গ্রাম বাংলার বর্ষাকালের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য।
বিসমিল্লাহি রহমানের রাহিম
আসসালামু আলাইকুম
শ্রদ্ধেয় প্রিয় ভাই ও বোনেরা,
আপনারা সবাই কেমন আছেন? সৃষ্টিকর্তার কৃপায় আশা করি ভালো আছেন। আমিও সৃষ্টিকর্তার রহমতে ভালো আছি।
প্রিয়, আমার বাংলা ব্লগ কমিটির সদস্যরা
আপনাদের মাঝে আবার এসে হাজির হলাম। আজ আমি আপনাদের, বর্ষাকালের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এই বিষয় সম্পর্কে বলতে চাই। আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে। আপনারা আপনাদের মূল্যবান সময় নষ্ট করে পুরো পোস্টটি দেখবেন আশা করি।
আসুন শুরু করি
সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা আমাদের এই স্বাধীন সবুজ বাংলাদেশ। বাংলাদেশের ছয়টি ঋতু বিদ্যমান। এই দেশের প্রত্যেক ঋতুতে প্রকৃতি সাজে নতুন রূপে। গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত, বসন্ত নিয়ে বাংলাদেশের প্রকৃতি বিদ্যমান। এই ষড়ঋতুর মধ্যে বর্ষাকাল অন্যতম। বর্ষাকালে যেদিকে তাকায় সেদিকে অথৈ পানি দেখা যায়। গ্ৰাম বাংলার মাঠ ঘাট, ফসলের জমি সবকিছু পানিতে ভরে যায়। বাংলার নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের ঋতু বলা যায় বর্ষা কালকে। সবুজ শ্যামল বাংলার প্রকৃতি নতুন প্রাণের সজীবতা সৃষ্টি হয় বৃষ্টিময় বর্ষার ছোঁয়াতে। গ্রীষ্মকালের রুদ্রতা ছাড়িয়ে সবুজ প্রকৃতির রূপময় বর্ষার বৃষ্টি স্নাত মুহূর্ত মনকে করে সজীব প্রাণবন্ত করে তোলে।
বর্ষার নান্দনিক সৌন্দর্য হৃদয় ছুঁয়ে যায়। বৃষ্টি বিলাসে বন্ধুদের সাথে লুডু আর ক্যারাম খেলার আড্ডায় জমে উঠে আনন্দের মুহূর্ত গুলো। মায়ের হাতে তৈরি করা খিচুড়ি নুডুল খাওয়ার আনন্দটাই অন্যরকম হয়ে থাকে। বাইরে শ্রাবণের টিপটিপ বৃষ্টির মুহূর্ত গুলো উপভোগ করা যায় জানালার পাশে বসে প্রিয়জনের হাতে তৈরি করা ঝাল মুড়ি খেতে খেতে। মালতীলতা, জুঁই, রজনীগন্ধা, কদমের সৌন্দর্যে হৃদয় আনন্দিত হয় বর্ষার বৃষ্টির প্রতি ফোটাতে। বর্ষাকালের ফুলের নান্দনিক সৌন্দর্য চোখ জড়িয়ে যায়। জুঁই, কামিনী, দোপাটি ফুলের পাপড়িতে জমে থাকা বিন্দু বিন্দু বৃষ্টির ফোটা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে আরো রাঙিয়ে তোলে।
প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য হৃদয় হারিয়ে যায় সবুজ প্রকৃতির ছোঁয়াতে। বর্ষাকাল মানেই আকাশে কালো মেঘের ঘনঘটা উপভোগ করার সেরা মুহূর্ত। বর্ষাকাল মানে হঠাৎ বৃষ্টি আরম্ভ হওয়া মনের ভুলে ছাতা বাসায় রেখে বাইরে বৃষ্টিতে ভিজা। বৃষ্টি বিলাসে প্রকৃতির সাথে মিশে যাওয়া দারুন মুহূর্ত হলো বৃষ্টিতে ভিজে। বৃষ্টিতে ভিজে প্রকৃতিকে খুব কাছ থেকে উপভোগ করা যায়। বর্ষাকালের প্রকৃত সাজে নতুন রূপে। সবকিছু সবুজ হয়ে ওঠে। বর্ষার স্নিগ্ধ সবুজ লাবণ্যময় দৃশ্য হৃদয়ে সৌন্দর্য জাগিয়ে দেয়। ঋতুচক্রের পালায় এক সময় বর্ষা আসে বাংলার প্রকৃতিতে। বর্ষা এসে প্রকৃতিকে সাজিয়ে তোলে নতুন রূপে।
বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। এদেশে অসংখ্য ছোট বড় নদ নদী ছড়িয়ে আছে বাংলার প্রতিটি গ্রাম অঞ্চলে জালের মতো। আঁকাবাঁকা নদী গুলো গ্রাম বাংলার বুকে চিরে বয়ে গেছে দূর থেকে বহু দূরে। বর্ষার অবিরল বৃষ্টিতে নদ নদী-নালা, খাল-বিল, মাঠ-ঘাট সব পানিতে একাকার হয়ে যায়। সব জায়গায় অথৈ পানির ঢেউ উপভোগ করা যায়। বর্ষাকালে পল্লীর মাঠ-ঘাটে জল থৈ থৈ করে। ফসলের জমির মধ্যে অথৈ পানির দিকে তাকালে মনে হয় বিস্তীর্ণ অঞ্চল বিল বা, নদী হয়ে গেছে। চারদিকে শ্যামল সবুজের নয়ন নন্দন সমারোহ। বর্ষার বারিধারা নদীতে যে প্লাবন সৃষ্টি করে তাতে সমগ্র পথ-ঘাট, ফসলের জমি ভরে যায়।
বর্ষা প্লাবিত গ্রাম বাংলার এই সৌন্দর্যের কোনো তুলনা নেই। গ্রাম বাংলার এমন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে খুব ইচ্ছে জাগে হৃদয়ে বারবার। বর্ষাকালে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার পাশাপাশি মাছ ধরার আনন্দ অন্যরকম হয়ে থাকে। বর্ষাকালে মাছ ধরার মুহূর্তগুলো বেশ দুর্দান্ত হয়ে থাকে যা আসলে বলে বোঝানো সম্ভব নয়। ছোট নৌকা করে নদীতে মাছ ধরতে যাওয়ার আনন্দে মন রাঙিয়ে উঠে। ভরা নদ-নদীর বুকের নৌকা করে মাছ ধরতে যাওয়া মুহূর্ত গুলো বেশ দারুণ। মৃদুমন্দ বাতাসের দোলায় ঢেউয়ে সাথে সাথে নৌকায় হেলে দুলে চলে নদীর বুকে।
মাছ কম বা, বেশি যা পাওয়া যাক না কেন মাছ ধরতে যাওয়ার মুহূর্ত গুলো বেশ আনন্দ জমিয়ে তোলে। গ্রাম বাংলার বর্ষাকালের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সত্যি খুব অসাধারণ। গ্রাম বাংলার বর্ষাকালের সৌন্দর্যের কোনো তুলনা নেই। আমাদের জীবন ধারা মিশে যায় বর্ষার প্রকৃতিতে।
পোস্টটির কোথায় ভুল ত্রুটি হলে সুন্দর ক্ষমা দৃষ্টিতে দেখবেন।
এতক্ষণ আপনাদের মূল্যবান সময় দিয়ে আমার পোস্টটি শেষ পর্যন্ত দেখার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। আপনাদের উৎসাহ এবং অনুপ্রেরণা পেলে আমি অন্য কোন বিষয় উপস্থাপন করবো, ইনশাআল্লাহ।
অন্য সময়ে আবার অন্য কোন বিষয় নিয়ে কথা হবে। সে পর্যন্ত সবাই ভালো থাকবেন। সুস্থ থাকবেন, নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি যত্ন নিবেন । এই আশাবাদ ব্যক্ত করে আপনাদের কাছ থেকে বিদায় নিচ্ছি।
সবাইকে শুভ রাত্রি
আপনারা সবাই ভালো থাকবেন।
আপনাদের সকলকে আমার পক্ষ থেকে ভালোবাসা 💜💙 এবং অভিনন্দন রইলো।
আমার পরিচিতি
আমি আওলাদ হোসেন আজিম ।আর আমার ইউজার নাম @ah-agim আমি একজন বাংলাদেশী। মাতৃভাষা বাংলায় বলে পেরে আমি খুব গর্বিত। আমার মনে ভাষা বাংলায় প্রকাশ করতে খুব ভালো লাগে। আমি আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটিকে ভালোবাসি। আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটির সন্মানিত ফাউন্ডার, এডমিন, মডারেটর সহ সকল সদস্যদের প্রতি আমার অফুরন্ত ভালোবাসা বিরাজমান। আমি বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণ করতে ভালোবাসি। সৃষ্টিকর্তার দেওয়া প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে আমার কাছে খুব বেশি ভালো লাগে। তাছাড়া আমি বিভিন্ন ধরনের কাগজের ( কারুকাজ ) এবং বিভিন্ন রকমের রান্না ( রেসিপি ) করতে পছন্দ করে থাকি। আমি ফটোগ্রাফি করে থাকি। ফটোগ্রাফি করতে আমার কাছে অনেক অনেক বেশি ভালো লাগে। বিশেষ করে সৃষ্টিকর্তার দেওয়ায় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দৃশ্য সমূহ ফটোগ্রাফি করতে আমার কাছে ভালো লাগে।
VOTE @bangla.witness as witness
OR
SET @rme as your proxy





গ্রাম বাংলার প্রকৃতি দৃশ্যগুলো সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। অসাধারণ কিছু ফটোগ্রাফি দেখতে পেলাম ভালো লাগলো আমার
ধন্যবাদ আপনাকে ভাই।
https://x.com/MdAgim17/status/1846548170375139575?t=Ee-DwfxFLGHFE9qMUbmvng&s=19
গ্রাম বাংলার বর্ষাকালের চমৎকার কিছু ফটোগ্রাফি আজ শেয়ার করেছেন। আপনার শেয়ার করা ফটোগ্রাফি গুলো দারুন লেগেছে আমার কাছে।আপনি গ্রাম বাংলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নিয়ে খুব সুন্দর কিছু লেখা উপস্থাপন করলেন।সবমিলিয়ে দারুন লাগলো। ধন্যবাদ জানাই আপনাকে খুব সুন্দর একটি ব্লগ আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
আপনাকে ধন্যবাদ জানাই আপু এতো সুন্দর অনুভূতি শেয়ার করার জন্য।
গ্রাম বাংলার প্রকৃতি থেকে ধারণ করা অনেক সুন্দর ফটোগ্রাফি আপনি আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন ভাইয়া। আপনার ফটো কাফের মাধ্যমে গ্রাম বাংলার সৌন্দর্য খুবই সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে। বিশেষ করে বর্ষাকালের মুহূর্তটা খুবই ভালো হবে বোঝা যাচ্ছে এই ফটোগ্রাফিতে।
এতো সুন্দর মন্তব্য করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই ভাই।
শরৎ কন্টেস্টে আপনার ছবিগুলো দেখে আপনার ফটোগ্রাফির ভক্ত হয়ে গেছি। এগুলোও তার ব্যতিক্রম নয়। বর্ষাকালে চারদিকে পানি থৈথৈ করে বলে দেখতে ভালো লাগে। এমন দৃশ্য আমার প্রিয়ও বটে। কিন্তু বর্ষায় জনজীবন ব্যহত হয় বলে খারাপ লাগে।
বর্ষাকালের ফটোগ্রাফি গুলো দেখে সুন্দর অনুভূতি শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই।
আপনার তোলা ফটোগ্রাফি গুলো প্রত্যেকটি অনেক বেশি সুন্দর হয়েছে। এ ধরনের ফটোগ্রাফি গুলা দেখতে অনেক বেশি ভালো লাগে। আপনাকে অনেক ধন্যবাদ ভাই এত সুন্দর ফটোগ্রাফি আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
ফটোগ্রাফি গুলো আপনার কাছে ভালো লাগছে জেনে খুব খুশি হলাম ধন্যবাদ আপনাকে ভাই।
এমন সুন্দর করে গ্রাম বাংলার প্রকৃতিকে বর্ষার রঙে রাঙিয়ে আপনার এই পোস্টে তুলে আনলেন যা এক কথায় ভীষণ প্রশংসনীয়। প্রত্যেকটি ছবি তার নিজস্বতায় ভরপুর। আকাশের কালো মেঘ থেকে শুরু করে গ্রাম বাংলার মন মাতানো রূপ বর্ষায় যেন রঙিন হয়ে ওঠে। আপনার পোস্ট সেই কথাই মনে করিয়ে দিল। অসাধারণ একটি পোস্ট পড়ালেন বলে ধন্যবাদ।
আপনাকেও ভাই অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই বেশ সুন্দর অনুভূতি শেয়ার করার জন্য।
আমাদের গ্রাম বাংলার প্রকৃতি খুবই সুন্দর। আমরা একেক সিজনে ভিন্ন ভিন্ন ধরনের প্রকৃতি দেখতে পায়। সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে বর্ষাকালের প্রকৃতি। এত সুন্দর পানিতে ভরপুর হয়ে যায় তাছাড়াও গাছপালাগুলো খুবই ফ্রেশ হয়। আপনি খুব সুন্দর সুন্দর ফটোগ্রাফি শেয়ার করেছেন। আপনার শেয়ার করা প্রতিটি ফটোগ্রাফি দেখে অনেক ভালো লেগেছে।
জি আপু, বর্ষাকালের প্রকৃতি বেশ দারুন হয়ে থাকে। ধন্যবাদ আপনাকে সুন্দর অনুভূতি শেয়ার করার জন্য।
আসলে গ্রাম বাংলার এই ফটোগ্রাফি পোস্টগুলো অনেক সুন্দর মনে হয় আমার কাছে। আসলে আপনি অনেক ভাগ্যবান যে আপনি আপনার ভালো সময় টুকু এই গ্রাম বাংলায় কাটাতে পারছেন। আর আমাদের মাঝে দারুণ দারুণ ফটোগ্রাফি শেয়ার করছেন। ধন্যবাদ আপনাকে এত সুন্দর ফটোগ্রাফি পোস্ট আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
আপনাকেও দাদা অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাই। এতো সুন্দর অনুভূতি শেয়ার করার জন্য।
শীত, গ্রীষ্ম বা বসন্ত বা বর্ষা যাই বলেন না কেন। এক এক সময় আমাদের প্রকৃতি ভিন্ন ভিন্ন রুপ ধারণ করে। আর এটা পুরোপুরি উপভোগ করা যায় গ্রামে গেলে। চমৎকার করেছেন ফটোগ্রাফি গুলো ভাই। সত্যি দেখে চোখ জুড়িয়ে যাচ্ছে। কী অসাধারণ দৃশ্য।
জি ভাই, প্রত্যেক ঋতুর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য খুব দারুন। ধন্যবাদ আপনাকে ভাই।