দুই বন্ধুর ঘোরাফেরা।
সেদিন পদ্মবিলে যাওয়ার আগে আমি আর আমার বন্ধু অন্য একটি জায়গায় কিছুক্ষণের জন্য থেমেছিলাম। সেই জায়গাতে একটি বাড়ি আছে। যে বাড়িটি আমাদের শহরের ভেতর সবচাইতে সুন্দর বাড়ি। যদিও বাড়িটিকে ঠিক শহরের ভেতর বলা যায় না। কারণ শহরের একটু বাইরে অবস্থিত এই বাড়িটি। এটা ছিলো শহরের অন্যতম ধনী এবং প্রভাবশালী এক রাজনৈতিক ব্যক্তির বাড়ি। কিন্তু সেই ব্যক্তি বিভিন্ন সমস্যার কারণে এখন আর এলাকায় আসতে পারে না। যার ফলে তার বাড়িটি এখন দর্শনার্থীদের ঘোরাফেরার একটি জায়গায় পরিণত হয়েছে।
এই বাড়িটির গল্প অনেকের কাছে শুনেছিলাম। কিন্তু আমার কখনো সেখানে যাওয়া হয়নি। তাই চিন্তা করলাম পদ্ম বিলে যাওয়ার আগে একবার সেই বাড়ি থেকে ঘুরে যায়। কারণ সেই বাড়িটি আমাদের রাস্তার মধ্যেই পড়বে। তাই সেখানে আর আলাদা করে যাওয়ার প্রয়োজন হবে না। পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক আমরা প্রথমে সেই বাড়িতে গিয়ে উপস্থিত হলাম। সেখানে গিয়ে দেখি আমাদের মত আরও অল্প কিছু দর্শনার্থী সেখানে এসেছে। যদিও আমরা যখন গিয়েছিলাম তখনও মানুষজন আসা শুরু হয়নি। শুনেছি বিকালের দিকে নাকি বেশ মানুষজন সেখানে ঘুরতে যায়।
যাই হোক আমরা সেই বাড়িতে প্রবেশ করতেই দেখতে পেলাম বাড়িটি চমৎকার করে সাজানো গোছানো। গেট দিয়ে ঢুকতেই হাতের বামে দেখতে পেলাম একটি ছোট বাগান রয়েছে। সেই বাগানে বেশ কিছু আম গাছ রয়েছে। আর সে আম গাছগুলোর চারপাশ দিয়ে বিভিন্ন প্রজাতির সৌন্দর্য বর্ধনকারী গাছ লাগানো রয়েছে। একটু আগাতেই মূল বাড়িটি দেখতে পেলাম। বাড়ির দরজা জানালা সব বন্ধ ছিলো। দেখেভ বোঝা যাচ্ছিল এখন কেউ থাকে না বাড়িটিতে। দেখলাম কয়েকটা ছেলে বাড়ির সামনে সেলফি তোলায় ব্যস্ত।
সামনে থেকে কিছুক্ষণ দেখে আমরা বাড়ির পিছন দিকে গেলাম। যাওয়ার পথে বেশ বড় একটি শেড দেখতে পেলাম। শুনেছি সেখানে আমন্ত্রিত অতিথিদেরকে আপ্যায়ন করা হতো। আরো একটু আগাতে দেখতে পেলাম বাড়ির ঠিক পেছনে একটি পুকুর রয়েছে। সেই পুকুরের ভেতরে বসে গল্প করার মত সুন্দর একটি জায়গা তৈরি করা হয়েছে। এই পুকুরটির পরেই দেখলাম একটি ছোট্ট চিড়িয়াখানা। যদি এখন সেখানে খুব বেশি প্রাণী নেই। তবে আমরা সেখানে উটপাখি, ময়ূর, হরিণ এবং আরো কয়েক রকমের পাখি দেখতে পেলাম। শুনেছি একসময় এই চিড়িয়াখানায় চিতাবাঘ ছিলো।
চিড়িয়াখানার সীমানা শেষ হলে তারপর দেখতে পেলাম একটি গরুর ফার্ম রয়েছে। সেই ফার্মে বিশাল আকৃতির বেশ কিছু অস্ট্রেলিয়ান গরু রয়েছে। বাড়িতে ঘুরেফিরে মনে হলো লোকটি বেশ সৌখিন ছিলো। কিন্তু রাজনৈতিক সমস্যার কারণে এখন লোকটি আর এলাকায় আসতে পারে না। যার ফলে বাড়িটি এক প্রকার পরিত্যক্ত হিসেবে পড়ে রয়েছে। যদিও সেটি দেখাশোনা করার জন্য বেশ কিছু লোক সেখানে আছে। চিন্তা করে দেখলাম একদিক থেকে ভালোই হয়েছে। কারণ আগে এখানে শুধু শহরে রাজনীতি করার লোকজনেরা আসতো। এখন সাধারণ জনগণের একটি ঘোরার জায়গা হয়েছে। বাড়িটি ঘুরেফিরে দেখে বেশ ভালই লাগলো।
আজকের মত এখানেই শেষ করছি। পরবর্তীতে আপনাদের সাথে দেখা হবে অন্য কোন নতুন লেখা নিয়ে। সে পর্যন্ত সবাই ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন।
| ফটোগ্রাফির জন্য ব্যবহৃত ডিভাইস | হুয়াই নোভা 2i |
|---|---|
| ফটোগ্রাফার | @rupok |
| স্থান | বদরপুর |
Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
বাহ বেশ সুন্দর জায়গা তো। চিড়িয়াখানা ছোটো খাটো হলেও বেশ সুন্দর, পরিবেশ বেশ মনোরম।
জায়গাটা আমারও খুব পছন্দ হয়েছে।
তিনি না আসুক, অন্তত সাধারণ মানুষের ঘোরা ফেরার একটা জায়গা ও দর্শনীয় স্থান হয়েছে এটা বেশ ভালো লাগলো শুনে। তাছাড়া আপনি খুব ভাবে ছবি গুলো ক্যাপচার করেছেন। ধন্যবাদ দাদা।
একেই বলে দাদা কারো পৌষ মাস কারো সর্বনাশ। হা হা হা
বাড়ির ভিতরে এতো কিছু। সত্যি দারুণ ছিল। গরুর খামার থেকে শুরু করে চিড়িয়াখানা সবই যেন রয়েছে। বাড়ির কারুকার্য বেশ সুন্দর। দর্শনার্থীদের পরিদর্শনের জায়গা হলো তাহলে বাড়িটি। আপনারা উপভোগ করেছেন ঘুরাঘুরি করে ভাইয়া।
সময়টা আসলেই বেশ উপভোগ করেছি।
ভাইয়া অনেক সুন্দর একটি জায়গা ভ্রমণ করেছেন আপনি। জায়গাটি দেখে মনে হচ্ছে খুবই মনোরম, সবুজ প্রকৃতি। চিড়িয়াখানাগুলো দেখতেও বেশ ভালো লাগলো। আপনার ভ্রমণকৃত জায়গার গরুর ফার্মটি দেখতে আমার কাছে সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে। অনেক সুন্দর একটি জায়গা ভ্রমণ করে আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য ভাইয়া আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
জায়গাটি বেশ পরিপাটি করে সাজানো গোছানো রয়েছে এখনো। যদিও মূল মালিক এখন সেখানে অনুপস্থিত। এই ব্যাপারটা দেখে বেশ ভালো লাগলো।
ফটোগ্রাফগুলো ভাই অনেক চমৎকার যেন একটি ছোটখাটো চিড়িয়াখানা। জনগণের টাকা আত্মসাৎ করে এভাবে রাজমহল তৈরি করা হয়েছে। সময় সময় অন্যান্য আমলা মন্ত্রীদের অবস্থাও এমন হবে।
ঠিকই বলেছেন জনগণের টাকা লুটপাট করেই এই ধরনের রাজমহল তৈরি হয়।