বন্ধুর সাথে পদ্মার পাড়ে কিছুটা সময়।
কয়েকটা দিন আকাশ মেঘলা থাকার পর গতকাল থেকে আবার প্রচন্ড গরম পড়া শুরু হয়েছে। তার আগের বেশ কয়েকটা দিন কিছুটা স্বস্তিতে ছিলাম। এমনিতেই বিদ্যুতের অবস্থা খুবই খারাপ। তার ভেতরে গরম বেড়ে যাওয়ায় বেশ অশান্তিতে আছি বলা যায়। এর ভেতরে গতকাল গিয়েছিলাম ফুটবল খেলা দেখতে। কিন্তু প্রচণ্ড গরমে খেলা বেশিক্ষণ দেখতে পারিনি। শেষ পর্যন্ত গরমে অস্থির হয়ে আমি আর বন্ধু ফেরদৌস মিলে ঠিক করলাম নদীর পাড় থেকে ঘুরে আসি। কারণ বিকালের দিকে নদীর পাড়ে মৃদু বাতাস বইতে থাকে। এই সময়টা নদীর পাড়ে কাটাতে বেশ ভালই লাগে।
আমরা গতকালকে গিয়েছিলাম অন্য একটি এলাকায়। সেখান থেকে আমরা চিন্তা করলাম হাজীগঞ্জ বাজারে যাই। হাজিগঞ্জ বাজারটা একদম নদীর পাড়ে অবস্থিত। সেখানে গেলে সেখানকার বিখ্যাত দই খেয়ে আসা যাবে। সাথে নদীর পাড়েও বেশ কিছুটা সময় কাটানো যাবে। যাইহোক পরিকল্পনা করার সাথে সাথেই আমরা দুই বন্ধু রওনা দিলাম হাজীগঞ্জের উদ্দেশ্যে। সেখানে যাওয়ার রাস্তাটিও খুবই সুন্দর। এই রাস্তায় চলাফেরা করতে আমরা খুবই পছন্দ করি। কারণ বেশিরভাগ জায়গায় রাস্তার দুপাশে গাছ দিয়ে রয়েছে। সেই গাছের ছায়ায় রাস্তাগুলো সবসময় ঠান্ডা থাকে। এই ধরনের রাস্তা দিয়ে চলতে সবারই ভালো লাগে।
রওনা দেয়ার অল্প কিছুক্ষণের ভেতরেই আমরা হাজীগঞ্জ পৌঁছে গেলাম। সেখানে পৌঁছে আমরা সরাসরি চলে গেলাম নদীর পাড়ে। নদীর পাড়ে গিয়ে দেখতে পেলাম আরো কিছু লোকজন সেখানে ঘুরতে এসেছে। যদিও সংখ্যায় তারা খুব বেশি নয়। কিন্তু আমাদের মত বিকাল বেলায় নদী পাড়ে সৌন্দর্য উপভোগ করার মত আর কিছু লোককে সেখানে দেখে ভালো লাগলো। হাজীগঞ্জ ঘাটে দেখলাম আছে বেশ কিছু ট্রলার ভেড়ানো আছে। তার ভেতরে যাত্রীবাহী ট্রলার যেমন আছে তেমনি পন্যবাহী ট্রলার ও আছে।
যাই হোক সেখানে নদীর পাড়ে আমি আর ফেরদৌস দাড়িয়ে নদীর সৌন্দর্য উপভোগ করতে লাগলাম। সাথে চলতে লাগলো ছবি তোলা। বিকালের সময়টা নদীর পাড়ে নিরিবিলি কাটাতে আসলেই বেশ ভালো লাগে। মনটা প্রশান্তিতে ছেয়ে যায়। সেখানে নদীর পাড়ে বেশ কিছুক্ষণ সময় কাটানোর পর আমরা হাজিগঞ্জ বাজারের ভেতর গেলাম। কারন সেই বাজারের একটি মিষ্টির দোকান থেকে ফেরদৌস কিছুদিন আগে মিষ্টি খেয়েছিলো। সেই মিষ্টি তার খুব ভালো লেগেছিলো। বাজারে গিয়ে প্রথমে সেই দোকান থেকে গরম গরম মিষ্টি খেলাম।
মিষ্টি খাওয়া হলে আমরা তখন ঝাল কিছুর খোঁজে বাজারের ভেতর ঘুরতে লাগলাম। কিছুক্ষণ খোঁজাখুঁজির পরই একটি দোকানে গরম গরম সিঙ্গারা, চপ এগুলি পেয়ে গেলাম। গরম সিঙ্গারা খেতে সবারই ভালো লাগে। আমরা দুই বন্ধু সেই দোকানের প্রত্যেকটি আইটেম দু-একটি করে খেয়ে টেস্ট করে দেখলাম। দেখলাম প্রত্যেকটির স্বাদই ভালো।
খাওয়া-দাওয়া শেষ হলে আমরা বাজারের অন্য একটি দোকানে গেলাম যেখান থেকে আমরা দই খেয়ে থাকি। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সেখানে গিয়ে দোকানটি বন্ধ পেলাম। শুক্রবার সাধারণত বাজারে অনেক দোকানপাট বন্ধ থাকে। সেই জন্যই হয়তো দোকানটি বন্ধ রয়েছে। যাই হোক কি আর করা ইতিমধ্যে প্রায় সন্ধ্যা হয়ে এসেছে। আমরা বাড়ির দিকে ফিরতে লাগলাম।
আজকের মত এখানেই শেষ করছি। পরবর্তীতে আপনাদের সাথে দেখা হবে অন্য কোন নতুন লেখা নিয়ে। সে পর্যন্ত সবাই ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন।
কি ভালো তাই চাইলেই নদীর পাড়ে নিরিবিলি সময় কাটানো যায় বন্ধুর সাথে।যাই হোক বেশ সুন্দর সুন্দর ছবি তোলেছেন।মিষ্টি খেয়ে ঝাল বোশ ভালোই তো।আবার দই ও খেতেন😜।আসলেই দুর্ভাগ্য ছিলো।ধন্যবাদ
এত দূর থেকে কোন কিছু খাওয়ার জন্য গিয়ে যদি সেটা না পাওয়া যায়। তখন মেজাজটা আসলেই খারাপ হয়ে যায়।
বন্ধুদের সাহায্যে নদীর পাড়ে খুবই সুন্দর সময় পার করেছেন। আসলে বন্ধুদের সাথে মুহূর্তগুলো অসাধারণ লাগে। তার পরে আপনারা সিঙ্গারা খেয়েছেন এবং শেষমেষ দই জন্য দোকানে যান কিন্তু শুক্রবার থাকার কারণে দোকানটি বন্ধ ছিল। যাইহোক মুহূর্তে অনেক আনন্দের ছিল।
বন্ধু বান্ধবের সাথে এই ধরনের ঘোরাফেরার মুহূর্তগুলো আসলেই বেশ উপভোগ করি।
নদীর পাড়ে দেখছি অনেক সুন্দর সময় কাটিয়েছেন। তার সাথে অনেক সুন্দর সুন্দর কিছু ফটোগ্রাফিও করেছেন। ঝাল কিছু খেতে দেখছি খাওয়ার ও পেয়ে গেলেন। সিঙ্গারা দেখতে মনে হচ্ছে বেশ ভালো হয়েছে খেতে। সবকিছুই ভালো লেগেছে।
গরম গরম সিঙ্গারা গুলো খেতে আসলেই অনেক মজার ছিলো।
বিকেল সময়টা এমনিতেই অনেক সুন্দর। আর সারাদিনের কর্মব্যস্ততা শেষে নদীর ধারে এরকম নিরিবিলি পরিবেশে কিছুক্ষণ বসতে পারলে আসলেই প্রশান্তি পাওয়া যায়। চপ গুলো দেখে তো লোভ লেগে গেল ভাইয়া। দই খেতে পারেননি ভালই হয়েছে, কারণ দই এর ছবি দেখলে আরো বেশি লোভ লেগে যেত।😜
তবে ওখানকার দইটা খেতে বেশ মজা লাগে। দই গুলো ফ্রিজে রাখা থাকে। যার ফলে ঠান্ডা দই এই গরমের ভিতর খেতে পারলে ভালোই লাগতো।
আসলে ভাই ঠিকই বলেছেন এর আগে কয়েক দিন বৃষ্টি হয়েছিল যেকারনে আবহাওয়াটা খুবই ভালো ছিল। কিন্তু দুদিন ধরে বেশ গরম পড়ছে। আর এগুলা আসলে অসহ্যকর হয়ে পড়ছে। আপনি এই গরমে নদীর পাড়ে বিকেলবেলা মৃদু বাতাস খাইতে বন্ধুর সাথে বেরিয়েছিলেন ভালো সময় কাটিয়েছেন বোঝাই যাচ্ছে।
প্রচন্ড গরমের ভেতরে বিকালে নদীর পাড়ে মৃদু মন্দ বাতাসে সময়টা আসলেই বেশ ভালো কাটিয়েছি।
ঠিক বলেছেন ভাই আপনি বিকেলের সময় টা নদীর পাড়ে নিরিবিলি কাটাতে আসলে বেশ ভালই লাগে কিন্তু আপনার সাথে আপনার বন্ধু ছিল তাই আপনার আরো বেশি ভালো লেগেছে। আসলে আপনারা যখন হবিগঞ্জ বাজারে গিয়ে মিষ্টি খেয়েছিলেন ওই ছবিগুলো দেখতে আমার কাছে অনেক ভালো লেগেছে।
হবিগঞ্জ না হাজীগঞ্জ। মিষ্টি গুলো আসলেই বেশ মজার ছিলো।
বন্ধুর সাথে কাটানো সময় ,বেশ ভালোই কাটে । আর বিকেলে নদীর পাড়ে মৃদু বাতাস ও কিন্তু মন্দ নয় । তবে দই খেতে না পারাটা তেমন কিছু নয় ।অন্য কোনদিন খেয়ে নিবেন । অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া । সুন্দর একটি বিকেল কাটিয়ে, আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য ।
এই পরিকল্পনাই করেছি। পরে কোন একদিন গিয়ে দই খেয়ে আসবো।
বন্ধুদের সাথে ঘোরাফেরা আর খাওয়াদাওয়ার অনুভূতির মত সুন্দর অনুভূতি খুব কমই আছে।আর ঘোরার জায়গা টা যদি হয় এরকম সুন্দর কোন জায়গা তবে সেই সুন্দর অনুভূতি অনেক গুণে বেড়ে যায়। আর গরম মিস্টির স্বাদ টা অনেকেই জানেনা।যারা জানে তারা এর প্রেমে পড়ে যাবে।ধন্যবাদ আপনার অনুভূতি শেয়ার করার জন্য।
ঠিকই বলেছেন এই গরম মিষ্টির একটা অন্যরকম স্বাদ আছে। যারা কখনো খায়নি তারা সেটা বুঝতে পারবে না।
হ্যা ভাইয়া।কতবার যে জিহবা পুড়াইছি।তাও বাদ দিতে পারি না।