কালী পূজা ভ্রমণ পর্ব:৪
হ্যালো বন্ধুরা,
আপনারা সবাই কেমন আছেন?আশা করি,আপনারা সবাই ভাল আছেন সুস্থ আছেন। আজ আমি আপনাদের মাঝে কালী পূজা ভ্রমণ চতুর্থ পর্বটি উপস্থাপন করছি। আশা করি, আপনাদের সবার ভালো লাগবে।
মধ্যমগ্রাম থেকে আমরা আর কোথাও না যে সোজা চলে এলাম নবপল্লি বয়েজ স্কুল'আমরা সবাই ক্লাব'এর পূজাটি দেখার জন্য।বারাসাতের সব থেকে বড় এবং জাঁকজমক প্যান্ডেল আমরা সবাই এই ক্লাবটি প্রতিবছর তৈরি করে থাকে। প্রতিবছর এই ক্লাবটি প্রথম স্থান অধিকার করে থাকে। তার মানে বুঝতেই পারছেন এখানে কতটা সুন্দর প্যান্ডেল তৈরি করা হয়। এবছর 'আমরা সবাই এই ক্লাবটি'শ্রীকৃষ্ণের দ্বারকা নগরের চিত্র তুলে ধরেছে। কালী পূজার চার মাস আগে থেকে এই প্যান্ডেলের কাজ শুরু হয়েছে। আর এই চার মাস আগে থেকেই লোকের মাঝে ছড়িয়ে পড়েছে আমরা সবাই এই ক্লাবটির নাম। এই ক্লাবটি কালী পূজার চার দিন আগে থেকে প্যান্ডেলের গেট খুলে দিয়েছিল। প্রথম দিন থেকে হাজার হাজার মানুষ এই প্যান্ডেল দেখার জন্য ছুটে এসেছে।
যাইহোক, বারাসাতের নামকরা এই প্যান্ডেলটি দেখার জন্য আমরা যাই। হাজার হাজার মানুষের ভিড়ের মাঝে দাঁড়িয়ে আস্তে আস্তে এগোতে থাকি শ্রীকৃষ্ণের দ্বারকা প্যান্ডেলের গেটের সামনে। এতটা ভীর হয়েছিল সেটি বলে বোঝানোর মত নয়। যাইহোক, প্যান্ডেলের গেটের সামনে শ্রীকৃষ্ণের একটি মূর্তি ধারণ করা হয়েছে। মূর্তিটি দেখতে এত সুন্দর লাগছে যে একটি ছবি না তুলে আমি পারলাম না। শুধু যে আমি ছবি তুলছি তা কিন্তু নয় হাজার হাজার মানুষ শ্রীকৃষ্ণের মূর্তির ছবি তুলছে। ছবি তোলা শেষ করে চলে গেলাম মূল প্যান্ডেলের সামনে। সামনে থেকে প্যান্ডেলটি দেখে আমি সত্যিই অবাক হয়ে গেলাম। এত সুন্দর করে প্যান্ডেলটি সাজানো হয়েছে শ্রীকৃষ্ণের দ্বারকা নগর দেখে মনে হবে না এটি আসল না নকল।
মূল প্যান্ডেলের ভিতর প্রবেশ করতে হলে ৫০ টির মতন সিঁড়ি ধাপ পার করতে হবে। এই প্যান্ডেলটির চার পাশে শতশত রঙ্গিন ঝাড়বাতি দিয়ে সাজানো।আমি আস্তে আস্তে মূল প্যান্ডেলের ভেতর প্রবেশ করলাম। বাইরে যতটা না সুন্দর তার থেকে ভেতরে পরিবেশটা আরো বেশি সুন্দর। এখানে কৃষ্ণ কালী তৈরি করা হয়েছে। কৃষ্ণ কালীর মূর্তিটি এত সুন্দর করে তৈরি করা হয়েছে আর এত মায়াবী দেখতে লাগছে মন চাচ্ছিল একটু ছুয়ে দেখতে। একটি মূর্তি কিন্তু দুজন ব্যক্তি একপাশে শ্রীকৃষ্ণের প্রতিচ্ছবি অন্যপাশে কালীর প্রতিচ্ছবি এ যেন এক অদ্ভুত সৃষ্টি। এই মুহূর্তেটির পদতলে রয়েছে একটি সুন্দর পদ্ম ফুল। আমি মনে মনে চিন্তা করতে থাকি কৃত্রিম ভাবে তৈরি শ্রীকৃষ্ণের দ্বারকা নগর দেখতে এতটা সুন্দর না জানি বাস্তবে কতটা সুন্দর ছিল। আমি এই প্যান্ডেলের কিছু ছবি আপনাদের মাঝে তুলে ধরছি। আশা করি, এই প্যান্ডেলের ছবিগুলো দেখে আপনাদের সবার ভালো লাগবে।
ক্যামেরা পরিচিতি: oppo
ক্যামেরা মডেল: oppo A79 5G
ক্যামেরা দৈর্ঘ্য:4.05mm
তারিখ:২১.১০.২০২৫
সময়:০৪:২২ মিনিট
স্থান: বারাসাত, কলকাতা।
'আমরা সবাই ক্লাবটি'আমার দেখা এ বছরের শ্রেষ্ঠ শ্রীকৃষ্ণের দ্বারকা নগর এই প্যান্ডেলটি। হয়তো বারাসাতে অনেক সুন্দর সুন্দর প্যান্ডেল তৈরি হয়েছে কিন্তু এই প্যান্ডেলটির আশে পাশে ও যেতে পারবে না অন্য কোন ক্লাবের প্যান্ডেল। এই প্যান্ডেলটি দেখা শেষ করে আমরা বাজার থেকে কিছু খাবার কিনে খেতে খেতে চলে এলাম বাড়িতে কারণ ভোর হয়ে গিয়েছিল সকাল হতে আর কিছুটা সময় বাকি ছিল।