দুই বন্ধুর ঘোরাঘুরি সাথে হাল্কা খাওয়া দাওয়া।
গত কয়েকদিন ধরে ফেসবুকে ফরিদপুরের একটি রেস্টুরেন্টের খাবার নিয়ে বেশ পজেটিভ রিভিউ দেখতে পাচ্ছিলাম। সেই রেস্টুরেন্টের খাবারগুলির ভেতরে একটি ছিল আমার অত্যন্ত প্রিয় খাবার। সেটা হচ্ছে এক ধরনের ইন্ডিয়ান ডিস ছোলে বাটুরে। এই খাবারটা আমার অত্যন্ত পছন্দের একটি খাবার। ফরিদপুরে এক সময় কিছু রেস্টুরেন্টে এই খাবারটি পাওয়া যেতো। কিন্তু এখন বেশিরভাগ রেস্টুরেন্ট থেকেই ইন্ডিয়ান কুইজিন প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছে।
তাই গতকাল ফেরদৌসের সঙ্গে বাইরে যাওয়ার আগে থেকেই পরিকল্পনা করেছিলাম ঘোরাফেরা শেষে দুই বন্ধু ওই রেস্টুরেন্ট থেকে খেয়ে তারপর বাড়িতে ফিরব। ঘোরাফেরার শেষ করে আড্ডা দিয়ে আসতে আসতে আমাদের প্রায় সন্ধ্যা হয়ে গিয়েছিল। আমি আসার সময় চিন্তা করছিলাম একবারে মাগরিবের নামাজ পড়ে সে রেস্টুরেন্টে ঢুকবো কিনা? আবার চিন্তা করলাম এখনো ২০ মিনিট সময় আছে। যদি তাড়াতাড়ি খাবার পরিবেশন করে তাহলে খাওয়া দাওয়া শেষ করে নামাজ পড়ে নেয়া যাবে। সেই চিন্তাতেই রেস্টুরেন্টটিতে ঢুকলাম।
রেস্টুরেন্টটি শহর থেকে কিছুটা বাইরে অবস্থিত। রেস্টুরেন্টটির ডেকোরেশন এমন আহামরি কিছু না। তবে অল্পের ভেতর তারা খুব সুন্দর করে গোছগাছ করে রেখেছে। রেস্টুরেন্টটি বন্ধু-বান্ধব বা পরিবার-পরিজন নিয়ে সময় কাটানোর জন্য একটি ভালো স্থান মনে হলো আমার কাছে রেস্টুরেন্টটি। আমরা যখন সেখানে পৌছলাম তখন প্রায় সন্ধ্যা হয় হয় অবস্থা। আমি কিছুটা দোনোমনা অবস্থায় রেস্টুরেন্টে ঢুকলাম। একবার চিন্তা করছিলাম নামাজ পড়েই ঢুকি। আবার চিন্তা করলাম যদি তারা তাড়াতাড়ি খাবারটা সার্ভ করতে পারে তাহলে খাবার শেষ করে নামাজ পড়া যাবে। সেখানে গিয়ে বসে আমরা দুই বন্ধু গল্প করতে করতে খাবারের অর্ডার করলাম। যে খাবার খাওয়ার উদ্দেশ্যে গিয়েছিলাম সেই খাবারটি দুজনের জন্য অর্ডার করেছিলাম। কিন্তু খাবার অর্ডার করার পরে বুঝতে পারলাম যে নামাজের আগে আর খাবার দেয়ার সম্ভাবনা নেই।
অগত্যা কি আর করা ? যেহেতু খাবার অর্ডার করে ফেলেছি তাই বসে খাবারের জন্য অপেক্ষা করতে লাগলাম। রেস্টুরেন্টটি আমাদের দুজনের কাছেই বেশ পছন্দ হলো। আশেপাশের পরিবেশ মোটামুটি বেশ নিরিবিলি। রেস্টুরেন্টটির অপজিটে রয়েছে ফরিদপুর ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট। একটা সময় এই রাস্তা দিয়ে আমাদের অনেক যাতায়াত ছিলো। কারণ আমরা যে কলেজে অনার্স পড়েছি সেই কলেজটির অবস্থান এই রাস্তা থেকে একটু সামনেই। তখন অবশ্য এই রাস্তার আশেপাশে তেমন কোন বাড়িঘর বা দোকানপাট ছিল না। শুধু একটি কলেজ ছিল। আর বাদবাকি সব জায়গায় ছিল ফসলের জমি। কয়েক বছরের ব্যবধানে এই এলাকাটা কতটা পরিবর্তন হয়েছে সেটাই চিন্তা করছিলাম।
যাইহোক এভাবে দুজন মিলে আড্ডা দিতে দিতে আমাদের খাবার চলে এলো। খাবারটা দেখেই বুঝতে পারছিলাম খেতে বেশ ভালই হবে। এদিকে ইতিমধ্যে আযান দিয়ে দিয়েছে। তাই আমার চিন্তা ছিল তাড়াতাড়ি খাবার শেষ করে নামাজটা আদায় করতে হবে। সেজন্য আমি বেশ তাড়াতাড়ি খাওয়া-দাওয়া শেষ করলাম। তবে খাবার মুখে দেয়ার পর আসলেই অনেক ভালো লেগেছিল। আমরা দুজনেই খাবারটা বেশ পছন্দ করেছিলাম। খাওয়া-দাওয়া শেষ করে বিল পরিশোধ করে আমি ফেরদৌসকে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে বললাম। এর ভেতরে আমি নামাজ আদায় করে এলাম। সেখান থেকে বাড়ি ফেরার আগে দুজনে মিলে পরামর্শ করলাম এখানে আবার আসতে হবে। আর আমি পরিকল্পনা করেছি দু চার দিনের ভেতরে সেখানে একবার পরিবার নিয়ে যাবো। এমনিতেই আমার পরিবার বাইরে খেতে খুবই পছন্দ করে। আর যদি এই ধরনের নিরিবিলি খোলামেলা পরিবেশ পায় তাহলে তাদের ভালই লাগবে।
একটি কথা বলতে তো ভুলেই গিয়েছি। রেস্টুরেন্টের সার্ভিস ছিল খুবই ভালো। তারা বেশ আন্তরিকতার সাথে খাবার পরিবেশন করেছে এবং কোনরকম অসুবিধা আছে কিনা বারবার জানতে চেয়েছে। বিল পরিশোধ করে যখন আমরা বাইরে আসবো তখন ওয়েটার আমাদেরকে ফুটনোট লেখার মত কাগজ দিয়ে বলল আপনারা ইচ্ছা করলে কিছু লিখতে পারেন। আমরা রেস্টুরেন্টে ঢুকার পর খেয়াল করে দেখেছি একটি ওয়ালে ছোট ছোট অনেকগুলি কাগজ লাগানো আছে। প্রথমে বুঝতে পারিনি সেগুলি কি। পরে ফেরদৌস বললো সেগুলো হচ্ছে রেস্টুরেন্টে আগত অতিথিদের বিভিন্ন কমেন্টস। আমিও একটি কাগজে একটি কমেন্টস লিখে সেখান থেকে চলে এলাম।
আজকের মত এখানেই শেষ করছি। পরবর্তীতে আপনাদের সাথে দেখা হবে অন্য কোন নতুন লেখা নিয়ে। সে পর্যন্ত সবাই ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন।
| ফটোগ্রাফির জন্য ব্যবহৃত ডিভাইস | হুয়াই নোভা 2i |
|---|---|
| ফটোগ্রাফার | @rupok |
| স্থান | কমলাপুর |
Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
Support @Bangla.Witness by Casting your witness vote
Support @Bangla.Witness by Casting your witness vote
VOTE @bangla.witness as witness
OR
আশা করি ভাইয়া ভালো আছেন? দুই বন্ধু মিলে খুব সুন্দর মুহূর্ত অতিবাহিত করেছেন? সন্ধ্যার মুহূর্তে দুজনে আড্ডা দেওয়া, খাওয়া-দাওয়া সত্যিই বেশ সুন্দর সময় কাটিয়েছেন। স্টুডেন্টের পরিবেশ খুবই সুন্দর। বলা যেতে পারে রেস্টুরেন্টের উদ্যেগ খুব অসাধারণ অতিথিদের কমেন্ট ব্যক্ত করার সুযোগ রেখেছে। আপনিও আপনার মনের অনুভূতি লিখে দিয়েছেন। ধন্যবাদ এত সুন্দর পোস্ট শেয়ার করার জন্য ভাইয়া, ভালো থাকবেন।
রেস্টুরেন্টের রিভিউ ভীষণ ভালো লাগলো। যে রেস্টুরেন্টের সার্ভিস বেশি ভালো আমার কাছে সে রেস্টুরেন্ট সবকিছু ভালো লাগে। আপনার খাবারের ছবিগুলো দেখে বেশ ভালো লাগছে। রেস্টুরেন্টের আগত অতিথিদের কমেন্টসের ব্যাপারটা ইউনিক ছিল। বেশ ভালো লেগেছে ব্যাপারটি আমার কাছে।
আপনারা দু'বন্ধুতে বেশ ঘুরে বেড়ান দেখছি। আপনার ঘুরে বেড়ানোর পোস্ট পড়ে ফরিদপুর সম্পর্কে জানতে পারছি।ঘুরে বেরানোর মুহুর্ত শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।
ভিন্ন ভিন্ন রেস্টুরেন্ট গিয়ে ভিন্ন ভিন্ন রেসিপির স্বাদ গ্রহণ করাটা আমার খুবই ভালো লাগে। তাই মনে হচ্ছিল এরকম সুন্দর একটি রেস্টুরেন্টে গিয়ে বন্ধুর সাথে আড্ডা দিতে দিতে খাবারের স্বাদ গ্রহণ করতে পারলে মন্দ হতো না। তবে আমি এই প্রথম কোন রেস্টুরেন্টের কথা শুনলাম যেখানে মনের ভাব প্রকাশ করে কমেন্ট লিখে আসা যায়। আর আপনি তো পোষ্টের মাধ্যমে জানিয়ে দিয়েছেন, রেস্টুরেন্টের সার্ভিস খুব ভাল ছিল এবং তারা আন্তরিকতার সাথে আপনাদের প্রয়োজনীয় কিছু লাগবে কিনা জিজ্ঞেস করছিল। একটি রেস্টুরেন্টের পরিবেশ ও তাদের সার্ভিস যদি ভালো থাকে, তাহলে সেই রেস্টুরেন্টের বিষয়ে ভালো মন্তব্য না করলেই নয়। যাইহোক ভাইয়া, দুই বন্ধুর ঘোরাঘুরির সাথে হালকা খাওয়া-দাওয়া নিয়ে খুব সুন্দর একটি পোস্ট শেয়ার করার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ।
রেস্টুরেন্টটি আসলেই অনেক সুন্দর ।সময় করে আবার যেতে হবে কোন একদিন।
দু বন্ধু খুব ঘোরাঘুরি করলেন। আপনাদের বেড়ানোর অনুভূতি গুলো পড়লে বেশ ভাল লাগে। রেস্টুরেন্টে আবার খাওয়া দাওয়া ও করলেন।খাবার গুলো বেশ ভাল ছিল।অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া শেয়ার করার জন্য।