হঠাৎ দেখা ( প্রথম পর্ব )।
আমার বাংলা ব্লগে,সবাইকে স্বাগতম।
আমি @emon42.
বাংলাদেশ🇧🇩 থেকে
দুপুর ৩ টাই ট্রেন কমলাপুর স্টেশন থেকে। যথারীতি দুই ঘন্টা আগে বের হয় বাসা। কিন্তু ঢাকা শহরের যানজট। মাএ আধা ঘন্টার রাস্তা যানজটের জন্য লাগল দেড় ঘন্টার বেশি সময়। ভেবেছিলাম ট্রেন হয়তো ধরতে পারব না। কমলাপুর স্টেশনের ৮ নাম্বার প্লাটফর্ম। শহরতলী স্টেশন বলেও অনেকে চেনে এটা। দৌড়ে গিয়ে দেখি ট্রেন ইতিমধ্যে ছেড়ে দিয়েছে। কোনরকম দৌড়ে গিয়ে ট্রেন টা ধরলাম। তবে আমার কামড়া ছিল অন্যটা। ফাস্ট ক্যাপিটাল এই ট্রেনটা আমাদের এলাকায় যাওয়ার জন্য বেশ ভালো। তবে এটার গন্তব্য যশোর। ঐ মাঝামাঝি আমার স্টপেজ পড়ে। এই ট্রেনে একটু বেশিই ভীড় হয়ে থাকে। যাইহোক ফোনের পিডিএফ থেকে টিকিটে সিট নাম্বার এবং কামড়া নাম্বার আরেকবার দেখে নিলাম। তারপর এগিয়ে গেলাম। মানুষের ভীড় ঠেলে যেতে বেশ কষ্ট হচ্ছিল।
অবশেষে চলে গেলাম আমার কামড়ায়। বরাবরই আমি জানালার ধারের সিটের টিকিট কেটে থাকি। টিকিট টা প্রথমদিন কনফার্ম করেছিলাম এইজন্য একেবারে মাঝে পেয়েছি। অর্থাৎ যেখানে চার টা সিট মুখোমুখি থাকে এমন জায়গা। ট্রেন ততক্ষণে বেশ ভালো গতিতে ছুটছে। বাইরে রোদ নেই। মেঘাচ্ছন্ন আকাশ টা ঢেকে দিয়েছে সূর্যকে। ৫২ নাম্বার উইন্ড্রো সিট আমার। অন্য তিনজন যাএী কারা এটা সম্পর্কে আমার ধারণা নেই। অবেশেষ নিজের সিটে গিয়ে বসলাম। আমার সামনের সিটের ভদ্রলোকের দিকে একবার নজর গেলেও সেরকম ভাবে খেয়াল করিনি। সাথে একজন মহিলা। সম্ভবত উনার স্ত্রী। এবং আমার পাশের সিটেও একজন মেয়েই বসেছে। ট্রেন জার্নিতে এই প্রথম আমার পাশের সিটে কোন মেয়ে বসেছে। যদিও সেটা আমি খুব স্বাভাবিক ভাবেই নিয়েছি।
বাকি তিনজন তাদের মধ্যে কথা বলছিল ঐসময় আমি গিয়ে আমার সিটে বসি। প্রথমে আমার কাঁধের ব্যাগটা ট্রেনের উপরে রাখলাম। এরপর সিটে বসলাম। তখনও আমি আমার পাশের যাএীদের মুখের দিকে দেখিনি। তবে কিছুক্ষণ পরেই নজর সামনে গেল। আমার সামনের সিটের ঐ মেয়েটা আমার দিকে এক নজরে তাকিয়ে রয়েছে। প্রথমে আমি খেয়াল না করলেও যখন নজর পড়েছে ঐ দৃষ্টি চিনতে আমার ভুল হয়নি। যদিও চেহারায় কিছুটা পরিবর্তন এসেছে কিন্তু ঐ হালকা বাদামি চোখের চাহনি যে আমার অনেক পরিচিত। অদিতির সাথে প্রায় ৫ বছর পর দেখা। আগে ওকে কত দেখেছি কত একসঙ্গে রিক্সায় ঘুরেছি। জীবনের প্রথম গোলাপ টা তো ওর জন্যই কিনেছিলাম। মনের মধ্যে ভেসে উঠছিল এমন হাজারও স্মৃতি। নিজেকে সামলে নিলাম।
বই পড়ার অভ্যাস তো অনেক আগে থেকেই। ট্রেন জার্নি যেন বোরিং না হয় এইজন্যই ব্যাগে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শেষের কবিতা বইটা রেখে দিয়েছিলাম। বইটা নিয়ে পড়তে শুরু করলাম। এবং ট্রেন নিজের গতিতে চলতে শুরু করল। তবে বইয়ের শব্দগুলো আজ ভীষণ এলোমেলো লাগছিল। পুরাতন অনেক কথায় মনে পড়ছিল। কখনোই ভাবিনি সেই মানুষ টার সাথে এভাবে আবার দেখা হবে। যে চলে যাওয়ার পর পুরোটা এলোমেলো হয়ে যায় জীবনটা। তারপর অনেক গুলো দিন কেটে গেলেও এখনও নিজেকে গুছিয়ে হয়তো নিতে পারিনি। আমার মুখের উপর বই। এটা প্রকার তার ঐ দৃষ্টি টা এড়ানোর ছিল। সামনের ভদ্রলোক টা হঠাৎ উঠে গেল। তখন হঠাৎ সামনের সিট থেকে ভেসে আসলো একটা শব্দ,
কেমন আছ......?
সবাইকে ধন্যবাদ💖💖💖।
অনন্ত মহাকালে মোর যাএা অসীম মহাকাশের অন্তে। যারা আমাদের পাশে আছে তারা একটা সময় চলে যাবেই, এটা তাদের দোষ না। আমাদের জীবনে তাদের পার্ট ওইটুকুই। আমাদের প্রকৃত চিরশখা আমরা নিজেই, তাই নিজেই যদি নিজের বন্ধু হতে পারেন, তাহলে দেখবেন জীবন অনেক মধুর।তখন আর একা হয়ে যাওয়ার ভয় থাকবে না।
আমি ইমন হোসেন। আমি একজন বাংলাদেশী। আমি একজন ছাএ। তবে লেখাপড়া টা সিরিয়াসলি করি না হা হা। লেখালেখি টা বেশ পছন্দ করি। এবং আমি ফুটবল টা অনেক পছন্দ করি। আমার প্রিয় লেখক হলেন জীবনানন্দ দাস। আমি একটা জিনিস সবসময় বিশ্বাস করি মানিয়ে নিতে এবং মেনে নিতে পারলেই জীবন সুন্দর।।
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.