গায়ে হলুদের নেমন্তন্ন,১০% লাজুক শেয়ালের জন্য।
আসসালামু আলাইকুম/আদাপ,
গায়ে হলুদের আমন্ত্রণ।কি অবাক হচ্ছেন?গায়ে হলুদের নিমন্ত্রণ নিয়ে কেটে গেল ১২ দিন।বিশেষ করে চিঠি কিংবা আমন্ত্রণপত্র এতে সম্পন্ন করতে বেশি সময় লেগে যায়। বিবাহের দিন তারিখ যত ঘনিয়ে আসে ততো কাজের প্রেসার বাড়তে থাকে।যাইহোক,আমার বাল্যবন্ধু সেলিম সরকারের গায়ে হলুদ।
গায়ে হলুদের আগের দিন পুরো বাড়িটি আলোক সজ্জায় সাজানো হয়েছিল।গায়ে হলুদের ছোট্ট মঞ্চটি ছাদে সাজানো হয়েছিলো।ক্যামেরাম্যান প্রস্তুত;সন্ধ্যা ছয়টা থেকে ছবি তোলা শুরু।কিন্তু বিপাকে পড়লাম অন্য জায়গায়।গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে যারা হলুদ শাড়ি পড়ে উপস্থিত থাকবেন তাদের নিয়ে ঝামেলাটা শুরু।শাড়ি বিতরণ করার পর মেয়েরা মেকআপ নিতে সময় নিয়েছিল ৪ঘন্টা।নিশ্চয়ই ক্যামেরাম্যানদের জন্য এটা স্বস্তির বিষয় ছিল না।যারা প্রথমের দিকে,খুব অল্প সময় নিয়ে মেকআপ নিয়েছিল দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর আবার নতুন করে মেকআপ নেওয়া শুরু করে।গায়ে হলুদ অনুষ্ঠান শুরু করতে গিয়ে বারবার ডেকেও ব্যর্থ হলাম মেকআপ বিড়ম্বনার কারণে।যাই হোক রাত এগারোটার পর মেকআপ নেওয়ার সম্পন্ন হলো।
কিন্তু একটা আনন্দের বিষয় হচ্ছে ছোট কিছু মেয়েরাও হলুদ শাড়িতে সেজেছিল চমৎকারভাবে।আমি খুব একটা বেশি ছবি তুলি নাই তবে,গায়ে হলুদের মধ্যে একটি ছোট্ট বাচ্চা মেয়ের ছবি আমাকে খুবই আকর্ষণ করেছিলো।আমি খুব ইচ্ছে করছিলাম যে,ক্যামেরায় ছবিটি ধারণ করবো কিন্তু সময়ের কারণে ফোন ক্যামেরাতেই অল্প পরিসরে ছবিটি ধারণ করা হয়েছিলো।ছোট্ট মেয়েটির নাকে নথ ছিল,মাথায় ফুল দিয়ে জড়ানো ছিল,গলা এবং হাতে ছিল দারুণ অলংকার।অব্যক্ত এমন ফুটফুটে নিষ্পাপ চাহনীতে ছোট বাচ্চাটির,গায়ে হলুদের চিত্রটি আমাকে বেশ করে মুগ্ধ করেছে।প্রথম দিকে আমি তার সাথে কিছু গল্প করছিলাম।সে কিছুতেই তার ছবি তোলার অনুমতি দিচ্ছিলো না।ভাবখানা যখন বন্ধুত্বের করলাম তখন অনায়াসে বললো,ঠিক আছে ছবি তুলতে পারেন।বেশি তোলা সম্ভব হলো না মাত্র একটি ছবি ধারণ করলাম।
ছবি তোলার পর আরও এক পিচ্চির সঙ্গে আলাপচারিতায় মুগ্ধ হলাম।ছোট ছোট বাচ্চাদের বুদ্ধিমত্তা এত যে প্রখর কথা না বললে তা বোঝাই মুশকিল।যেকোনো প্রশ্নের অবলীলায় উত্তর দিয়ে যাচ্ছে।ফল গুলো কেটে বিভিন্ন পাত্রের সাজানো হয়েছে।বাচ্চারা যাতে এসব সাজানো জিনিস নষ্ট না করে এজন্য আমার এখানে থাকা।সেই সাথে কিছু ফলমূলের সাজানো পাত্রের ছবি নেওয়া হলো।আপেল,কমলা,কালোজাম,আঙ্গুর কিসমিস,বাদাম,কদবেল,তরমুজ,কলা,আনারস,ডালিম ইত্যাদি প্রায়১৫থেকে ২০ প্রকারের ফল দিয়ে সাজানো হয়েছে গায়ে হলুদের আসর।বিভিন্ন ফল দিয়ে নামের খোদাই করা হয়েছে।তবে তরমুজ দিয়ে নৌকা বানানোর দৃশ্যটি আমাকে বেশি চমৎকার লেগেছে
ফল ও মিষ্টির বিভিন্ন পসরা নিয়ে গায়ে হলুদের যাত্রীরা প্রস্তুত হয়েছে।রুম থেকে ছাদে উঠার আগেই কয়েকটি ছবি তুলে নিলাম।সবাইকে প্রস্তুত করে ছাদে উঠানো পালা।ঝামেলা এবার আরেক জায়গায় বাঁধলো।নিচ থেকে গায়ে হলুদের শাড়ি পরা প্রতিটা মেয়েই ফল,মিষ্টির পসরা নিয়ে গেলেও পাঞ্জাবি পরা কোন ছেলের হাতে কিছুই দেওয়া হয় নাই।কিছু ছেলে রাগ করে অনুষ্ঠান ত্যাগ করার ফন্দি আকলো।পরে গিয়ে তাদেরকে বোঝানো হলো সময়ের সংকুলান সম্পর্কে।পুরো প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হচ্ছে।
বরকে মঞ্চে বসানো হলো।লুঙ্গি,স্যান্ডোল গেঞ্জী,পাঞ্জাবী আর গামছায় ছেলেকে হলুদ দেওয়া শুরু করা হলো।প্রথমদিকে বন্ধু-বান্ধবেরা হলুদ দিতে থাকলো,মিষ্টি, ফলখাওয়া-দাওয়া হলো।মাঝে মাঝে তার বয়স্ক কিছু ভাবীরা খুব বেশি মজা নিয়ে ফেললো।বিশেষ করে মামী,খালা,ফুপাতো বোনেরা মুহূর্তটাকে ভালো করে উপভোগ্য করে তুললো।বরের পাশে গায়ে হলুদের মঞ্চে বসে আছে তার একমাত্র ছোট বোন মীম।
গায়ে হলুদের শেষপর্বে কুইজ প্রতিযোগিতা করা হয়েছিল।কুইজের মাধ্যমে গান,কবিতা,কৌতুক বলার অপূর্ব সুযোগ। অনেকেই নেচে-গেয়ে,গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানটি সফলভাবে সম্পন্ন করেছিলো।
সব মিলিয়ে গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানটি বেশ জমেছিলো।শহরের ছোঁয়া গ্রামে লাগতে শুরু হয়েছে।তবে আয়োজনের পুরো দায়-দায়িত্ব আমার হাতে ন্যস্ত থাকায় সেভাবে আমি সময় দিতে পারি নাই।খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন নিয়ে আমি ব্যস্ত ছিলাম।যাইহোক,পরবর্তী পর্বে থাকছে বিয়ে।আজ এখানেই শেষ করছি।
| বিষয় | গল্প |
|---|---|
| বর্ণনায় | @kamrul8217 |
| ডিভাইস | Samsung A32 |
| লোকেশন | w3w |
| তারিখ | ২০ মার্চ ২০২২ |
এতক্ষণ সাথে ছিলাম আমি@kamrul8217
পেশায় একজন সাংবাদিক,উপস্থাপক ও ক্ষুদ্রলেখক।জ্ঞান অন্বেষনে অবিরাম পথচলা।মানুষকে ভালবাসি,মানুষের পাশে থাকি।একজন ভালো মানুষ হতে পাশে থেকে সাহস যোগাচ্ছে প্রিয় প্লাটফর্ম @amarbanglablog
বাহ খুব সুন্দর উপস্থাপনা।আপনার আনন্দঘন মুহূর্ত খুব সুন্দর করে আমাদের সাথে তুলে ধরেছেন।আর সত্যিই কথা বলতে বিয়ের দিনের থেকে গায়ে হলুদ এর দিনিটিয় বেশি আনন্দঘন হয়।ধন্যবাদ ভাই সুন্দর একটি মুহূর্ত আমাদের সাথে ভাগাভাগি করে নেওয়ার জন্য।
আপনি খুব সুন্দর মন্তব্য করেছেন। সত্যিই বিয়ের দিনের চেয়ে গায়ে হলুদের দিনে বেশি মজা হয়েছিলো।সব বয়সীরা দারুন করে উপভোগ করেছেন।
এমন গঠনমূলক মন্তব্য নিশ্চয় ভাল কিছুর দাবীদার।
ভালবাসা রইলো শ্রদ্ধেয়।
পিচ্চিটাকে অনেক সুন্দর লাগছে দেখতে । ধন্যবাদ আপনার সুন্দর আনন্দঘন মুহূর্ত আমাদের সঙ্গে শেয়ার করার জন্য।
হ্যাঁ ভাই সত্যি দারুন বলেছেন। গায়ে হলুদ প্রোগ্রামটি আমার এখানে সাজানো হয়েছিল পিচ্চিটার উদ্দেশ্যে। পিচ্চির দারুন নজরকাড়া চাহনি, সাবলীল বাচনভঙ্গি আমাকে মুগ্ধ করেছে।
গায়ে হলুদ নেমন্তন্ন আপনার বন্ধুর বিয়ে উপলক্ষে খুব সুন্দর মুহূর্ত উপভোগ করেছেন। বিশেষ করে বিয়ে বাড়িতে গায়ে হলুদের মুহূর্তে মেয়েরা তাদের সাজগোজের সময় অনেক সময় ব্যয় করে। যেটা খুবই খারাপ দিক তাছাড়া আনন্দঘন মুহূর্ত খুবই সুন্দর ছিল ।আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।
সত্যিই গায়ে হলুদের ব্যাপারটি খুবই আনন্দঘন ছিল। যদিও মেয়েদের সাজুগুজুতে সময় একটু বেশি লেগেছিল।
ধন্যবাদ,শ্রদ্ধেয় ।অনেক চমৎকার মন্তব্য করেছেন।
গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে আনন্দঘন মুহূর্ত গুলো তুলে ধরেছেন আমাদের সামনে। খুব গোছানোভাবে তুলে ধরেছেন গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানের বর্ণনা। খুব আনন্দ করেছেন মনে হচ্ছে। শুভকামনা আপনার জন্য।
গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান গুলো শহরে অনেক জাঁকজমকপূর্ণ হয়ে থাকে। তবে গ্রামেও এর ছোঁয়া লেগেছে। গায়ে হলুদের এমন অনুষ্ঠান খুবই উপভোগ্য ছিল।
এমন দারুন মন্তব্য করে পাশে থাকার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।
বিয়ে বাড়ি মানে আনন্দময় মুহূর্ত। বেশ ভালো লাগলো ভাইয়া আপনার সবগুলো ফটোগ্রাফি দেখে। খুবই মজা করতেছেন বিয়ে বাড়িতে। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ভাইয়া ঘন মুহূর্তগুলো আমাদের সাথে ভাগ করে নেওয়ার জন্য।
আপনি খুব দারুণ করে বলেছেন সত্যিই এমন অনুষ্ঠান খুবই আনন্দ ঘন হয়ে থাকে। সবাই বেশ মজাদার সময় কাটিয়ে ছিল। কিন্তু এটা বিয়ে ছিল না বিয়ের আগ মুহূর্তে গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান ছিল।
বন্ধুর বিয়ে উপলক্ষে সুন্দর একটি মুহূর্ত কাটিয়েছেন দেখে বোঝা যাচ্ছে। গায়ে হলুদের সুন্দর সুন্দর কিছু মুহূর্তের ফটোগ্রাফি আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন।আপনার উপস্থাপনা অনেক ভালো লেগেছে ভাই আপনার আমার কাছে। আপনি খুব সুন্দর করে সবকিছু র্বণনা আমাদের মাঝে তুলে ধরেছেন। এই রকম সুন্দর একটি মুহূর্ত আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। শুভকামনা রইল ভাই আপনার জন্য।
গায়ে হলুদের পর্বটি ছিল অত্যন্ত আনন্দঘন মুহূর্ত। নেচে গেয়ে দারুন মজামাস্তিতে বেশ মজেছিল। ছোট্ট সোনামণিদের গায়ে হলুদের দৃশ্য ছিল দেখার মতো।
বিয়ে মানেই হলো আনন্দে ভরপুর একখানা মঞ্চ। আর সেই বিয়ের অন্যতম আনন্দে ভরপুর জায়গা হল গায়ে হলুদ। এই গায়ে হলুদে এত পরিমান মজা করা হয় যে বলার বাইরে। বরের সামনে এতগুলো খাবার সত্যিই অসাধারণ। পড়ে অনেক ভালো লাগলো। ধন্যবাদ আপনাকে আনন্দময় মুহূর্ত গুলো আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য।
হ্যাঁ, গায়ে হলুদের মজাটা ছিল সত্যিই স্মরণীয় একটি ব্যাপার। ছেলে-মেয়ে ,নারী-পুরুষ তথা সকল বয়সীরা গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানটি তার উপভোগ করেছিল।
দীর্ঘক্ষণ সময় দিয়ে চমৎকার মন্তব্য করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।
বন্ধুর বিয়ে উপলক্ষে খুব মজার সময় কাটিয়েছেন।আসলে আমার কাছে গায়ে হলুদের পোগ্রামে যেতে বেশি ভালো লাগে।কুইজ প্রতিযোগিতা হয়েছে,তাহলে তো ভালোই। সব মিলিয়ে খুব কোয়ালিটি টাইম স্পেন করেছেন।ধন্যবাদ আপনাকে আপনার আনন্দগুলো আমাদের সাথে ভাগ করে নেওয়ার জন্য
সত্যি বলেছেন, বিয়ের দিনের চেয়ে অনেক সময় গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান গুলো বেশি জাঁকজমক হয়ে থাকে। হ্যাঁ খুব সুন্দর সময় উপভোগ করেছিলাম। গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান আপনাকে অনেক বেশি ভালো লাগে সেজন্য আমার গায়ে হলুদের অগ্রিম দাওয়াত রইল।
গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে গিয়ে খুবই সুন্দর মুহূর্ত কাটিয়েছেন ভাইয়া। আপনার ফটোগ্রাফি গুলো দেখে বুঝতে পারছি। গায়ে হলুদের নেমন্তন্নে গিয়ে হলুদ রঙের শাড়ি পরা ছোট ছোট সোনামণিদের সাথে ছবি তোলা, বিভিন্ন মিষ্টি ও ফলের পসরা নিয়ে আছে তার ছবি তোলা, বিয়ে বাড়ির ছবি তোলা, সব মিলিয়ে খুবই আনন্দ উপভোগ করেছেন। আর এই আনন্দ ঘন মুহূর্তটুকু আমাদের মাঝে ভাগাভাগি করে নেওয়ার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আপনার জন্য শুভকামনা রইল।
গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে ছোট সোনামণিদের সাথে ছবি উঠা, গল্পে মশগুল থাকা, ফলমূল মিষ্টি সাজানো সব মিলিয়ে দারুণ এক রোমাঞ্চকর সময় উপভোগ্য ছিল। কাজের চাপ থাকলেও আনন্দটা ভালোই উপভোগ করা হয়েছিল।
বিয়ের অনুষ্ঠান মানেই তো আনন্দ আর আনন্দ। বিশেষ করে বন্ধুর বিয়েতে বেশি মজা হয়। আপনি অনেক সুন্দর ভাবে গায়ে হলুদের বিষয়গুলো আমাদের মাঝে উপস্থাপন করেছেন। দেখতে অনেক সুন্দর অনুষ্ঠান করেছে বিয়েতে। সবাই কি সুন্দর শাড়ি পরেছে। এরকম মুহূর্তগুলো সত্যিই অনেক স্মরনীয় হয়ে থাকে। আপনার বন্ধুর নতুন জীবনের জন্য শুভকামনা রইল।
গায়ে হলুদ পর্বে বাইশটি শাড়ি এবং সমপরিমাণ পাঞ্জাবি নেওয়া হয়েছিল। মেয়েরা শাড়িতে আর ছেলেরা পাঞ্জাবিতে। দারুন এক সাজসজ্জার ছিল। সত্যি বলতে খুবই মজা হয়েছিল।
ভালোবাসা অবিরাম শ্রদ্ধেয়।