ক্ষুদেরামের রাজ্য ঘুরে দেখার ভিডিওগ্রাফি
আসসালামু আলাইকুম
আসসালামু আলাইকুম
কেমন আছেন আমার প্রিয় সকল সহযাত্রী ভাই বোনেরা? আশা করি সবাই আল্লাহর রহমতে অনেক ভালো আছেন। আমিও আপনাদের সবার দোয়ায় আলহামদুল্লিাহ্ ভালো আছি। আশা করি সবার দিনটা অনেক ভালো কেটেছে। আজকে আপনাদের সবার মাঝে আমার আরও একটি ভিডিওগ্রাফি নিয়ে হাজির হলাম।আজ আমি একটি চমৎকার ভিডিওগ্রাফি নিয়ে আপনাদের সবার মাঝে চলে এলাম। আশা করি আপনাদের সবার কাছে অনেক ভালো লাগবে। তাহলে চলুন আজ আমার করা ভিডিওগ্রাফিটি দেখে আসি কেমন হয়েছে।
হ্যাঁ আমার প্রিয় এপার ওপার সকল সহযাত্রী ভাই বোনেরা। আপনারা জানেন যে আমি ভিডিওগ্রাফি করতে ভীষণ পছন্দ করি। কিন্তু আমার পিসিতে সমস্যার কারনে আমি চেষ্টা করেও ভিডিওগ্রাফি করতে পারছিলাম না। মাঝে মাঝে পিসিটি অনেক সমস্যা করে। অনেকবার ঠিক করা হয়েছে। তারপরও আবার সমস্যা হচ্ছিলো। যাইহোক তারপরও আজ অনেক দিন পর একটি ভিডিওগ্রাফি করলাম। আর এটা আপনাদের মাঝে শেয়ার করলাম। আশা করি আপনাদের কাছে অনেক ভালো লাগবে।
হ্যাঁ বন্ধুরা আজ আমি ক্ষুদেরামের রাজ্যের একটি ভিডিওগ্রাফি আপনাদের জন্য নিয়ে এলাম। ঢাকা শহর থেকে মাত্র ঘণ্টা দেড়েকের পথ। গন্তব্য নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের পেরাব গ্রামে, যেখানে দাঁড়িয়ে আছে একটি অনন্য সৃষ্টি বাংলার তাজমহল। এটি শুধু একটি স্থাপত্য কল্পনা নয়, বরং ভালোবাসা, ইতিহাস আর সংস্কৃতির এক চমৎকার মেলবন্ধন। তবে এবার আমাদের যাত্রার বিশেষ উপলক্ষ ছিল বাংলার তাজমহলে নির্মিত ক্ষুদিরাম বসুর এক ভাস্কর্য দেখতে যাওয়া। সকালে আমরা রওনা দিই। রাস্তায় গাড়ির জানালা দিয়ে উঁকি দিয়ে দেখি ছোট ছোট গ্রাম, সবুজ ক্ষেত আর মানুষের ব্যস্ততা। সোনারগাঁও পার হয়ে যখন তাজমহলের মূল ফটকে পৌঁছালাম, মনে হলো যেন একেবারে অন্য এক জগতে প্রবেশ করেছি। বিশাল গম্বুজ, মার্বেল পাথরের আবরণ আর ঝকঝকে পরিবেশ সত্যিই চোখ ধাঁধানো। তবে চোখ আটকে যায় মূল আকর্ষণে—সেখানে একটি কোণে ক্ষুদিরাম বসুর এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি যেন দাঁড়িয়ে আছে। ভাস্কর্যটি খুব যত্ন করে তৈরি করা হয়েছে। ক্ষুদিরামের চেহারায় এক সাহসী কিশোরের দৃঢ়তা, আত্মত্যাগের গর্ব, আর চোখে এক অদম্য আগুন—যা ১৯০৮ সালে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে তাকে শহিদ করেছিল। এ ভাস্কর্যটি শুধু একটি প্রতীক নয়, এটি ইতিহাসের প্রতি শ্রদ্ধা, এক সাহসী কিশোরের প্রতি ভালোবাসা, এবং নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করার এক অনন্য উপায়।
বাংলার তাজমহল ঘুরে দেখা এক অনন্য অভিজ্ঞতা। প্রবেশমুখে ঝরনার শব্দ, চারদিকে সুন্দর বাগান আর মাঝখানে সেই বিশাল কাঠামোটি যেন স্বপ্নের মতো দাঁড়িয়ে আছে। পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য আদর্শ স্থান এটি। তবে ক্ষুদিরামের ভাস্কর্য ঘিরে এক ধরনের আবেগময় পরিবেশ তৈরি হয়। ছোট বড় অনেকেই দাঁড়িয়ে পড়ছিল, ছবি তুলছিল, আর কেউ কেউ চুপচাপ শ্রদ্ধাভরে তাকিয়ে ছিল—যেন কিছু বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছে।
তাজমহলের ভেতরে আরও রয়েছে সিনেমা হল, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র এবং ঐতিহাসিক বিভিন্ন প্রতিকৃতি। কিন্তু ক্ষুদিরামের প্রতিকৃতি যেন আলাদা করে আলো কেড়ে নেয়। তার সাহসিকতার গল্প শুনে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা কিশোরদের চোখে কৌতূহল আর গর্ব—এই দেখেই মনে হলো, ইতিহাস কত সহজেই মানুষের মন ছুঁয়ে যেতে পারে। বিকেলের দিকে সূর্য যখন পশ্চিম আকাশে হেলে পড়ছিল, আমরা তাজমহলের গম্বুজের ছায়ায় কিছুক্ষণ বসে থাকি। বাতাসে ছিল ইতিহাসের গন্ধ আর হৃদয়ে ছিল ক্ষুদিরামের জন্য এক গভীর শ্রদ্ধা। এই ভ্রমণটা শুধু ঘুরে দেখার আনন্দ দেয়নি, বরং শিখিয়েছে সাহস, আত্মত্যাগ আর দেশের প্রতি ভালোবাসা কাকে বলে। নারায়ণগঞ্জের এই বাংলার তাজমহল আর সেখানে নির্মিত ক্ষুদিরামের ভাস্কর্য আমাদের মনে করিয়ে দেয়, ইতিহাস শুধু বইয়ের পৃষ্ঠা নয়—তা সময়কে ছুঁয়ে যাওয়া এক অনন্ত অনুপ্রেরণা।
| পোস্টের ধরন | ভিডিওগ্রাফি পোস্ট |
|---|---|
| ডিভাইস | VIVO |
| মডেল | VIVO-Y22S |
| ভিডিওগ্রাফার | @mahfuzanila |
| স্থান | নারায়ণগঞ্জ |
পরিশেষে আশা করবো আমার আজকের ভিডিওগ্রাফিটি আপনাদের কাছে বেশ ভালো লেগেছে। আপনাদের মন্তব্য পেলে খুশি হবো।
পরিচিতি
আমি মাহফুজা আক্তার নীলা । আমার ইউজার নাম @mahfuzanila। আমি একজন বাংলাদেশী ইউজার। আমি স্টিমিট প্লাটফর্মে যোগদান করি ২০২২ সালের মার্চ মাসে। আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটিতে যোগদান করে আমি অনেক বিষয় শিখেছি। আগামীতে আরও ভালো কিছু শেখার ইচ্ছে আছে। আমি পছন্দ করি ভ্রমন করতে, ছবি আঁকতে, বিভিন্ন ধরনের মজার মাজার গল্পের বই পড়তে, ফটোগ্রাফি করতে, ডাই প্রজেক্ট বানাতে ও আর্ট করতে। এছাড়াও আমি বেশী পছন্দ করি মজার রেসিপি করতে। মন খারাপ থাকলে গান শুননি। তবে সব কিছুর পাশাপাশি আমি ঘুমাতে কিন্তু একটু বেশীই পছন্দ করি।
ক্ষুদিরামের রাজ্য সম্পর্কে জেনে এবং আপনার তোলা ফটোগ্রাফি গুলো দেখে অনেক বেশি ভালো লাগলো। ভিডিওগ্রাফিটি দেখে মনে হচ্ছে সেখানে আপনি অনেক সুন্দর করে সময় কাটিয়েছেন। অনেক ভালো লাগলো আপনার ফটোগ্রাফি এবং ভিডিওটি দেখে ধন্যবাদ।
https://x.com/mahfuzanila95/status/1919821503060967725
https://x.com/mahfuzanila95/status/1919821380054315175