রাগকে প্রশয় দিলে তা এক সময় হয়ে উঠে ক্ষতির কারন

in আমার বাংলা ব্লগ4 months ago

আসসালামু আলাইকুম

কেমন আছেন আমার প্রিয় সকল ভাই ও বোনেরা? দোয়া করি কাছে দূরে যে যেখানে থাকেন ভালো ও সুস্থ থাকেন। আমরা মানুষ হিসেবে সবাই সবার জন্য এই দোয়াই করবো এটাই সাভাবিক। আজ আবারও আপনাদের মাঝে চলে এলাম কিছুটা সময় কাটানোর জন্য। সবসময় মনে চায় আপনাদের নিয়ে অনেক গল্প করি। মনের যত কথা আছে সব সবার মাঝে ভাগ করে দেই। সবাইকে নিয়ে হারিয়ে যাই কথার মাঝে। আসলে কথা এমন একটি জিনিস যা হাজার বললেও শেষ হবার নয়। আবার বেশী কথা বললে অনেক বলে বাচাল। আর কম কথা বললে সবাই বলে অহংকারী। আমি কিন্তু ভাই একটু বেশীই কথা বলি।


আজ আবারও চলে এলাম আপনাদের মাঝে আমার আরও একটি ব্লগ নিয়ে। আজ আমি যেই ব্লগটি আপনাদের মাঝে নিয়ে এসেছি তা হলো জেনারেল রাইটিং।জেনারেল রাইটিং পোস্টগুলো আমার অনেক ভালো লাগে। আজ আমিও আপনাদের জন্য যেই জেনারেল রাইটিং নিয়ে এসেছি তার বিষয় হলো রাগ।

woman-7192851_1280.jpg

source

রাগ মানুষের খুব স্বাভাবিক একটি অনুভূতি। জীবনের পথে চলতে গিয়ে প্রত্যেক মানুষ কোনো না কোনো সময় রাগ অনুভব করে। যখন প্রত্যাশা পূরণ হয় না তখন রাগ জন্ম নেয়। কষ্ট জমলে রাগ আসে। অবহেলা মনে আঘাত করলে রাগ তৈরি হয়। রাগ নিজে খারাপ নয়। সমস্যা শুরু হয় তখনই যখন এই রাগ মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করে। তখন মানুষ নিজের মতো থাকে না। রাগ যদি নিয়ন্ত্রণে না থাকে তাহলে ধীরে ধীরে মানুষের চিন্তা আচরণ আর কথাবার্তা বদলে যায়। রাগ মানুষকে অস্থির করে তোলে। শান্ত মানুষও তখন অচেনা হয়ে যায়। রাগের সময় বলা একটি কথা সারাজীবনের সম্পর্ক ভেঙে দিতে পারে। রাগের মাথায় নেওয়া একটি সিদ্ধান্ত জীবনে গভীর ক্ষত তৈরি করতে পারে। মানুষ তখন বুঝতেই পারে না সে কী করছে।

রাগের সবচেয়ে বড় ক্ষতি হলো এটি মানুষের বিবেককে ঢেকে দেয়। ঠিক আর ভুলের পার্থক্য তখন স্পষ্ট থাকে না। নিজের কষ্টটাই তখন সবচেয়ে বড় মনে হয়। অন্যের অনুভূতির মূল্য কমে যায়। এই অবস্থায় মানুষ নিজের কষ্ট লাঘব করতে গিয়ে অন্যকে আঘাত করে বসে। পরে যখন রাগ কমে আসে তখন অনুশোচনা আসে। কিন্তু তখন অনেক কিছু আর ঠিক করা যায় না। রাগের মুহূর্তে থামতে শেখা খুব জরুরি। থামা মানে দুর্বল হওয়া নয়। থামা মানে নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখা। যে মানুষ রাগের সময় চুপ থাকতে পারে সে আসলে শক্তিশালী। কয়েক মিনিট নীরবতা অনেক বড় ক্ষতি থেকে মানুষকে বাঁচাতে পারে। এই নীরবতা মানুষকে ভাবার সুযোগ দেয়।

রাগকে শাসন করার প্রথম ধাপ হলো নিজের রাগকে স্বীকার করা। আমি এখন রেগে আছি এটা মেনে নেওয়া দরকার। অনেকেই নিজের রাগ অস্বীকার করে। এতে রাগ আরও জমে যায়। নিজের ভেতরের অনুভূতিকে চিনতে পারলে সেটাকে নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয়। নিজেকে বোঝা মানেই নিজেকে রক্ষা করা। ধৈর্য রাগ নিয়ন্ত্রণের বড় একটি হাতিয়ার। ধৈর্য মানে সবকিছু সহ্য করা নয়। ধৈর্য মানে বুঝে প্রতিক্রিয়া দেওয়া। ধৈর্য মানুষকে সময় দেয় ভাবার। কখন কথা বলা দরকার আর কখন চুপ থাকা জরুরি সেটা ধৈর্যই শেখায়। অনেক সময় শান্ত থাকা জিতে যাওয়ার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। রাগের বশে জয় মানে ক্ষণিকের তৃপ্তি। কিন্তু শান্ত থাকার জয় অনেক গভীর। রাগের জয় অহংকার বাড়ায়। শান্ত থাকার জয় সম্পর্ক বাঁচায়। মানুষ পরে গর্ব করে সেই মুহূর্তগুলো নিয়ে যেখানে সে নিজেকে সামলাতে পেরেছে। কেউ গর্ব করে নিজের রাগ নিয়ে নয়।

রাগ দীর্ঘদিন জমে থাকলে তা শরীর আর মনে প্রভাব ফেলে। ঘুম কমে যায়। মন অস্থির থাকে। কাজের প্রতি আগ্রহ কমে যায়। জীবন তখন ভারী মনে হয়। কিন্তু শান্ত মন জীবনকে হালকা করে তোলে। সমস্যাকেও তখন সামলানো সহজ হয়। রাগকে শাসন করা মানে নিজেকে ছোট করা নয়। বরং নিজেকে বড় করা। যে মানুষ নিজের রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে সে অন্যের চোখে সম্মান পায়। মানুষ নিরাপদ মানুষকে বিশ্বাস করে। রাগী মানুষকে সবাই এড়িয়ে চলে। এতে মানুষ একা হয়ে যায়। রাগ আসবে যাবে। কিন্তু মানুষ যেন রাগ হয়ে না যায়। নিজের ভেতরের শান্ত মানুষটাকে বাঁচিয়ে রাখাই আসল সাফল্য। কারণ শেষ পর্যন্ত মানুষ বাঁচে তার সম্পর্ক তার সম্মান আর নিজের মূল্যবোধ নিয়ে। রাগকে শাসন না করলে রাগই একদিন মানুষটিকে সম্পূর্ণ শাসন করে ফেলে।

পরিচিতি

আমি মাহফুজা আক্তার নীলা আমার ইউজার নাম @mahfuzanila আমমি পছন্দ করি ঘোরাঘুরি ও ভ্রমন করতে ছবি আঁকতে, বিভিন্ন ধরনের মজার মাজার গল্পের বই পড়তে, ফটোগ্রাফি করতে, ডাই প্রজেক্ট বানাতে ও আর্ট করতে আমি দারুণ পছন্দ করি। আর বেশী পছন্দ করি মজার রেসিপি করতে,মন খারাপ থাকলে গান শুনতে ও আর নতুন নতুন অনেক কিছু শিখতে পছন্দ করি। আরও পছন্দ করি বেশী ঘুমাতে।

❤️ধন্যবাদ সকলকে❤️

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.082
BTC 61074.00
ETH 1635.54
USDT 1.00
SBD 0.41