২২ভাদ্র , ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
০৬সেপ্টেম্বর , ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
৯সফর , ১৪৪৩ হিজরী
মঙ্গলবার।
শরৎকাল ।
আসসালামু আলাইকুম,আমি মোঃআলী, আমার ইউজার নাম @litonali।আমি বাংলাদেশ থেকে। আশা করি আপনারা সবাই ভালো আছেন। আলহামদুলিল্লাহ আমি আপনাদের দোয়ায় ভালো আছি। মাতৃভাষা বাংলা ব্লগিং এর একমাত্র কমিউনিটি [আমার বাংলা ব্লগ] এর সবাইকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দনজানিয়ে আমার আজকের পোস্ট শুরু করছি

আমার বাংলা আশা করছি আপনারা সবাই ভাল আছেন আমিও সৃষ্টিকর্তার অশেষ কৃপায় ভালো আছি।। ভালো থাকাটা এখন আমাদের মাত্র সময়ের ব্যাপার।। পরিবেশ পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে উঠেছে যে ভালো না থাকলেও আমরা সবাই এখন ভালো থাকার অভিনয় করে যাচ্ছি।। কেউ একজন বলেছিল পৃথিবীটা নাট্যমঞ্চ আমরা সবাই অভিনেতা।। এখন চারিদিকে তাকালে ঠিক তেমনটাই দেখতে পাচ্ছি বিশেষ করে মধ্যবিত্ত এবং নিম্ন মধ্যবিত্তরা যেন কাঠের পুতুল হয়ে যাচ্ছে দিনদিন।। যখনই আয়ের থেকে ব্যয়টা বেশি হয়ে যায় তখনই মানুষের দেয়ালে পিঠ ঠেকে যায়।। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এতটাই বৃদ্ধি যে একটা জিনিস করাই করতে গেলে ৩-৪ বার ভেবে তারপরে সেটা কিনতে হচ্ছে।। আজকে কি খালাম আগামীকাল কি খাবো সেটাও এখন যেন বলা দুষ্কর হয়ে উঠেছে।। থাক সেসব কথা বলে আর কি হবে সবই ভাগ্যের নির্মম পরিহাস। আজ আমি আপনাদের মাঝে তুলে ধরব কিছু ফটোগ্রাফি এবং জয়দেবপুর রেলওয়ে স্টেশনে কাটানো সময়ের কিছু অনুভূতি।। |



ট্রেন জার্নি করতে বরাবরই আমার খুব ভালো লাগে। সময় থাকলে বা শিডিউল পেলে ট্রেন জার্নি করতে আমি ভুলি না। বাসে যাননি একদমই করতে পারিনা প্রচুর আকারে বমি হয়।। অনেকদিন হলো বাড়ি থেকে এসেছি অফিস থেকে চার দিনের ছুটি নিয়েছি বাড়ি যাব বলে।। তাইতো অগ্রিম টিকিট কাটার জন্য গিয়েছিলাম জয়দেবপুর রেলওয়ে স্টেশন।। ট্রেন আসা ঠিক আগ মুহূর্তে ওভার ব্রিজের উপর উঠে এই ফটোগ্রাফি গুলা ক্যামেরাবন্দি করেছি আশা করছি আপনাদের কাছে ভালো লেগেছে।। |

স্টেশনে বসবাসকৃত লোকজন এবং ব্যবসাহিক যারা আছেন তাদের তুলনায় আমার মনে হয় সৃষ্টিকর্তা আমাদেরকে অনেক ভালো রেখেছেন।। তারা দুবেলা দুমুঠো খাবারের জন্য স্টেশনের যাত্রীর মুখের দিকে চেয়ে থাকে। উপরের ছবিটা আপনারা দেখতে পাচ্ছেন দামটা খুবই করা 80 টাকা কেজি যেটা এর পূর্বে আমি কখনো দেখিনি।। দোকানদারের কাছে জিজ্ঞেস করতেই তিনি বলে উঠলো মামা এখন আর আগের মত বিক্রি হয় না দামটা অনেক বেশি।। আমি বললাম আপনার সংসার টা চলে কিভাবে।। তিনি একটি দীর্ঘশ্বাস ফেলে একটা কথাই বললেন সব উপরওয়ালার ইচ্ছায়।। আসলে বাহিরে ঘুরে বাহিরের পরিবেশ পরিস্থিতি না দেখলে বোঝা মুশকিল কিভাবে লোকজন জীবন যাপন করছে এই প্রতিকূল পরিবেশে।। |


কি আর বলব আগেও বলেছি আপনাদেরকে আমি খুবই ভজন রসিক একজন মানুষ।। যখন যেটা মন চায় রেসিপি প্রস্তুত করে খেয়ে আপনাদের সাথে শেয়ার করি।। স্টেশনে উড়তেই নাকে ভেজে আসলো সুঘ্রাণ।। সামনের দিকে তাকাতেই দেখি একজন বিক্রি করছে ভুনা করা ছোলা।। ছোলা ভুনা দেখে লোভ সামলানো মুশকিল তাইতো ঝটপট আমি আর আমার রুমমেট খেয়ে নিলাম দু প্লেট খুব মজা ছিল।। |



একটু সামনের দিকে এগোতেই দেখি আলুর চপ বেগুনের চপ সিঙ্গারা পুরি বিক্রি করছে।। চারিদিকে অনেক লোকের ভিড় সবাই কেনা এবং খাওয়াই ব্যস্ত।। আমি যে কদিন স্টেশনে গিয়েছি একদিনও এই মামার দোকান থেকে ফাস্টফুড না খেয়ে এসেছি আমার মনে পড়ে না।। দামে কম মানে ভালো খেতে অনেক সুস্বাদু।। কি আর করার টিকিট একটু পরেই কাটি আগে খেয়ে নেই।। খুবই মজা ছিল দুজনে বেশ কটা ঝটপট খেয়ে নিলাম।। |

এরপর গেলাম টিকিট কাটতে লাইনে দাঁড়ালাম কিউট কাউন্টার পর্যন্ত পৌঁছাইলাম।। বললাম একটা টিকিট লাগবে চিত্রা এক্সপ্রেস জয়দেবপুর টু কুষ্টিয়া।। টিকিট কাউন্টারের মাস্টার চেক দিয়ে বলল এক ঘন্টা পরে আসুন সার্ভার।। এই এক ঘন্টা সময় তো কাটাতে হবে, তাই স্টেশনের এপাশ ওপাশ ঘুরতে থাকলাম।। উপরের ছবিতে আপনারা দেখতে পাচ্ছেন আমরা কেটে সুন্দর করে ফুলের মত সাজিয়ে রেখেছে।। দেখে খুব লোভ হচ্ছিল টক জিনিস বলে কথা দুজন দুটা নিয়ে চিবুতে থাকলাম আর টাইম দেখতে থাকলাম।। |

অবশেষে এক ঘন্টা পরে পুনরায় আবার লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট ক্রয় করলাম জয়দেবপুর টু পুরাদহ রেলওয়ে স্টেশন । বাংলাদেশের প্রথম রেলওয়ে স্টেশন ও আমাদের কুষ্টিয়ায় জগতি স্টেশন যা ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণ অক্ষরে লেখা রয়েছে।। তাছাড়া বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রেল রুট জয়দেবপুর টু খুলনা।। ৩৬০ টাকা টিকিটের মূল্য নিল ভ্রমণ করতে হবে রাত আটটা থেকে রাত একটা পর্যন্ত।। এই ছিল আমার আজকে স্টেশন ভ্রমণের কাহিনী এবং টিকিট কাটা আশা করছি আপনাদের কাছে ভালো লাগবে।। আমার তুলে ধরা টিকিট কড়ায়ের সামান্য অভিজ্ঞতা।। |
ডিভাইসঃ Redmi Note 5
জয়দেবপুর রেলস্টেশনে কাটানোর চমৎকার কিছু মুহূর্ত আজকে আপনি আমাদের মাঝে শেয়ার করলেন ভাইয়া। আসলে ভাইয়া আমিও আপনার মত অনেকটাই ভোজন রসিক যেখানে খাবার দেখি খেতে শুরু করে দেই। এটা আপনি একদম ঠিক কথা বলেছেন ভাইয়া বিক্রেতা গুলো দুমুঠো ভাতের জন্য যাত্রীদের মুখের দিকে চেয়ে থাকে কখন তাদের পণ্যগুলো কিনবে।
ঠিকই বলেছেন ভাইয়া আমি জয়দেবপুর রেলওয়ে স্টেশনে খুব সুন্দর সময় অতিবাহিত করেছিলাম সেই সাথে কিছু ফটোগ্রাফি আপনাদের মাঝে তুলে ধরেছি আপনার ভালো লেগেছে মনে হচ্ছে এখন আমার পোস্ট সার্থক।।
আপনি ঠিক বলেছেন মধ্যবিত্ত এবং নিম্ন মধ্যবিত্তরা যেন কাঠের পুতুল হয়ে যাচ্ছে দিনদিন।জয়দেবপুর রেলওয়ে স্টেশনে কাটানো একটি সন্ধ্যা পড়ে অনেক ভালো লাগল। বিশেষ করে আলুর চপ বেগুনের চপ সিঙ্গারা পুরি বিক্রি করা দেখে। আপনার জন্য শুভকামনা রইল।
আমি একজন মধ্যবিত্ত ঘরের ছেলে আমি মোটামুটি বাবার সংসার চালানোর হাল-হাকিকত দেখে কিছুটা হলেও অনুধাবন করতে পারি আসলে পরিবেশ পরিস্থিতিটা কেমন চলছে।।
ভাইয়া দেখছি তো জয়দেবপুর রেলস্টেশনে খুব ভালো সময় কাটিয়েছেন। পোস্টটি পরে এবং দেখে বুঝলাম আসলেই আপনি খুব ভোজন রসিক মানুষ। সবগুলো শুধু খাবারের ছবি। অবশ্য এসব খাবার দেখলে সবারই খুব লোভ লাগে। প্রত্যেকটা খাবারের ফটোগ্রাফি খুবই সুন্দর ছিল ভাইয়া। তবে আপনি ঠিক বলেছেন নিম্ন মধ্যবিত্ত মানুষদের সত্যিই দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে কোন কিছু কিনতে কয়েকবার ভেবে কিনতে হয়। আপনার লেখাগুলো পড়ে খুব ভালো লাগলো ধন্যবাদ ভাইয়া সুন্দর একটি পোস্ট আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
শুধু খাওন আর খাওন লাগবে পেটে জায়গা এবং পকেট ভর্তি টাকা।। যাহোক খাবার দেওয়ার দেখলে একটু লোভ কমই সামলাতে পারি খাবারগুলা খাইতেও মজা।। ধন্যবাদ আপু সুন্দর মন্তব্য করে সাথে থাকার জন্য।।
এটা জগতি স্টেশন হবে ভাই। বাংলাদেশের প্রথম রেলওয়ে স্টেশন এটা। ট্রেন জার্নি আমারও ভালো লাগে। তবে আমি ঐ পোড়াদহ পর্যন্তই গিয়েছি।।
অসংখ্য ধন্যবাদ ভাইয়া ভুলটি ধরিয়ে দেওয়ার জন্য আসলে বানানের সমস্যা এর কারণে এরকমটি হয়েছে আশা করি পরবর্তীতে এই বিষয়গুলোতে সবসময় লক্ষ্য রেখে পোস্ট করব
সত্যি কথা বলতে বর্তমানে দ্রব্যমূল্যের উদ্দোগ গতিতে ভালো থাকাটা কঠিন ব্যাপার। রেল ইস্টিশনের ফটোগ্রাফি গুলো অত্যন্ত ভালো হয়েছে সাথে বিবরণ গুলো খুবই সুন্দর হয়েছে। আপনার জন্য অনেক অনেক শুভকামনা রইল।
স্বল্প আয়ে স্বল্প খরচ হলে মোটামুটি সংসার টা চালানো যায় কিন্তু স্বল্প আইয়ে যখনই খরচটা বেশি হয় তখনই তো দুর্ভোগটা শুরু হয়ে যায় বর্তমান পরিবেশ পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে ১০০০ টাকা নিয়ে বাজারে গেলে যা করাই করা হয় ব্যাগই ভরেনা
বর্তমানে দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন বাজারের সবাই দিশেহারা। আপনার ফটোগ্রাফি গুলো অনেক সুন্দর হয়েছে। আপনার যাত্রা শুভ হোক। ধন্যবাদ আপনাকে।
মানুষ দিশেহারা হত না যদি দ্রব্যমূল্যের দামের সাথে সাথে মানুষের আয়ের উৎসটাও বেড়ে যেত মোটকথা হচ্ছে আমাদেরকে এর মধ্যে দিয়েই জীবন ধারণ করতে হবে তাছাড়া কোন উপায় দেখছি না