"প্রিয় মানুষটাকে নিয়ে গঙ্গার ঘাটে কিছুটা সময় ঘুরাঘুরি"
হ্যালো বন্ধুরা,
আপনারা সবাই কেমন আছেন? আশা করি, আপনারা সবাই ভাল আছেন সুস্থ আছেন। আজ আমি আপনাদের মাঝে একটি ভ্রমণ পোস্ট উপস্থাপন করছি। আশা করি, আপনাদের সবার ভালো লাগবে। তাই বিলম্ব না করে আমার পোস্ট লেখাটি শুরু করছি।
বেশ কিছুদিন ধরে আমার প্রিয় মানুষটি আমাকে বলছিল গঙ্গার ঘাটে ঘুরতে যাওয়ার কথা। কিন্তু আমার কিছুতে সময় হচ্ছিল না। অনেক বার বলা সত্যে ও আমি সময় করে পেরে উঠছিলাম না। একটি পর্যায় আমাকে গঙ্গার ঘাটে নিয়ে যাওয়ার কথা বন্ধ করে দেয়। আমিও বুঝতে পেরেছিলাম কিছুটা অভিমান আমার উপর হয়েছে। তাইতো একদিন হঠাৎ করে সময় বের করে আমার প্রিয় মানুষটাকে বললাম গঙ্গার ঘাটে যাব। প্রথমে একটু নানা করছিল, পরবর্তীতে রাজি হয়। সেদিন ছিল বুধবার প্রচন্ড গরমও পড়েছে সেদিন। কিন্তু কি করার যেহেতু বলেছি আজ বের হব। তাই গরমকে উপেক্ষা করে বেরিয়ে পড়লাম বিকাল সাড়ে চারটার দিকে। আমি তার বাড়ির সামনে যে দাঁড়িয়ে তার জন্য অপেক্ষা করতে লাগলাম। সে মিনিমাম পাঁচ মিনিট পর বাড়ি থেকে বের হল এরপর আমরা দুজনে রওনা করলাম গঙ্গার ঘাটের উদ্দেশ্য।
বলেছিলাম গরম পড়েছিল সেদিন কিন্তু বাইক চালানোর কারণে সে গরম মনে হচ্ছিলো না। সেদিন রাস্তাতে জ্যাম কম ছিল যার কারণে আমরা খুব দ্রুত সেখানে পৌঁছে যাই। গঙ্গার ঘাটে এলে মনটা শান্ত হয়ে যায়। আমরা একটি বট গাছের নিচে বসলাম। গঙ্গার স্রোত বয়ে চলেছে আর হালকা হালকা হাওয়া বয়ে চলেছে। বটের ছায়াতে সেই হাওয়া যেন আরো শীতল হয়ে উঠেছে। গঙ্গার সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে আমাদের পাশ থেকে যাচ্ছিল চা এলা কাকু। কাকুকে ডাক দিয়ে আমাদের দুজনের জন্য লেবু চা দিতে বললাম। খুব সুন্দরভাবে কাকু লেবু চা তৈরি করে আমাদেরকে দিল। প্রতিকাপ লেবু চায়ের দাম নিল মাত্র 10 টাকা। দশ টাকাটা চায়ের দাম সেটা বড় কথা নয়। গঙ্গার ঘাটে বসে চা খাওয়ার মজাটাই হলো বড় ব্যাপার। আর যদি থাকে পাশে প্রিয় মানুষটি।
চা খেতে খেতে খেয়াল করলাম পাশে কিছু ব্যাক্তি গঙ্গা নদীতে বসি ফেলে মাছ ধরছে। কেউ মাছ পাচ্ছে কেউবা পাচ্ছে না কিন্তু গঙ্গার নদীতে সুন্দর একটি সময় তারা কাটাচ্ছে। বটের ছায়াতে প্রিয় মানুষটির হাত ধরে গঙ্গার সৌন্দর্য উপভোগ করছিলাম। গঙ্গার সৌন্দর্যের সব থেকে বেশি প্রভাব ফেলে যখন সূর্যাস্ত হতে যায়। সূর্যাস্তের এই সময়টা পুরো আকাশ লাল বর্ণ ধারণ করে। আর গঙ্গার জলের উপর যখন সেই লাল বর্ণ এসে পড়ে গঙ্গার রূপ আরো ঝলমল করে ওঠে। এই সৌন্দর্যের ছবি তোলার লোভ আমি সামলাতে পারলাম না তাই সঙ্গে সঙ্গে কিছু ছবি আমি তুলে নিলাম। আর আমি সেই ছবিগুলো আপনাদের সবার মাঝে উপস্থাপন করছি। আশা করি, আপনাদের সবার ভালো লাগবে।

ক্যামেরা পরিচিতি: oppo
ক্যামেরা মডেল: oppo A79 5G
ক্যামেরা দৈর্ঘ্য:4.05mm
তারিখ:২৫.০৫.২০২৬
সময়: ৬.০২মিনিট।
স্থান:কলকাতা।
আমরা যে গঙ্গার ঘাটটিতে গিয়েছিলাম সেখানে কিছু সত্য বলি রয়েছে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার মধ্যে এখানকার গেট অফ করে দেওয়া হয়। তাই আমরা সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার মধ্যেই সেখান থেকে বেরিয়ে পড়লাম। বাড়িতে ফিরতে ফিরতে প্রিয় মানুষটি বলল মম খাওয়ার কথা। আমারও ক্ষুধা লেগে গেছিল তাই আমার একটি প্রিয় খাবারের দোকানে চলে গেলাম মম খেতে। দোকানে যেয়ে দেখলাম সেখানে অন্যান্য দিনের থেকে লোক সংখ্যা একটু বেশি। আমরা কিছুটা সময় দাঁড়িয়ে থাকার পর একটি জায়গা পেলাম সেখানে যে বসলাম আর চিকেন মম অর্ডার করলাম। এই দোকানটি চিকেন মমটা খেতে খুবই ভালো।যাইহোক,খাওয়া-দাওয়া শেষ করে আমরা আবার বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা করলাম। অবশেষে একটা কথাই বলবো হাতে যদি একটু সময় থাকে তাহলে প্রিয় মানুষটাকে নিয়ে অবশ্যই গঙ্গার ঘাটে কিছুটা সময় ব্যয় করুন। কথা দিচ্ছি এই সময়টা আপনার জীবনে এটি আনন্দের মুহূর্ত হয়ে থেকে যাবে সারাটা জীবন।






