"সার্বিক প্রচেষ্টায় নগর-কীর্তনের জন্য গেঞ্জি বানানো" শেষ পর্ব"
হ্যালো..!!
আমার সুপ্রিয় বন্ধুরা,
আমি @aongkon বাংলাদেশের নাগরিক।
আজ- ১৫ ই মে, সোমবার, ২০২৩ খ্রিষ্টাব্দ।
আমি অংকন বিশ্বাস, আমার ইউজার নেম @aongkon। আমি মা, মাতৃভাষা এবং মাতৃভূমিকে সব থেকে বেশি ভালোবাসি। আশা করি, আপনারা সবাই সুস্থ এবং সুন্দর আছেন। আমার মাতৃভাষা বাংলার একমাত্র ব্লগিং কমিউনিটি আমার বাংলা ব্লগ এর ফাউন্ডার, এডমিন প্যানেল, মডারেটর প্যানেল এবং সকল সদস্য ও সদস্যাদের আমার অন্তরের অন্তরস্থল থেকে প্রাণঢালা শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন রইল।
কয়েকটি ছবিকে একত্রিত করে সুন্দর একটি কভার ফটো তৈরি করে নিয়েছি।
আজকে আমি আপনাদের সামনে নতুন একটি পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি। আপনারা জানেন যে আমি কিছুদিন আগে বাড়িতে এসেছি ঈদের ছুটিতে। এবার ঈদে ছুটিতে বাড়িতে এসে দিদির বিয়ের কারণে অনেক দিনই থাকা পড়ে গেল। ঈদের ছুটিতে আমি বৈশাখ মাসে ২ তারিখে বাড়ি এসেছিলাম। আর বৈশাখ মাসে আমাদের পাড়ায় নগর-কীর্তন করা হয়। পুরো বৈশাখ মাস ধরে হিন্দু ধর্মের লোকেরা নগর কীর্তন করে থাকে। আমাদের পাড়ায় যারা নগর কীর্তন করে থাকি আমরা সবাই ইয়াং জেনারেশন।
বাড়িতে আসার পরে সবাই মিলে উদ্যোগ নিলাম নগর-কীর্তনের জন্য এক রঙের গেঞ্জি বানাবো সবাই মিলে। সবাই এক কালারের গেঞ্জি পরে নগর কীর্তন করলে অনেক সুন্দর দেখা যায়। কয়েকদিন আগে "সার্বিক প্রচেষ্টায় নগর কীর্তনের জন্য গেঞ্জি বানানোর ১ম পর্ব" শেয়ার করেছিলাম। আর আজকে আমি এখন শেষ পর্ব শেয়ার করব। তাহলে চলুন দেরি না করে শুরু করা যাক।
... লোগোর ডিজাইন উল্টো ভাবে প্রিন্ট আউট করার পরে প্রথমে গেঞ্জির সামনের দিকে যেখানে লোগো বসিয়ে সেখানে লোগোর প্রিন্ট আউট কাগজটির চারপাশে টেপ দিয়ে গেঞ্জির সাথে সুন্দর ভাবে সেট করে দিলো।
তারপর যে মেশিন দিয়ে গেঞ্জির উপরে লোগোর ডিজাইন করে। সেই মেশিনের দুটি পার্ট থাকে। নিচের পার্টে গেঞ্জির যে অংশে ডিজাইন করা হবে সেই অংশ সুন্দরভাবে মেশিনের সাথে সেট করে দিলো। লোগোর ডিজাইনের প্রিন্ট আউটের কাগজটি গেঞ্জির উপরের অংশে রাখলো।
এলো লোগো ডিজাইনের মেশিনটি হাইড্রোলিক জাতীয় মেশিন। তারপর মেশিনের উপরে পার্ট দিয়ে ৩ মিনিট মতো চাপ দিয়ে রেখে কাঙ্খিত লোগো ডিজাইনটি সম্পন্ন করলো।
লোগো ডিজাইনটি হয়ে গেলে প্রিন্ট আউটের যে কাগজটি সেটি গেঞ্জি থেকে খুলে ফেললো। প্রিন্ট আউট এর কাগজটি খুলে ফেলার পর আমি একটু অবাক হলাম দেখলাম যে, কাগজের উপর লোগো ডিজাইনের লেখাগুলো ছিলো সেগুলো কিছুই নেই। শুধুমাত্র একটি গেঞ্জির লোগো ডিজাইন করা দেখেই আমার পিসিমণির বাসায় চলে আসলাম। কারণ সবগুলো গেঞ্জির লোগো ডিজাইন করতে অনেকটা সময় লাগবে। তাই দোকানদার আমাদেরকে বলল যে দুই ঘন্টা পরে এসে গেঞ্জিগুলো নিয়ে যেতে।
পিসিমণির বাসা থেকে খাওয়া-দাওয়া করে দুই ঘন্টা পরে আবার গেঞ্জি দোকানে চলে আসলাম। এসে দেখলাম যে আমাদেরকে সকল গেঞ্জি গুলোর লোগো ডিজাইন করা সম্পূর্ণ হয়ে গেছে। তারপর আমরা গেঞ্জির লোগো ডিজাইনের সব টাকা পরিশোধ করে দিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। আসার সময় আমরা ট্রেনে এসেছিলাম কিন্তু যাওয়ার সময় ট্রেন না থাকার কারণে বাসে করে গেছিলাম।
বাসে করে খোকসা তে এসে দেখলাম যে বেশ ভালই বৃষ্টি হচ্ছে। তারপর খোকসা থেকে একটি অটোতে করে শোমসপুর পর্যন্ত আসলাম। আমার বন্ধুর সাইকেলটির শোমসপুরে রেখে গেছিলাম। তারপর গুরাগুরি বৃষ্টির ভিতর এই দুই বন্ধু সাইকেলে করে বাড়ির দিকে রওনা দিলাম। বেশ ভালই মজা লাগছিল গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির ভিতর বাড়িতে যেতে। কারণ এই বৃষ্টিটা অনেকদিন পরে হয়েছিলো।
গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির ভিতরে আসতে আসতে কিছুটা ভিজে গিয়েছিলাম। কারণ শোমসপুর থেকে আমাদের বাড়িতে আসতে প্রায় ৩০ মিনিট মত সময় লাগে। তবে আমাদের নতুন গেঞ্জি গুলো একটি বড় পলিথিনের প্যাকেটে থাকার কারণে ভিজেছিলো না।
তারপর বাড়িতে গিয়ে পলিথিনের বড় প্যাকেট থেকে গেঞ্জি বের করে দেখলাম যে সব লোগো গুলো করা ঠিক আছে কিনা। গেঞ্জিগুলো আগেই আমাদের দেখা উচিত ছিল ওই দোকান থেকে। কিন্তু আকাশে মেঘ লাগার কারণে তাড়াহুড়ো করে চলে এসেছিলাম তাই আর কি দেখা হয়েছিল না। উপরের যে ছোট করে গোল ডিজাইন এটি আমাদের মন্দিরের লোগো।
তবে আমাদের গেঞ্জি সব লোগোই অনেক সুন্দর হয়েছিল এবং দেখতে বেশ ভালো লাগছিল। বাড়িতে আসার কিছু সময় পরে সবাইকে এক জায়গায় করে গেঞ্জি গুলো যার যার কাছে হস্তান্তর করে দিলাম। সবাই এই গেঞ্জিগুলা দেখে খুবই পছন্দ করেছিল। আসলে সবাই নতুন গেঞ্জি পাওয়ার জন্য ব্যাকুল হয়ে ছিলো। আর বলে দিলাম যে রাতে যাতে সবাই এই গেঞ্জি পড়েই নগরকীর্তনে আসে।
পোস্টের ছবির বিবরন
| ক্যামেরাম্যান | @aongkon |
|---|---|
| ডিভাইস | স্যামসাং জে-৭ প্রো |
| ক্যামেরা | ১৩ মেগাপিক্সেল |
| তারিখ | ২৪ ই এপ্রিল |
| লোকেশন | কুষ্টিয়া |
প্রিয় বন্ধুরা,
আমি স্টিমিট প্ল্যাটফর্মে আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটিতে প্রতিনিয়ত আমার সৃজনশীলতা দিয়ে ভালো কনটেন্ট শেয়ার করে এই কমিউনিটিকে সমৃদ্ধ করতে চাই এবং উচ্চতার শিখরে নিয়ে যেতে চাই। আমার ব্লগটি কেমন হয়েছে আপনারা সবাই কমেন্টের মাধ্যমে অবশ্যই মন্তব্য করবেন, সামান্য ভুল ত্রুটি অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন এবং সুপরামর্শ দিয়ে পাশে থাকবেন। আবার দেখা হবে নতুন কোনো পোস্ট নিয়ে শীঘ্রই, ততক্ষণে সবাই নিজের খেয়াল রাখবেন সুস্থ এবং সুন্দর থাকবেন এটাই কাম্য করি।
@aongkon

বাহ্ বাহ্,, বেশ ভালো লাগলো ডিজাইনের পুরো প্রক্রিয়াটা দেখে। এত ধরনের যে কাজ করতে হয়, এসব তো জানতামই নাহ্। সময় নিয়ে ধৈর্য্য ধরে পুরো কাজটা শেষ করেছেন। আর দেখতেও বেশ হয়েছে। সবাইকে এক রকমের গেঞ্জিতে দারুন মানাবে 👌🙏
হ্যাঁ দাদা আমিও জানতাম না সেদিন ওদের কাজ দেখে জানলাম। সুন্দর গঠনমূলক মন্তব্য করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ দাদা।