জেনারেল রাইটিং- 💫 এই যুগে সত্য বলা অপরাধ, কারণ সবাই মিথ্যার মিষ্টতা পছন্দ করে
আসসালামু আলাইকুম
কেমন আছেন সবাই? আশা করবো সবাই ভালো আছেন। সৃষ্টিকর্তার রহমতে আমিও আছি ভালোই। তবে ব্যস্ত এ নগরে কতটুকু সময় ভালো থাকতে পারবো সেটা বলা মুশকিল। শত ঘাত প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে কাটাতে হয় যান্ত্রিক জীবন। মাঝে মাঝে মনে হয় সব কিছুকে বন্ধ করে দিয়ে দূরে কোথাও সবুজ গাছের ছায়ায় নিজেকে একটু স্বস্থির ছায়া দিতে। কিন্তু ঐ যে বাস্তবতা, সেটা তো বড়ই নিষ্ঠুর আর নির্মম। কোন কিছুতেই ছাড় দিতে চায় না। সে যাই হোক বাবা । চলুন মূল পোস্টে ফিরে যাওয়া যাক।
প্রতিদিনই চেষ্টা করি আপনাদের মাঝে সুন্দর করে কিছু লিখে উপহার দেওয়ার জন্য। চাই চারদিকের মানুষগুলোর মধ্যে লুকিয়ে থাকা কষ্টগুলো কে আমার লেখার যাদুতে আপনাদের মাঝে তুলে ধরতে। জানিনা কতটুকু আপনাদের মাঝে নিজের মনের কথা গুলো কে শেয়ার করতে পারি। আজ চেষ্টা করলাম আপনাদের মাঝে নতুন একটি জেনারেল রাইটিং শেয়ার করার জন্য। আশা করি প্রতিদিনের মত করে আমার আজকের জেনারেল রাইটিংটিও আপনাদের কাছে বেশ ভালো লাগবে।
আজকের যুগে সত্য বলা যেন একধরনের অপরাধে পরিণত হয়েছে। মানুষ এখন সত্য শুনতে ভয় পায়, বরং মিথ্যার রঙিন মোড়কে মোড়া কথাই শুনতে ভালোবাসে। সত্য কথা বললে মানুষ ভাবে তুমি কঠিন, তুমি রূঢ়, তুমি নাকি কাউকে সম্মান করো না। অথচ আসলে তুমি শুধু সৎ হতে চেয়েছিলে। এই যুগে সেই সততা যেন ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে মানুষের ভেতর থেকে। সবাই এখন নিজের মতো করে সাজানো এক সুন্দর ভ্রান্তির ভেতর বাঁচতে চায়, যেখানে সত্যের জায়গা খুবই সংকীর্ণ।
আমরা ছোটবেলা থেকেই শিখেছি— “সত্যবাদী হও।” কিন্তু বড় হতে হতে দেখেছি, সত্যবাদিতা অনেক সময় বিপদ ডেকে আনে। তুমি যদি কাউকে তার ভুলটা সরাসরি বলো, সে সেটাকে পরামর্শ হিসেবে না দেখে অপমান হিসেবে নেয়। আর তখনই তুমি তার চোখে খারাপ হয়ে যাও। অথচ তুমি হয়তো চেয়েছিলে তার ভালো হোক, সে যেন নিজের ভুল বুঝে নেয়। কিন্তু আজকাল মানুষ নিজেকে ঠিক ভাবতে ভালোবাসে, সত্য তাকে কাঁটার মতো বিঁধে যায়। অনেক সময় সত্য বলা মানে হয়ে যায় নিজের বিপদ ডেকে আনা। অফিসে, সমাজে, এমনকি পরিবারের ভেতরেও আমরা দেখতে পাই— যে মানুষটা সোজাসাপ্টা, সে-ই বেশি অপছন্দের। সবাই চায় প্রশংসা, চায় মিষ্টি কথা, চায় সেই সান্ত্বনা যা মিথ্যার ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। সত্য কথা শোনার শক্তি খুব কম মানুষেরই আছে। তাই মানুষ আজ সত্যবাদীদের দূরে সরিয়ে রাখে, যেন তারা সমাজের জন্য বিপজ্জনক কেউ।
আমরা এমন একটা সময়ের ভেতর বেঁচে আছি যেখানে মুখোশটাই মুখ হয়ে গেছে। কেউ হাসলে বোঝা যায় না, সেটি সত্যিকারের আনন্দ নাকি নিছক ভদ্রতা। কেউ প্রশংসা করলে বোঝা যায় না, সেটি আন্তরিক নাকি কেবল স্বার্থের জন্য বলা কথা। আর এই ভান করা জীবনের মাঝেই সত্য কথা শুনতে কারো ভালো লাগে না। কারণ সত্য মানুষকে তার মুখোশ খুলে ফেলে দেয়, তাকে নগ্ন করে দেয় বাস্তবের সামনে। তাই মানুষ মিথ্যার মিষ্টি পর্দার আড়ালে লুকিয়ে থাকতে পছন্দ করে। আজকাল দেখা যায়, সোশ্যাল মিডিয়াতেও সবাই নিজের এক আদর্শ রূপ তুলে ধরতে ব্যস্ত। যেন সবার জীবন নিখুঁত, সুখে পরিপূর্ণ। কিন্তু ভেতরে ভেতরে সেই মানুষগুলোর মন ক্লান্ত, কষ্টে ভরা। যদি কেউ সত্য কথা বলে, যেমন — “আমি ভালো নেই”, তখনই অনেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। কারণ সত্য শোনার মানসিক শক্তি তাদের নেই। তারা চায় সাজানো সুখের গল্প, তারা চায় নিখুঁত হাসি, যদিও সেটি অভিনয়েরই অংশ।
একজন সত্যবাদী মানুষ অনেক সময় একা হয়ে যায়। কারণ তার আশেপাশের মানুষ বুঝতে পারে না, কীভাবে সে এত খোলামেলা কথা বলে। সে কারো খারাপ চায় না, শুধু মনের কথাটা বলে ফেলে। কিন্তু সমাজ তার সেই সত্য বলাকে 'অভদ্রতা', 'দম্ভ' বা 'নেতিবাচকতা' বলে মনে করে। ফলে সত্যবাদী মানুষ ধীরে ধীরে চুপ হয়ে যায়। সে বুঝে ফেলে, এই যুগে সত্য বলা মানে হলো নিজের জন্য নতুন ঝামেলা ডেকে আনা। তবুও সত্যের একটা সৌন্দর্য আছে, যেটা সময়ের সঙ্গে ম্লান হয় না। সত্যের কোনো রঙিন মোড়ক নেই, কিন্তু সেটাই সবচেয়ে টেকসই। আজ কেউ মিথ্যার মিষ্টতা পছন্দ করলেও, একদিন সেই মিষ্টতা তিতা হয়ে ফিরে আসে। তখন মানুষ বুঝতে পারে, সত্যই ছিল তার মুক্তির একমাত্র পথ। কিন্তু তখন হয়তো অনেক দেরি হয়ে যায়, সম্পর্কগুলো ভেঙে যায়, বিশ্বাসগুলো ছিন্নভিন্ন হয়ে পড়ে।
আমরা এমন এক সমাজে বেঁচে আছি যেখানে মানুষ এখন সত্যকে “কঠিন” বলে ভয় পায়, অথচ মিথ্যাকে “চতুরতা” বলে প্রশংসা করে। অনেক সময় দেখা যায়, অফিসে বা ব্যবসায় যে মানুষটা মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে, সে-ই সবাইকে নিজের পক্ষে টেনে নেয়, যদিও তার কথার ভেতর ফাঁপা স্বার্থ লুকিয়ে থাকে। আর যে মানুষটা খোলামেলা সত্য বলে দেয়, সে একাই পড়ে যায়, কারণ সে কারো মন ভোলাতে জানে না। এই বাস্তবতাই আমাদের সময়কে করে তুলেছে কঠিন আর অসৎ। কিন্তু প্রশ্ন হলো— আমরা কি তাহলে সত্য বলা বন্ধ করে দেব? না, কখনোই নয়। সত্যের পথে হাঁটা সহজ নয়, কিন্তু সেটাই মানুষের মর্যাদার আসল প্রমাণ। হয়তো সবাই তোমাকে বুঝবে না, হয়তো কেউ তোমাকে পছন্দ করবে না, কিন্তু তুমি নিজের কাছে সৎ থাকবে। আর সেই সততাই একদিন তোমাকে শান্তি দেবে, যা মিথ্যার মিষ্টতা কোনোদিন দিতে পারবে না।
জীবনের অভিজ্ঞতা বলে দেয়, সত্য হয়তো কিছু সময়ের জন্য কষ্ট দেয়, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটাই মুক্তি এনে দেয়। মিথ্যা হয়তো কিছু সময়ের জন্য স্বস্তি দেয়, কিন্তু পরে তা দুঃখের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আমরা যতই মিথ্যার সাজানো জগতে ঘুরে বেড়াই, শেষ পর্যন্ত সত্যের সামনে সবাইকেই দাঁড়াতে হয়। কারণ সত্যই একমাত্র জিনিস যা সময়ের পরীক্ষায় টিকে থাকে। আমাদের উচিত হবে আবারও সেই হারিয়ে যাওয়া সাহসটাকে ফিরিয়ে আনা— সত্য বলার সাহস। কারণ এই সাহসই সমাজকে বদলাতে পারে, মানুষকে বদলাতে পারে। হয়তো সবাই মিথ্যার মিষ্টতা পছন্দ করে, কিন্তু একজন মানুষ যদি সত্য বলার শক্তিতে স্থির থাকে, তবে ধীরে ধীরে আশেপাশের মানুষও তার সততার আলোতে পরিবর্তিত হবে। মিথ্যার সাময়িক সুখের চেয়ে সত্যের দীর্ঘস্থায়ী শান্তি অনেক বেশি মূল্যবান।
শেষ পর্যন্ত সত্য একটাই— এই যুগে সত্য বলা হয়তো অপরাধ মনে হয়, কিন্তু তবুও সত্যই আমাদের বাঁচিয়ে রাখে। যে মানুষ সত্যের পথে থাকে, তার অন্তর শান্ত থাকে, তার ঘুম নির্ভার হয়। কারণ সে জানে, সে কারো সঙ্গে প্রতারণা করছে না, নিজেকেও নয়। এই সততাই মানুষকে সত্যিকারের সুন্দর করে তোলে। আজকের সমাজে সত্য বলা যেন কষ্টের কাজ, তবু সেই কষ্টের ভেতরেই লুকিয়ে আছে আত্মার শান্তি। মিথ্যার মিষ্টতা হয়তো মুহূর্তের জন্য ভালো লাগে, কিন্তু সত্যের দৃঢ়তা সারা জীবনের আত্মসম্মান দেয়। তাই যতই পৃথিবী মিথ্যার দিকে ঝুঁকে পড়ুক, আমাদের উচিত সত্যের পাশে থাকা, কারণ শেষ পর্যন্ত সত্যই আমাদের জয়ী করে তোলে।
আমার পরিচিতি
আমি মাকসুদা আক্তার। স্টিমিট প্লাটফর্মে আমি @maksudakawsar হিসাবে পরিচিত। ঢাকা হতে আমি আমার বাংলা ব্লগের সাথে যুক্ত আছি। আমি একজন গৃহিনী এবং চাকরিজীবী। তারপরও আমি ভালোবাসি আমার মাতৃভাষা বাংলায় নিজের মনের কথা গুলো আমার বাংলা ব্লগের প্লাটফর্মে শেয়ার করতে। আমি ভালোবাসি গান শুনতে এবং গাইতে। আমি অবসর সময়ে ভ্রমন করতে এবং সেই সাথে সুন্দর কিছু ফটোগ্রাফি নিজের ক্যামেরায় বন্দী করতে ও ভালোবাসি। মাঝে মাঝে নিজের মনের আবেগ দিয়ে দু চার লাইন কবিতা লিখতে কিন্তু আমার বেশ ভালোই লাগে। সর্বোপরি আমি ভালোবাসি আমার প্রাণপ্রিয় মাকে।
VOTE @bangla.witness as witness
OR
SET @rme as your proxy