শীতের টানে ঢাকা থেকে গ্রামে।

in আমার বাংলা ব্লগ4 years ago

হ্যালো বন্ধুরা। আসসালামু আলাইকুম। কেমন আছেন সবাই? আশাকরি সবাই অনেক ভালো আছেন। আমি গতকালকে ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে এসেছি। অনেক রাত পর্যন্ত খেলা দেখার পর সকালে ঘুম থেকে উঠতে দেরি হয়ে গিয়েছিল। সকালে উঠে তাড়াহুড়ো করে সব কাজ সম্পন্ন করে সাড়ে দশটার দিকে রওনা দিয়েছিলাম। বাড়িতে আসার আনন্দটাই ভিন্ন রকম হয়। এখন গ্রামে ভালো শীত পড়া শুরু করেছে। শহরে বুঝাই যায় না শীতকাল চলছে এখন। গ্রামের শীতের এই আমেজ কিভাবে মিস করি?

আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর স্মৃতি গুলোর বেশিরভাগই এই শীতের সময়ের। আমার জীবনের প্রেমের কিছু উষ্ণ মুহূর্ত, হাজারো খুনসুটি, শীতকালীন পিকনিক, খেলাধুলা ইত্যাদি ইত্যাদি। ওই দিনগুলো ফিরে পেতে ইচ্ছে করে কিন্তু সেটা তো সম্ভব নয়। তাই এই শীত এলেই মনটা একটু বেশিই ছুটে বেড়াতে চায়। আমার সবচেয়ে প্রিয় রীতি হল শীতকাল। পৌষ এবং মাঘ এই দু মাস গ্রামাঞ্চল সেজে উঠে ভিন্নরূপে। প্রচুর শাকসবজি আর সরিষা ফুলের হলুদ রঙে ছেয়ে যায় মাঠকে মাঠ।

গত বছর শীতে আমি একেবারেই ফ্রি ছিলাম। লেখাপড়ার কোন প্রেসার ছিল না। খুব মজা করেছি গত শীতে। আমার ব্লগ যারা অনেক আগে থেকে পড়েন তারা জানেন। প্রত্যেকটা মুহূর্তই আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করতাম। আপনাদের কি মনে আছে সেই তাল গাছের সারি দেখতে যাওয়া, খেজুরের রস খেতে যাওয়া, চড় থেকে ভেড়া কিনে এনে পিকনিক করা, পাহাড়ের মত বড় বড় খড়ের গাদায় আগুন দেওয়া, বিশাল চড়ের ফসলি জমির মোটা আইলের মাঝখান দিয়ে বাইক চালিয়ে ঘুরে বেড়ানো ?? আপনাদের অনেকেরই হয়তো মনে আছে। এখন তো অনেক ব্যস্ত হয়ে গেছি। আগের মতন আর ঘোরা হবে কিনা জানিনা।

আমি সাত থেকে দশ দিনের জন্য বাসায় এসেছি। আবার চলে যেতে হবে। ঢাকাতে শীতের কোন আমেজ বোঝারই কায়দা নেই। রাতে আমি মাঝেমধ্যে ফ্যান দিয়ে শুয়ে থাকি। এ কদিন বাড়িতে একটু আনন্দ করবো প্ল্যান করেছি। গত বছরের মত একটু ঘোরাফেরা, পিকনিক, সবার সাথে আনন্দ এগুলো করে কাটিয়ে দিবো। এইতো সেদিনের কথা। আমি ঢাকাতে ছিলাম। পদ্মা নদীতে গিয়ে মাছ ধরছে আর আমাকে ভিডিও কল দিয়েছিল সবাই। সেদিন ভীষণ মিস করছিলাম।

এবার আমি হাতে গোনা পাঁচ দিন গ্রামের বাড়িতে থাকব। এরপর যে কদিন সম্ভব হয় আপুর বাড়ি এবং শ্বশুর বাড়ি থাকতে হবে। তারপর আবার সেই অপছন্দের ঢাকা শহরে ফিরতে হবে। এ ৫ দিন আমরা কি কি করবো সেই শিডিউলটাও করে ফেলেছি। গতবছর ভেড়া কিনে পিকনিক করছিলাম, এবার হাঁস কিনে পিকনিক করবো প্ল্যান করেছি। এটা গেল একদিন। এরপর একদিন চরের সৌন্দর্য দর্শনে বেরোবো। চড় এখন শীতকালীন সৌন্দর্যে ভরপুর। এরপর একদিন যাব খেজুরের রস খেতে। একদিন যাব গরম গুড় আর আখের রস খেতে। যদিও এগুলো আমাদের বাড়ির আশেপাশে যথেষ্ট আছে কিন্তু আশেপাশের গুলো খেলে তো আর হবে না। দূরে দূরে আমাদের যেতেই হবে, এতেই বেশি মজা।

আসলে দেখবেন মনের মতন করে একটু ঘোরাফেরা করলে মন-মানসিকতা কতটা সতেজ থাকে। মন সতেজ থাকলে আপনার সবকিছুই ভালো লাগবে। এজন্য মাঝে মধ্যে একটু রিফ্রেশমেন্ট এর প্রয়োজন আছে। যাই হোক আপনারা চেষ্টা করবেন সময় সুযোগ পেলে একটু ঘোরাফেরা করে মানসিক স্বাস্থ্য কে বুস্ট আপ করার। আজ এখানে বিদায় নিচ্ছি। দেখা হবে ইনশা আল্লাহ্ আমার আগামী দিনগুলোর এক্টিভিটিস পোস্ট নিয়ে। আল্লাহ্ হাফেজ।

1670259721387-01.jpeg



IMG_20220926_174120.png

VOTE @bangla.witness as witness


witness_vote.png

OR

SET @rme as your proxy

witness_proxy_vote.png



JOIN WITH US ON DISCORD SERVER

banner-abbVD.png

Follow @amarbanglablog for last updates


Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power

250 SP500 SP1000 SP2000 SP5000 SP

Heroism_3rd.png

Sort:  
 4 years ago 

আপনি সুন্দর একটা প্ল্যান করে ঢাকা থেকে গ্রামে এসেছেন।আসলেই শহরে শীতের কোন আমেজ নেই বললেই চলে।আমরা তো ফ্যান অনেক স্পিডে দিই।আশা করি এইবারে ও আগের মতই আনন্দ উপভোগ করবেন।আপনার আগের বছেরের আনন্দের এমুহূর্তের কথা জানতে পেরে বেশ ভাল লেগেছে।এই বছরও নিশ্চয় ব্লগ পাবো আমরা।

Thank you, friend!
I'm @steem.history, who is steem witness.
Thank you for witnessvoting for me.
image.png
please click it!
image.png
(Go to https://steemit.com/~witnesses and type fbslo at the bottom of the page)

The weight is reduced because of the lack of Voting Power. If you vote for me as a witness, you can get my little vote.

Thanks for the atmosphere!

 4 years ago 

আপনি ঠিক বলেছেন ভাইয়া শহরে থাকলে শীতের অনুভূতিটা পাওয়া যায় না। আপনি শীতের আমেজটা অনুভব করার জন্য গ্রামে যাচ্ছেন এটা যেন ভালো লাগলো। আপনার ঘোরাফেরার প্ল্যানটা দেখে বেশ ভালই লাগলো। আশা করি দিন গুলো খুব মজার সাথে কাটাবেন। শুভকামনা রইল আপনার জন্য। ধন্যবাদ।

 4 years ago 

গত বছরের শীতকালে আপনার ভ্রমণের পোস্টগুলো পড়েছিলাম। বেশ ভালোই লেগেছিল! ক্ষেতের মাঝে আইল দিয়ে মোটর সাইকেল চালানোর মুহূর্ত, খড়ে আগুন ধরানো! আপনার ফটোগ্রাফি ছিল মুগ্ধ করার মতো! খুব মিস করি আসলে! এ কয়দিন গ্রামে থেকে সৌন্দর্য উপভোগ করবেন পাশাপাশি আমরাও দেখতে পারবো আশাকরি 🌼🦋

 4 years ago 

আপনি একদম ঠিক কথা বলেছেন ভাইয়া ঢাকাতে শীত বুঝতে পারাই যায় না। আমিও যখন ঢাকাতে থাকতাম তখন শীতের রাতে ফ্যান জালানো লাগতো। শীতকে উপভোগ করার জন্য দারুন একটা কাজ আপনি করেছেন। আসলে গ্রামে না আসলে শীতকে উপভোগ করা যায় না।

 4 years ago 

ইশ ভাইয়া আপনার লেখাটা পড়ে সত্যিই আপনাকে হিংসে হচ্ছে। শীতের সময় বেশ দারুন ভাবে উপভোগ করেন আপনি। চমৎকার কিছু শিডিউল করেছেন বন্ধুদের সঙ্গে ।দারুন সময় উপভোগ করবেন বোঝা যাচ্ছে ।এভাবে শীতের সময় কাটানো সত্যিই অনেক মজার হয়ে থাকে। যদিও কোনদিনও সম্ভব হয়নি এরকম কিছু করার ।তারপরেও আপনার লেখাটা পড়ে সত্যিই ভীষণ ভালো লাগলো। আপনার জন্য অনেক অনেক শুভকামনা রইল।

 4 years ago 

এটা আমরা অনেকেই জানি যে আপনার জীবনের বেশিরভাগ স্মৃতিময় সময়গুলো এই শীতের সময় এর।হাজারো স্মৃতি বিজড়িত এই শীতকাল আপনার জীবনে।তবে এটা ঠিক বলেছেন শহরে এখনও তেমন শীত পড়েনি তবে গ্রামে গেলেই বোঝা যায় শীতের আমেজ।আর এই শীতের টানে শহর থেকে গ্রামে আসার অনুভূতি এবং উপলব্ধি ভিন্ন রকমের হয়। তবে আমিও সুযোগ এবং সময় পেলে একটু ঘোরাঘুরি করি। কারণ ঘোরাফেরা করতে আমারও ভীষণ ভালো লাগে। অনেক অনেক শুভকামনা আপনার জন্য♥♥

 4 years ago 

একদম ঠিক ভাইয়া ঢাকা শহরে থেকে শীতের আমেজ বোঝার কোনো উপায় নেই। আমি তো সবসময় ফ্যান ছেড়ে ঘুমাই। তবে আপনি শীত উপভোগ করার জন্য গ্রামে গিয়ে খুব ভালো করেছেন। আমরা সবাই জানি আপনার জীবনে এই শীতকে কেন্দ্র করে অনেক ঘটনা রয়েছে। ভোরবেলা ওঠে হালকা কুয়াশার মধ্যে হাঁটার মজাই আলাদা। রাতে সবাই একসাথে বসে আগুন পোহানো আবার পিকনিক করা খুবই ভালো লাগে। গ্রামে থাকলে একদম খাঁটি খেজুরের রস খাওয়া যায়। আপনার জন্য শুভকামনা ও দোয়া রইল যাতে আপনি গ্রামে শীত ভালোভাবে উপভোগ করে আবার ঠিকঠাক মতো ঢাকা শহরে ফিরে আসতে পারেন।

 4 years ago 

ভাইয়া আপনি শীতের টানে শহর থেকে গ্রামে এসেছেন।ঢাকাই তো শীত বোঝাই যায় না,ব্যস্ত শহর।বেশ কয়েকটা দিন আনন্দেই কাটাবেন আপনার প্ল্যান দেখে বুঝতে পারলাম।সাত থেকে দশ দিন ভালো সময় কাটান।শুভ কামনা রইল আপনার জন্য।ধন্যবাদ ভাইয়া পোস্টটি শেয়ার করার জন্য।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.076
BTC 63711.37
ETH 1672.90
USDT 1.00
SBD 0.42