অসুস্থ বাবাকে সুস্থ করে তোলার প্রচেষ্টা।
হ্যালো বন্ধুগণ,
আমি @bidyut01. একজন বাঙালি ব্লগার।সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি।
আজ সোমবার। ১০ ই জানুয়ারি, ২০২৫ ইং।
আসসালামু আলাইকুম।
সুপ্রিয় বন্ধুগণ, আপনারা সবাই আমার আন্তরিক শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসা গ্রহণ করবেন। আমি আশা করি আপনারা সবাই মহান আল্লাহ তায়ালার অশেষ রহমতে অনেক ভাল আছেন, সুস্থ আছেন এবং নিরাপদে আছেন। আমিও আপনাদের দোয়ায় এবং মহান আল্লাহপাকের দয়ায় অনেক ভাল আছি। আজকে আমি আরো একটি নতুন পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি।
সুপ্রিয় বন্ধুগণ, নিজের পরিবারের পিতা-মাতা অথবা নিজের সন্তান যদি অসুস্থ থাকে তাহলে মনের মধ্যে সবসময় অশান্তি বিরাজমান থাকে। আবার নিজেদের আপন ভাই-বোন যদি অসুস্থ থাকে তাহলেও মনের মধ্যে বিশাল আকারে দুশ্চিন্তা এবং অশান্তি অনুভব হয়। তাই একজন অসুস্থ মানুষ একটি পরিবারের সকল সদস্যদের দুশ্চিন্তার কারণ। আর মনের মধ্যে যদি দুশ্চিন্তা কিংবা অশান্তি থাকে তাহলে এরকম অসুস্থ মন নিয়ে কোন কাজের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা অনেকটাই কঠিন। বর্তমানে আমার বাবার শারীরিক অসুস্থতার কারণে আমার দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ কার্যাবলী সম্পাদন করতে সত্যি আমি ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছি।
সুপ্রিয় বন্ধুগণ, আর গত ১২-১৩ দিন আগে আমার বাবার ডান পায়ের বুড়ো আঙ্গুলের পাশে সামান্য পরিমাণে কেটে গিয়েছিল। সেই কেটে যাওয়া স্থানটি বেশ ভালোভাবে পরিষ্কার করে স্যাভলন লাগিয়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু এতে কোন ফল হয়নি। আমার বাবার পায়ের বুড়ো আঙ্গুল কেটে যাওয়ার ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই তার ডান পায়ের হাঁটু পর্যন্ত ফুলে গিয়েছিল। শুধু তাই নয়, কেটে যাওয়া স্থানটি থেকে বেশ ভালো রকম পুঁজ ও রক্ত বের হচ্ছিল, আর এরকম অবস্থা দেখেই আমি অনুমান করতে পেরেছিলাম যে, বেশ ভালো রকম ইনফেকশন হয়ে গেছে। আর এরকম হওয়ার কারণ, আমার বাবা একজন ডায়াবেটিসের রোগী।
একই সাথে আমি বুঝতে পেরেছিলাম হয়তো আমার আব্বার শরীরে ডায়াবেটিসের মাত্রাটা বৃদ্ধি পেয়ে গেছে। তাই চলমান ফেব্রুয়ারি মাসের গত ০৫ তারিখে আমার আব্বাকে নিয়ে কুষ্টিয়া ডায়াবেটিস সেন্টারে গিয়েছিলাম। তারপর সেখান থেকে রক্তের সুগার পরীক্ষা করে দেখেছিলাম। খালি পেটে আমার আব্বার শরীরে রক্তের সুগার ছিল ১২ পয়েন্ট এর উপরে। যেটা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেকটাই বেশি। আব্বার শরীরে ডায়াবেটিসের মাত্রা বেশি থাকার কারণেই তার পায়ে খুব সহজেই ইনফেকশনটি হয়েছিল। তারপর ডাক্তার সাহেব আমার আব্বার পায়ের ইনফেকশন দেখে এক কথায় ভয়াবহ বলে উল্লেখ করলেন।
তারপর ডাক্তার সাহেব আমার আব্বার ডায়াবেটিসের বইয়ে অনেকগুলো ঔষধ লিখে দিলেন। বিশেষ করে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করার জন্য দিনে তিনবার ইনসুলিন দেওয়ার কথা লিখেছিলেন। সাথে অনেকগুলো মেডিসিনও লিখেছিলেন। একই সাথে ডাক্তার সাহেব লিখেছিলেন উচ্চমাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক। এন্টিবায়োটিকের নাম টেজো ২০০ মি.গ্রা., প্রতিটি অ্যান্টিবায়োটিকের মূল্য ২৮০ টাকা। নিশ্চয়ই বুঝতেই পারছেন কতটা উচ্চমাত্রার এন্টিবায়োটিক। এরকম মেডিসিন লেখার পাশাপাশি ডাক্তার সাহেব আমার আব্বার পায়ের কেটে যাওয়া স্থানটি প্রত্যেকদিন দুইবার করে ড্রেসিং করানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন।
একই সাথে ডাক্তার সাহেব আরো পরামর্শ দিয়েছিলেন যে, ইনফেকশন হয়ে যাওয়া ডান পা যেন আমার বাবা সব সময় তুলনামূলক উচু স্থানে রাখে অর্থাৎ আমার আব্বা যখন ঘুমোতে যাবে তখন তার ডান পায়ের নিচে একটি উঁচু বালিশ রাখতে হবে, আবার আমার আব্বা যখন চেয়ারে বসে থাকবে তখন যেন তার ডান পা টি আরো একটি চেয়ারের উপরে রাখে। একই সাথে হাঁটাহাঁটি করা থেকে বিরত থাকতে বলেছিলেন এবং ইনফেকশন হয়ে যাওয়া স্থানে যেন পানি কিংবা ময়লা-মাটি লেগে না যায় সেদিকে খেয়াল রাখতে বলেছিলেন।
এছাড়াও ডাক্তার সাহেব আরো অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছিলেন। ডাক্তার সাহেবের সকল পরামর্শ মেনে বাবাকে নিয়মিত ওষুধ খাওয়ায়েছি এবং যথার্থভাবে সেবা যত্ন করেছি। বর্তমানে আমার আব্বার শারীরিক অবস্থা কিছুটা উন্নতি হয়েছে এবং ইনফেকশনের মাত্রাটাও কমতে শুরু করেছে। আবার আগামীকাল ১১ ফেব্রুয়ারি আমার আব্বাকে নিয়ে কুষ্টিয়া ডায়াবেটিস সেন্টারে যাবো। আপনারা সকলেই দোয়া করবেন যাতে আমার আব্বা খুব দ্রুত সুস্থ হতে পারে এবং তার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারে।
আমার পরিচয়।
আমার নাম মোহাঃ নাজিবুল ইসলাম (বিদ্যুৎ)। আমি বাংলাদেশের নাগরিক এবং আমি অতিশয় ক্ষুদ্র জ্ঞানের একজন মানুষ। আমি মেহেরপুর জেলার ছোট্ট একটি গ্রামে বসবাস করি। আমি ২০২১ সালের আগস্ট মাসে আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটিতে কাজ শুরু করার মধ্য দিয়ে আমার স্টিমিট প্ল্যাটফর্মে যাত্রা শুরু হয়। আমার স্টিমিট আইডি নাম (#bidyut01). প্রথম প্রথম স্টিমিট প্ল্যাটফর্মের কাজ কিছুই পারতাম না। কিন্তু আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটির সম্মানিত ফাউন্ডার, এডমিন এবং মডারেটরদের সার্বিক সহযোগিতায় খুব সহজেই স্টিমিট প্ল্যাটফর্মের কাজ গুলো সম্পর্কে জানতে পারি ও শিখতে পারি। এরপর থেকে আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটি সম্পর্কে আমার এলাকাতে আমি ব্যাপকভাবে প্রচার করি। যার পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমানে আমার এলাকার অনেকেই এখন আমার বাংলা ব্লগ পরিবারের সদস্য। যাহোক, এখন আমার মাতৃভাষায় লেখালেখি করতে আমার খুবই ভালো লাগে। যদিও আমার প্রধান পেশা শিক্ষকতা এবং পাশাপাশি মাছের চাষাবাদ করা। আমার পরিবারের মোট সদস্য সংখ্যা ৮ জন। আমার পরিবারের প্রধান হলো আমার বাবা ও মা। আমার পছন্দের কাজ সমূহ হলো-ছবি অঙ্কন করা, যেকোনো জিনিসের অরিগ্যামি তৈরি করা, বিভিন্ন প্রকারের রেসিপি তৈরি করা, কবিতা লেখা, ভ্রমণ করা ও ফটোগ্রাফি করা। আর একটু সময় সুযোগ পেলেই পুরনো দিনের মুভি গুলো দেখতে আমি খুবই পছন্দ করি।
১০% বেনিফিসারী প্রিয় লাজুক খ্যাকের জন্য বরাদ্দ।
আমার নাম মোহাঃ নাজিবুল ইসলাম (বিদ্যুৎ)। আমি বাংলাদেশের নাগরিক এবং আমি অতিশয় ক্ষুদ্র জ্ঞানের একজন মানুষ। আমি মেহেরপুর জেলার ছোট্ট একটি গ্রামে বসবাস করি। আমি ২০২১ সালের আগস্ট মাসে আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটিতে কাজ শুরু করার মধ্য দিয়ে আমার স্টিমিট প্ল্যাটফর্মে যাত্রা শুরু হয়। আমার স্টিমিট আইডি নাম (#bidyut01). প্রথম প্রথম স্টিমিট প্ল্যাটফর্মের কাজ কিছুই পারতাম না। কিন্তু আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটির সম্মানিত ফাউন্ডার, এডমিন এবং মডারেটরদের সার্বিক সহযোগিতায় খুব সহজেই স্টিমিট প্ল্যাটফর্মের কাজ গুলো সম্পর্কে জানতে পারি ও শিখতে পারি। এরপর থেকে আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটি সম্পর্কে আমার এলাকাতে আমি ব্যাপকভাবে প্রচার করি। যার পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমানে আমার এলাকার অনেকেই এখন আমার বাংলা ব্লগ পরিবারের সদস্য। যাহোক, এখন আমার মাতৃভাষায় লেখালেখি করতে আমার খুবই ভালো লাগে। যদিও আমার প্রধান পেশা শিক্ষকতা এবং পাশাপাশি মাছের চাষাবাদ করা। আমার পরিবারের মোট সদস্য সংখ্যা ৮ জন। আমার পরিবারের প্রধান হলো আমার বাবা ও মা। আমার পছন্দের কাজ সমূহ হলো-ছবি অঙ্কন করা, যেকোনো জিনিসের অরিগ্যামি তৈরি করা, বিভিন্ন প্রকারের রেসিপি তৈরি করা, কবিতা লেখা, ভ্রমণ করা ও ফটোগ্রাফি করা। আর একটু সময় সুযোগ পেলেই পুরনো দিনের মুভি গুলো দেখতে আমি খুবই পছন্দ করি।
X-promotion link
আজকের কাঝ সম্পন্ন
ডায়াবেটিস কঠির রোগ ভাই। এটা যাকে ধরে তার অবস্থা খারাপ। তবে বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষের ডায়াবেটিস দেখা যায়। আপনার বাবাকে সাবধানে চলাফেরা করতে বলবেন। আপনার বাবার সুস্থতা কামনা করি।