গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যের প্রতীক কাঠের হামান দিস্তা

in আমার বাংলা ব্লগlast year

আসসালামু আলাইকুম

কেমন আছেন আমার প্রিয় সহযাত্রী ভাই বোনেরা? আশা করি সবাই আল্লাহর রহমতে অনেক ভালো আছেন। আমিও আপনাদের সবার দোয়ায় আলহামদুলিল্লাহ্ ভালো আছি। আশা করি সবার দিনটা ভাল কেটেছে। আজকে আপনাদের সবার মাঝে আমার আরও একটি পোস্ট নিয়ে হাজির হলাম। আজ আমি একটি জেনারেল রাইটিং নিয়ে আপনাদের সবার মাঝে হাজির হয়েছি।আশা করি আপনাদের সবার কাছে অনেক ভালো লাগবে। তাহলে চলুন আজ আমার জেনারেল রাইটিংটি দেখে আসি যে কি বিষয় নিয়ে লেখলাম।

image.png

সুজলা সুফলা শষ্য শ্যামলা আমাদের এই বাংলাদেশ। বাংলাদেশের গ্রাম গঞ্জের ঐতিহ্য ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে সমস্ত বাংলায়।গ্রাম বাংলার অনেক ঐতিহ্য কিন্ত হারাতে বসেছে। তবে কিছু কিছু ঐতিহ্য আজকাল আবার ফিরে ফিরে আসছে। কারন মানুষ যতই আধুনিক হোক না কেন। নিজের শিকড়ের কাছে তো তাকে ফিরে আসতেই হবে। আজ আমি যে বিষয়টি নিয়ে আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি তা হলো একটি হামিনদিস্তা নিয়ে। আমি বিশ্বাস করি আপনারা সবাই অবশ্যই গ্রাম বাংলার এই জিনিসটির সাথে পরিচিত।

image.png

image.png

আমার মা যতদিন বেচেঁ ছিলেন তারও কিন্তু একটি হামিনদিস্তা ছিল। আর সেটা ছিল লোহার হামিন দস্তা। মা সেটা তো পান বানিয়ে খেত। তবে মা মারা যাওয়ার পর আর সেটার কোন খোঁজ নেই। আজ কাল বাজারে বা মেলায় কিন্তু কাঠের তৈরি প্রচুর হামিনিদিস্তা দেখা যায়। যদিও কাঠের তৈরি একটি মাঝারি সাইজের হামিনদিস্তার দাম বর্তমানে ১০০-১৫০ টাকা পর্যন্ত। অবশ্য আমি আমার ঘরের জন্য একটি কিনে নিয়েছিলাম মেলা হতে। তাই দাম পড়েছিল ১৮০ টাকা। খারাপ হয়নি মনে হয়। কারন জিনিস টি আমার বেশ কাজে লাগে।

image.png

image.png

কোন এক সময়ে এই হামিনদিস্তা কে ব্যবহার করা হতো ঔষুধ বানানোর কাজে। কিন্তু আজ এই জিনিসটির নানাবিধ ব্যবহার দেখা যায়। কেউ ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় মসলা গুড়া করতে, কেউ বা ব্যবহার করে পান বানাতে। আবার কেউ বা ব্যবহার করে ঔষুধ গুড়া করতে। তবে এর আরও অনেক ব্যবহার আছে। আর কাঠের তৈরি করা বলে জিনিসটি কিন্তু বেশ সহজেই কাজে লাগানো যায়। আজকাল শহরের অনেক ক্রোকারিজের দোকানে খোঁজ করলেও এই হামিনদিস্তা পাওয়া যায়।

image.png

image.png

বিভিন্ন কাঠ ব্যবহার করে এই হামিন দিস্তা বানানো হয়। একজন কাঠমিস্ত্রি তার দক্ষতা দিয়ে কাঠ ‍কেটে এবং খোদাই করে এসব হামিন দিস্তা গুলো বানিয়ে থাকে। আর কাঠের তৈরি হামিনদিস্তার প্রচলন কিন্তু অনেক বেশী। কারন এটি যেমন বহন করতে সহজ, তেমন করে এই কাঠের তৈরি হামিন দিস্তা দিয়ে আবার কাজ করাও সহজ। তবে বড় বড় হামিন দিস্তা গুলো কিন্তু চাল, গম ভাঙ্গানোর কাজে ব্যবহার করা হয়।

image.png

image.png

আমার কাছে মনে হয় বর্তমানে বাংলার মানুষগুলোর কাছে কাঠের তৈরি জিনিস গুলোর প্রচলন বেড়েই যাচেছ। আর হামিনদিস্তা হলো তাদের মধ্যে একটি। দিন যতই যাচ্ছে কাঠের তৈরি এই হামিন দিস্তার ব্যবহার বেড়েই চলছে। আর বাংলার ঐতিহ্য বহনকারী কাঠের তৈরি হামিনদিস্তা গুলো কিন্তু দেখতে বেশ দারুন। খুব সহজেই পিশে গুড়া করা যায় যে কোন মসলা। আশা করি বাংলার ঐতিহ্যের প্রতীক এই কাঠের তৈরি হামিন দিস্তার ব্যবহার আগামীতে আরও বৃদ্ধি পাবে। আর বাংলার ঐতিহ্য ও তার অধিকার নিয়ে দাঁড়াতে পারবে।

image.png

image.png

আশা করি আমার আজকের পোস্টটি আপনাদের কাছে বেশ ভালো লেগেছে। কেমন লাগলো আপনাদের কাছে আমার আজকের ব্লগটি ? আপনাদের মূল্যবান মন্তব্যের আশায় রইলাম। সবাই ভালো থাকবেন এবং সাবধানে থাকবেন।

আমার পরিচিতি

আমি মাহফুজা আক্তার নীলা । আমার ইউজার নাম @mahfuzanila। আমি একজন বাংলাদেশী ইউজার। আমি স্টিমিট প্লাটফর্মে যোগদান করি ২০২২ সালের মার্চ মাসে। আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটিতে যোগদান করে আমি অরেনেক বিষয় শিখেছি। আগামীতে আরও ভালো কিছু শেখার ইচ্ছে আছে। আমি পছন্দ করি ভ্রমন করতে, ছবি আঁকতে, বিভিন্ন ধরনের মজার মাজার গল্পের বই পড়তে, ফটোগ্রাফি করতে, ডাই প্রজেক্ট বানাতে ও আর্ট করতে। এছাড়াও আমি বেশী পছন্দ করি মজার রেসিপি করতে। মন খারাপ থাকলে গান শুনি। তবে সব কিছুর পাশাপাশি আমি ঘুমাতে কিন্তু একটু বেশীই পছন্দ করি।

❤️❤️ধন্যবাদ সকলকে❤️❤️

image.png

Sort:  
 last year 

ছোটবেলা বেশিরভাগই এগুলো দেখতে পেতাম লোহার। বর্তমান যুগে কাঠের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি। খুব সহজেই এগুলো তৈরি করা যাচ্ছে যেটা মানুষকে আকর্ষণ করছে। অনেক ভালো লাগলো আপনার পোস্ট পড়ে।

 last year 

আপু আপনি অনেক পুরাতন একটি ঐতিহ্য নিয়ে আমাদের মাঝে পোস্ট উপস্থাপন করছেন।আসলে কাঠের তৈরি হামার দিস্তা হচ্ছে অনেক আগের ঐতিহ্য।তবে বর্তমান আধুনিকতার ছোঁয়ায় এই জিনিস গুলো এখন খুব কম দেখা যায়।যাইহোক আপনার পুরো পোস্ট টি পড়ে আমার কাছে ভীষণ ভালো লাগলো।ধন্যবাদ আপনাকে পোস্ট টি আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.082
BTC 62018.77
ETH 1655.28
USDT 1.00
SBD 0.42