শৈশবের স্মৃতিতে: "ভূতুড়ে এক কান্ড"(শেষ পর্ব)
নমস্কার
শৈশবের স্মৃতিতে: "ভূতুড়ে এক কান্ড"(শেষ পর্ব)
আমরা সবাই ফিরে পেতে চাই আমাদের শৈশবের কিছু সুন্দর মুহূর্তগুলিকে।কিন্তু কিছু মুহূর্ত এমন স্মৃতি হয়ে যায় যেটির সম্মুখীন আমরা দ্বিতীয়বার হতে চাই না।আবার কিছু মিষ্টি স্মৃতি ফিরে পেতে চাই বারেবারে।আবার কিছু স্মৃতি সাময়িক সময়ের জন্য আনন্দ দেয়,আবার কিছু স্মৃতি ভয়ভীতু করে তোলে।তেমনি একটি শৈশবের বাস্তবধর্মী গল্প বলবো আজ আপনাদের সঙ্গে। আশা করি ভালো লাগবে আপনাদের সকলের কাছে আমার আজকের লেখা শৈশবের ছোট গল্পখানি।তো চলুন শুরু করা যাক--
আমি আপনাদের সঙ্গে আগের পর্বে শেয়ার করেছিলাম আমার মামাবাড়ি গ্রামের দূরসম্পর্কের এক মামীর মেয়ের রাতে খুবই পেটে ব্যথা শুরু হয়েছিলো ,তারপর সে টয়লেট চলে যায়।তখন দূরের ফাঁকা মাঠে দুটি মানুষের অবিরত ঝগড়ার আওয়াজ শুনতে পায় আর যখনই সে ছাউনিহীন টয়লেট থেকে উঠে দাঁড়িয়ে দূরে চোখ রাখে তখন দমকা হাওয়া এসে তার ল্যাম্পটি হঠাৎ নিভিয়ে দিয়ে যায়----।
তারপর মেয়েটি কিছুই দেখতে পায় না কিন্তু খুবই ভয় পেয়ে মা----মা----বলে চিৎকার করতে থাকে।তখন তার মা তাড়াতাড়ি তাকে জল ব্যবহার করে উঠে আসতে বলে।তখন মেয়েটি উঠে তার মায়ের কাছে চলে আসে,,, আর সবকিছু খুলে বলে। তখন তার মা ভালোভাবে দূরের মাঠটি দেখার জন্য চলে যায়।যখন সে টয়লেটের কাছে যায় তখন দূরে গুনগুন শব্দ শুনতে পায়।তাই সে টয়লেটের একপাশে উঠে দাঁড়ায় যাতে সে ভালোভাবে দেখতে পায়।
যেই না ওই মামীর দৃষ্টি মাঠের একপাশে ঝোপের কাছে পড়ে, ওমনি সে দেখতে পায় দুটি লোক মারামারি করছে একে অপরের সঙ্গে।দুইজন-ই যেন দুটি অশরীরী,একেবারে সাদা রঙের প্রতিচ্ছায়া।লাঠি খেলার মতোই দুজনে যেন উচ্চস্বরে কখনো ঝগড়া করছে----তো কখনো অট্টহাসিতে ফেটে পড়ছে----।কিছুটা ভীতু বোধ করলো মামী তবুও আরো ভালোভাবে দেখার জন্য টয়লেটের উপর যেই না উঠে দাঁড়ায় অত দূর থেকে এক ঝটিকায় অশরীরীগুলি এসে যেন তার পাশে হাজির।যেন তার আশেপাশেই ভ্রমরের মতোই গুঞ্জন করতে থাকে আর দাঁত ভ্যাংচিয়ে হাসতে হাসতে তার দেহকে যেন সজোরে নিচের দিকে নিয়ে যেতে থাকে।মামীর শরীর তখন পুরো স্তব্ধ----মুখ থেকে কথা বের হচ্ছে না----পা দুটো থরথর কাঁপছে----শরীরে একটুও শক্তি নেই এক পা পিছনের কিংবা এগোনোর----।
ঠিক তখনই ধড়ফড় আওয়াজে টয়লেট ভেঙে তার ভিতরে পড়ে গেল মামী।যেহেতু গ্রামে তখন আলাদা ট্যাংক সিস্টেম করা ছিল না।তাই তার পুরো শরীর মলে ঢাকা,অনেক কষ্টে ভাঙা টয়লেটের স্লাভটি আঁকড়ে ধরে রেখেছে সে।তবুও অশরীরীগুলি তাদের সবটুকু জোর লাগিয়ে তাকে নিচের দিকে টানতে থাকে।মামীর শরীরের কাপড় খুলে নীচে যখন চলে যায়।দূরে দাঁড়িয়ে এইসব দৃশ্য কিছুটা তার মেয়ে দেখছিলো আবছা আলোয়।মায়ের চিৎকার শুনে সেও চেঁচিয়ে ওঠে।
তখন রাস্তা দিয়ে একজন পুরুষ হেটে বাড়ি ফিরছিলো, কোনো কারণে কাজ সেরে বাড়ি ফিরতে তার দেরি হয়ে গিয়েছিলো।তো সেই পুরুষ লোকটি এসে ওই মামীকে টয়লেট থেকে টেনে উপরে বের করে আনে।ইতিমধ্যে আরো দুয়েকজনের ঘুম ভেঙে যায় তখন আর সেখানে চলেও আসে।মামীর অবস্থা তখন খুবই বেহাল আর বিশ্ৰী এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।তাকে উঠানে এনে শুয়ে দেওয়া হয়, তারপর তাকে স্নান করিয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়।কিছু সময়ের জন্য তার জ্ঞান হারিয়ে যায় তারপর যখন জ্ঞান ফিরে আসে তখন ভুলভাল বকতে থাকে।মামীর আচরণ খুবই অদ্ভুত ও ভূতুড়ে রকমের হয়েছিলো,সেইজন্য ভালো গুণীন খোঁজা চলছিলো।যাতে ঝাড়-ফুঁক করে ভূত ব্যাটাদের তাড়াতে পারে-----।।
পোষ্ট বিবরণ:
| শ্রেণী | জেনারেল রাইটিং |
|---|---|
| ডিভাইস | poco m2 |
| অভিবাদন্তে | @green015 |
| লোকেশন | বর্ধমান |
| আমার পরিচয় |
|---|
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
টাস্ক প্রুফ:
কমেন্টস লিংক---
https://x.com/green0156/status/1907641047204700233
https://x.com/green0156/status/1907634343708688875
https://x.com/green0156/status/1907642494747074570
https://x.com/green0156/status/1907643077830775290
https://x.com/green0156/status/1907643932202160134
টুইটার লিংক