জেনারেল রাইটিং- আজকাল যেন চোরে চোরে মাসতুতু ভাই
আসসালামু আলাইকুম
আসসালামু আলাইকুম
কেমন আছেন আমার প্রিয় সহযাত্রী ভাই বোনেরা? আশা করি সবাই আল্লাহর রহমতে অনেক ভালো আছেন। আমিও আপনাদের সবার দোয়ায় আলহামদুলিল্লাহ্ ভালো আছি। আশা করি সবার দিনটা ভাল কেটেছে। আজকে আপনাদের সবার মাঝে আমার আরও একটি পোস্ট নিয়ে হাজির হলাম। আজ আমি একটি জেনারেল রাইটিং নিয়ে আপনাদের সবার মাঝে হাজির হয়েছি।আশা করি আপনাদের সবার কাছে অনেক ভালো লাগবে। তাহলে চলুন আজ আমার জেনারেল রাইটিংটি দেখে আসি যে কি বিষয় নিয়ে লেখলাম। হ্যাঁ বন্ধুরা আজ আমার জেনারেল রাইটিং এর বিষয় হলো " অন্যায়কারীর দাপটে সৎ মানুষগুলো হেরে যায় বার বার"।
চোরে চোরে মাসতুতু ভাই কথাটি আমাদের সমাজে বহু পুরোনো একটি প্রবাদ। ছোটবেলা থেকেই আমরা শুনে আসছি এই প্রবাদটি নানা জায়গায়, নানা প্রসঙ্গে ব্যবহার হতে। সাধারণভাবে এটি এমন একটি অবস্থাকে বোঝায় যেখানে দুইজন মানুষ খারাপ কাজ বা অন্যায় কাজে জড়িত থেকে একে অপরের সঙ্গে অদ্ভুত এক সম্পর্ক গড়ে তোলে। তারা হয়তো একে অপরের আত্মীয় নয়, কিন্তু কাজের মিলের কারণে তাদের মধ্যে এক ধরনের বোঝাপড়া বা একাত্মতা তৈরি হয়। এই বোঝাপড়াই যেন ভাই ভাই সম্পর্কের মতো ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠে, আর তাই বলা হয় চোরে চোরে মাসতুতু ভাই।
এই প্রবাদটি শুধু চুরি বা অপরাধের ক্ষেত্রেই নয়, বরং সামাজিক, রাজনৈতিক বা দৈনন্দিন জীবনের নানা জায়গাতেও প্রযোজ্য। উদাহরণস্বরূপ, রাজনীতির জগতে আমরা প্রায়ই দেখি কিছু মানুষ একই উদ্দেশ্যে একত্রিত হয়, তারা হয়তো জনগণের স্বার্থে নয়, বরং নিজেদের লাভের জন্য কাজ করে। কেউ ঘুষ খায়, কেউ তদবির করে, কেউ সুবিধা নেয়—আর সবাই মিলে একে অপরকে রক্ষা করে। তখন মনে হয়, তারা যেন একে অপরের মাসতুত ভাই। একইভাবে অফিস, স্কুল, এমনকি ছোট পরিবারেও আমরা এই মানসিকতা খুঁজে পাই। কেউ কোনো ভুল করলে অন্যজন তা লুকিয়ে দেয়, যেন তারা একই দলের সদস্য। এই বিষয়টি শুধু মজার নয়, বরং সমাজে এক ধরনের নৈতিক অবক্ষয়ের প্রতিচ্ছবি।
আমরা যদি একটু গভীরভাবে ভাবি, তাহলে দেখা যায় এই প্রবাদটি আসলে মানুষের মনস্তত্ত্বের এক গুরুত্বপূর্ণ দিক প্রকাশ করে। মানুষ সাধারণত নিজের মতো মানুষকেই বেশি বিশ্বাস করে। কেউ যদি অন্যায় কাজে অভ্যস্ত হয়, সে চায় এমন কারো সঙ্গে মেলামেশা করতে যে তার মতোই আচরণ করে। এতে তার মনে অপরাধবোধ কমে, কারণ সে ভাবে অন্যরাও তো করছে। আবার অপরাধ করলে ধরা পড়লে পাশে কেউ থাকবে বলেও সে নিশ্চিন্ত থাকে। এই মানসিক আরামই মানুষকে আরও বেশি ভুল পথে নিয়ে যায়। আর এইভাবেই চোরে চোরে মাসতুতু ভাই সম্পর্কটা আরও শক্ত হয়।
আমাদের চারপাশে এই প্রবাদের প্রমাণ প্রতিদিনই দেখা যায়। ধরুন, কেউ যদি পরীক্ষায় নকল করে, সে একা নকল করতে ভয় পায়। কিন্তু পাশে কেউ একই কাজ করলে সে সাহস পায়। তারা একে অপরকে ইশারা দেয়, বই ভাগ করে নেয়, এমনকি শিক্ষককে ফাঁকি দেয়। তখন দুজনের মধ্যে এক ধরনের বন্ধুত্ব তৈরি হয়, যেটা শুধু ভুল কাজের ওপর ভিত্তি করে। আবার ধরুন কোনো জায়গায় কেউ অবৈধভাবে টাকা কামাচ্ছে, তখন দেখা যায় তার মতো আরও কয়েকজনও একই কাজ করছে। তারা একে অপরের দুর্নীতি ঢেকে রাখে, যেন একে অপরের ভাই। এখানেও সেই একই প্রবাদ প্রযোজ্য হয়।
এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে ভাবার মতো। আমরা প্রায়ই অন্যের দোষ দেখি, কিন্তু নিজের ভুলগুলো দেখি না। হয়তো আমরা সরাসরি চুরি করি না, কিন্তু সুযোগ পেলে অন্যের প্রাপ্যটা কেটে নিই, কারো কষ্টে নিজের লাভ দেখি। তখন আমরা নিজের অজান্তেই এই প্রবাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাই। চোরে চোরে মাসতুতু ভাই শুধু পেশাদার চোরদের নিয়ে নয়, বরং সেই সব মানুষদের প্রতীক যারা স্বার্থের জন্য বিবেক বিসর্জন দেয়। তাই এই প্রবাদটি আমাদের সতর্ক করে দেয়, যাতে আমরা কখনো এমন পথে না যাই যেখানে নিজের নৈতিকতা হারাতে হয়।
সবশেষে বলা যায়, চোরে চোরে মাসতুতু ভাই একটি ছোট প্রবাদ হলেও এর ভেতরে লুকিয়ে আছে জীবনের গভীর সত্য। এটি আমাদের সমাজ, রাজনীতি, কর্মজীবন, এমনকি পারিবারিক জীবনের নানা দিককে স্পর্শ করে। মানুষ কেমনভাবে নিজের মতো মানুষকে খুঁজে নেয়, কেমনভাবে খারাপ কাজে একে অপরকে রক্ষা করে, আর সেই বন্ধন কীভাবে শক্তিশালী হয়ে ওঠে—সবকিছুই এই এক প্রবাদে ধরা পড়ে। তাই আজকের দিনে যখন আমরা চারপাশে অন্যায় দেখি, তখন মনে রাখা দরকার এই প্রবাদটির অর্থ শুধু হাসির নয়, বরং সতর্কতারও।
আমার পরিচিতি
আমার পরিচিতি
আমি মাহফুজা আক্তার নীলা। আমার ইউজার নাম @mahfuzanila। আমি একজন বাংলাদেশী ইউজার। আমি স্টিমিট প্লাটফর্মে যোগদান করি ২০২২ সালের মার্চ মাসে। আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটিতে যোগদান করে আমি অনেক বিষয় শিখেছি। আগামীতে আরও ভালো কিছু শেখার ইচ্ছে আছে। আমি পছন্দ করি ভ্রমন করতে, ছবি আঁকতে, বিভিন্ন ধরনের মজার মাজার গল্পের বই পড়তে, ফটোগ্রাফি করতে, ডাই প্রজেক্ট বানাতে ও আর্ট করতে। এছাড়াও আমি বেশী পছন্দ করি মজার রেসিপি করতে। মন খারাপ থাকলে গান শুননি। তবে সব কিছুর পাশাপাশি আমি ঘুমাতে কিন্তু একটু বেশীই পছন্দ করি।