ঈদের ছুটির বিকেলে গ্রামের পথে আর এক প্লেট মজার চটপটি 🌧️✨
আসসালামু আলাইকুম
কেমন আছেন সবাই? আশা করবো সবাই ভালো আছেন সৃষ্টিকর্তার রহমতে । আমিও আছি আপনাদের দোয়ার বরকতে জীবন নিয়ে ভালোই। তবে কেন জানি আজকাল ব্যস্ততাগুলো আমায় দারুন প্যারা দিচেছ। প্যারা দিচ্ছে জীবন আর সময় দুটোই। কিন্তু আমি তো ব্যস্ততা চাই না। চাই একটু শান্তি আর প্রশান্তি। চাই একটু স্বাধীনতা। যাই হোক এসব কথা বলে শুধু শুধু সময় নষ্ট করে লাভ নেই। তাই চলে যাই আজ আপনাদের জন্য আমার লেখা সুন্দর গল্পে। যা কিনা বাস্তব জীবেন থেকে সংগ্রহ করা।
প্রতিদিনই চেষ্টা করি আমি আপনাদের মাঝে সুন্দর করে কিছু লিখে উপহার দেওয়ার জন্য। চাই চারদিকের বাস্তব কিছু ঘটনাকে গল্পে রূপ দিয়ে আপনাদের মাঝে উপস্থাপন করতে। যাতে করে আমার লেখার যাদুতে আপনারা মুগ্ধ হতে পারেন। যদিও সময় করে উঠতে পারি না। যদিও নিজের ক্রেয়েটিভিটি আপনাদের মাঝে তুলে ধরার সময় হয় না। তবুও চেষ্টা করলাম আপনাদের মাঝে নতুন একটি পোস্ট শেয়ার করার জন্য। আশা করি প্রতিদিনের মত করে আমার আজকের জেনারেল গল্পটিও আপনাদের কাছে বেশ ভালো লাগবে।
ঈদের আনন্দ শেষ হলেও তার রেশ যেন তখনও চারপাশে লেগে ছিল। ঈদের পরের দিন বিকেলে আমি আর আমার হাজব্যান্ড একটু ঘুরতে বেরিয়েছিলাম গ্রামের বাড়ির আশেপাশে। সারাদিনের ব্যস্ততার পর বিকেলের সেই সময়টা যেন ছিল একদম শান্ত আর প্রশান্তিতে ভরা। আকাশজুড়ে ছিল কালো মেঘের আনাগোনা, বাতাসে ছিল বৃষ্টির গন্ধ, আর চারপাশের পরিবেশটা ছিল একদম মন ছুঁয়ে যাওয়ার মতো সুন্দর। রাস্তা দিয়ে যেতে যেতে মনে হচ্ছিল যেন প্রকৃতি নিজের সবচেয়ে সুন্দর রূপ নিয়ে আমাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। একদিকে ফাঁকা রাস্তা, অন্যদিকে দূরে সবুজ গাছপালা আর মেঘে ঢাকা আকাশ— সব মিলিয়ে পরিবেশটা একদম সিনেমার দৃশ্যের মতো লাগছিল।
আমরা দু’জন ধীরে ধীরে হাঁটছিলাম আর চারপাশের দৃশ্য উপভোগ করছিলাম। মাঝে মাঝে থেমে ছবি তুলছিলাম। মেঘলা আকাশের নিচে গ্রামের রাস্তার সেই সৌন্দর্য সত্যিই ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। শহরের কোলাহল থেকে দূরে এমন পরিবেশ মনকে অন্যরকম শান্তি দেয়। একসময় রাস্তার পাশে ছোট ছোট দোকান দেখতে পেলাম। সেখানে মানুষজন বসে গল্প করছে, কেউ চা খাচ্ছে, আবার কেউ পরিবার নিয়ে বিকেল কাটাচ্ছে। ঈদের পরের দিনের আনন্দ যেন তখনও সবার মুখে হাসি হয়ে রয়ে গিয়েছিল।
ঘুরতে ঘুরতে হঠাৎ আমাদের নজর গেল এক চটপটির দোকানের দিকে। দূর থেকেই ভেসে আসছিল টক-মশলাদার চটপটির গন্ধ। এমন মেঘলা আবহাওয়ায় চটপটি খেতে কার না ভালো লাগে! তাই আমরাও আর দেরি না করে সেখানে বসে পড়লাম। দোকানটা খুব সাধারণ ছিল, কিন্তু তার মাঝেও একটা আলাদা সৌন্দর্য ছিল। রঙিন কাপড় দিয়ে সাজানো ছোট্ট দোকান, পাশে কয়েকটা চেয়ার, আর মানুষজনের ছোটখাটো আড্ডা— সব মিলিয়ে পরিবেশটা খুব আপন মনে হচ্ছিল।
চটপটি তৈরি করার সময় দোকানদার যখন আলু, মটর, কাঁচামরিচ, ধনেপাতা আর টক তেঁতুলের মিশ্রণ একসাথে মাখাচ্ছিলেন, তখন দেখেই জিভে পানি চলে আসছিল। তারপর উপরে একটু ঝাল, একটু চাট মসলা আর লেবুর রস দেওয়ার পর চটপটিটা যেন আরও লোভনীয় হয়ে উঠেছিল। প্রথম চামচ মুখে দিতেই মনে হলো— আহা, কী দারুণ স্বাদ! টক, ঝাল আর মশলার এক অসাধারণ মিশ্রণ। মেঘলা বিকেলের সাথে এই চটপটির স্বাদ যেন পুরো মুহূর্তটাকে আরও বেশি সুন্দর করে তুলেছিল।
আমি আর আমার হাজব্যান্ড দু’জন মিলে খুব মজা করে চটপটি খাচ্ছিলাম আর গল্প করছিলাম। ছোট ছোট এই মুহূর্তগুলোই আসলে জীবনের সবচেয়ে সুন্দর স্মৃতি হয়ে থাকে। কারণ বড় বড় আনন্দের চেয়ে এমন সাধারণ মুহূর্তগুলোই মনকে বেশি ছুঁয়ে যায়।চারপাশে তখন হালকা বাতাস বইছিল। দূরে আকাশের কালো মেঘগুলো আরও ঘন হয়ে উঠছিল। মনে হচ্ছিল বৃষ্টি হয়তো খুব কাছেই। আর সেই সময় রাস্তার পাশে বসে চটপটি খাওয়ার অনুভূতিটা ছিল একদম অন্যরকম।গ্রামের পরিবেশে এমন খাবারের স্বাদ যেন আরও বেড়ে যায়। শহরের বড় বড় রেস্টুরেন্টে অনেক কিছু খেলেও গ্রামের রাস্তার পাশের এই ছোট্ট দোকানের চটপটির স্বাদ আলাদা। এখানে আছে সহজ-সরল পরিবেশ, মানুষের আন্তরিকতা আর প্রকৃতির ছোঁয়া।
চটপটি খেতে খেতে আমি চারপাশের মানুষগুলোর দিকে তাকাচ্ছিলাম। কেউ পরিবার নিয়ে এসেছে, কেউ বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিচ্ছে। সবাই যেন নিজেদের মতো করে বিকেলটা উপভোগ করছিল।সেই মুহূর্তে মনে হচ্ছিল জীবন আসলে খুব সুন্দর। সুখ খুঁজে পাওয়ার জন্য সবসময় বড় কিছু লাগে না। কখনো কখনো মেঘলা আকাশ, গ্রামের রাস্তা, প্রিয় মানুষের সঙ্গ আর এক প্লেট মজার চটপটিই যথেষ্ট।
আমরা যখন আবার রাস্তা ধরে হাঁটতে শুরু করলাম, তখন মনটা ভীষণ ভালো লাগছিল। মনে হচ্ছিল এই বিকেলটা যেন আরও কিছুক্ষণ থেকে যাক। আকাশে তখনও মেঘের খেলা চলছিল, বাতাসে ছিল বৃষ্টির গন্ধ, আর আমাদের মনে রয়ে যাচ্ছিল সুন্দর কিছু মুহূর্তের অনুভূতি।
আজ ছবিগুলো দেখলেই সেই বিকেলের কথা মনে পড়ে যায়। মনে পড়ে মেঘলা আকাশ, শান্ত রাস্তা, আর সেই টক-মশলাদার চটপটির স্বাদ। হয়তো সময় চলে যাবে, দিন বদলে যাবে, কিন্তু এই ছোট ছোট স্মৃতিগুলো সবসময় হৃদয়ের খুব কাছেই থেকে যাবে। 🌿☁️🥣
আমার পরিচিতি
আমি মাকসুদা আক্তার। স্টিমিট প্লাটফর্মে আমি @maksudakawsar হিসাবে পরিচিত। ঢাকা হতে আমি আমার বাংলা ব্লগের সাথে যুক্ত আছি। আমি একজন গৃহিনী এবং চাকরিজীবী। তারপরও আমি ভালোবাসি আমার মাতৃভাষা বাংলায় নিজের মনের কথা গুলো আমার বাংলা ব্লগের প্লাটফর্মে শেয়ার করতে। আমি ভালোবাসি গান শুনতে এবং গাইতে। আমি অবসর সময়ে ভ্রমন করতে এবং সেই সাথে সুন্দর কিছু ফটোগ্রাফি নিজের ক্যামেরায় বন্দী করতে ও ভালোবাসি। মাঝে মাঝে নিজের মনের আবেগ দিয়ে দু চার লাইন কবিতা লিখতে কিন্তু আমার বেশ ভালোই লাগে। সর্বোপরি আমি ভালোবাসি আমার প্রাণপ্রিয় মাকে।
VOTE @bangla.witness as witness
OR
SET @rme as your proxy