শৈশবের ফেলা আসা দিনগুলির স্মৃতি - "যেমন খুশি তেমন সাজো"

in আমার বাংলা ব্লগ3 years ago

আসসালামু আলাইকুম

শৈশবের ফেলা আসা দিনগুলির স্মৃতি - "যেমন খুশি তেমন সাজো"

❤️শুভ সকাল প্রিয় আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটি পরিবার❤️। সকলের সুস্থ্য জীবন, সুস্থ মন আর সুস্থ্য দেহ কামনা করে আজ আবার চলে আসলাম নতুন আরও একটি ব্লগ নিয়ে আপনাদের মাঝে । সবাই ভালো থাকেন, ‍সুস্থ্য ভাবে জীবন যাপন করেন এই কামনাটুকুই করি মহান আল্লাহুর কাছে। জীবন একটি জটিল সমিকরন। আর এ্ই জটিল সমিকরন মিলাতে গিয়ে কেউ কখনও সম্পন্ন মিলাতে পেরেছে বলে আমি বিশ্বাস করি না। এখানে নিজেকে নিজে ছাড়া পৃথিবীর অন্য কেউ বুঝতে পারে বলে আমার বিশ্বাস হয় না। তবে মাঝে মাঝে কি মনে হয় জানেন? মাঝে মাঝে মনে হয় শিশুকালে ছিলাম ভালো যৌবন কেন আসিলো? শিশুকালে ছিল না কোন দায়িত্ব, ছিল না কোন কর্তব্য। আর ছিল না কোন অভিযোগও। তাই তো সময়ই পেলেই কল্পনায় চলে যাই সে দিন গুলোতে একটু আনন্দ খুঁজতে।

❤️আমাদের কমিউনিটির প্রিয় ফাউন্ডার @rme দাদা আমাদের সেই পুরানো দিন গুলো কে নতুন রূপে মেলে ধরার জন্য কে সুযোগ করে দিয়েছে। সম্প্রতি দাদা নতুন আরও একিটি স্লট যুক্ত করেছেন আমাদের জন্য । আর তা হলো ছেলে বেলার মজার স্মৃতিগুলো কে শেয়ার করা। আমি মনে করি আমাদের প্রত্যেকের জীবনেই কিছু ছেলেবেলার মজার স্মৃতি বা গল্প আছে। আমিও কিন্তু তার ব্যতিক্রম নয়। আমারও আছে ছেলেবেলায় ঘটে যাওয়া নানা রকমের কিছু স্মৃতি। আর তারই একটি মজার স্মৃতি আজ আপনাদের সাথে শেয়ার করতে যাচ্ছি❤️।

siblings-817369_1280 (1).jpg

source

তখন হয়তো ক্লাস ফোর অথবা ফাইভে পড়ি। আমি অবশ্য ছেলেবেলা হতে একটু বই পাগল ছিলাম। শুধু বই পড়া ছাড়া আর কিছুই বুঝতাম না। আবার আমিই ছিলাম ক্লাসে প্রথম এবং ক্যাপ্টেইন। তো স্কুলে বার্ষিক পরীক্ষা শেষ। এখন স্কুলে আমাদের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা চলছে। আর বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার সব শেষ আয়োজন হলো যেমন খুশি তেমন সাজো। অবশ্য এ বিষয়টির সাথে আপনারা সবাই কম বেশী পরিচিত। ছেলেবেলায় আপনাদেরও হয়তো কারো কারো এমন স্মৃতি অহরোহ আছে। তবু সেই দিনের সেই স্মৃতিটুকু আপনাদের সাথে শেয়ার না করে পারলাম না। আর এ জন্য @rme দাদার কাছে আমি কৃতজ্ঞ যে তিনি আমাদের কে এমন একটি সুযোগ করে দিয়েছেন।

তো আমাদের শিক্ষকরা এবং আমার বাসার সবাই চাইলো যে আমি সেই আয়োজনে অংশ গ্রহণ করি। কিন্তু কোন থিম খোঁজে পাচিছলো না। কি থিম নিলে আমি ফার্স্ট হতে পারি। হঠাৎ আমার বোনের মাথায় আসলো আমাকে পাগলী সাজাবে। আমার হাতে থাকবে একটি লাঠি আর একটি ভাঙ্গা থালা। তো সেই ভাবেই আমাকে সাজানো হলো। তবে আমাকে সাজাতে প্রয়োজন ছিল চুলার কালি, ছাই, পাউডার, লাঠি, ভাঙা থালা আর একটি পুরানো ছিড়া কাপড়। তো এগুলো যোগার করতে প্রায় দুই দিন লেগে গেলো। বিশেষ করে চুলার কালি। কারন লুক হতে হবে অরজিনাল। আর কাপড় তো আর পুরানো পাওয়া গেল না। তাই মায়ের একটি কাপড় কে কয়েক জায়গায় ছিড়ে বেশী বেশী রাস্তার ধুলোয় কয়েকবার মাখিয়ে নিলো। তো যেদিন অনুষ্ঠান সেদিন আমাকে সাজানো হলো। সাড়া গায়ে, মুখে হাতে মাথার চুলে বেশী করে কালি মেখে দেওয়া হলো। এমনকি আমার ভাঙ্গা থালাটিতেও কালি দিয়ে ভরিয়ে দেওয়া হলো এবং আমার গায়ে একটি পাগলীর সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হলো।

তো আমাকে ভালো করে সাজিয়ে দেওয়ার পর চার পাঁচজন মিলে সম্পূর্ণ থিমটি বুঝিয়ে দিলো। আমাকে বলা হলো যে বেশী বেশী করে বিচারকদের টেবিলের সামনে গিয়ে আমার ছেলে কে ফেরত চাইতে। কারন আমার ছেলে যুদ্ধে মারা যাওয়ায় আমি পাগল হয়ে গিয়েছি। আরও বলা হলো যে পারলে যাকে তাকে লাঠি দিয়ে দু একটি আঘাত করতে। আরও ভালো হয় আমি যদি কাউকে লাঠি নিয়ে তারা করে ফিরতে পারি।আমি আবার মন দিয়ে সব কথা গুলো শুনছিলাম।তো বয়স তো আর বেশী না। কি আর বুঝি বলেন তো আপনারা? তো আমাকে সাজানোর পর আমি সেই মাঠে গেলাম। আমরা মাঠে যেয়ে দেখি যারা যারা এই প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহন করতে চায় তারা সবাই সেজে গুজে মাঠে নেমে গেছে। কেউ সেজেছে জামাই বউ, কেউ মুক্তিযোদ্ধা, কেউ ভিক্ষারী, কেউ আবার স্কুলের হেড স্যার, কেউ আবার অপরিকল্পিত সংসার।

তো আমি মাঠে নেমে সব জায়গায় ঘুরতে লাগলাম। আর বিচারকদের টেবিলের সামনে যেয়ে বার বার বলতে লাগলাম যে আমার ছেলে কে এনে দে। এমন সময় ছোট ছোট কিছু বাচ্চা ছেলে আমাকে চেতাতে লাগলো পাগলী তোর পাগলা কই? আরও অনেক কথা বলে। আসলে এগুলো ছিল আমার বোনদের পাঠানো কিছু বাচ্চা ছেলে। যাতে আমি ফার্স্ট হই। তো আমিও অভিনয় টা একটু ‍সুন্দর করার জন্য ওদের দু একজন কে লাঠি দিয়ে আঘাত করি। তো আমার এমন সব কান্ড দেখে তো সবাই ভিড় জমিয়ে দিলো। সেদিন কিন্তু আমাদের সেই আয়োজনে সাংবাদিকও ছিল। তো তিনি ঘুরে ঘুরে সবার ছবি তুলছিলেন।

হঠাৎ সেই সাংবাদিক আমার পিছু নেয়। আমার ছবি তোলা শুরু করে । আর আমিও পেয়ে গেলাম সুযোগ। তখন আমি আমার লাটি উচুঁ করে সেই সাংবাদিক এর দিকে তেরে যাই। সাংবাদিকও সুন্দর একটি ছবি তোলার জন্য দেয় দৌড়। এভাবেই ছবি তোলে আমার আরও কয়েকটি। বেশ মজা হয়ে ছিল সেদিন। চারদিকে হৈ হুল্লোড় পড়ে গেল। অবশেষে পুরস্কার ঘোষনার পালা আসলে আমিই প্রথম পুরস্কারটি অর্জন করি। অবশ্য তখনকার দিনের পুরস্কার ছিল প্লেট, বাটি আরও অন্যান্য জিনিস। তো প্রথম পুরস্কার পেয়েছিলাম একটি প্লেট। আর সেদিনের বিচারক মন্ডলীর কাছ হতে বিশেষ পুরস্কার পেয়েছিলাম আরও একহাজার টাকা।

এখানেই শেষ নয়। পরদিন কয়েকটি পত্রিকায় আমার ছবি সহ ফিচারও এসেছিল। এরপর শুরু হয় সেই সাংবাদিক এর আমাদের বাসায় আনাগোনা। আমাকে দিয়ে নাটকে অভিনয় করানোর পায় তারা। কিন্তু আমার পরিবার তো কিছুতেই দিবে না। আর সাংবাদিক ও নাছোড় বান্দা। আর এভাবে বেশ কিছুদিন ঘুরার পর সেই সাংবাদিক আর আসেন নি আমাদের বাসায়। কারন ততদিনে তিনি বুঝে গিয়েছিলেন যে শুধু শুধু ঘুরে লাভ নেই। আচ্ছা সেদিন যদি আমাকে নাটক করতে অনুমতি দিতো তাহলে আজ আমি কি হতাম? বলেন তো আপনারা? হি হি হি

সত্যি বলতে মাঝে মাঝে ছেলেবেলার স্মৃতিগুলো মনে করলে একটু বিস্মিত হয়ে পড়ি। ভাবি যে জীবনটা এমন কেন? সারা জীবন ছোট থাকলে কি হতো? আরও কত কি? আজ এখানেই শেষ করছি। আবার আসবো নতুন কোন স্মৃতির পাতা নিয়ে নতুন ভাবে আপনাদের কাছে। কেমন লাগলো আপনাদের কাছে আমার আজকের ব্লগটি ? আপনাদের মূল্যবান মন্তব্যের আশায় রইলাম। সবাই ভালো থাকবেন এবং সাবধানে থাকবেন।

❤️ধন্যবাদ সকলকে❤️

image.png

Add a heading (1).png

image.png

image.png

Sort:  

Thank you, friend!
I'm @steem.history, who is steem witness.
Thank you for witnessvoting for me.
image.png
please click it!
image.png
(Go to https://steemit.com/~witnesses and type fbslo at the bottom of the page)

The weight is reduced because of the lack of Voting Power. If you vote for me as a witness, you can get my little vote.

 3 years ago 

শৈশবের ফেলে আসা রঙিন দিনগুলো সব সময়ই মনে তোলা দেয়। এই স্মৃতিগুলো কখনোই ভুলবার নয়। আপনি শৈশবে যেমন খুশি তেমন সাজো তে পাগলি সেজে ছিলেন। আপনার স্কুলের শিক্ষক এবং আপনার পরিবার চেয়েছিলেন যে আপনি এই অংক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন। কিন্তু আপনাকে সাজানোর কোন থিম তারা খুঁজে পাচ্ছে না পরবর্তীতে আপনার বোনের মাথায় আসে আপনাকে পাগল সাজানো হবে। সেই অনুযায়ী আপনাকে পাগলি সাজানো হয় এবং আপনি এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন। আপনি আপনার শৈশবের ফেলে আসা দিনগুলোর রঙিন স্মৃতির মধ্যে একটি স্মৃতি আমাদের মাঝে শেয়ার করলেন ধন্যবাদ আপনাকে।

Posted using SteemPro Mobile

 3 years ago 

ভাইয়া এটাতো অংক প্রতিযোগিতা নয়। যেমন খুশি তেমন সাজো প্রতিযোগিতা ছিল। ধন্যবাদ ভাইয়া সুন্দর একটি মন্তব্য করার জন্য।

 3 years ago 

অনেক ভালো লাগলো আপু আপনার ছোটবেলার গল্পটি পড়ে। যেমন খুশি তেমন সাজো অনুষ্ঠানে পাগলীর অভিনয়টি বেশ মজাদারই হয়েছিল। তবে অভিনেতা হলেও বেশ ভালোই লাগতো। আসলে এইসব অনুষ্ঠানগুলো বেশ চমৎকার হয় এবং বিভিন্ন ধরনের মানুষের আনাগোনা থাকে এই অনুষ্ঠানে। এরকম একটি ছোটবেলার গল্প আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য অনেক ধন্যবাদ আপু।

 3 years ago 

মজা হয়েছিল সেই পাগলীর অভিনয়টি। ধন্যবাদ আপু আপনাকে সুন্দর একটি মন্তব্য করার জন্য।

 3 years ago 

শৈশবে ফেলে আসা দিনগুলো আসলে কখনোই ভোলার নয়। আপনার শৈশবের গল্পটি পড়ে আমার কাছে খুব ভালো লেগেছে। আসলে এ ধরনের বার্ষিক ক্রিয়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানগুলোতে অংশগ্রহণ করতে বেশ ভালই লাগে। সে প্রতিযোগিতায় অনুষ্ঠানে আপনাকে পাগলি সাজানো হয়েছে এবং তার জন্য পুরস্কারও পেয়েছেন জেনে ভালো লাগলো। আপনার শৈশবের রঙিন স্মৃতি আমাদের মাঝে তুলে ধরার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

 3 years ago 

জ্বি আপু তাও আবার প্রথম পুরস্কার পেয়েছিলাম। ধন্যবাদ আপনাকে অনেক সুন্দর একটি মন্তব্য করার জন্য।

 3 years ago 

অসাধারণ লিখেছেন আপু আপনি ছোটবেলার ফেলে আসা দিনগুলোর স্মৃতি। দাদা খুব সুন্দর একটি উদ্যোগ নিলেন সবার ছোটবেলার স্মৃতিগুলো শেয়ার করার জন্য। দাদা সব সময় আমাদের জন্য ভিন্ন কিছু নিয়ে চিন্তা করেন যা সবার জন্য মঙ্গল হয়। আপনার ছোটবেলার স্মৃতি পড়ে অনেক ভালো লেগেছে। আশা করি এমন মজার মজার স্মৃতি সবার কাছ থেকে আমরা পাব এবং পড়তে পারবো।

 3 years ago 

জি আপু সত্য কথা বলেছেন। আমাদের দাদা আমাদের জন্য সব সময় ভিন্ন কিছু চিন্তা করেন। ধন্যবাদ আপু খুব সুন্দর একটি মন্তব্য করেছেন।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.097
BTC 63547.19
ETH 1834.86
USDT 1.00
SBD 0.38