জেনারেল রাইটিং:- "“মাতৃত্বের মুখে কলঙ্ক: পরকীয়ার বিষাক্ত ছোবল” "
আসসালামু আলাইকুম
কেমন আছেন সবাই? আশা করবো সবাই ভালো আছেন। সৃষ্টিকর্তার রহমতে আমিও আছি ভালোই। তবে ব্যস্ত এ নগরে কতটুকু সময় ভালো থাকতে পারবো সেটা বলা মুশকিল। শত ঘাত প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে কাটাতে হয় যান্ত্রিক জীবন। মাঝে মাঝে মনে হয় সব কিছুকে বন্ধ করে দিয়ে দূরে কোথাও সবুজ গাছের ছায়ায় নিজেকে একটু স্বস্থির ছায়া দিতে। কিন্তু ঐ যে বাস্তবতা, সেটা তো বড়ই নিষ্ঠুর আর নির্মম। কোন কিছুতেই ছাড় দিতে চায় না। সে যাই হোক বাবা । চলুন মূল পোস্টে ফিরে যাওয়া যাক।
প্রতিদিনই চেষ্টা করি আপনাদের মাঝে সুন্দর করে কিছু লিখে উপহার দেওয়ার জন্য। চাই চারদিকের মানুষগুলোর মধ্যে লুকিয়ে থাকা কষ্টগুলো কে আমার লেখার যাদুতে আপনাদের মাঝে তুলে ধরতে। জানিনা কতটুকু আপনাদের মাঝে নিজের মনের কথা গুলো কে শেয়ার করতে পারি। আজ চেষ্টা করলাম আপনাদের মাঝে নতুন একটি জেনারেল রাইটিং শেয়ার করার জন্য। আশা করি প্রতিদিনের মত করে আমার আজকের জেনারেল রাইটিংটিও আপনাদের কাছে বেশ ভালো লাগবে।
মা—একটি ছোট্ট শব্দ, অথচ পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়। মা মানেই নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, মা মানেই আত্মদানের প্রতীক। মা মানেই সেই মানুষটি, যার চোখে ঘুম নেই যতক্ষণ না তার সন্তান নিশ্চিন্ত ঘুমায়। মা মানেই সেই নারী, যে নিজের প্রাণ দিয়ে হলেও সন্তানের প্রাণ রক্ষা করে। কিন্তু এই পরিচিত ছবিটি যেন আস্তে আস্তে বিবর্ণ হয়ে যাচ্ছে। আজকাল খবরের কাগজ খুললেই চোখে পড়ে ভয়ানক কিছু শিরোনাম— “মা-ই হত্যা করলো নিজের সন্তানকে”, “পরকীয়ার টানে শিশু সন্তানকে ছাদ থেকে ফেলে দিলেন মা”, “প্রেমিকের প্ররোচনায় দুই বছরের শিশুকে পানিতে ডুবিয়ে মারলেন মা”। এইসব খবর শুধু অক্ষরের খেলা নয়, এগুলো প্রতিবার আমাদের হৃদয়কে চুরমার করে দেয়।
প্রেম মানুষের সহজাত অনুভূতি। কিন্তু সেই প্রেম যদি নৈতিকতা, পরিবার, সন্তানের প্রতি দায়িত্ব—এসব পেছনে ফেলে শুধু নিজের স্বার্থে মোহাবিষ্ট হয়, তবে সেটি প্রেম নয়, সেটা আত্মঘাতী আসক্তি।আজকের সমাজে পরকীয়া যেন এক আধুনিক ফ্যাশন হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রযুক্তির সহজলভ্যতা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ, অচেনা অর্ধচেনা মানুষের ‘ইনবক্স’—এসব জায়গা এখন সম্পর্ক তৈরির খোলা বাজার। এখানে বিশ্বাসের দরকার নেই, প্রয়োজন শুধু একটু সময়, একটু একাকীত্ব, আর একটু মানসিক দুর্বলতা। এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়েই গড়ে ওঠে বিকৃত ভালোবাসার গল্প, যেখানে একসময় মা তার নিজের সন্তানকে “ঝামেলা” মনে করে।
জানি, কথাটা কঠিন। কিন্তু বাস্তব। একজন মা যখন পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন, তখন অনেক সময় সেই সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য প্রেমিকের পক্ষ থেকে শর্ত আসে— “তোমার সন্তানকে আমি মেনে নিতে পারবো না।” আর তখনই ঘটে ভয়ঙ্কর সিদ্ধান্ত— মা তার গর্ভজাত সন্তানকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেয়। এই কি সেই মা, যে সন্তান পেটে কষ্ট পেলেই সারারাত না ঘুমিয়ে ছুটে যেত ডাক্তারের কাছে? এই কি সেই মা, যার বুকের দুধে সন্তান বড় হয়েছে? আমরা বুঝে উঠতে পারি না—একটা সম্পর্কের মোহ কীভাবে এতটা অন্ধ করতে পারে যে একজন নারী তার বুকের মানিককে হত্যা করতে পারে? পরকীয়া কেবলই এক ব্যক্তিগত বিষয় নয়, এটা একটি সামাজিক রোগ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবারে ভালোবাসার অভাব, দাম্পত্য কলহ, পারস্পরিক শ্রদ্ধাহীনতা, যৌন অসন্তোষ, কিংবা আত্মিক একাকীত্ব—এসব কারণে অনেক নারী-পুরুষ আজ বিকল্প সম্পর্ক খুঁজছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো— এই বিকল্প সম্পর্ক কি তাদের শান্তি দিচ্ছে? এই সম্পর্কের জন্য যদি সন্তানকে হত্যা করতে হয়, তবে সেই প্রেমের স্থায়িত্বই বা কোথায়? এখানে আর ভালোবাসা নেই, আছে শুধুই বিকৃত লালসা, আত্মঘাতী আসক্তি, এবং দায়িত্বহীন মোহ।
অনেকে বলে—“একজন মা সন্তানকে হত্যা করেছে মানে সে নিষ্ঠুর।” হ্যাঁ, সে নিষ্ঠুর। কিন্তু সে কি এমনিতেই নিষ্ঠুর হয়ে উঠেছে? সে কি কোনো শূন্যতার শিকার ছিল? সে কি পারিপার্শ্বিক অবহেলা, মানসিক নির্যাতন, বা গভীর একাকীত্বে ডুবে ছিল? আমরা কি সেই মা’কে সময় দিয়েছি? আমরা কি তার মনের কথা শুনেছি? আমরা কি তার চোখে ক্লান্তি দেখেও চুপ থেকেছি? নারীর ব্যক্তিত্বকে, অনুভূতিকে, ভালোবাসার চাহিদাকে যদি আমরা অস্বীকার করি, তবে সে একদিন কোথাও না কোথাও ভুল রাস্তা ধরবেই। তবে, তার মানে এই নয় যে সন্তান হত্যার মতো পাপকে যৌক্তিকতা দেওয়া যায়। একজন মা যদি নিজের অতৃপ্ত সম্পর্কের জন্য সন্তানের জীবন কেড়ে নেয়, তবে তার পক্ষে কোনো যুক্তিই টিকবে না। তাকে জবাবদিহি করতেই হবে—আইনের কাছে, সমাজের কাছে, এবং নিজের বিবেকের কাছে।
এই অবনতিশীল পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে হলে আমাদেরকেই দায়িত্ব নিতে হবে। একটি মা যেন কখনো নিজের সন্তানকে বোঝা মনে না করে, তা নিশ্চিত করতে সমাজ, পরিবার, এবং রাষ্ট্রকে কাজ করতে হবে। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে যেন আন্তরিকতা থাকে, একে অপরকে সম্মান দেওয়ার পরিবেশ তৈরি হয়। ঘরের ভেতর অবহেলা, নিঃসঙ্গতা যেন বাইরের বিকৃত সম্পর্কের পথে না ঠেলে দেয়। সন্তান জন্মের পর অনেক মা postpartum depression-এ ভোগেন। সেই সময়ে স্বামী, পরিবার এবং বন্ধুদের সহানুভূতি প্রয়োজন। মিডিয়া, নাটক, সিনেমায় পরকীয়াকে রোমান্টিকভাবে উপস্থাপন করার প্রবণতা বন্ধ করতে হবে। বরং এর ভয়াবহ পরিণতি তুলে ধরা জরুরি। একজন মা যতই হোক, সন্তান হত্যা করলে তাকে কঠিন আইনের আওতায় আনতে হবে, যাতে আর কেউ এমন পাপ করতে সাহস না পায়। স্কুল-কলেজ থেকেই পারিবারিক মূল্যবোধ, নৈতিকতা, এবং সম্পর্কের প্রতি দায়বদ্ধতার শিক্ষা দিতে হবে।
একজন নারী যেন জানে—সন্তান তার বোঝা নয়, গর্ব। একটা সমাজ তখনই সুস্থ হয়, যখন মা সুস্থ হন। মা যতদিন শ্রদ্ধার আসনে থাকেন, ততদিন সমাজও সুন্দর থাকে। আজ এই পরকীয়া নামক বিষ যেন মায়ের সেই আসনকেই কলঙ্কিত করছে। আমরা চাই—আমাদের সন্তান যেন মাকে ভয় না পায়। আমরা চাই—মা যেন প্রেমের নামে কখনও “ঘাতক” হয়ে না ওঠেন। আমরা চাই—পরকীয়া নয়, পারিবারিক বন্ধনই হোক নারীর প্রশান্তির আশ্রয়। একজন মা তার সন্তানকে প্রথম দম ফেলার আগে থেকেই ভালোবাসেন। তার বুক, তার গর্ভ, তার চোখের জল—সবটাই সন্তানের জন্য। এই সত্যের মাঝে যদি পরকীয়ার ছায়া এসে ঢেকে দেয়, তবে তা কেবল একটি সন্তানকে নয়, সম্পূর্ণ মানবতাকে হত্যা করে। পরকীয়া শুধু সম্পর্ক নষ্ট করে না, সে মাতৃত্বকে কলঙ্কিত করে, একটি সমাজকে ভয়ঙ্কর বিপদের দিকে ঠেলে দেয়। তাই আসুন, ভালোবাসার প্রকৃত অর্থ শিখি। সন্তান যেন কখনও তার মাকে ভয় না পায়। আর মা যেন কখনও “ভালোবাসা” নামক বিষে নিজেকে ও তার সন্তানের জীবন শেষ না করেন।
কেমন লাগলো আপনাদের কাছে আমার আজকের ব্লগটি। আশা করি আপনাদের মতামত জানিয়ে ধন্য করবেন।
আমার পরিচিতি
আমি মাকসুদা আক্তার। স্টিমিট প্লাটফর্মে আমি @maksudakawsar হিসাবে পরিচিত। ঢাকা হতে আমি আমার বাংলা ব্লগের সাথে যুক্ত আছি। আমি একজন গৃহিনী এবং চাকরিজীবী। তারপরও আমি ভালোবাসি আমার মাতৃভাষা বাংলায় নিজের মনের কথা গুলো আমার বাংলা ব্লগের প্লাটফর্মে শেয়ার করতে। আমি ভালোবাসি গান শুনতে এবং গাইতে। আমি অবসর সময়ে ভ্রমন করতে এবং সেই সাথে সুন্দর কিছু ফটোগ্রাফি নিজের ক্যামেরায় বন্দী করতে ও ভালোবাসি। মাঝে মাঝে নিজের মনের আবেগ দিয়ে দু চার লাইন কবিতা লিখতে কিন্তু আমার বেশ ভালোই লাগে। সর্বোপরি আমি ভালোবাসি আমার প্রাণপ্রিয় মাকে।
VOTE @bangla.witness as witness
OR
SET @rme as your proxy