রাজবাড়ীতে কাটানো কিছু মুহূর্ত।
হ্যালো সবাইকে
কেমন আছেন সবাই ?আশা করি ভাল আছেন। আমিও ভাল আছি আল্লাহর রহমতে। আজকে আরও একটি নতুন পোস্ট নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি। প্রতাপপুর রাজবাড়িতে কাটানো কিছু মুহূর্ত আজকে আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করব। আশা করি আপনাদের কাছে আমার এই পোস্টটি ভালো লাগবে।
বেশ অনেকদিন পর আজকে আমি আপনাদের মাঝে একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি। অনেকদিন হয়ে গেল কোন ট্রাভেল পোস্ট আপনাদের মাঝে শেয়ার করা হয়ে ওঠে না। আজকে আমি আপনাদের মাঝে শেয়ার করব একটা রাজবাড়িতে ঘুরতে যাওয়ার সুন্দর কিছু মুহূর্ত এবং সেখানে
কাটানো এবং রাজবাড়ী পুরনো বিল্ডিং এবং রাজবাড়ি জিনিসপত্র দেখে আমার অনুভূতিগুলো কি ছিল সেই সব শেয়ার করব আজকে আপনাদের মাঝে। বেশ কিছুদিন আগের কথা গিয়েছিলাম প্রতাপপুর রাজবাড়িতে। ছোটবেলা থেকেই শুনছিলাম আমাদের এখানকার অর্থাৎ ফেনীতে একটা খুবই বিখ্যাত রাজবাড়ী রয়েছে। কখনো যাওয়া হয়ে ওঠেনি।
স্কুলে যখন পড়তাম তখন এই ধরনের রাজবাড়ীর মহারাজাদের গল্প এসব কিছু নিয়ে আগ্রহ ছিল। আমার রাজাদের বিভিন্ন ইতিহাস পড়তে আমার কাছে খুবই ভালো লাগতো। বিশেষ করে আগেকার দিনের জীবন এবং তাদের বৈচিত্র্যময় সকল জিনিসপত্র নিয়ে আমার অনেক কৌতূহল ছিল। যখন আমি জানতে পারলাম যে আমাদের এখানেও একটা অনেক পুরনো রাজবাড়ি রয়েছে তখন সেখানে যাওয়ার আগ্রহ টা অনেক বেশি বেড়ে যায়। যদিও বিভিন্ন কারণে কখনো আর যাওয়া হয়ে ওঠেনি। কিন্তু এবার গিয়েছিলাম এবং আমি সেখানে গিয়ে অনেক বেশি খুশি হয়েছি। কারণ অনেক দিনের একটা আশা যে পুরনো রাজবাড়ি দেখবো সেগুলো আসলে দেখতে কেমন হয়। ভাবলে অবাক লাগে কয়েকশো বছর আগে এখানে আগে রাজা মহারাজারা থাকতেন এবং তাদের জীবনকাল ছিল আমাদের জীবন থেকে একদমই আলাদা।
রাজাদের লাইফ স্টাইল ছিল অন্যরকম রাজকীয় ভাবে তারা চলাফেরা করতো এবং তাদের ঘরবাড়ি এসব নিয়ে আমার। আমি যেখানে গিয়ে দেখলাম অনেকগুলো বড় বড় বিল্ডিং রয়েছে তবে সেগুলো এখন পরিত্যক্ত। চারপাশে বন জঙ্গল গাছপালা আগাছা এসবই শুধু দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। আর দেখা যাচ্ছে পুরনো অনেকগুলো বিল্ডিং যে বিল্ডিং গুলোর মধ্যে অনেক মরিচা ধরে গেছে। সেখানে গিয়ে সেই সব কিছু দেখে খুবই রোমাঞ্চকর একটা অনুভূতি হচ্ছিল। সেখানে বড় বড় অনেকগুলো ভবন ছিল যেগুলো বেশ কয়েকশো বছর আগের তৈরি। সেগুলো দেখছিলাম আর মনে মনে কল্পনা করছিলাম যে এখানে একটা সময় রাজা মহারাজারা বসবাস করতেন। একটা রাজপ্রাসাদ ছিল যেটা এখন সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে এইরকম অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে। আর মনে মনে কল্পনা করছিলাম বইয়ে পড়া সিনেমায় দেখা রাজা মহারাজাদের রাজপ্রাসাদ গুলোকে।
এই রাজপ্রাসাদটা অর্থাৎ এই রাজবাড়ীটা এখন অনেক পুরনো আর বন জঙ্গলে অবস্থা খারাপ হয়ে আছে। তারপরও রাজবাড়ীটাকে পাহারা দেওয়ার জন্য একটা লোক এখনও রয়েছে। তিনি খুবই বৃদ্ধ। তারপরও তিনি দিনের বেলায় এই জায়গাটাকে পাহারা দেন। শুনেছি রাতের বেলা অনেকে বলে এখানে নাকি ভুত-প্রেত দেখা যায়। কথাটা কতটা সত্য কতটা মিথ্যা সেটা আমার জানা নেই। তবে বর্তমানে এই রাজবাড়ীটা পর্যটক কেন্দ্র হিসেবে পরিণত হয়েছে। দিনের বেলা মানুষ এখানে ঘুরতে আসে দূর-দূরান্ত থেকে রাজবাড়ীটা দেখতে আসে। সন্ধ্যা হওয়ার সাথে সাথে এখান থেকে মানুষ বেরিয়ে যায়। কারণ মানুষ মনে করে সন্ধ্যা হলেই চারদিকে ভূত-প্রেতের প্রকোপ বেড়ে যায় এবং ভয়ে মানুষ আর সন্ধ্যার পর এখানে থাকতে চায় না।
দিনের বেলা যখন মানুষ এখানে ঘুরতে আসে মানুষজন অর্থাৎ পর্যটকদের কে কেন্দ্র করে সেখানে বিভিন্ন ধরনের খাবার-দাবার স্টলে বসে। ঝাল মুড়ি বিভিন্ন ধরনের জিনিস মাখা মানুষ এখানে এবং প্রচুর এখানে ঘুরতে এসে সেগুলোতে খুব মজা করেই খায়। সেখানে আমি বসে বসে ঝাল মুড়ি খাচ্ছিলাম। চারপাশে খুবই সুন্দর ঘন ঘাস মাটি যেন দেখাই যাচ্ছে গাছের উপর বসে বিকেলবেলা রাজবাড়ি দেখতে দেখতে একটু মুড়ি মাখা খাচ্ছিলাম। মুড়ি মাথাটা বেশ মজা ছিল ছোট ছোট গোটা আলু দিয়েছিল খেতে অসাধারণ লেগেছে। রাজবাড়ীর ইতিহাস সম্পর্কে জানার চেষ্টা করেছিলাম রাজবাড়ির বংশধররা নাকি এখনো কয়েকজন বেঁচে আছে।
তারাও নাকি এই দেশে থাকেন না তারা থাকে ভারত বর্ষে। যিনি রাজা ছিলেন তারা তো বেশ অনেক আগেই মৃত্যুবরণ করেছেন এবং তাদের বংশধররাও পর্যায়ক্রমে বিলুপ্ত হতে শুরু করেছে। কিন্তু বর্তমানে যারা বংশানুক্রমে রাজার বংশধর ছিলেন তারা আমাদের দেশে যুদ্ধের সময় ভারতবর্ষে চলে যান এবং পরবর্তীতে তারা সেখানেই বসবাস করতে থাকেন। এরপর থেকে তারা নাকি তাদের দুর্গ পুজোর সময় এই দেশে আসতেন এবং এখানে পুজো করতে এবং তখন একটা দিন রাজবাড়ীতে এসে এই রাজবাড়ীটা দেখে চলে যেতেন।
সত্যি বলতে যতটুকু জানতে পেরেছি ততটুকই আপনাদের মাঝে শেয়ার করতে পেরেছি। অনেক অনেক বছর আগেকার এই রাজবাড়ী এবং তার ঘটনা সত্যি কোনটা মিথ্যে কোনটা সেটা আমার একদমই জানা নেই। লোকবলে যেটা শুনেছি সেটাই আপনাদের মাঝে শেয়ার করলাম। তবে আমার কাছে অনেক বেশি ভালো লেগেছে এই রাজবাড়ীটা ঘুরতে গিয়ে এবং সেখানকার ইতিহাস গুলো জানতে পেরে। মনে হচ্ছিল ইতিহাস পড়াটা এবং রাজা রানীদের জীবন কাহিনী পড়াটা যেন সার্থক হয়ে গেল। যাইহোক আজকে এ পর্যন্তই আশা করছি আপনাদের কাছে আমার আজকের এই পোস্ট ভালো লাগবে। সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন ধন্যবাদ।
| শ্রেণী | ট্রাভেল |
|---|---|
| ফটোগ্রাফার | @fasoniya |
| ডিভাইস | Vivo Y15s |
| লোকেশন | বাংলাদেশ |
আমার পরিচয়
আমার নাম ফারজানা আক্তার সোনিয়া। আমি বাংলাদেশী।আমি বর্তমানে লেখাপড়া করি আমি একজন স্টুডেন্ট। আমি আর্ট করতে ভালোবাসি আর যখনই সময় পাই তখনই আর্ট করি।আমি ফটোগ্রাফি করতে খুবই ভালোবাসি । যখনই কোথাও খুব সুন্দর কিছু আমার চোখে পড়ে আমি ফটোগ্রাফি করে ফেলি। এছাড়াও আমি ক্রাফট তৈরি করে থাকি । বিভিন্ন ধরনের রান্না করে থাকি রান্না করতে অনেক পছন্দ করি। আমি আমার পরিবারের সবচেয়ে বড় মেয়ে । আমার ছোট ছোট দুইটা ভাই আছে। আমার অনেক স্বপ্ন রয়েছে যেগুলো স্টিমিট এ কাজ করে পূরণ করতে চাই।
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
আপনার রাজবাড়ী ভ্রমন এর গল্প পড়ে আমার ও সেখানে যেতে মনে চাইছে। আপনি বেশ সুন্দর করে পুরো রাজবাড়ীর কাহিনী তুলে ধরেছেন। ধন্যবাদ আপু।