প্ল্যানচেট

in আমার বাংলা ব্লগ2 years ago

নমস্কার বন্ধুরা,


আশা করি সবাই ভালো আছেন।সুস্থ আছেন।আজ আমি আপনাদের সঙ্গে প্ল্যানচেট নিয়ে আলোচনা করবো।আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে।

WhatsApp Image 2024-10-27 at 03.13.19.jpeg

Image created by OpenAI


প্ল্যানচেট বা ওয়েজা বোর্ডের ব্যবহার বহু পুরনো এবং মানুষ প্রাচীনকাল থেকেই এটি ব্যবহার করে আসছে আত্মার সঙ্গে যোগাযোগের একটি মাধ্যম হিসেবে।যদিও এর সাথে অতিপ্রাকৃত বিষয়াবলী সম্পর্কিত রয়েছে তবুও বৈজ্ঞানিক গবেষণায় বোর্ডে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলিকে প্রায়ই মানসিক ও শারীরিক প্রভাব দ্বারা ব্যাখ্যা করা সম্ভব হয়েছে।

ইডিয়োমোটর ইফেক্ট হল একটি মানসিক প্রক্রিয়া যেখানে আমাদের অবচেতন মন শারীরিকভাবে ক্ষুদ্র অঙ্গভঙ্গি বা মুভমেন্ট তৈরি করে যদিও আমরা সচেতনভাবে তা লক্ষ্য করি না।১৮৫২ সালে বিজ্ঞানী উইলিয়াম বেনজামিন কার্পেন্টার ইডিয়োমোটর ইফেক্ট নিয়ে গবেষণা করেন এবং এই প্রভাবের সংজ্ঞা দেন।তিনি দেখান যে, মানুষের মস্তিষ্ক প্রায়ই অবচেতনভাবে তার ইচ্ছানুযায়ী কাজ করতে সক্ষম হয় এবং সেই ক্ষুদ্র কাজগুলি প্রায়ই মানুষের অজান্তে ঘটে।

প্ল্যানচেট বোর্ডে যখন অনেক মানুষ একসঙ্গে বোর্ডের নির্দেশক (প্ল্যানচেট) স্পর্শ করে,তখন তাদের প্রত্যেকের মস্তিষ্কে থাকা অবচেতন চিন্তা তাদের হাতকে সামান্য সরিয়ে দেয়।এই ছোট ছোট আন্দোলনগুলো বোর্ডের প্ল্যানচেটকে বিভিন্ন দিকে সরাতে থাকে এবং এতে মনে হয় যে কোনও বাহ্যিক শক্তি নির্দেশকটিকে পরিচালনা করছে।

ওয়েজা বোর্ড ব্যবহারের সময় একটি "সমবেত মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব"ও কাজ করে।এই প্রভাবের কারণে অংশগ্রহণকারীরা একসঙ্গে কাজ করেন, যার ফলে প্ল্যানচেট সরে যেতে থাকে।গবেষণায় দেখা যায় যে,দলগতভাবে কিছুতে মনোনিবেশ করার সময় মানুষ নিজেদের অজান্তেই একটি নির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা অনুসরণ করে এবং বোর্ডে প্রশ্ন করলে তাদের অবচেতন মন সেই প্রশ্নের সম্ভাব্য উত্তর তৈরিতে সহায়তা করে।যেহেতু সবাই মিলে স্পর্শ করে তাদের সম্মিলিত শক্তি বোর্ডের নির্দেশককে সরাতে সাহায্য করে।

২০২১ সালের একটি গবেষণায় প্ল্যানচেটের মাধ্যমে "আত্মাদের" সাথে যোগাযোগের বিষয়টি আরও গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হয়।গবেষকরা দেখান যে,বোর্ডের মাধ্যমে প্রাপ্ত উত্তরগুলো অনেকটা অংশগ্রহণকারীদের প্রত্যাশিত উত্তর বা তাদের মনে থাকা তথ্যের উপর নির্ভরশীল।উদাহরণস্বরূপ, যদি ব্যবহারকারীরা বোর্ডের মাধ্যমে একটি প্রশ্ন করেন যার উত্তর সম্পর্কে তারা সামান্য ধারণা রাখেন, তাহলে তাদের অবচেতন মন সেই তথ্যকে প্রতিফলিত করে এবং নির্দেশক সেই অনুযায়ী চলে।

প্ল্যানচেট নিয়ে যারা অতিপ্রাকৃত বিশ্বাস রাখেন, তারা মনে করেন এটি আত্মাদের সাথে যোগাযোগের মাধ্যম।তারা বিশ্বাস করেন, আত্মারা নির্দেশকটিকে চালিত করে এবং প্রশ্নের উত্তর দেয়।এই দৃষ্টিকোণটি মূলত মানসিকভাবে রহস্যময় অনুভূতি তৈরি করে যা মানুষকে বোর্ড ব্যবহারে আরও আকৃষ্ট করে।তবে বৈজ্ঞানিক গবেষণাগুলি এই বিশ্বাসকে প্রায়শই ইডিয়োমোটর ইফেক্ট এবং মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব দ্বারা ব্যাখ্যা করে।

প্ল্যানচেট বা ওয়েজা বোর্ডের ঘটনাগুলি প্রায়শই ইডিয়োমোটর ইফেক্ট,সমাজিক মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব এবং অবচেতন চিন্তার ওপর নির্ভর করে ঘটে।যদিও এর সাথে অতিপ্রাকৃত বিশ্বাস জড়িত বৈজ্ঞানিক গবেষণাগুলি এটিকে অবচেতন মন ও মস্তিষ্কের প্রভাব হিসেবে ব্যাখ্যা করতে সক্ষম হয়েছে।

Image taken from Open AI




VOTE @bangla.witness as witness


witness_vote.png

OR

SET @rme as your proxy

witness_proxy_vote.png


Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power

250 SP500 SP1000 SP2000 SP5000 SP

Heroism_3rd.png


ধন্যবাদ।সবাই ভালো থাকবেন।

BoC- linet.png
-cover copy.png

|| Community Page | Discord Group ||


Posted using SteemPro Mobile

1000158488.jpg

PUSS COIN:BUY/SELL

Sort:  
 2 years ago 

প্লানচেট এবং ওয়েজা বোর্ডের কার্যাবলী এবং তার বৈজ্ঞানিক দিকটি আপনি ভীষণ সুন্দরভাবে বুঝিয়ে দিলেন। সব কিছুরই কিছু না কিছু বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা আছে। বিজ্ঞান দ্বারাই আমরা পরিচালিত। সেক্ষেত্রে এই প্লানচেট বা আত্মার সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের বিষয়টি বৈজ্ঞানিক কিছু ধারণার ফলাফল। মানুষের হৃদয় এবং মন চেতন ও অবচেতনের দোলাচলে আন্দোলিত। সেক্ষেত্রে বিভিন্ন অতিপ্রাকৃত ঘটনা যেন ঘটনাক্রমে অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকে। আপনি সেই বিষয়টিই এই ব্লগে অত্যন্ত বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে আলোচনা করলেন দিদি।

 2 years ago 

আমরাই তো আসলে বিজ্ঞানের রূপ। সঠিক পরিমানে রাসায়নিক ও জৈবিক ক্রিয়া প্রক্রিয়াগুলি না ঘটলে মানুষও আসত না আর পৃথিবীও থাকত না৷ আমাদের অর্থাৎ মানুষের ভেতরের সব কিছুই কোন একটা স্পেসিফিক কারণে ঘটে এবং তা বিজ্ঞানসম্মত। এমনকি আমাদের হাসি কান্নাও হরমোনাল এফেক্ট৷ সেই রকমই প্ল্যানচেটও। আপনার বিস্তারিত বিশ্লেষণ পড়ে অনেককিছুই জানলাম। এই বিষয়ে আগে ধারণা ছিল না৷ প্ল্যানচেট বস্তুটাই কেমন বুজরুকি লাগত৷

খুব ভালো আলোচনা করেছেন।

 2 years ago 

সত্যি বলতে এটা নিয়ে আমার দ্বিধা ছিল। আমি মনে করতাম প্ল‍্যানচেট দিয়ে আসলেই আত্মাদের সাথে যোগাযোগ করা যায়। কিন্তু আপনার পোস্ট টা পড়ে ক্লিয়ার হয়ে গেল। মোটামুটি আসল বিষয়টি ধরতে পেরেছি। দারুণ লিখেছেন দিদি। দারুণ ছিল পোস্ট টা।

 2 years ago 

তিনি দেখান যে, মানুষের মস্তিষ্ক প্রায়ই অবচেতনভাবে তার ইচ্ছানুযায়ী কাজ করতে সক্ষম হয় এবং সেই ক্ষুদ্র কাজগুলি প্রায়ই মানুষের অজান্তে ঘটে।

প্রকৃত সত্য। প্ল্যানচেট নিয়ে যেভাবে বিস্তারিত বিষয় ব্যাখ্যা দিয়েছেন দিদিভাই , তা সত্যি যৌক্তিক।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.102
BTC 62751.41
ETH 1800.61
USDT 1.00
SBD 0.38