তারাপীঠ ভ্রমণ ও ফটোগ্রাফি শেষ পর্ব।
হ্যালো বন্ধুরা,
আপনারা সবাই কেমন আছেন? আশা করি, আপনারা সবাই ভাল আছেন সুস্থ আছেন। আজ আমি তারাপীঠ ভ্রমণের শেষ পর্বটি আপনাদের মাঝে উপস্থাপন করছি। আশা করি, শেষ পর্বটি আপনাদের সবার ভালো লাগবে। তাই বিলম্ব না করে আমার পোস্ট লেখাটি শুরু করছি।
মুলুটি গ্রামে শিব মন্দির গুলো দেখতে দেখতে এই গ্রামের সৌন্দর্যটাকে ও উপভোগ করলাম।এই গ্রামটিতে বেশিরভাগ বসতবাড়ি মাটির তৈরি। আর এই গ্রামে বেশিরভাগ মানুষ কৃষক। এখানে আরো একটি জিনিস খেয়াল করলাম এই গ্রামের প্রত্যেকের বাড়িতে কমপক্ষে একটি গরু কিন্তু রয়েছে। বেশ কিছুক্ষণ এই গ্রামে থাকার পর আমরা বেরিয়ে পড়লাম আমাদের গন্তব্যে যাওয়ার উদ্দেশ্যে। আমরা যখন এই মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে বের খাচ্ছিলাম তখন দেখলাম অসংখ্য পর্যটক রীতি মত আসতে শুরু করেছে। এনাদেরকে দেখে একটু ভালো লাগলো কারণ বেশ কিছুক্ষণ আমরা দুজনেই ঘোরাঘুরি করছিলাম।উনাদের সঙ্গে কিছু কথোপকথন করে আমরা বেরিয়ে পড়লাম বাইক নিয়ে।
আকাশ আবার কালো মেঘে ঢেকে গিয়েছে মনে হচ্ছে অল্প কিছুক্ষণের মধ্যে বৃষ্টি শুরু হবে। আমরা চিন্তা করলাম যতই বৃষ্টি হোক আমরা রাইট করবো। কারণ একদিকে সন্ধ্যা হতে শুরু করেছে অন্যদিকে অপরিচিত জায়গা। সূর্যের আলো থাকতে থাকতে যেভাবে হোক আমাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে হবে। যাই হোক, আমরা গ্রামের রাস্তা বেয়ে যাচ্ছিলাম গ্রামের রাস্তাতে যাওয়ার পথে রাস্তার মাঝে গাড়ি না থামিয়ে পারলাম না। কারণ রাস্তার দু'পাশে এত সুন্দর ভিউ সেটি দেখার মতন। তাই চিন্তা করলাম আমাদের গন্তব্যে পৌঁছতে যদি একটু লেট হয় তবুও এই সৌন্দর্য উপভোগ না করে আমরা যাব না। একদিকে কালো মেঘ অন্যদিকে সূর্যের লাল রশ্মি আর রয়েছে সবুজ ধান। সবকিছু মিলিয়ে এত সুন্দর ভাবে প্রকৃতি সেজে উঠেছে সেটি না দেখলে হয়তো জীবনটাই বৃথা হবে। আমি সঙ্গে সঙ্গে নিজের এবং প্রকৃতির কিছু ফটোগ্রাফি করলাম। সেগুলো আমি নিচে আপনাদের সবার মাঝে উপস্থাপন করছি।
প্রকৃতির মাঝে বেশ কিছুক্ষণ কাটানোর পর আমরা আবার বাইক নিয়ে চলতে শুরু করলাম। গ্রামের প্রকৃতির মাঝে আঁকাবাঁকা পথ বেয়ে আমরা উঠে পড়লাম তারাপীঠ রোডে। তারাপীঠ রোডে আমাদের উঠতে উঠতে সন্ধ্যা হয়ে গিয়েছিল। এদিকে আমার জুতোটাও নষ্ট হয়ে গিয়েছিল তাই ভাবলাম হোটেলে যাওয়ার আগে দোকান থেকে জুতা কিনে তারপরে যাব। বাটার শোরুম থেকে একজোড়া জুতা কিনে পৌঁছে গেলাম হোটেলে। হোটেলে যে ফ্রেশ হয়ে কিছুটা সময় রেস্ট নিয়ে আমরা নিজে চলে এলাম চা খেতে। চা খেতে খেতে আমি থাই সুপ অর্ডার করলাম দাদাও থাই সুপ অর্ডার করলো। অর্ডার আস্তে আস্তে আমরা দুজনের মধ্যে কথোপকথন করতে লাগলাম।
দাদা বলল রাতে তারাপীঠ মহাশ্মশানে যাবে। আমিও দাদাকে না করলাম না কারণ মহাশ্মশানে যাওয়ার অভিজ্ঞতা আমার রয়েছে আর এখানে গেলে আমার খুব ভালোই লাগে। কারণ এই মহাশ্মশান এমন একটি জায়গা এখান থেকে শুরু আবার এখানেই শেষ। আপনি ধনী অথবা গরিব আপনি যে ব্যক্তি হন না কেন একদিন না একদিন সাড়ে তিন হাত জায়গা হবে আপনার ঘর সেই ঘরে থাকবে না আপনার আত্মীয়-স্বজন পাড়া-প্রতিবেশী। যাই হোক, দাদার সঙ্গে এইসব নিয়ে কথোপকথন করতে করতে আমাদের অর্ডারটি চলে এলো। অর্ডারটি আসার সঙ্গে সঙ্গে আমি খাওয়া শুরু করলাম কিন্তু এক চামচ খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমার মুখটা ভার হয়ে গেল। কারণ খাবারটি ততটা ভালো ছিল না। কিন্তু কি করার ৩৫০ টাকা দিয়ে কেনা হয়েছে ফেলে দিলে তো চলবে না। টাকার দিকে তাকিয়ে খাবারটি শেষ করলাম। তারপর আমরা দুজনে রাত এগারোটার সময় চলে গেলাম তারাপীঠ মহাশ্মশানে। শ্মশানে যে দেখি এখানে সাধুরা চিতার উপর হুমযোগ্য করছে। তারাপীঠ মহাশ্মশানে প্রতিদিন রাতে সাধুগণ সিদ্ধি লাভ করার জন্য তারা মায়ের আরাধনা করে থাকে।
ক্যামেরা পরিচিতি: oppo
ক্যামেরা মডেল: oppo A53s 5G
ক্যামেরা দৈর্ঘ্য:4.05mm
তারিখ:০৪.০৯.২০২৫
সময়: ০৬.১২মিনিট
স্থান:মুলুটি গ্রাম,ঝাড়খন্ড।