গ্রামের মানুষের আতিথিয়তা
আসসালামু আলাইকুম
আমার বাংলাব্লগের বন্ধুরা সবাই কেমন আছেন ভাল আছেন নিশ্চয়ই। আমিও আল্লাহর রহমতে ভালই আছি আলহামদুলিল্লাহ।
আজ আমি আবার আপনাদের সামনে নতুন একটি ব্লগ নিয়ে হাজির হয়ে গিয়েছি । আজকে আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করব কদিন আগে কিশোরগঞ্জ যাওয়ার পরের কিছু অনুভূতি ।আমরা কিশোরগঞ্জে গিয়েছিলাম ট্রেনে করে যথারীতি ট্রেন আসতে অনেক লেট হয়েছিল যার কারণে যেতে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল । আমরা ভেবেছিলাম সকাল সকাল রওনা দিলে সকাল সকাল গিয়ে পৌঁছাতে পারবো কিন্তু আমাদের ধারণাটা উল্টো হয়ে গিয়েছে । কারণ শুরুতেই আমাদের অনেক লেট হয়ে গিয়েছিল যার কারণে আমাদের গিয়ে পৌঁছাতে পৌঁছাতে প্রায় তিনটা বেজে গিয়েছিল । আবার এদিকে গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছি আগে থেকে একটা চিন্তাভাবনা ছিল যেখানে গিয়ে উঠবো সেই জায়গাটা কেমন হবে এই ভাবনা মাথার ভিতরে ঘুরছিল ।
সকালে যাব দেখে আগের দিন রাতে একটুও ঘুম হয়নি কারণ সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠতে হবে সেই কারণে । ঘুম একেবারেই হয়নি এবং জার্নি করলে আমার শরীর অনেক বেশি দুর্বল হয়ে পড়ে । গ্রামের দিকে যাচ্ছি সেখানকার কারেন্টের অবস্থা নাকি খুবই খারাপ কারেন্ট থাকে না বললেই চলে । সেজন্য আগে থেকে একটা মাইন্ড সেট করে নিয়েছিলাম যে তিন দুদিন যেখানে থাকবো দুদিন একেবারে ঘুম হবেই না বললেই চলে । তারপরও আমরা ট্রেনে করে এবং ট্রেন থেকে নেমে সেখান থেকে পুরো গ্রামের ভিতরে যেতে আমাদের ছয় ঘন্টা সময় লেগেছিল ।
ট্রেন থেকে নেমে গ্রামের ভিতরে ঢুকতে আড়াই ঘন্টা সময় লেগে গিয়েছিল । কিন্তু বাড়ির ভিতরে ঢুকে আমি একেবারে অবাক হয়ে গিয়েছিলাম । বাড়িটা এত সুন্দর যা বলার অপেক্ষা রাখে না । সামনের দিকটা দেখেই একেবারে মনটা ভরে গিয়েছিল । তারা কেউ থাকে না দু-একদিনের জন্য ঘুরতে যায় সেই কারণেই বাড়িটা ওভাবে করে করা । গ্রামের লোকজন আশেপাশে যারা থাকে তারা খুব সুন্দরভাবে গুছিয়ে রেখেছে । বড় বড় দুইটা রুম একটায় চারপাঁচটা বেড তারা রেডি করেছে ফ্লোরে আর একটা রুমে খাট আছে নিচেও সুন্দরভাবে থাকার ব্যবস্থা করেছে । বড় বড় স্ট্যান্ড ফ্যানগুলো এনে রেখেছে যাতে কারেন্ট না থাকলেও কোন অসুবিধা না হয় । সেগুলো দেখে আসলেই খুব ভালো লেগেছে ।
গ্রামের মানুষরা এত ভালো আপ্যায়ন করেছে যা বলার অপেক্ষা রাখে না । ভালো ভালো রকমের খাওয়া দাওয়া পিঠা কোনকিছুই তাদের কম ছিল না । সবকিছু মিলিয়ে অসাধারণ একটা সময় আমাদের কেটেছে । আবার বিকেলবেলা দেখি দেখচি ভরে চায়ের ব্যবস্থা করেছে এবং গ্রামের টাটকা দুধ দিয়ে খুব সুন্দর করে চা তৈরি করেছে খুবই মজা করে আমরা খেয়েছি । যদিও খাবারের ছবি তোলা হয়নি ভুলে গিয়েছিলাম ।আবার যাদের বাড়িতে আমরা ঘুরতে গিয়েছি সবাই পিঠা দিয়ে আপ্যায়ন করেছে । জেনারেটার এর ব্যবস্থা করেছে যার কারণে গরম অতটা অনুভব করিনি । যদিও কারেন্ট একেবারে ছিল না বললেই চলে । এবং জেনারেটর অন করার জন্য একজন মানুষ সারাটা রাত ওই জেনারেটরের কাছেই বসে ছিল যেটা আসলে আমাকে অনেক বেশি মুগ্ধ করেছে ।গ্রামের মানুষ ও আজকাল এত ভালো হয় ।ভালো না হয়ে উপায় নেই কারণ তারা তাদের অনেক বেশি পরিমাণে হেল্প করে থাকে ঢাকা থেকে । এই কারণে এরকম একটি শ্রদ্ধাবোধ তাদের প্রতি হয়েছে । সত্যি অসাধারণ লেগেছিল সবকিছু মিলে ।
আশা করছি আমার আজকের এই ব্লগটি আপনাদের সকলের কাছে ভালো লেগেছে। আজকের মত এখানেই বিদায় নিচ্ছি। সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন।
| ফটোগ্রাফার | @tauhida |
|---|---|
| ডিভাইস | samsung Galaxy s8 plus |
ধন্যবাদ
| আমি তৌহিদা, বাংলাদেশ আমার মাতৃভূমি।বাংলাদেশে আমার জন্ম।আমি আমার মাতৃভূমিকে ভালোবাসি। আমি বিবাহিতা, এক সন্তানের মা। আমি রান্না করতে ও খেতে ভালোবাসি,আমি ঘুরতেও অনেক ভালোবাসি। |
|---|
কোন জায়গায় যদি যাওয়ার উদ্দেশ্য করে বের হওয়া যায় তাহলে যতই আপনি চিন্তা-ভাবনা করেন দ্রুত বের হবেন কিন্তু সেটা কখনো সম্ভব হয়ে ওঠে না। গ্রামের মানুষগুলো সবসময় অতিথি পড়ায়ন হয়ে থাকে। এরা কিভাবে একজন অতিথিকে আপ্যায়ন করতে হবে সেই বিষয়টা খুব ভালোভাবেই জানে। আর গ্রামের মানুষগুলো সব সময় সহজ সরল হয়ে থাকে।
আমরা দ্রুত গেলে কি হবে স্টেশনে গিয়ে ঠিকই দেরি হয়েছিল ।এজন্য সময়টাও নষ্ট হয়েছে ।
আপনার পোষ্ট টি পড়ে বেশ ভালো লাগলো তৌহিদা আপু। গ্রামে গিয়ে সেখানকার মানুষের আতিথিয়েতায় মুগ্ধ হয়েছেন। আসলে শহরের থেকে কেউ গ্রামে গেলে গ্রামের মানুষেরা খুশিই হয়। কত্তগুলো পিঠা দেখে তো পিঠা খেতেও মন চাচ্ছে। আর একজন সারারাত নিযুক্ত ছিলো জেনারেটরের জন্য এটা শুনে ভালোও লাগলো আবার সেই মানুষটার জন্য খারাপ ও লাগলো।গ্রামে তাহলে কারেন্ট এর অবস্থা খুবই ভয়াবহ সেখানে।
আসলেই তাদের আতিথিওতা দেখে অনেক মুগ্ধ হয়েছিলাম খুব ভালো লেগেছে ।
আপনি যেমনটা ভেবেছিলেন পুরোপুরি তার বিপরীতটা ঘটেছে যেমন বাড়িটার প্রশংসা করলেন তাতে ছবি না দেখেই বোঝা যাচ্ছে বাড়িটা অনেক সুন্দর। তাছাড়া তারা অনেক রেস্পন্সিবিলিটি নিয়ে আপনাদেরকে আপ্যায়ন করেছে। ওই লোকটার কথাই ধরুন সারারাত জেনারেটরের পাশে বসে আপনাদেরকে সেবা দেওয়ার চেষ্টা করেছে।
সবকিছু মিলিয়ে আসলেই অনেক ভালো লেগেছিল সবকিছু অনেক ভাল ছিল ।
আমার মনে হয় শহরের মানুষের থেকে গ্রামের মানুষরা অতিথি পরায়ন বেশি হয়ে থাকে। গ্রামের সহজ সরল মানুষগুলো আমার কাছে বেশ ভালোই লাগে। গ্রামের আপনার ভালো লেগেছে জেনে খুশি হলাম। আপনি আগে থেকে যে টেনশনে ছিলেন। তা টেনশন মুক্ত হলেন। এত সুন্দর একটি পোস্ট শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।
একদম তাই যাওয়ার পরে টেনশন মুক্ত হয়েছি সবকিছু মিলিয়ে ভালই লেগেছিল ।
গ্রামের মানুষ অনেক সহজ সরল আপু তাদের মধ্যে কোন ধরনের কৃপণতা নেই। তাছাড়া আজকাল গ্রামে কিন্তু শহরের চাইতে অনেক আলিশান বেশি করে রাখে। যারা গ্রামে ঘর করেন তারা আবার বিদেশের টাকা দিয়ে করেন। কিন্তু ঘর গুলো খুব সুন্দরভাবে করেন। আপনার কথা মতে বুঝতে পারলাম খুব সুন্দর একটি ঘর করল গ্রামে। তাছাড়া গ্রামের মানুষের আপ্যায়নের কথা আর কি বলব। সব গ্রামে একই অবস্থা আপু। শুনে ভালো লাগলো তাছাড়া পিঠার কালার গুলো দারুন ছিল।
ওনারা বিদেশে থাকেন না উনারা এমনিতেই অনেক রিচ নিজেদের পয়সা দিয়েই করেছেন এগুলা দেশের পয়সা আপু ।
আমিও লক্ষ্য করে দেখেছি কোন জায়গায় যদি যেতে চাই কোনভাবেই তাড়াতাড়ি বের হতে পারি না। যতই চেষ্টা করি দ্রুত চলে যাব কিন্তু কোন না কোন কাজে সময় লেগেই যাই। আসলে গ্রামের মানুষগুলো অতিথি আপ্যায়নের ক্ষেত্রে খুবই সুন্দর ভূমিকা পালন করে। অতিথিরা আসলে তারা লোভনীয় লোভনীয় খাবার তৈরি করে অতিথিদের সামনে পরিবেশন করে।
ঠিক বলেছেন এবার গ্রামে গিয়ে সেটাই দেখে আসলাম ভালোই লেগেছে ।