFzqAQeqnQ3KuAvy8Nj1ZK1uL8xwsKK6MgDT8xwdHqPK76Y63rPyW9N4QaubxdwM3GV2pD.gif

আমার পরিচয়
আমি রিপা রায়।আমার স্টিমিট ইউজার আইডি @green015.আমি একজন ভারতীয়।আমি বর্ধমান ইউনিভার্সিটি থেকে গ্রাজুয়েশন কমপ্লিট করেছি,ইতিহাস বিষয় নিয়ে।বর্তমানে আমি ওইখানেই স্নাতকোত্তর ডিগ্রিতে(এম.এ) অধ্যয়নরত আছি।এখানে বাংলা ভাষায় মন খুলে লেখালেখি করতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত।এছাড়া আমি একজন বাঙালি হিসেবে গর্ববোধ করি।

IMG_20240429_201646.jpg
আমি সবসময় ভিন্নধর্মী কিছু করার চেষ্টা করি নিজের মতো করে।কবিতা লেখা ও ফুলের বাগান করা আমার শখ।এছাড়া ব্লগিং, রান্না করতে, ছবি আঁকতে,গল্পের বই পড়তে এবং প্রকৃতির নানা ফটোগ্রাফি করতে আমি খুবই ভালোবাসি।।


Sort:  

Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.

 10 months ago 

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.082
BTC 59298.43
ETH 1556.82
USDT 1.00
SBD 0.42