জেনারেল রাইটিং-দগ্ধ শিশুদের আর্তনাদ||

in আমার বাংলা ব্লগ11 months ago

আসসালামু আলাইকুম/নমস্কার


আমি @monira999 বাংলাদেশ থেকে। আজকে আমি খুবই কষ্টের সাথে একটি পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি। গতকাল থেকেই মনটা খুবই খারাপ। বিশেষ করে গতকাল রাত থেকে খুবই খারাপ লাগছে। আসলে হঠাৎ করে যখন কোন বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে তখন খুবই খারাপ লাগে। আপনারা হয়তো ইতিমধ্যেই বিমান দুর্ঘটনার খবরটি জানতে পেরেছেন। আর সেই বিষয় নিয়ে কিছু কথা লিখবো।


দগ্ধ শিশুদের আর্তনাদ:

sad-219722_1280.jpg

Source


গতকাল থেকে মনটা যেন একেবারে ভারী হয়ে উঠেছে। ভেতরে চাপা কষ্ট কান্না হয়ে ঝরছে। বারবার চিৎকার করে কাঁদতে ইচ্ছে করছে। আসলে ছোট ছোট বাচ্চারা যে এভাবে আহত হবে কিংবা নিহত হবে সেটা ভাবতেই কষ্ট লাগছে। ছোট ছোট বাচ্চারা মনের আনন্দে স্কুলে গিয়েছিল। বাবা-মায়ের কাছে বিদায় নিয়ে নিজের স্কুলে গিয়েছিল। কিন্তু তারা ঘরে ফিরতে পারল না। কেউ ফিরে এসেছে নিজের ঘরে কিন্তু আহত হয়ে কিংবা দগ্ধ হয়ে।


ছোট ছোট বাচ্চাগুলো যখন আগুনের লোলিহান শিখায় দগ্ধ হয়েছে তখন না জানি তাদের কতটা কষ্ট হয়েছে। ছোট্ট ছোট্ট প্রাণের পাখিগুলো কতটা ছটফট করেছে সেটা ভাবতেই খারাপ লাগছে 😭। যখন আগুনের লোলিহান শিখায় সেই বাচ্চা গুলো ঝলসে গেছে তখন তাদের কতটা কষ্ট হয়েছে এটা ভেবে হৃদয় কেঁদে উঠছে। আসলে ছোট বাচ্চারা এতটা কষ্ট করে মারা যাবে এটা কখনো মেনে নেওয়ার মতো নয়। ছোট্ট ছোট্ট অবুঝ শিশু গুলো কোন কিছু বুঝে ওঠার আগেই আগুনে ঝলসে গেছে।


বিকর শব্দে যখন চারপাশ অন্ধকার হয়ে গেছে তখন হয়তো তারা কিছুই বুঝে উঠতে পারেনি। তাদেরই সহপাঠী কিংবা তাদেরই বন্ধু হয়তো মারা গেছে। কেউ বেঁচে ফিরেছে ঠিকই কিন্তু দগ্ধ শরীরে ভালো নেই তারা। ছোট্ট ছোট্ট সোনামণিরা আগুনে দগ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে। এই কথাটা ভাবলেই হৃদয়টা ভারী হয়ে উঠছে। ভেতরের চাপা কষ্টটা যেন আরও বেশি আঘাত করছে। মনে হচ্ছে সৃষ্টিকর্তা কেন তাদেরকে এতটা কষ্ট দিল।


জীবনের এই সমীকরণটা সত্যি বড় অদ্ভুত। ছোট্ট ছোট্ট অবুঝ শিশুরা কিভাবে যে ঝরে গেল সেটা মেনে নিতেই পারছি না। আবার যারা আহত হয়ে হসপিটালে শুয়ে আছে তারাও এক প্রকারের আতঙ্কের মধ্যে আছে। ঝলসানো শরীর নিয়ে কষ্ট পাচ্ছে। তাদের এই কষ্ট দেখে খারাপ লাগছে। এছাড়া যারা এই ভয়ংকর পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসেছে তারা কতটা আতঙ্কের মধ্যে আছে ভাবতেই কষ্ট লাগছে।


আমরা সবাই ছোট ছোট এই শিশুদের জন্য দোয়া করবো। যাতে করে তারা এই ট্রমা কাটিয়ে উঠতে পারে এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে। আর যারা নিজেদের সন্তান হারিয়েছেন তাদের সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা আমার নেই। তবে তাদের জন্য আমরা সবসময় মন থেকে দোয়া করবো। তারা যেন পরপারে ভালো থাকে। ছোট্ট ছোট্ট বাচ্চারা যেমন কষ্ট পেয়ে মৃত্যুবরণ করেছে তেমনি যারা চোখের সামনে প্রিয় সহপাঠীদের মরতে দেখেছে। তাদেরও খুবই কষ্ট হচ্ছে। তাদের জন্য রইল অফুরন্ত দোয়া যাতে তারা এই কষ্টটা ভুলতে পারে এবং স্বাভাবিক হতে পারে।



আমার পরিচয়

photo_2021-06-30_13-14-56.jpg

আমি মনিরা মুন্নী। আমার স্টিমিট আইডি নাম @monira999 । আমি ইংরেজি সাহিত্যে অনার্স ও মাস্টার্স কমপ্লিট করেছি। গল্প লিখতে আমার ভীষণ ভালো লাগে। মাঝে মাঝে পেইন্টিং করতে ভালো লাগে। অবসর সময়ে বাগান করতে অনেক ভালো লাগে। পাখি পালন করা আমার আরও একটি শখের কাজ। ২০২১ সালের জুলাই মাসে আমি স্টিমিট ব্লগিং ক্যারিয়ার শুরু করি। আমার এই ব্লগিং ক্যারিয়ারে আমার সবচেয়ে বড় অর্জন হলো আমি "আমার বাংলা ব্লগ" কমিউনিটির একজন সদস্য।

Sort:  
 11 months ago 

1753168946454.png

 11 months ago 

এই দৃশ্য দেখে হৃদয় ভেঙে যায়। শিশুদের এই কষ্টের জন্য আমরা গভীরভাবে শোকাহত। তাদের ও তাদের পরিবারের প্রতি আমাদের আন্তরিক সমবেদনা।এমন মর্মান্তিক ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয়। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে।

 11 months ago 

শিশুদের কষ্ট দেখে সত্যি অনেক খারাপ লাগে। ঘটনাটি হৃদয়ে আঘাত করেছে ভাইয়া।

 11 months ago 

আসলে কখন,কোথায় কি ঘটে যায় ঠিক বলা যায় না।তাই সেটা নিয়ে মজা করা বা আনন্দ করাটা ঠিক নয়।যদিও কিছুদিন আগে এমন ঘটনা আমাদের দেশেও ঘটেছিলো, সেটা নিয়ে আপনাদের দেশের কিছু মানুষ আনন্দও করেছিলো।যাইহোক সকলের সুস্থতার জন্য প্রে করি।

 11 months ago 

আপনাদের দেশে যেই দুর্ঘটনা ঘটেছে আমাদের দেশেও একই দুর্ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি সত্যি অনেক দুঃখজনক। যারা এরকম ঘটনায় আনন্দ পায় তাদের মানসিকতা সত্যি অনেক নিচু।

 11 months ago 

এই ধরনের ঘটনা দেখলে সত্যিই খুব খারাপ লাগে। বাচ্চা গুলোর তো কোনো দোষ ছিলো না। কারণ তারা তো ক্লাসরুমে বসে ক্লাস করছিলো। কিন্তু তারা কি পরিমাণে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে এখন, সেটা বলার মতো নয়। যাইহোক তাদের জন্য অনেক অনেক দোয়া রইলো।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.081
BTC 59292.90
ETH 1557.14
USDT 1.00
SBD 0.42