'হৃদয়ের স্পন্দন'গল্প পর্ব:১

in আমার বাংলা ব্লগ7 months ago

হ্যালো বন্ধুরা,

আপনারা সবাই কেমন আছেন? আশা করি, আপনারা সবাই ভাল আছেন সুস্থ আছেন। আজ আমি আপনাদের মাঝে হৃদয়ের স্পন্দন গল্পের প্রথম পর্বটি শুরু করছি। আশা করি, গল্পের প্রথম পর্বটি আপনাদের সবার ভালো লাগবে। তাই বিলম্ব না করে আমার পোস্ট লেখাটি শুরু করছি।

pexels-cottonbro-4009405.jpg
সোর্স


রকি ও পূজার প্রথম দেখা হয় দীঘা সমুদ্র সৈকতে। রকি তার বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে দীঘা সমুদ্র সৈকত ঘুরতে যায়। অন্যদিকে পূজাও তার পরিবারের সঙ্গে ঘুরতে যায় দীঘা সমুদ্র সৈকতে। পূজার পরিবারের সবাই সমুদ্রে স্নান করতে যায় কিন্তু পূজা সমুদ্রের বীজে দাঁড়িয়ে থাকে কারণ পূজা সাঁতার জানে না। পূজার পরিবার গ্রুপ ছবি তোলার জন্য পূজাকে একটু সমুদ্রের কাছাকাছি আসতে বলে। পূজা প্রথমে রাজি ছিল না কিন্তু সবার অনুরোধে সে রাজি হয়। পূজাদের গ্রুপ ছবি তোলার সময় রকি দৌড়ে এসে ধাক্কা দেয় পূজাকে। পূজা ধাক্কা সামলাতে না পেরে সে সমুদ্রে জলে আছড়ে পড়ে। রকি সরি বলে, সমুদ্রে ঝাঁপিয়ে পড়ে। পূজা যেহেতু সাঁতার জানে না তাই অল্প জলে পড়ে যাওয়াতে সে খুব ভয় পেয়ে যায়। আর তখনই বড় একটি সমুদ্রের ঢেউ এসে আছড়ে পড়ে পূজার উপর। পূজা সঙ্গে সঙ্গে জলের নিচে চলে যায়। পূজার পরিবার সাহায্য চাওয়ার জন্য চিৎকার করতে থাকে ঠিক তখন রকি সেটি শুনতে পায়। রকি দেখতে পায় একটি মেয়ে গলা জলে হাত ছড়াছড়ি করছে। রকি ও তার বন্ধুরা পূজাকে সাহায্য করার জন্য ছুটে যায়। এরপর পূজাকে তারা সমুদ্রে ভেসে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করে।


পূজার পরিবার রকিকে ধন্যবাদ জানাই। পূজাও রকিকে ধন্যবাদ জানায়। কিন্তু রকি পূজাকে সরি বলে। পূজা রাকি কে বলে, আপনি কেন সরি বলছেন?রকি বলে, আমার ধাক্কাতেই আপনি সমুদ্রে পড়ে গিয়েছিলেন। পূজা বলে, এটা কোন বিষয় নয় সমুদ্রে আসলে সবাই আনন্দ করবে এটাই স্বাভাবিক। এরপর রকি আবারো তার বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে সমুদ্রের জলে আনন্দ করতে থাকে। আর পূজার পরিবার এই ঘটনার পর তারা আর সমুদ্রে না নেমে চলে আসে তাদের হোটেলে। হোটেলে যে তারা ফ্রেশ হয়ে বিশ্রাম নেয়। সবাই যখন যার যার মতন বিশ্রাম করছে তখন পূজা হোটেলের বারান্দায় এসে চা খাচ্ছিল ঠিক তখন সামনে হোটেলের ব্যালকনিতে দেখতে পায় রকিকে। পূজা,রকিকে ডাক দিতে চায় কিন্তু পূজা রকির নাম জানেনা তার জন্য সে ডাকতে পারে না। একটু পর রকি তার রুমে চলে যায় আর এদিকে পূজা অপেক্ষা করতে থাকে রকি আবার কখন ব্যালকনিতে আসবে। এক ঘন্টা অপেক্ষা করার পর ও পূজা দেখলো রকি এলো না। তখন পূজার মা পূজাকে ডাক দেয় পূজা এরপর রুমে চলে যায়।


সন্ধ্যা হতেই পূজা তার পরিবারকে বলে সমুদ্রে দেখতে যাবে। কিন্তু তার পরিবার যেতে চাইছিল না কিন্তু পূজা খুব বায়না করে সে যাবে। অবশেষে পূজার বাবা পূজাকে বলে তার বোনকে নিয়ে যেতে। পূজা ও তার বোন দুজনে মিলে সন্ধ্যায় সমুদ্র দেখতে যায়। সন্ধ্যার সময় সমুদ্র দেখার একটি আলাদা মজা এই সময়টাতে সমুদ্রের ভিজে বিভিন্ন ধরনের খাবারের দোকান বসে থাকে। বিভিন্ন ধরনের খাবার এখানে পাওয়া যায়। পূজা একটি দোকানে খাবার আনতে যায় ঠিক তখন দেখতে পায় রকি সেই দোকানে বসে খাবার খাচ্ছে। রকি পূজা কে দেখে চিনতে পারে রাখি পূজা কে ডাক দিয়ে বলে, এই যে শুনছেন? পূজা বুঝতে পারে রকি তাকে ডাকছে কিন্তু সে ডাকের উত্তর দেয় না। সে দোকান থেকে খাবারগুলো নিয়ে দোকান থেকে বেরিয়ে পড়ে। রকি ও খাবার খেতে খেতে দোকান থেকে বেরিয়ে পড়ে। রকি আবারো পিছন থেকে পূজাকে ডাক দেয়,এই যে শুনছেন আপনি। পূজা তখনো রকির ডাকে কোন সাড়া দেয় না। অবশেষে রকি তাদের সামনাসামনি এসে দাঁড়িয়ে পূজাকে বলে, আমি কখন থেকে আপনাকে ডাকছি আপনি শুনছেন না? পূজা বলে, আপনি যে আমাকে ডাকছেন সেটা আমি কিভাবে বুঝব আমার তো একটা নাম রয়েছে। রকি বলে, আমি তো আপনার নাম জানিনা,তাহলে কিভাবে আপনার নাম ধরে ডাক দিব। তখন পূজা বলে, আমার নাম পূজা আপনার নাম? তখন রকি বলে, আমার নাম রকি।


রকি বলে, এখন আপনার শরীর কেমন আছে? পূজা বলে, এখন আমি সুস্থ আছি কোন প্রবলেম নেই। রকি বলে, আপনি কি পরিবারের সঙ্গে আসছেন? পূজা বলে, হ্যাঁ। রকি বলে, আপনারা এখানে কোথায় উঠেছেন। পূজা তখন তাদের হোটেলে নামটি বলে। রকি হোটেলের নামটা শুনে বলে আমরা তো আপনাদের সামনের হোটেলে উঠেছি। হাসতে হাসতে পূজা বলে, আমি জানি। রকি বলে, আপনি কিভাবে জানতে পারলেন? পূজা বলে, দুপুরে ফ্রেশ হয়ে আমি ব্যালকনিতে এসে দাঁড়িয়ে ছিলাম ঠিক তখন আপনাকে দেখতে পাই। রকি বলে, তাহলে তখন আমাকে ডাক দিলেন না কেন? পূজা বলে, কি করে ডাকবো আপনাকে তখন তো আপনার নাম আমি জানিনা। রকি আস্তে আস্তে বলে, ভালোই হয়েছে তুমি সামনে হোটেলে উঠেছ। পূজা বলে, কিছু কি বললেন? রকি বলে, না কিছু বলিনি। পূজা ও রকির মধ্যে কথোপকথন হতে থাকে তার মধ্যে পূজার ফোনে‌ ফোন আসে তার বাবার। এরপর পূজা রকিকে বায় বলে আবার হোটেলে চলে যায়। পূজা চলে যাওয়ার পর রকি কপালে হাত দিয়ে বলে,ভুলেই গেলাম তার নাম্বারটা তো নেওয়া হলো না।

আজ গল্পের পর্বটি এখানে শেষ করছি সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন সৃষ্টিকর্তার কাছে এটাই প্রার্থনা করি।


Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.33
JST 0.083
BTC 64291.85
ETH 1731.43
USDT 1.00
SBD 0.42