আমার সাজেক ভ্রমণের অভিজ্ঞতা (প্রথম পর্ব)। ১০% প্রিয় লাজুক খ্যাঁক এর জন্য।

কেমন আছেন আমার বাংলা ব্লগের বন্ধুরা? আমি ভালো আছি। আশাকরি আপনারা ও ভালো আছেন।


দীর্ঘদিন থেকে পরিকল্পনা করছিলাম দূরে কোথাও ঘুরতে যাবো। কিন্তু যতবারই পরিকল্পনা করি ততোবারই কোনো না কোনো কারণে সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। নানা রকম সমস্যার কারণে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারছিলাম না। কিন্তু এবার মাথায় জিদ চেপে গেলো। এবার ঠিক করলাম যে করেই হোক কোথাও ঘুরতে যাবোই। বন্ধু ফেরদৌসকে বললাম চলো সাজেক থেকে ঘুরে আসি। ও প্রথমে রাজি ছিল না। পরে আমার জোরাজুরিতে যেতে রাজি হল।

IMG_20211222_020830.jpg

স্থান- লিংক

ও রাজি হওয়ার পর ও ওকে নিয়ে আমি খুবই টেনশনে ছিলাম। কারণ শেষ মুহূর্তে যে কোন সময় ওর পরিকল্পনা পাল্টে যেতে পারে। এটা ওর পুরনো অভ্যাস। ওকে আমি বলেছিলাম যদি এবার তুমি আমার সাথে ঘুরতে না যাও তাহলে আমি তোমাকে ছাড়া একাই চলে যাবো। যাহোক দেখতে দেখতে যাত্রার দিন চলে আসলো। সকাল নটার ভেতর আমাদের বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছানোর কথা ছিলো। আটটার দিকে আমি আমার বন্ধু ফেরদৌসকে ফোন দিতে লাগলাম। কিন্তু সে ফোন ধরছিল না। বেশ কয়েকবার চেষ্টা করার পর আমি ক্ষান্ত দিলাম। আমি সমস্ত কিছু গুছিয়ে তৈরি ছিলাম রওনা দেয়ার জন্য। কিন্তু ফেরদৌস ফোন না ধরাতে আমি কাপড় চোপড় পাল্টে শুয়ে পড়লাম।

IMG_20211222_001748.jpg

IMG_20211222_020825.jpg

স্থান- লিংক

প্রচন্ড রাগ হচ্ছিল ফেরদৌসের উপর। হঠাৎ কয়েক মিনিট পরে আমার নাম্বারে ফেরদৌস ফোন দিল। আমি ফোন ধরেই ওকে ঝাড়ি দিলাম। আমি শুনতে পেলাম ও হাসছে। তারপর ও আমাকে জানালো আমাকে রাগানোর জন্যই সে ফোন ধরেনি। তারপর আমাকে জানালো ১৫ মিনিটের ভিতরে বাসস্ট্যান্ডে আসছে। তারপর আমি দ্রুত কাপড়চোপড় পরে রওনা দিলাম। এর ভেতরে জানতে পারলাম ওর ব্যাংক থেকে টাকা উঠাতে হবে। কিন্তু আমরা যখন ব্যাংকে পৌঁছেছি তখন সবেমাত্র নটা বাজে। যার ফলে সেখানে আমাদের আরো এক ঘন্টা লেট হল।

যাই হোক শেষ পর্যন্ত আমরা বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছলাম। সেখানে আরেক বিপত্তি ঘটলো। বাসস্ট্যান্ডে আমার এক পরিচিত লোক আছে। সে জানালো ঘাটে প্রচন্ড জ্যাম। যার ফলে আমরা পরামর্শ করলাম আমরা ভেঙে-ভেঙে ঢাকা পর্যন্ত যাবো। যাতে সময় খুব একটা বেশি না লাগে। শেষ পর্যন্ত নানা রকম বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে আমরা ঢাকা পৌছালাম। ঢাকা গাবতলী স্ট্যান্ড থেকে খাগড়াছড়ি যাওয়ার টিকিট কাটলাম। কারণ সাজেক যেতে হলে প্রথমে খাগড়াছড়ি যেতে হবে। শীতের দিন থাকায় নন এসি বাসের টিকিট কেটে ছিলাম। ঢাকায় পৌঁছে আমার বোনের বাসায় খাওয়া দাওয়া সেরে রেস্ট নিলাম।

তারপর রাত দশটার দিকে সায়দাবাদ বাস স্ট্যান্ড এর উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। সেখানে পৌছে আর ও এক সমস্যার সম্মুখীন হলাম। কাউন্টার এর লোকজন আমাদের কাছে সঠিক তথ্য দিচ্ছিল না বাসের ব্যাপারে। আমাদের বাস আসার কথা ছিল রাত এগারোটায়। সেই বাস পৌঁছলো রাত বারোটার পরে। তারপর আমাদেরকে না নিয়েই বাস চলে যাচ্ছিল। পরে কাউন্টারের এক কর্মচারীর সহায়তায় আমরা বাসে উঠতে পারলাম।

বাসে উঠে হঠাৎ করে খেয়াল করে দেখি আমার পকেটে মোবাইল নেই। সাথে সাথে প্রচন্ড ভয় পেয়ে যাই। পরে বন্ধু ফেরদৌস কে বলি আমার নাম্বারে রিং দিতে। আমি ধরেই নিয়েছিলাম মোবাইলটি আমার পকেট থেকে রাস্তায় কোথাও পড়ে গিয়েছে। আর এমনটা হলে মোবাইল ফিরে পাওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই। কিন্তু ফেরদৌস আমার মোবাইলে ফোন দিয়ে বলে রিং হচ্ছে। তখন আমি হঠাৎ করে তাকিয়ে দেখি আমার সিটের নিচে আলো জ্বলছে। আমার পকেট থেকে মোবাইলটি আমার সিটের নিচে পড়ে গিয়েছে। পিছনের সিটের যাত্রীর সহায়তায় আমি মোবাইলটি ফেরত পেলাম। মোবাইলটি ফেরত পেয়ে মনে হচ্ছিল বড় বাঁচা বেঁচে গেলাম।

খুব টায়ার্ড লাগছিল। বাস চলতে শুরু করলে আমি ঘুমিয়ে পড়লাম। বেশ কিছুক্ষণ পর বন্ধু ফেরদৌসের ডাকে আমার ঘুম ভাঙলো। ঘুম ভেঙে দেখি কুমিল্লা পৌঁছে গিয়েছি। সেখানে একটি হাইওয়ের রেস্টুরেন্টে আমাদের খাওয়ার ব্যবস্থা করেছিল বাস কর্তৃপক্ষ। সেখানকার খাওয়া-দাওয়া করব শেষ করে আমরা খাগড়াছড়ি এর উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম।


IMG_20211222_020257.jpg

IMG_20211222_020253.jpg

IMG_20211222_020242.jpg

IMG_20211222_020239.jpg

IMG_20211222_020234.jpg

IMG_20211222_020223.jpg

IMG_20211222_020214.jpg

IMG_20211222_014359.jpg

IMG_20211222_014350.jpg

স্থান- লিংক


আজ এ পর্যন্তই। পরবর্তীতে আপনাদের সাথে দেখা হবে এই ভ্রমণ অভিজ্ঞতার দ্বিতীয় পর্ব নিয়ে। সে পর্যন্ত সবাই ভাল থাকুন সুস্থ থাকুন।


logo.png

Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power

250 SP500 SP1000 SP2000 SP5000 SP

Heroism_3rd.png

standard_Discord_Zip.gif

🇧🇩🇧🇩ধন্যবাদ🇧🇩🇧🇩


@rupok


Polish_20211012_184119287.jpg

আমি রূপক। আমি একজন বাংলাদেশী। আমি বাঙালি। আমি বাংলায় মনের ভাব প্রকাশ করতে ভালোবাসি। আমি আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটিকেও ভালোবাসি।

Sort:  
 4 years ago 

  • সাজেক যাওয়ার অনেক ইচ্ছে রয়েছে আমার। অনেকদিন পর্যন্ত যাওয়ার চেষ্টা করেও যেতে পারেনি। আমার খুব পছন্দের একটি স্থান এটি। ভাই যাওয়ার আগে বলতেন আমি সহ যাইতে পারতাম?
 4 years ago 

সাজেক খুব সুন্দর একটি জায়গা। বাংলাদেশের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর এবং মনোরম কোন দৃশ্যের জায়গা থাকলে তার মধ্যে সাজেক অন্যতম। যদিও আমি এখনো পর্যন্ত সাজেক যায়নি তবে আমার সহধর্মিনী তার কলেজ থেকে একবার সাজেক ট্যুর এ গিয়েছিল এবং সেখানকার খুব সুন্দর সুন্দর দৃশ্য ধারণ করে আমাকে দেখিয়েছিলো বেশ ভালো লেগেছে আমার।
কাছে কোন একবার আমিও সাজেক ভ্রমণ করব ইনশাআল্লাহ।
খুব সুন্দর একটি ভ্রমণের অভিজ্ঞতা আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন আপনি ভাইয়া। আপনার যাত্রা শুভ হোক এবং সুস্থতা কামনা করছি।

 4 years ago 

সাজেক খুব সুন্দর জায়গা। এ সম্পর্কে ইউটিউবে অনেক ব্লগ ভিডিও দেখেছি। সাজেকে যাওয়ার ইচ্ছা আছে আমার। ইনশাআল্লাহ একদিন পূরণ হবে। আপনার পোস্টটি পড়ে ভালো লাগলো। ধন্যবাদ আপনাকে।

 4 years ago 

সাজেকের নাম আমি অনেক শুনেছি। ইউটিউবে ভিডিও দেখেছি বেশ। ঐ সৌন্দর্য হয়তো ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। অবশ্যই যাবো একবার। সাজেক নিয়ে পরবর্তী পোষ্ট গুলো দেখার অপেক্ষায় রইলাম দাদা। আর যে দিন ভোগান্তি শুরু হয় সব দিক দিয়ে শুরু হয়। অনেক প্রতিবন্ধকতার মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু হলেও আশা করি পরবর্তী মুহূর্ত গুলো অনেক সুন্দর কেটেছে।

দাদা আপনার মতো সেইম আমিও ভ্রমনের ভূত মাথায় চেপে বসলে সেটা কখনই নামাতে পারিনা। পাহাড়ের সৌন্দর্য মুলত এই সময় টাই। তবে সাবধানে থাকবেন দাদা।এখন কুয়াশা পড়ে পথ পিচ্ছিল হয়ে থাকে। শুভকামনা দাদা আপনার জন্য।আপনার ভ্রমন টি সুন্দর হোক

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.077
BTC 63918.14
ETH 1660.03
USDT 1.00
SBD 0.42