"চড়ক পূজা দেখার অভিজ্ঞতা"
হ্যালো বন্ধুরা,
আপনারা সবাই কেমন আছেন? আশা করি,আপনারা সবাই ভাল আছেন সুস্থ আছেন আজ আমি চড়ক পূজার দেখার কিছু অভিজ্ঞতা আপনাদের মাঝে উপস্থাপন করছি তাই বিলম্ব না করে আমার পোস্ট লেখাটি শুরু করছি।
বেশ কিছুদিন আগে আমি দুপুরের খাওয়া দাওয়া শেষ করে রুমে গিয়ে গুনগুন করে গান করছি হঠাৎ আমার ফোনে ফোন এলো ।ফোনটা হাতে নিতেই দেখতে পেলাম আমার বন্ধু ফোন করেছে সাথে সাথে রিসিভ করে হ্যালো বলতে সে আমাকে বলে উঠলো কিরে তুই কি তৈরি হয়েছিস? আমি উত্তর দিলাম না আর এখন তৈরি হয়ে কোথায় যেতে হবে এখনো তো সূর্যের অনেক তাপ রয়েছে বাইরে । আমার বন্ধু আমাকে ধমক দিয়ে বলল কেন রে আগের দিন রাতেই তো তোকে বললাম চড়ক পূজা দেখতে যাব। তুইও বললি যে হ্যাঁ যেতে হবে আর এখন বলছিস এমন কথা ঠিক আছে তোর আর যেতে হবে না এই বলে ফোনটা রেখে দিল। সত্যি কথা বলতে আমারও মনে ছিল না যে আমি যাওয়ার কথা বলেছিলাম। আমি আবার আমার বন্ধুকে ফোন করি ফোনটা রিসিভ করতেই আমি ওকে বললাম আমি তাড়াতাড়ি তৈরি হয়ে নিচ্ছি তুইও তৈরি হয়ে নে।
আমি তাড়াতাড়ি তৈরি হয়ে আমার বন্ধুর বাড়িতে চলে গেলাম ।বন্ধুর বাড়িতে মেয়ে দেখলাম বন্ধু এখনো সাজুগুজু শেষ করে পারিনি। মনে মনে ভাবলাম এই এই হলো বন্ধুকে বোকা দেওয়ার উত্তম সুযোগ তাই সুযোগের সদ ব্যবহার করলাম। যাইহোক একটু পরে আমরা দুজনে বাইকে করে চড়ক পূজা দেখার উদ্দেশ্যে রওনা হলাম। আমরা যে স্থানে চড়ক পূজা দেখতে যাচ্ছে গাড়িতে গেলে ২৫ মিনিটের মতো সময় লাগে। গাড়িতে চড়ে খুবই ভালো লাগছিল কারণ গ্রামের মধ্যে আঁকাবাঁকা রাস্তা দিয়ে প্রকৃতির ছোঁয়া পেতে পেতে পৌঁছে গেলাম চড়ক পূজা স্থানে।
যে দেখতে পেলাম চড়ক পূজা এখনো শুরু হয়নি তাই ভাবলাম বাজার থেকে কিছু খাবার খেয়ে আসা যাক। মিথ্যা কথা বলা হয়নি এই পূজাতে এখানে মেলা বসেছে যেটি বৈশাখী মেলা নামে পরিচিত। যাই হোক যেই ভাবা সেই কাজ সাথে সাথে চলে গেলাম বাজারে।দেখতে পেলাম অনেক খাবারের দোকান এসেছে কসমেটিকের দোকান এসেছে। আমি আর ওদিকে গেলাম না যেহেতু গরম পড়েছিল তাই ভাবলাম একটু শরবত খাওয়া যাক কারণ আমরা সবাই জানি গরমের দিনের শরবত শরীরের জন্য কতটা উপকার।
তারিখ:১৪.০৪.২০২৩
সময়:৩.৪৫মিনিট
স্থান: কালেখার বেড়
শরবত খাওয়ার পর আরও কিছু সময় বাজারে ঘুরাঘুরি করলাম। একটু পরে পূজা শুরু হয়ে গেল বাজার থেকে স্থানটিতে যেতে যেতে দেখতে পেলাম প্রচুর লোকের ভিড় জমে গিয়েছে। আমি একটি নিরাপদ স্থানে দাঁড়িয়ে পূজা দেখতে লাগলাম। আমার জীবনের প্রথম এই চড়ক পূজায় দেখা ।আমি লোকের মুখে শুনেছি এই পূজার কথা কিন্তু কোনদিন সরাসরি দেখতে পারিনি তাই আজ সরাসরি এই পূজা দেখতে পেয়ে আমার খুব ভালই লাগছিল। কিন্তু আমার ভয়ও করছিল কারণ বড় একটি গাছের উপর দড়ি টানিয়ে তাতে বসির মতন একটি বস্তু মানুষের শরীরে ফুটিয়ে একটি মানুষ ঝুলে রয়েছে। আর নিচ থেকে এই গাছটি অনেক মানুষ ঘুরাছিল আর ব্যক্তিটি চারিপাশে ঘুরছিল আমার খুবই ভয় করেছিল কারণ কখন জানি এই মানুষটি চামড়া ছিড়ে মাটিতে পড়ে যায়।
ক্যামেরা পরিচিতি: oppo
ক্যামেরা মডেল:oppo A53s 5G
ক্যামেরা দৈর্ঘ্য :3.37mm
তারিখ:১৪.০৪.২০২৩
সময়:৪.৩৫মিনিট
স্থান:কালেখার বেড়
দেখতে খুবই ভালো লাগছিল কিন্তু ভয় ভয় করছিল আমার বন্ধুকে আমি জিজ্ঞাস করি এমনটা কি করে করতে পারে মানুষ। বন্ধু উত্তর দেয় এটি করতে হলে অনেক দিনের সাধনা করতে হয় শরীরটাকে তৈরি করতে হয় আর সৃষ্টিকর্তার উপর বিশ্বাস রাখতে হয়। আমরা আরো কিছু সময় এটি দেখার পর আমরা বাড়িতে যাওয়ার জন্য তৈরি হয়ে নিলাম।