চাওয়ার কোন শেষ নেই।

in আমার বাংলা ব্লগ3 years ago

20230307_145217_0000.jpg
ক্যআনভআ দিয়ে তৈরি

হ্যালো বন্ধুরা,

আসসালামু আলাইকুম, কেমন আছেন সবাই? আশা করি সবাই ভালো আছেন। আমিও আল্লাহর রহমতে ভালো আছি। প্রতিদিনের মত আজকেও আপনাদের সামনে এসে হাজির হলাম নতুন একটি পোস্ট নিয়ে।

আমাদের সবারই খুব পরিচিত একটি শব্দের নাম হলো চাওয়া। চাওয়া সব সময়ই থাকে মানুষের জীবনে। চাওয়া‌‌ বা আকাঙ্ক্ষা না থাকলে মানুষ বাঁচতে পারে না। কথা হচ্ছে কিছু মানুষের চাওয়া থাকে অনেক বেশি, আবার কিছু মানুষের খুবই কম। কিন্তু চাওয়া থাকেই। এ বিষয়টা খুবই কষ্টদায়ক। যার যত বেশি চাওয়া থাকে তার তত বেশি কষ্ট হয়। কারণ চাওয়া পূরণ করতে না পারলে বুকের মাঝে কষ্ট থেকে যায়। এই কষ্টটা সবাই সহ্য করতে পারে না।

এজন্য আমি মনে করি আমার সামর্থের মধ্যে চাওয়া থাকা খুবই দরকার। তা না হলে কষ্ট পেতেই হবে এটাই তো স্বাভাবিক। শুধু চাওয়ার জন্য অনেক সংসারেই আজ অশান্তি লেগে আছে। বাবার সাথে ছেলের, স্বামীর সাথে স্ত্রীর, ভাইয়ের সাথে বোনের ইত্যাদি একজন একজনের উপরে চাওয়া থাকে কিছু না কিছু। কিন্তু সবাই সবকিছু পূরণ করতে পারে না। এজন্য সংসারে খুবই অশান্তি হয়ে থাকে।

আসুন ছোট একটি গল্প শেয়ার করি আপনাদের মাঝে। পিন্টু প্রবাসী বাবার একমাত্র ছেলে। দীর্ঘ অনেক বছর যাবত বাবা প্রবাসে থাকে। পিন্টু খুবই শৌখিন একটা ছেলে। তার ছোটখাটো সব চাওয়া বাবা সব সময় পূরণ করার চেষ্টা করত। ছোটবেলা থেকেই যখন যা চাইতো তা পূরণ করছে। ধীরে ধীরে পিন্টুর চাহিদা উপরের দিকে উঠতে লাগলো। ছেলে যখন এসএসসি পরীক্ষা শেষ করছে তখন ছেলের একটা বড় চাওয়া সামনে আসলো। ছেলের দামি একটি মোবাইল দরকার। কিন্তু বাবার বয়স বেশি হওয়ার কারণে টাকা পয়সা কমতে শুরু করল। অর্থাৎ প্রবাসে এখন আগের মত টাকা ইনকাম করতে পারতেছিল না।

কিন্তু ছেলের চাওয়া যে পূরণ করতেই হবে তা নিয়ে খুব বেশি চিন্তা করত। অনেক কষ্টের বিনিময়ে ছেলেকে একটি মোবাইল দিল। কিন্তু এখানেই যে চাওয়া শেষ তা তো নয়। ধীরে ধীরে চাওয়া যে উপরে উঠতেছে তা বাবার জানা ছিল না। একটি মাত্র ছেলে এজন্য এত বেশি কিছু চিন্তা করে না। ছেলে যখন ইন্টার পরীক্ষা শেষ করল তখনই ছেলের বড় চাওয়া সামনে আসলো।

তখন ছেলে অনেক দামি একটি মোটরসাইকেল চাইলো বাবার কাছে। লাখ টাকা দিয়ে মোবাইল দিলেও চার পাঁচ লাখ টাকা দিয়ে মোটরসাইকেল কিনে দেওয়া কি সম্ভব। কিন্তু ছেলের চাওয়া কিছু তো করার নেই। দীর্ঘ 8 থেকে 10 বছর বাবা প্রবাসে থাকে। বিভিন্ন জনের চাওয়া পূরণ করতে করতেই দেশে আর আসা হয় না। প্রবাসে কয়টা খাই আর কামাই। ছেলের অনেক পাগলামি শুনে অবশেষে রাজি হল ছেলেকে মোটরসাইকেল কিনে দেওয়ার জন্য।

বাবা দিনরাত অতিরিক্ত পরিশ্রম করে ছেলেকে একটি মোটরসাইকেল কিনে দিয়েছিল। ছেলে তো মহা খুশি। কারণ তার সব স্বপ্নই ধীরে ধীরে পূরণ হচ্ছে। কিন্তু ছেলের স্বপ্ন পূরণ করতে গিয়ে বাবা নিঃশেষ হয়ে গিয়েছে। কিছুদিন পর মোটরসাইকেল এক্সিডেন্ট করে একমাত্র ছেলে মারা গিয়েছে। তখন এ বাবা আর মা কি নিয়ে থাকা উচিত চাওয়া। ছেলের সকল চাওয়া পূরণ করতে গিয়ে ছেলেকেও হারালো তার জীবনের সকল অর্জন টাকা তাও হারালো। এভাবে অসংখ্য পরিবার নিঃশেষ হয়ে যায় শুধু চাওয়ার কারণে। এভাবে আমাদের সমাজে এবং বাহিরে পরিবারের মধ্যেও চাওয়ার কারণেই সংসারে অশান্তি এবং সংসার নিঃশেষ হয়ে যায়। এজন্য সাধ্যের মধ্যে চাওয়া খুবই উত্তম।

আমার পরিচয়

1635518106012.jpg

আমার নাম তাসলিমা আক্তার সনিয়া। আমি বাংলাদেশী। বাংলা ভাষা আমাদের মাতৃভাষা বলে আমি অনেক গর্বিত। আমি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অনার্স ফাইনাল ইয়ারের একজন ছাত্রী। আমি ছবি আঁকতে ভালোবাসি। বিশেষ করে যে কোন ধরনের পেইন্টিং করতে পছন্দ করি। যখনই অবসর সময় পায় আমি ছবি আঁকতে বসে পড়ি। এছাড়াও আমি ভ্রমণ করতে পছন্দ করি। কিছুদিন পর পর বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণ করার চেষ্টা করি। এছাড়াও আমি বিভিন্ন ধরনের কারুকাজ করতে পছন্দ করি। রান্না করতেও আমার খুব ভালো লাগে। আমি বিভিন্ন ধরনের রেসিপি তৈরি করতে পছন্দ করি। আমি যখনই সময় পাই আমার পরিবারের সবাইকে বিভিন্ন ধরনের রেসিপি তৈরি করে খাওয়াই। আমি সব সময় নতুন নতুন কিছু করার চেষ্টা করি।

🎀 ধন্যবাদ সবাইকে 🎀

আসুন সবাই মন খুলে বাংলায় ব্লগিং করি

IMG-20220501-WA0005.jpg

Sort:  

কিছুদিন পর মোটরসাইকেল এক্সিডেন্ট করে একমাত্র ছেলে মারা গিয়েছে।

আমি মোটামুটি একটু অনুমান করতে পেরেছিলাম যে গল্পের শেষটা এরকম হবে।

তবে এই বিষয়ে আমার কোন সিম্প্যাথি নেই। কারণ যারা বাবা মায়ের কষ্ট বোঝে না, তাদের সাথে এরকম হওয়াটাই উচিত। আমার বাবার ইনকাম দশ হাজার টাকা আমি যদি দশ লাখ টাকার জিনিস চেয়ে বাবাকে ফোর্স করি, তাহলে তার মনের অবস্থা কি দাঁড়াবে সেটা যারা বোঝেনা তাদের এরকমই হওয়া উচিত। যদিও এটা গল্প তাও বললাম আর কি।

আমাদের চাহিদা সবসময়ই হওয়া উচিত সাধ্যের ভিতরে, তাহলে কোন সমস্যা নেই।

 3 years ago 

আসলেই ঠিক বলেছেন এইভাবে বাবা-মায়েদের ফোর্স করা উচিত নয়। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।

 3 years ago 

আসলেই মানুষের চাহিদা যত কম থাকবে মানুষ ততই সুখী হবে।চাহিদার পরিমান বেশি হলে মানুষ দিন দিন অসুখী হয়ে যায়।তাই ছোটবেলা থেকে সন্তানদের অভাব দেখাতে হয়।পিন্টু হয়ত একমাএ ছেলে ছিলো বিদায় কষ্ট হলেও তার সকল চাহিদা তার বাবা মা পূরন করছে কিন্তু কিছু কিছু বিশাল চাহিদার জন্য ছেলেকে হারাতে হলো।আপু ভালো লিখেছেন। ধন্যবাদ

 3 years ago 

আসলে ঠিক বলেছেন চাহিদা কম হলেই মানুষ সুখে থাকবে। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।

 3 years ago 

মানুষের চাহিদা থাকবে। তবে আমি মনে করি সাধ্যের ভিতরে চাহিদা থাকা দরকার। সাধ্যের বাহিরে বেশি কিছু চাইলে তাতে কষ্ট পেতেই হবে। ছোটবেলা থেকে সন্তানদেরকে কিছু অভাব দেখানো দরকার । চাইলে সাথে সাথে এটা না দিলে তারা কিছু বুঝতে শিখবে। তা না হলে পিন্টুর মতোই অবস্থা হবে।

 3 years ago 

ঠিক বলেছেন সন্তানদেরকে চাওয়ার সাথে সাথে কিছু দেওয়া উচিত নয়। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।

 3 years ago (edited)

অতিরিক্ত চাহিদা সব সময় অশান্তি ডেকে আনে। আসলে অতিরিক্ত চাহিদা থাকা একেবারেই ভালো নয়। আমরা যদি আমাদের সাধ্য অনুযায়ী চাহিদাগুলো সীমাবদ্ধ না রাখি তাহলে সংসারে অশান্তি লেগেই থাকবে। আর কখনোই ভালো থাকতে পারবো না। তারা যদি ছেলেবেলা থেকেই সন্তানকে সঠিক শিক্ষা দিতেন এবং সঠিক নির্দেশনা দিতেন তাহলে এই দিনটি আসতো না। আপু আপনার লেখা কথাগুলো সত্যি অনেক ভালো লেগেছে।

 3 years ago 

আপনি যে গল্পটা পড়েছেন এটা দেখে ভালো লাগলো। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।

 3 years ago 

একদম যথাযথ বলেছেন মানুষ পৃথিবীতে যতদিন বেঁচে থাকবে ততদিনে চাহিদা থাকবে। চাহিদা ব্যতিরেকে মানুষ কোনভাবেই বাঁচতে পারবে না। তবে অতিরিক্ত চাহিদা আসলে সবার জন্যই ক্ষতিকর। যে যতটুকু প্রাপ্য সেটায় সন্তুষ্ট থাকা উচিত। ধন্যবাদ গুরুত্বপূর্ণ একটি পোস্ট তুলে ধরার জন্য।

 3 years ago 

আসলেই অতিরিক্ত চাহিদা মানুষের ক্ষতির কারণ হয়। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।

 3 years ago 

মানুষের চাওয়া বা অভাব এটা একটা ক্রমবর্ধমান ধাপ। অর্থাৎ একটা অভাব বা চাওয়া পূরণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের অন্য অভাব বা চাওয়া সৃষ্টি হয়। কিন্তু এই চাওয়া টা অবশ্যই সাধ‍্যের মধ্যে হতে হবে। আপনি যে গল্পটা শেয়ার করেছেন সেটা একেবারে বাস্তব আপু। এমনটা হরহামেশাই দেখা যায়। অনেক সুন্দর লিখেছেন। ধন্যবাদ আপনাকে।।

 3 years ago 

আমি মনে করি আমাদের চাওয়াটা সাধ্যের মধ্যে থাকা উচিত। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।

 3 years ago 

আপু একদম ঠিক বলেছেন, মানুষের চাওয়ার কোন শেষ নেই। একটি চাওয়া পূর্ন হলে তো আরেকটি চাওয়া দরজায় এসে কড়া নাড়ে। আর তাই তো বাবা তার ছেলেকে প্রথমে মোবাইল কিনে দিয়েছে, তারপরে আবার মোটরসাইকেল। যাইহোক এই বাবা-মায়ের জন্য সত্যিই খুব খুব খারাপ লাগছে। শেষ বয়সে এসে তারা কি পেল। ছেলের সকল চাওয়া পাওয়া পূরণ করতে গিয়ে একটি পরিবার নিঃশেষ হয়ে গেল। খুব সুন্দর লিখেছেন আপু শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।

 3 years ago 

সত্যি ঠিক বলেছেন আজকাল মানুষের চাওয়ার কোন শেষ নেই। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।

 3 years ago 

খুব সুন্দর বিষয়ে আপনি উপস্থাপন করেছেন। আসলে মানুষের চাহিদার কোন শেষ নেই একটি চাহিদা সম্পূর্ণ হলে আরো অনেক গুলো চাহিদার সৃষ্টি হয়। আসলে যার চাহিদা যত কম তার সুখ ততো বেশি। আমাদের অতিরিক্ত কোন চাহিদা সৃষ্টি করা উচিত নয়। গল্পের শেষের অংশ পড়ে খুব খারাপ লাগলো। চাহিদার জন্য তার ছেলেকে হারাতে হলো সত্যি খুব দুঃখজনক। সুন্দর উপস্থাপন করছেন আপনি ধন্যবাদ আপনাকে।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.086
BTC 60080.08
ETH 1572.99
USDT 1.00
SBD 0.42