প্রতিটি ঘামের ফোটার বিনিময়ে গড়ে উঠে বিশাল অট্টালিকা।

in আমার বাংলা ব্লগ3 years ago (edited)

বিসমিল্লাহি রহমানের রাহিম

আসসালামু আলাইকুম

শ্রদ্ধেয় প্রিয় ভাই ও বোনেরা,
আপনারা সবাই কেমন আছেন ? সৃষ্টিকর্তার কৃপায় আশা করি ভালো আছেন । আমিও সৃষ্টিকর্তার রহমতে ভালো আছি ।

প্রিয় , আমার বাংলা ব্লগ কমিটির সদস্যরা
আপনাদের মাঝে আবার এসে হাজির হলাম।

আজ আমি আপনাদের, প্রতিটি ঘামের ফোটার বিনিময়ে গড়ে উঠে বিশাল অট্টালিকা এই বিষয়ে আমার কিছু অনুভূতি শেয়ার করছি। আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে। আপনারা আপনাদের মূল্যবান সময় নষ্ট করে পুরো পোস্টটি দেখবেন আশা করি।

আসুন শুরু করি

1683996914695.jpg

আমাদের সমাজ আজ বড়ই নিষ্ঠুর। মানবতা মনুষত্ববোধ নেই। সমাজে যার আছে টাকা সেই আজ অধিক সম্মানীতো। মানুষ হিসেবে আমরা শ্রমজীবী মানুষকে মূল্যায়ন করি না। মূল্যায়ন করি তার পোশাক অর্থবিত্তের পেশার উপর। কোট টাই পরা মানুষের চেহারা রুপি অমানুষ গুলো আজ সমাজ পরিচালনা করছে। সমাজের খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষ গুলোকে শোষণ এবং শাসন করছে। আজ যারা সমাজে বিভিন্ন স্তরে নানা পেশায় নিয়োজিত রয়েছে তারা সবচেয়ে বেশি অবহেলিত নির্যাতিত। এইটাই আজ বাস্তব চিত্র।

IMG_20230513_225053.jpg

IMG_20230513_225026.jpg

যারা সকাল থেকে রাত্রি অবধি ঝড় বৃষ্টি রোদ অপেক্ষা করে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে কৃষি পেশা সহ বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত রয়েছে তারাই আজ সমাজে সবচেয়ে বেশি অবহেলিত। তাদেরকে আমরা যথাযথ মূল্যায়ন করি না। বাইরে রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে কাজ করা যে কতটা কষ্টের তা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। নিজ চোখে দেখলে উপলব্ধি করা যায়। শরীরে রক্ত ঘামে পরিণত হয়ে মাটিতে ঝরে পড়ে। আজ সমাজের উচ্চ স্তরে এসিতে থাকা মানুষ গুলো শ্রমজীবী মানুষকে শোষণ করে যায়।

IMG_20230513_224957.jpg

IMG_20230513_224945.jpg

আমি ক'দিন পূর্বে একটি নির্মাণাধীন ভবনে ছাদের ইলেকট্রিক কাজের সহকারী ইঞ্জিনিয়ারের দায়িত্বে গিয়েছিলাম। প্রথম দিন আমরা ইলেকট্রিক লাইনের জন্য ছাদে পাইপ বসিয়ে ছিলাম। পরের দিন ভবনের ছাদ ঢালাই কাজ হবে। পরে দিন আমার কাজ ছিলো ছাদে পাইপ গুলো যাতে যাতে কোন ভাবে এদিক ওদিক সরে না যায় তা দেখাশুনা করা। কারণ ছাদে পাইপ যদি এদিক-ওদিক সরে যায় তাহলে পরবর্তীতে রুমের ইলেকট্রিকের পয়েন্ট পরিবর্তন হয়ে যাবে। এতে করে সঠিক জায়গায় লাইট ফ্যান এবং ইলেকট্রিক পয়েন্ট গুলো সঠিকভাবে দেওয়া সম্ভব হবে না। তাই আমি যথা সময় গিয়েছিলাম। এদিকে ঠিক সময়ে ছাদ ঢালাই এর জন্য কনস্ট্রাকশন লোকজন চলে এসেছে।

IMG_20230513_225014.jpg

IMG_20230513_224920.jpg

বৈশাখের প্রচন্ড রোদে সবাই বিভিন্ন ধাপে ছাদ ঢালাইয়ের কাজ করতেছে। কেউ মাথায় করে কংক্রীট দিচ্ছে মিক্সার মেশিনে‌। কেউ বা বালু দিচ্ছে কেউ সিমেন্ট দিচ্ছে। কেউ আবার নিচ থেকে উপরে মিক্স মসলা মাথায় করে ছাদে এনে ঢেলে দিচ্ছে। ধীরে ছাদ ঢালাই এর কাজের অগ্রগতি হচ্ছে। আমার কাজ হচ্ছে ছাদ ঢালাইয়ের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ইলেকট্রিক পাইপ পর্যবেক্ষণ করা। সকাল পেরিয়ে বেলা যখন বাড়তে লাগলো তখন কনস্ট্রাকশন লোকজনদের অবস্থা দেখে সত্যি ই আমি খুব হতাশ হয়ে গেলাম। তারা এই রোদের মধ্যে এত পরিশ্রম করতেছে সত্যিই অসাধারণ।

IMG_20230513_224853.jpg

IMG_20230513_224832.jpg

IMG_20230513_224722.jpg

ঘামে তাদের পরনের লুঙ্গি শার্ট ভিজে একাকার হয়ে গেল। তবুও তারা কাজ বন্ধ করে নি। তারা যে পরিশ্রম করতেছে তা সত্যি খুবই কষ্টকর। যদিও তারা সামান্য নাম মাত্র বেতনে কাজ করতেছে। কিন্তু তাদের এই পরিশ্রম টাকা দিয়ে মূল্যায়ন করা বোকামি হবে। গরম যখন ৪২ ডিগ্রির উপরে তখনও তারা প্রচন্ড রোদের মধ্যে কাজ করতেছে। অথচ তাদের পরিশ্রমের মূল্য একেবারে কম। তাদের প্রতি ফোঁটা ঘামের বিনিময়ে গড়ে ওঠে বিশাল অট্টালিকা। শ্রমিকেরা যদি শ্রম না দিত তাহলে কোন ভাবে সুন্দর ভবন স্থাপন করা সম্ভব হতো না। আমাদের উচিত তাদের কাজের সঠিক মূল্যায়ন করা। তাদের পারিশ্রমিকের মূল্য সুন্দরভাবে বুঝিয়ে দেওয়ার‌ । তারা শত কষ্ট অন্যের সুখের জন্য মেনে নেই। আমাদের উচিত তাদেরকে লেবার হিসেবে না দেখে তাদের কাজের সঠিক মূল্যায়ন করে তাদের যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা।

IMG_20230513_224707.jpg

এতক্ষণ আপনাদের মূল্যবান সময় দিয়ে আমার পোস্টটি শেষ পর্যন্ত দেখার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।আপনাদের উৎসাহ এবং অনুপ্রেরণা পেলে আমি এই ধরনের কবিতা আরো উপস্থাপন করব , ইনশাআল্লাহ।

  • অন্য সময়ে আবার অন্য কোন বিষয় নিয়ে কথা হবে।সে পর্যন্ত সবাই ভালো থাকবেন। সুস্থ থাকবেন, নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি যত্ন নিবেন ।এই আশাবাদ ব্যক্ত করে আপনাদের কাছ থেকে বিদায় নিচ্ছি।

সবাইকে শুভ রাত্রি
আপনারা সবাই ভালো থাকবেন।
আপনাদের সকলকে আমার পক্ষ থেকে ভালোবাসা 💜💙 এবং অভিনন্দন রইলো ।

আমার পরিচিতি

G0mIPwfurEJVlbirXIKFAUZVIuK.jpg

আমি আওলাদ হোসেন আজিম ।আর আমার ইউজার নাম @ah-agim আমি একজন বাংলাদেশী। মাতৃভাষা বাংলায় বলে - আমি খুব গর্বিত। আমার মনে ভাষা বাংলা এর প্রকাশ করতে খুব ভালো লাগে। আমি আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটিকে ভালোবাসি। আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটির সন্মানীত এডমিন মডারেটর সহ সকল সদস্যদের প্রতি আমার অফুরন্ত ভালোবাসা বিরাজমান। আমি বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণ করতে ভালোবাসি। সৃষ্টিকর্তার দেওয়া প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে আমার কাছে খুব বেশি ভালো লাগে। তাছাড়া আমি বিভিন্ন ধরনের কাগজের ( কারুকাজ ) এবং বিভিন্ন রকমের রান্না ( রেসিপি ) করতে পছন্দ করি। আমি ফটোগ্রাফি করে থাকি। ফটোগ্রাফি করতে আমার কাছে অনেক অনেক বেশি ভালো লাগে।বিশেষ করে সৃষ্টিকর্তার দেওয়ায় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দৃশ্য সমূহ ফটোগ্রাফি করতে আমার কাছে ভালো লাগে।


VOTE @bangla.witness as witness

witness_vote.png

OR

SET @rme as your proxy


witness_proxy_vote.png

♥️ আমার ব্লগটি ভিজিট করার জন্য আপনার প্রতি কৃতজ্ঞ 🖤

Sort:  
 3 years ago 

আসলেই যে কৃষক সবার খাদ্য যোগায় শেষমেষ দেখা যায় যে সেই সব থেকে অবহেলিত। আর যে সকল শ্রমিকরা সারাদিন রোদে পুড়ে কাজ করে বড় বড় অট্টালিকা তৈরি করে দেখা যাচ্ছে তাঁদের শুধু থাকার মত ঘর টুকুই আছে। পোস্টটি পড়ে ভালো লাগলো ভাইয়া খুব ভালো লিখেছেন। ধন্যবাদ ভাই আপনাকে এই সুন্দর পোস্টটি আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।

 3 years ago 

পোস্টটি দেখে সুন্দর মতামত শেয়ার করার জন্য আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।

 3 years ago 

আমাদের দেশ কৃষি প্রধান দেশ। আমরা শুধু অট্রালিকা তৈরি করা দেখব কেনো, এদেশের প্রতিটি কৃষক ও শ্রমিক অবহেলিত। সত্যি আমরা এটা ভাবি না যে শ্রমজীবী মানুষের শ্রমের বিনিময়ে এই বড় বড় অট্টালিকা গড়ে ওঠে।আসলে আমাদের সবারই উচিত এই সকল শ্রমজীবী মানুষের মূলায়ণ করা ।যাইহোক তাদের পারিশ্রমিক আমাদের দিতে হবে, তাদের ঘাম শুকানোর আগেই। ধন্যবাদ ভাইয়া সুন্দর লিখেছেন।

 3 years ago 

অনেক অনেক ধন্যবাদ এত চমৎকার অনুভূতি শেয়ার করার জন্য।

 3 years ago 

অনেক সুন্দর একটি পোস্ট লিখেছেন ভাই। আসলে শ্রমিকের পরিশ্রমের মূল্য এবং শ্রমিকের ঘামের মূল্য টাকার মাধ্যমে পরিশোধ করা সম্ভব নয়। ৪২ ডিগ্রী রোদের তাপের মধ্যে তারা যেভাবে প্রতিদিন পরিশ্রম করে যাচ্ছে সেটার মূল্যায়ন হয়তো আমরা যথার্থভাবে করতে পারিনা। কিন্তু তাদের এই পরিশ্রমের জন্য তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা আমাদের একান্তই উচিত। চমৎকার একটি পোস্ট আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

 3 years ago 

আপনার মূল্যবান সময় ব্যয় করে এত চমৎকার অনুভূতি শেয়ার করার জন্য আপনাকে অন্তরের অন্তস্থল থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।

 3 years ago 

আমাদের সমাজ টাই এরকমই যাদের আছে তাদেরকে সবাই চিনে। একটি দেয়াশালাই কিংবা একটি বড় বিল্ডিং তৈরি হয় শত শ্রমজীবি মানুষের কষ্টের বিনিময়ে। কিন্তু আমাদের সমাজ তাদের মোটেও মূল্যায়ন করেনা। যাদের আছে যাদের পোশাক পরিচ্ছেদ ভাল তাদেরকে সবাই চিনে। শ্রমজীবি মানুষদেরকে মূল্যায়ন করা আমাদের সকলের উচিত। তাহলে তারা আরো অনেক বেশি সুন্দর ভাবে কাজ করতে আগ্রহী হবে এবং এভাবে এগিয়ে যাবে। অনেক ভালই লিখেছেন আপনি।

 3 years ago 

পুরো পোস্টটি পড়ে এত সুন্দর মতামত শেয়ার করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ জানাই।

 3 years ago 

আসলেই শ্রমিকদের অক্লান্ত শ্রমের পরেই আমরা আমাদের কাঙ্খিত অট্টালিকা পেয়ে থাকি।আপনি সহকারী ইঞ্জিনিয়ারের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে শ্রমিকদের পরিশ্রমের বিষয়টি কাছ থেকে উপলব্ধি করেছেন।এই বৈশাখ মাসের তীব্র খরার মাঝেও তারা বসে নেই।নিজেদের কাজ করে যাচ্ছেন অনেকটা হাসি মুখেই।ধন্যবাদ ভাইয়া সুন্দর পোস্টটি শেয়ার করার জন্য।

 3 years ago 

এত সুন্দর মতামত শেয়ার করার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাই।

 3 years ago 

অনেক সুন্দর একটি পোস্ট আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন। আজ আপনার পোস্ট পড়ে আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছে। শ্রমিকদের অক্লান্ত পরিশ্রমের শেষে আমরা এই অট্টালিকা বিল্ডিং গুলো দেখতে পাই। কিন্তু তাদের অত বেশি মূল্যায়ন করা হয় না। অথচ আমাদের সকলের উচিত তাদের সাথে ভালো ব্যবহার করা এবং তাদের মূল্যায়ন করা। তাদের পারিশ্রমিক তাদের গায়ের ঘাম শুকানোর আগে আমাদের দিয়ে দেওয়া উচিত।

 3 years ago 

কমেন্ট করে পাশে থাকার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই।

 3 years ago 

ঠিক বলেছেন সমাজে যাদের টাকা আছে তারা অনেক বড় বড় দালান কোঠা ঘড়ে তুলতেছে। তবে কৃষক এবং অন্যান্য শ্রমিকেরা যাদের এত পরিশ্রম তাদের ঠিকমতো মূল্যায়ন করে না। এবং নিছুর সারির মানুষগুলোর উপর সবাই একটু পাওয়ার বেশি খাড়ায়। এবং যার বেশি আসে সে আরো বেশি করার চেষ্টা করে সম্পত্তি। মানবতা বলতে কিছুই নেই সব বিলীন হয়ে গেছে। আমরা যদি পরিশ্রম এবং মানুষকে মূল্যায়ন করতে পারি তাহলে অনেক কিছু ইজি হয়ে যাবে। এবং মানবতা সুন্দরভাবে গড়ে তুলবে।

 3 years ago 

এত চমৎকার মতামত তুলে ধরার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

 3 years ago 

বিন্দু বিন্দু জল দিয়ে যেমন মহাসাগর গড়ে ওঠে তেমনি এই সব মজুরের ঘাম ঝরিয়ে গড়ে ওঠে অট্টালিকা।আসলেই যার টাকা নেই বর্তমানে তাকে কেউ সম্মানের চোখে দেখতে চায় না।কিন্তু তাদের জন্য টিকে আছে এই সুন্দর পৃথিবীটা।তাদের প্রত্যেক মুহূর্ত দিয়ে করা পরিশ্রমেই আজ ক্ষমতাধারীরা আজ আধিপত্য বিস্তার করতে পারছে।ছবিগুলো ভালো ছিল, ধন্যবাদ ভাইয়া।

 3 years ago 

এত চমৎকার মতামত শেয়ার করে পাশে থাকার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ জানাই।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.33
JST 0.102
BTC 65663.26
ETH 1921.85
USDT 1.00
SBD 0.38