মরে গেলো, আবার মেরেও গেলো!
আসসালামু আলাইকুম
সবাই কেমন আছেন? আশা করি আমার বাংলা ব্লগ পরিবারের সবাই ভাল আছেন। আমিও আল্লাহর অশেষ রহমতে ভালো সুস্থ আছি। আমার বাংলা ব্লগ পরিবারের সকলের সুস্বাস্থ্য কামনা করে নতুন ব্লগ শুরু করলাম। আমি আশা করি এখান থেকে অনেক কিছু শিখার আছে। কিন্তু কিছু কিছু বিষয়ে আমার মাথায় একদম আসেনা। এ বিষয়গুলো নিয়ে আমি আজ অনেক দুশ্চিন্তা করতে ছিলাম। আশা করি আজকের ব্লগ ভালো লাগবে।
আজ আমার সকাল থেকে মনটা খুব খারাপ। সকালে হঠাৎ করে হানিফ ভাই নামের একজন ব্যক্তি মারা গিয়েছে শুনলাম। শুনে মনটা খুব খারাপ হয়ে গেল। আজ ১৫ দিন আগে প্রবাসে গিয়েছিলেন। দীর্ঘ অনেক বছর থেকে দুই মাসের জন্য বাড়িতে এসেছিল। পরে দুই মাস দশ দিন থাকার পর গত ১৫ দিন আগে প্রবাসে গিয়েছে । আজ ১৫ দিন পর হার্ট অ্যাটাক করে । সৃষ্টিকর্তার ডাকে তিনি সাড়া দিয়েছেন এতে আমার কোন দুঃখ নেই। যে কাউকে যেকোনো সময় সৃষ্টিকর্তা দেখে নিতেই পারে। তিনি মারা গিয়েছেন এটার থেকেও বড় কথা হল তিনি আবার সবাইকে মেরে গিয়েছেন।
লেখাটি পড়ে অবাক হয়েছেন। অবাক হওয়ারই কথা। অবাক হওয়া একদমই স্বাভাবিক বিষয়। দীর্ঘ অনেক বছর পর হানিফ ভাই যখন বাড়িতে এসেছেন, আসার সময় তার পরিকল্পনা ছিল অনেক। তার পরিবারের মধ্যে শুধু একটি মেয়ে এবং তার স্ত্রী ছিলেন। হানিফ ভাই অনেক ভালো একজন মানুষ ছিলেন। হারুন ভাইয়ের ঘরটা একদমই ভাঙ্গাচুরা ঘর। প্রবাসে থেকে যখন তিনি এসেছেন চিন্তা করেছিলেন বাড়িতে ছোট করে একটি ঘর দিবেন। একটি মাত্র মেয়ে ছিল তার। ছোট একটি ঘর দিতে পারলে তারা অনায়াসে বসবাস করতে পারবে।
তিনি বাহির থেকে অল্প কিছু টাকা এনেছিলেন, কিন্তু অল্প টাকা দিয়ে কি ঘর করা যায়। হারুন ভাইয়ের অনেক অনেক জায়গা সম্পত্তি ছিলেন। চিন্তা করলেন একটি জায়গা বিক্রি করে খুব সুন্দর করে একটি ঘর দিতে পারবে। কিন্তু যখন জায়গা বিক্রি করতে গেলেন। তার বোন এবং বড় ভাই তাকে জোর করে জায়গা বিক্রি করতে দিল না। এই নিয়ে বাড়িতে কয়েকবার ঝামেলা করেছিলেন তারা। বাড়িতে কয়েকবার মুরুব্বিদেরকে নিয়ে বৈঠ ক হয়েছিল। কিন্তু কোন সমাধান হলো না। অবশেষে বাইরে যাওয়ার সময় হয়ে গেল , তার দুই মাস সময় শেষ হয়ে গেল ঝামেলা করতে করতে। তার কোটি টাকার উপরে ও সম্পদ ছিল। কিন্তু কোন ভাবেই তার জায়গা সম্পত্তির বিক্রি করতে পারেনি।
অবশেষে আজ সকালেই তার মারা যাওয়ার কথা শুনলাম। শুনে ভীষণ খারাপ লেগেছে। এবার বলি আসল কথা। তিনি মারা গিয়েছেন সত্য কিন্তু তার পরিবারকে মেরে গিয়েছেন। আমাদের দেশে একটি নিয়ম রয়েছে। আইনি নিয়ম ও নাকি এটা। বাবা মারা গেলে একমাত্র মেয়ে সন্তান নাকি জায়গা পায় না। মেয়ে সন্তান পেলেও হয়তো অল্প একটু সম্পত্তি পায়। এরপর হানিফ ভাইয়ের স্ত্রী ও নাকি অল্প একটু সম্পত্তি পাবে। বিষয়টা শুনে আমি পুরোপুরি অবাক হলাম। বিষয়টা আমার একদমই জানা ছিল না। এটি আবার কোন নিয়ম তাও আমি জানিনা।
হারুন ভাই যে এখন মারা গিয়েছেন তার সম্পত্তি নাকি তার ভাইয়ের ছেলে এবং বোনের ছেলে মেয়ে পাবে। এটা কোন কথা হলো। এটি নাকি অনেক বছর আগ থেকেই প্রচলিত রয়েছে। এখন আপনারাই বলেন হানিফ ভাই মারা গিয়েছেন এবং তার স্ত্রী সন্তান দুজন একদমই তার সব সম্পত্তি হারিয়ে ফেললেন। এধারায় তিনিও মরে গেলেন এবং তার স্ত্রী সন্তান সবকিছু থেকে বঞ্চিত হলো অর্থাৎ তাদেরকেও জীবন্ত মেরে গেল। তার জন্য এবং তার পরিবারের জন্য হৃদয়টা খুব বেশি কাঁদতেছে। তাদের বাড়ির সবাই শুধু তার মেয়ে এবং স্ত্রীর জন্য চিন্তা করছে। শুধু আছে নাকি ভাই এবং বোনেরা। দেশে আসার পর তারা ঝামেলা করেছে এজন্য চিন্তা করে আজ তিনি স্ট্রোক করেছেন। আর হানিফ ভাই মারা গেলেন পরিবারকে মেরে গেলেন।
কিন্তু দুঃখ লাগে তাদের জন্য মেয়ে এবং মা কিভাবে থাকবে। ভরণপোষণের দায়িত্বে কেউ নিবে। দুঃখ কষ্টের জীবন যাপন করলেও কোনদিনও একটি ঘর কিংবা ভালোভাবে খেতে। যদি আবার বোনেরা ভাই যদি নির্যাতন করে তাহলে তো বাড়িতে থাকতেও পারবেনা। এজন্য আমি শুরুতেই লিখলাম মারা গেল এবং তার পরিবারকে মেরেও গেল।
নিজেকে নিয়ে কিছু কথা
আমার নাম নুরুল আলম রকি। আমার steemit I'd narocky71। আমি বাংলাদেশী নাগরিক । বাংলাদেশে বসবাস করি। তার সাথে সাথে আমি বিশ্বনাগরিক। আমি বাংলা ভাষায় কথা বলি। বাংলা ভাষায় মনের ভাব প্রকাশ করি। আমি বাংলা ভাষাকে ভালবাসি। আমি ফটোগ্রাফি করতে ও ছবি আঁকতে ভালোবাসি। বিশেষ করে জল রং দিয়ে পেইন্টিং করতে পছন্দ করি। এছাড়াও আমি ভ্রমণ করতে পছন্দ করি। যখনই আমার সময় এবং হাতে টাকা থাকে তখন ভ্রমণ করতে বেরিয়ে পড়ি। বিশেষ করে আমি ম্যাক্রো ফটোগ্রাফি করতে পছন্দ করি। আমি অনেক বছর আগ থেকে ফটোগ্রাফি করে থাকি। কিন্তু বিশেষ করে ম্যাক্রো ফটোগ্রাফি বেশি করা হয়। বর্তমানে তার সাথে আর্ট করতে অনেক ভালোবাসি। বর্তমানে আমি বেশি সময় কাটাই আর্ট শিখতে। বর্তমানে আমার স্বপ্ন, আমি একজন ভালো ফটোগ্রাফার, ও একজন ভালো আর্টিস্ট হব। ( ফি আমানিল্লাহ)
VOTE @bangla.witness as witness
OR
SET @rme as your proxy
খুব খারাপ লাগছিল বিষয়টা জেনে। কিছুক্ষণ আগে শুভ ভাইয়ের পোস্ট পড়েছিলাম। তিনি একজন শিক্ষকের কথা বলেছেন,যিনি মারা গেছেন। তার ফ্যামিলিতেও একটা মেয়ে আর স্ত্রী ছিলেন। আসলে এরকম ভাবে স্ত্রী সন্তানকে রেখে অল্প বয়সে মারা গেলেন। হয়তো বা বিধাতার লেখা ছিল এটি।কিন্তু এই যে বললেন এই নিয়ম, আমার একদমই অপছন্দ। জানি না কে এই নিয়ম বের করেছিল এবং তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি, পরিবারের ভালো থাকাটা কামনা করছি।
আমার নিজেরও ভীষণ খারাপ লাগছে এই নিয়মের জন্য। এই নিয়ম নিয়ে আমি কারো সাথে কথা বলবো। সময় দিয়ে মন্তব্য করার জন্য অনেক ধন্যবাদ।
আপনার শ্যালিকার পোস্টের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছিলাম। আবার আপনার পোস্ট পড়ে অনেক কিছু জানতে পারলাম। আসলে ওনাদের পরিবারের লোকগুলো যদি অসহায় এতিম বাচ্চাটির কথা চিন্তা করে তাকে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত না করে তাহলেই হয়তো বাচ্চাটির ভবিষ্যৎ ভালো হতে পারে। আসলে দুনিয়াটা বড় কঠিন। সম্পত্তির ভাগ ছাড়তে চায় না কেউ। তবুও বাচ্চাটির কথা চিন্তা করা উচিত সবাইকে।
বাবা থাকা কালীন যে বিষয়ে সমাধান করতে পারল না, মারা যাওয়ার পর বিষয়টা একদমই অসম্ভব। দেখা যাক কি হয়
আপনার পোস্ট পড়ে অনেক খারাপ লেগেছে। সত্যি মা আর মেয়ের এখন কি হবে। তবে কথায় আছে যার কেউ নেই তার উপরওয়ালা আছে। আমাদের এদিকে আবার এই নিয়ম নেই। টাকার ঘ্রাণ আসলে কেউ ছাড়তে চায়না। আপনার ভাইয়ার আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।
বাংলাদেশের মানুষ হলে এই নিয়ম ছাড়া কোন এলাকা নেই। এটি বাংলাদেশের আইন। আপনি খবর নিয়ে দেখতে পারেন।
ভীষণ খারাপ লাগলো আপনার পোস্ট পড়ে, এই জাইগা আর জমিন, কে নিবে সাথে, আর কে ই বা ভুগ করবে, আহারে মানুষ, কিসের আশায় এমন মন মানসিকতা তৈরি করছে তারা, জানিনা কিছুই।ইসস খারাপ লাগছে অনেক।
এমন মানুষের বর্তমানে অভাব নেই। প্রত্যেকটা বাড়িতে রয়েছে মানুষরূপী অমানুষ গুলো। কিন্তু স্ত্রী সন্তানের জন্য মনটা খুব কাঁদতেছে। সময় দিয়ে মন্তব্য করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ আপু।
জন্ম মৃত্যু বিয়ে সব বিধাতার হাতে। তাই এটা নিয়ে বলার কিছু নেই। ঈশ্বর সবটা বুঝে শুনেই যা করার করেন। কিন্তু সমস্যা হলো এসব নোংরা আইন নিয়ে , একদিক থেকে দেখলে আমার কাছে মনে হয় আমাদের সমাজের মেয়েদেরকে দারুণ অবহেলা আর নিচু চোখে দেখা হচ্ছে এসব আইন নিয়ে। আজ ওনার একটা ছেলে থাকলে নিশ্চয়ই জায়গা জমি নিয়ে এমন ঝামেলা হতো না, উত্তরাধিকার সূত্রেই পেয়ে যেত সবটা। আর নিজের ভাই বোনরা যদি জায়গা জমি বিয়ে এমন করে তাহলে তো বলার কিছুই নেই। প্রার্থনা করি এই পরিবারের সব বিপদ যেন কেটে যায়। আর মানুষের মাঝে যেন একটু বিবেকবোধ এর জন্ম হয়।
ঠিক বলেছেন ভাই আমাদের দেশের এই আইন নিয়ে আমি খুবই চিন্তা করতেছি। মেয়েদের অনেক অবহেলিত করেছেন এই আইনের ধারায়।
হানিফ ভাই এর কথা শুনে ভীষণ খারাপ লেগেছে। হানিফ ভাইয়ের স্ত্রী সন্তানের কথা শুনেও ভীষণ খারাপ লেগেছে। তারা কিভাবে সামনের দিনগুলোতে জীবন যাপন করবে তা ভাবতেই ভীষণ কষ্ট হচ্ছে।দুই মাসের জন্য এসে তাদেরকে যদি ছোট একটি ঘর করে দিয়ে যেতে পারত তাহলেও তারা থাকতে পারতো। কিন্তু অমানুষ ভাই বোন গুলো তাকে ঘর করে দিতে দিল না। একদিন তাদের বিচারও সৃষ্টিকর্তা করবে।
তার স্ত্রী এবং সন্তানের জন্য আমার নিজেরও ভীষণ খারাপ লাগে। হানিফ ভাই খুবই ভালো মনের একজন মানুষ ছিলেন। মন্তব্য করার জন্য অনেক ধন্যবাদ।
সত্যি ভাইয়া আমি ভুলতে পারছি না হানিফ ভাই এর এই বিষয়টি। ওনার স্ত্রী সন্তান সবকিছু থেকে বঞ্চিত হলো। খুবই খারাপ লাগছে হানিফ ভাই এবং ওনার স্ত্রী সন্তানের জন্য। ১৫ দিন হল উনি প্রবাসে গিয়েছেন তার মধ্যেই এই খবর শুনতে পেলাম আমরা। আসলে এখন প্রত্যেকটা ঘরে রয়েছে মানুষরূপী অনেকগুলো অমানুষ।স্ত্রী সন্তানের বাকি দিনগুলো কিভাবে চলবে তা ভেবেই কষ্ট হচ্ছে। উনি মারা গেলেন আবার মেরে ও গেলেন এটা আপনি ঠিকই বলেছেন।
সত্যি বলছো এই ধরনের ঘটনাগুলো মেনে নেওয়া যায় না। যে মানুষটা ১৫ দিন আগে দেশ থেকে গিয়েছে সে মানুষটা ১৫ দিন পর দেশে ফিরবে লাশ হয়ে। অনেক দুঃখজনক