"দাদা সাথে মাছ ক্রয়ের অভিজ্ঞতা"

in আমার বাংলা ব্লগ3 years ago

হ্যালো বন্ধুরা,

আপনারা সবাই কেমন আছেন? আশা করি, আপনারা সবাই ভাল আছেন সুস্থ আছেন। আজ আমি আপনাদের মাঝে আবারও একটি নতুন পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি।আশা করি,আপনাদের ভালো লাগবে বিষয়টি তাই বিলম্ব না করে আমার পোস্ট লেখাটি শুরু করছি।



কিছুদিন আগে আমি আমার দিদির বাড়িতে ঘুরতে গিয়েছিলাম। আমি মাঝেমধ্যেই দিদির বাড়িতে ঘুরতে যাই। আমার দিদি দাদা আমাকে খুবই ভালোবাসে। দিদির বাড়িতে আসলে মাছ, মাংস নানান ধরনের রেসিপি খেতে খেতে গোপাল ভাঁড় হয়ে যাই। নিজের বাড়িতে যে আয়নার সামনে গেলে নিজেকেই চিনতে পারি না। যাইহোক হঠাৎ রাতে খাওয়া-দাওয়া শেষ করে আমি রুমে যাচ্ছিলাম ঘুমানোর জন্য তখন দিদি আমাকে পিছন থেকে ডেকে বলল কাল একটু সকাল সকাল উঠিস মাছ কিনতে যেতে হবে। দিদি আমার ঘুমের ব্যাপারে জানে কারণ আমি ঘুম পড়লে সকাল দশটার আগে উঠি না। আমি দিদিকে বললাম কত সকালে যেতে হবে বাজারে? দিদি আমাকে বলল সকাল আটটার সময় বাজারে যেতে হবে। আমি ঠিক আছে বলে রুমে চলে গেলাম ঘুমাতে রাত্রে হঠাৎ আমার ফোনে ফোন এলো। ঘুমের মধ্যেই ফোনটি রিসিভ করে হ্যালো বলতেই শুনতে আমার এক দাদার গলা। দাদা আমাকে বলছে ভাই ভোর চারটের সময় মাছ কিনতে যেতে হবে তুমি তাড়াতাড়ি উঠে পড়বে। কথাটি শোনার পর আমার মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়ল। আমি দাদাকে ঠিক আছে বলে ঘুমিয়ে পড়লাম। সেই রাত্রে আমি মাত্র তিন ঘন্টার মতন ঘুমিয়ে ছিলাম। আমি এত রাতে উঠতে পারবো না বলে মোবাইলে এলাম বাজিয়ে রাখলাম। ঠিক টাইমে এলাম ও বেঁচে ছিল কিন্তু আমার ঘুম যেন ভাঙছিল না আমি এলামটি অফ করে আবার ঘুমিয়ে পড়ি। ফোনের এলাম অফ করার ১০ মিনিট পর আবার আমার ফোনে ফোন এলো। চোখ মিলিয়ে দেখলাম দিদি ফোন করেছে আমি দ্রুত কোনটি রিসিভ করে হ্যালো বলতেই দিদি আমাকে বলল তুই কি রেডি হয়েছিস তোর দাদা রেডি হয়ে গেছে। আমার এত পরিমাণে ঘুম আসছিল তাই দিদিকে বললাম দিদি আমি যাব না। দিদি একটু ধমক দিয়েই আমাকে বলল তোর দাদা বলেছে তোকে যেতে হবে। আমি ফোনের মাঝেই শুনতে পাচ্ছিলাম দাদা বলছিল দিদিকে ওর যেতে হবে না ও ঘুমাক আমি যাচ্ছি। দিদি আবারো আমাকে বলল তোর দাদা রেডি হয়ে নিচে যাচ্ছে তুই তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে নিচে চলে যা। আমিও কিছু না ভেবে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে দ্রুত নেমে পড়লাম নিচে। নিচে আসতেই দেখলাম গাড়িও চলে এসেছে গাড়ির ভেতরে দেখলাম দাদা এবং রাতে আমাকে যে দাদা ফোন করেছিল সেই দাদাও রয়েছে। আমি গাড়ির দরজা খুলে গাড়ির ভিতর বসতেই গাড়ির ড্রাইভার গাড়ি চালাতে শুরু করলো।


আজ আমরা মাছ কিনতে যাচ্ছি খড়ি বাড়ীতে এখানে একটি বাজার আছে বাজারটি বেশ বড়। আর এখানেই ছোট ছোট ব্যবসায়িকরা মাছ কিনে নিয়ে যায় অন্য অন্য এলাকাতে বিক্রি করার জন্য। আবার কেউবা আসে এক সপ্তাহের মাছ কিনে নিয়ে যাওয়ার জন্য। যাইহোক গাড়িতে বসতেই দাদা এসি চালিয়ে দিল গাড়ির এসির হাওয়াতে আমার ঘুম এসে যাচ্ছিল আমি যে কখন ঘুমিয়ে পড়েছিলাম আমি নিজেও জানিনা। হঠাৎ একটি ধাক্কা লাগতেই আমার ঘুম ভেঙে গেল দেখতে পেলাম আমরা সেই মৎস্য বাজারে চলে এসেছি। তাড়াতাড়ি গাড়ি থেকে নেমে বাজারের দিকে রওনা হলাম।
IMG20230709045841.jpg
তারিখ:০৫.০৭.২০২৩
সময়:৫.১০মিনিট
স্থান: খড়িবাড়ী
এই মৎস বাজারটিতে কিন্তু রাত থাকতেই এই বাজার শুরু হয়ে যায়। কারণ আগেই বলেছি এখানে অনেক ব্যবসায়িক আসে মাছ কিনতে তারাও সকাল-সকাল মাছ কিনে নিয়ে তাদের সেই বাজারে চলে যায় বিক্রি করার জন্য। এই বাজারে অনেক প্রকারের মাছ পাওয়া যায় এবং দামেও খুব সস্তা তাই এখানে মানুষের ভিড় টাও অনেক বেশিই থাকে। কিন্তু আজ খড়িবাড়ী এই মৎস্য বাজারে লোকের ভিড় একটু বেশিই ছিল খুব কষ্ট হচ্ছিল মাছগুলো দেখতে এবং কিনতে।
IMG20230709054548.jpg

IMG20230709054115.jpg

IMG20230709051524.jpg

IMG20230709050104.jpg

IMG20230709045928.jpg
ক্যামেরা পরিচিতি:oppo
ক্যামেরা মডেল:oppo A53s 5G
ক্যামেরা দৈর্ঘ্য:3.37mm
তারিখ:০৫.০৭.২০২৩
সময়:৫.৪৫মিনিট
স্থান: খড়িবাড়ী
আমরা অনেকগুলো দোকান ঘুরে ঘুরে দেখছিলাম আর প্রত্যেকটা দোকানের সামনেই মাছ ছিল। আমরা একটি চার পাঁচ কিলোর মতন একটি পাতারি মাছ কিনলাম। ছোট চিংড়ি, বড় চিংড়ি, বাগদা চিংড়ি, কাতলা, মৃগেল ইত্যাদি মাছ কিনলাম। ঘুরতে ঘুরতে দাদা বললো ছোট মাছ কিনতে হবে তাই কোন কথা না বলেই ছোট মাছ খোঁজা শুরু করে দিলাম। অনেক খুঁজতে খুঁজতে পেয়ে গেলাম ছোট মাছ কাছে যেতেই দেখি এখানে হরেক রকম মাছ মিশিয়ে বিক্রি করছে। দাদা দেখা মাত্রই বলল এই মাছ নিতে হবে এটি পেঁয়াজ রসুন দিয়ে ভাজি করে খেতে খুবই ভালো লাগবে।তাই কোন কথা না বলেই চুপচাপ নিয়ে নিলাম। দেখতে দেখতে আমাদের তিনটি ব্যাগ দুটি বালতি সবগুলো পাত্র ভরে গেল। মনে মনে ভাবছিলাম যদি পাত্র খালি থাকতো তাহলে হয়তো বা দাদা আরো মাছ কিনে নিত কারণ দাদা মাছ খেতে খুবই পছন্দ করে। পাত্র গুলোতে মাছের ওজন এত হয়েছিল হাত কেটে যাচ্ছিল। খুব কষ্টে সবগুলো পাত্র গাড়ির কাছে নিয়ে এসে সবগুলো গাড়ির ভিতর ঢুকিয়ে রাখলাম। মাছের বাজারে মাছ কিনতে গেলে আপনি যদি ভালো পোশাক পড়ে যান তাহলে বাড়িতে আসতে আসতে সে পোশাক দিয়ে আর কোন কাজ হবে না। তাই মাছের বাজারে মাছ কিনতে গেলে অবশ্যই একটু নরমাল পোশাক পড়ে যেতে হবে।
যাইহোক আমরা হাত-পা ধোয়ার জন্য জল খোঁজ করছিলাম কিন্তু কোথাও জল ছিল না গাড়ির ভিতর এক বোতল জল ছিল সেই জল দিয়েই হাত-পা একটু ধুয়ে নিলাম। তারপর রওনা করলাম বাড়ির উদ্দেশ্যে


আজ এখানেই শেষ করছি সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন সৃষ্টিকর্তার কাছে এটাই প্রার্থনা করছি।

Sort:  
 3 years ago 

চার পাঁচ কিলোর মতন একটি পাতারি মাছ কিনেছিলেন জেনে ভালো লাগলো ভাইয়া। যদিও মাছের বাজারে খুব কম যাওয়া হয়। তবে মাছের বাজারে গেলে দেখে শুনে ভালো মাছগুলো নেওয়া যায়। সেইসাথে পছন্দের মাছগুলো কেনা যায়। আপনার পোস্ট পড়ে অনেক ভালো লাগলো।

 3 years ago 

ভাইজান এমন ভাবে মাছ আমরা আরতে বিক্রি করতে যায় আর আপনি ক্রয় করতে গেছেন। যাই হোক ভালো লাগলো নতুন একটি আড়ত সম্পর্কে ধারণা পেয়ে। আপনি খুব সুন্দর করে ফটোগ্রাফি করেছেন এবং সেই সম্পর্কে আমাদের মাঝে ধারণা তুলে ধরেছেন এই দেখে বেশ ভালো লেগেছে আমার।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.33
JST 0.097
BTC 65045.78
ETH 1919.76
USDT 1.00
SBD 0.39