মামির পক্ষ থেকে বড় মেয়ের জন্মদিনের সারপ্রাইজ🎂❤️ শেষ পর্ব।
মাতৃভাষা বাংলা ব্লগিং এর একমাত্র কমিউনিটি "আমার বাংলা ব্লগ"এর ভারতীয় এবং বাংলাদেশী সকল সদস্যগণ,কেমন আছেন সবাই? আশাকরি আপনারা সকলেই ভালো আছেন,সুস্থ আছেন?পরম করুণাময় ঈশ্বরের অশেষ কৃপায় আমিও পরিবারের সবাইকে সাথে নিয়ে ভালো আছি সুস্থ আছি।
আমি @bristychaki,আমি একজন বাংলাদেশী। আমার বাংলা ব্লগ এর আমি একজন ভেরিফাইড ও নিয়মিত ইউজার।আমি বাংলাদেশের গাইবান্ধা জেলা থেকে আপনাদের সাথে যুক্ত আছি। প্রতিদিনের মতো আমি আজও নতুন একটি ব্লগ নিয়ে আপনাদের মাঝে হাজির হয়েছি।আমি প্রতিনিয়ত চেষ্টা করি পোস্টের ভিন্নতা আনার।তারই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আজ নতুন একটি পোস্ট আপনাদের সাথে শেয়ার করছি।আশাকরি আপনাদের ভালো লাগবে।
বড় মেয়ের জন্মদিন ডিসেম্বরের ২০ তারিখে আর তখন আমরা বাড়িতেই ছিলাম।মেয়ের জন্মদিন নিয়ে খুব একটা পরিকল্পনা করা হয়নি,কারণ আমাদের ব্যক্তিগত কিছু সমস্যার কারণে।আমি চুপচাপ ছিলাম মেয়েকে আগেই বলেছিলাম এবার তোমার জন্মদিন পালন করবো না পরে সুযোগ মতো তোমাকে একটা ভালো উপহার কিনে দিবো।আমার মেয়েরা খুবই লক্ষ্মী ওরা সবকিছুই বোঝে তাই এদিক দিয়ে আমার খুব সুবিধা। কোনোকিছু নিয়ে বেশি টেনশন করতে হয় না।
আমি চুপচাপ ছিলাম জানি এবার কিছু করবো না।সকালবেলা মেয়ের মেজো মামি মানে @shapladattaআমার বড় বৌদিকে বললো আজ দুপুরে বিরিয়ানি রান্না হবে ঐশীর জন্য!আর ফ্রিজ থেকে দুধ গুলো বের করে রাখো সন্ধ্যায় পায়েস রান্না করে দিবো।বিরিয়ানির সব আয়োজন করে মামি-ভাগ্নী মিলে বিরিয়ানি রান্না করলো তারপর সবাই মিলে খুবই মজা করে দুপুরে বিরিয়ানি খাওয়াদাওয়ার পর্ব শেষ করে সবাই যে যার মতো মজা করতে লাগলো।আর আমি ও শাপলা বৌদি মিলে একসাথে শুয়ে গল্প করছিলাম।বাড়িতে গেলে আমি আর শাপলা বৌদি সারাদিনের বেশিরভাগ সময় একসাথেই কাটাই।শুয়ে থাকতে থাকতে হঠাৎ করেই শাপলা বৌদি বললো যাই একটু শাদুল্লাপুর থেকে ঘুরে আসি!একটা কেক কিনে আনি,আমি ওকে আনতে না করলাম কিন্তু ওর কথা কেক আনলে মেয়ে অনেক খুশি হবে।এই কথাটা শুনে আমিও আর তেমন না করলাম না কারণ ও ভালোবেসে সারপ্রাইজ দিতে চাচ্ছে এটা আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছে।
কিছুক্ষণের মধ্যে কেক কিনতে বেড়িয়ে পড়লো।আমাদের বাড়ি একদম গ্রামে আর উপজেলা শহর খুব যে উন্নত তাও না।তাই সবসময় টাকা থাকলেও সবকিছু হাতের নাগালে পাওয়া যায় না।তারপরও হঠাৎ করেই কেক আনতে পেরেছে এটাই অনেক।কেক এনে লুকিয়ে রেখেছিলো যাতে মেয়ে বুঝতে না পারে!ছোট মেয়ে শাপলা বৌদির মেয়ে আরাধ্যা মিলে ওদের মতো করে সাজিয়ে কেক লুচি পায়েস দিয়ে সবকিছু রেডি করে যখন বর্ষাকে রুমে নিয়ে গেছে ও এগুলো দেখে কি যে আনন্দিত হয়েছিলো তা ওর চোখমুখ দেখেই বোঝা গিয়েছিলো!আমার মনে হয় ওর এরকম অনুভূতি হয়েছে যে এটা ওর জীবনের শ্রেষ্ঠ জন্মদিন।আসলে খুশি হওয়ার জন্য অনেক কিছুর প্রয়োজন পড়ে না ভালোবাসা থাকলে অল্পতেই খুশি হওয়া যায় আর সেটাই মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে বুঝতে পারছি আমি।
আমাদের বাড়ির কাকা কাকিমাদের ডাকা হয়েছিলো তাঁরা সবাই এসেছিলো মেয়ের কেক কাটা আর্শীবাদ করে সবাই যে যার মতো মেয়েকে টাকা উপহার দিয়েছিলো।আসলে আগে থেকে কোনো পরিকল্পনা ছিলো না তাই কেউ কিছু কিনে দিতে পারেনি সবাই টাকা দিয়েছিলো।মেয়ে তো সেই খুশি এইসব দেখে মনে হয় কান্না করে দেবে এরকম অবস্থা।সবাই মিলে কেক লুচি ছোলার ডাল পায়েস খাওয়া হলো।অল্প সময়ের মধ্যে এতোকিছু আমার বড় বৌদি তৈরি করেছেন সাথে ছোট বৌদি হেল্প করেছিলো।সবাই মিলে আনন্দের সাথেই দিনটি উপভোগ করেছিলাম।
শাপলা বৌদিকে নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই কারণ সেভ বিয়ের প্রথম থেকেই তার সাথে আমার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আমরা কখনো ননদ বৌদি মনে করি না আমরা বান্ধবীর মতো মিশি এবং সব ধরনের কথাবার্তা বলি।আজ পর্যন্ত কখনোই আমাদের মনোমালিন্য সৃষ্টি হয়নি আশাকরি ভগবানের অশেষ কৃপায় কখনো হবেও না এটা আমার বিশ্বাস।আমাদে সবার জীবনে এরকম একজন মানুষ থাকা প্রয়োজন যে সময়ে অসময়ে বিপদেআপদে ছায়ার মতো পাশে থাকবে তাহলে জীবনের অনেক সমস্যা অতিক্রম করা সম্ভব।পরিবারের সবাই সবার বন্ধু হয়ে থাকার মধ্যে কি যে আনন্দ আছে তা শুধু আমরাই জানি।
পৃথিবীর সকল সম্পর্ক গুলো বন্ধুত্বপূর্ণ হয়ে উঠুক এই প্রার্থনা করে এখানেই শেষ করছি।
OR
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
ননদ ভাজের সম্পর্ক মিষ্টি হয়ে থাক এভাবেই৷ বর্ষার জন্মদিনের আগের পর্বগুলো মিস করে গেছি। আজ পড়লাম৷ দেরি হল অনেক। তাও আমার পক্ষ থেকে বর্ষার জন্মদিনের অনেক অনেক আদর ভালবাসা ও শুভেচ্ছা জানালাম। খুব ভালো থাকুক বর্ষা এবং ভীষণ সুন্দর করে গান করুক। গানের জগতে ওর নাম আলোকিত হোক।
তোমাদের আশীর্বাদ আমার মেয়ের জন্য পরম পাওয়া।ঈশ্বরের কাছে এটাই প্রার্থনা করি আমার মতো তোমাদেরও সকল স্বপ্ন যেনো পূরণ হয়।সবসময়ই ভালো থেকো বন্ধু ❤️
টুইটার লিংক
জন্মদিনে ঐশী দারুণ সুন্দরভাবে আনন্দ করে কাটিয়েছে বুঝাই যাচ্ছে। এর আগেও মনে হয় কয়েকটি জন্মদিনের পোস্ট আমি পড়েছি। মামির থেকে দারুন সব গিফট পেয়ে তার মন নিশ্চয়ই আনন্দে ভরে উঠেছিল। আর তুমি ও শাপলা বোন দুজনে একসঙ্গে অনেকটা সময় আনন্দ করেছ দেখে ভালো লাগছে।
হ্যাঁ দাদা মেয়ে তো সেই খুশি যা বলে প্রকাশ করতে পারবো না।আশীর্বাদ করিও দাদা যাতে আমরা একে-অপরকে ভালোবেসে সারাজীবন থাকতে পারি।🙏❤️