একলা চলো রে-নিঃসঙ্গ ঘোরাঘুরির অভিজ্ঞতা (পঞ্চম পর্ব)।
বিমান বাহিনী জাদুঘরে ঢুকে সবচাইতে প্রথমে আমার কাছে যে জিনিসটা ভালো লেগেছে। সেটা হচ্ছে পুরো জাদুঘরের পরিবেশট। পুরো জাদুঘরের এরিয়া চমৎকারভাবে সাজিয়ে গুছিয়ে রাখা হয়েছে। আর পুরো এলাকা জুড়ে সবুজের ছোঁয়া দেখতে পেলাম। আমাদের দেশের আর্মি, নেভি বা বিমান বাহিনীর লোকজন যে সমস্ত এলাকার দায়িত্বে থাকে। সে সমস্ত এলাকা একদম ছবির মত সাজানো গোছানো থাকে। কোথাও এক চিলতে ময়লা ও আপনি খুঁজে পাবেন না।
কিন্তু এই সমস্ত এলাকা থেকে বাইরে গেলে চিত্র সম্পুর্ন ভিন্ন। যাইহোক আমি যখন পুরো জাদুঘরটি ঘুরেফিরে দেখছিলাম। তখন জাদুঘরের একপাশে দেখতে পেলাম বাচ্চাদের খেলাধুলার বেশ আয়োজন রয়েছে। সেখানে বিভিন্ন রকম রাইড রয়েছে বাচ্চাদের জন্য। তাছাড়া বিভিন্ন প্রাণীর ভাস্কর্য তৈরি করে রাখা হয়েছে অনেক জায়গায়। আর দর্শনার্থীদের বসার জন্য মাঝে মাঝে চমৎকার ব্যবস্থা করে রাখা হয়েছে। বাচ্চাদের পার্ক যে পাশে তৈরি করা হয়েছে সেখানকার পরিবেশ আসলেই অত্যন্ত চমৎকার।
আমি যখন সেখানে গিয়েছিলাম তখন দুপুর হয়েছে সবে। সেজন্য লোকজনের আনাগোনা খুব বেশি ছিল না। তবে অনেকের কাছ থেকে শুনেছি বিকালে সেখানে নাকি প্রচুর লোকসমাগম হয়। অবশ্য সেখানে পরিবেশ এতটাই সুন্দর লোকসমাগম হওয়াটাই স্বাভাবিক। বাচ্চাদের জন্য যে রাইডগুলো রাখা আছে সেগুলোতে চড়তে হলে প্রত্যেকটার আলাদা টিকিট কাটতে হবে। তাছাড়া সেখানে আলাদা দুটো টয় ট্রেন দেখতে পেয়েছি। যেগুলিতে করে পার্কে আগত দর্শনার্থীরা তাদের বাচ্চাদের নিয়ে ঘুরতে পারে।
এগুলি ছাড়াও পার্কের এক পাশে রয়েছে একটি বড় আকারের পুকুর। সেখানে আপনি প্যাডেল বোটে ঘুরে বেড়াতে পারবেন। এছাড়াও আরো নানা রকমের আয়োজন রয়েছে। যেমন থ্রিডি মুভি দেখার ব্যবস্থা রয়েছে সেখানে। ভিডিও গেম খেলার ব্যবস্থা রয়েছে। আরো রয়েছে বাম্পার কার। পার্কটিতে ঘোরার সময় মনে মনে পরিকল্পনা করেছি। এর পরের বার পরিবার নিয়ে ঢাকায় আসলে আমার মেয়েকে নিয়ে এই পার্কে থেকে ঘুরে যাব। বাচ্চারা এই সমস্ত জায়গায় আসতে পারলে খুবই খুশি হয়। আমার মেয়ে এমনিতেই পার্কের রাইডগুলোতে চড়তে খুব পছন্দ করে।
যদিও আমাদের শহরে একটিমাত্র পার্ক রয়েছে। সেই পার্কটির অযত্নে অবহেলায় খুব খারাপ অবস্থা হয়েছে। ঢাকার ইট পাথরের এই জঙ্গলের ভেতর এমন চমৎকার প্রাকৃতিক পরিবেশ। যেখানে পড়তে পড়তে রয়েছে সবুজের ছোঁয়া। এমন জায়গায় ঘুরতে কার না ভালো লাগে। বিমানবাহিনী জাদুঘরের ভেতরে প্রবেশ করার পর আপনার মনে হবে না আপনি ঢাকা শহরে আছেন। কারণ সেখানকার পরিবেশ খুবই চমৎকার। যাই হোক আমি ঘুরে ফিরে পুরো পার্কটি দেখার পর সেখান থেকে বের হয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। অবশ্য বিমান বাহিনী জাদুঘরের ভেতরে বেশ কয়েকটি দোকান রয়েছে। দুটি রেস্টুরেন্টও দেখতে পেলাম সেখানে। আবার একটি দোকান দেখতে পেলাম যেখানে শুধু আচার বিক্রি হচ্ছে। আচারগুলো দেখতে লোভনীয় হলেও স্বাস্থ্য ঝুঁকির কথা চিন্তা করে লোভ সংবরণ করলাম।
আজকের মতো এখানেই শেষ করছি। পরবর্তীতে আপনাদের সাথে দেখা হবে অন্য কোনো নতুন লেখা নিয়ে। সে পর্যন্ত সবাই ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন।
| ফটোগ্রাফির জন্য ব্যবহৃত ডিভাইস | হুয়াই নোভা 2i |
|---|---|
| ফটোগ্রাফার | @rupok |
| স্থান | আগারগাঁও |
Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
Support @Bangla.Witness by Casting your witness vote
Support @Bangla.Witness by Casting your witness vote
VOTE @bangla.witness as witness
OR
যতো গুলো রাইড দেখলাম আপনার মেয়ে এই পার্কে ঢুকলে সে আর সারাদিন বেরোবে না। হাঃ হাঃ।
সত্যি বলতে, এই অ্যামিউডস পার্ক গুলো যদি একটু সরকারের তরফ থেকে রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়, তবে বাচ্চারা সারাদিনের মোবাইল নিয়ে পড়ে না থেকে বরং এ ধরনের পার্কে গিয়ে ছোটাছুটি,খেলাধুলা করার জন্য উৎসাহী হয়ে উঠবে। সরকারের উচিত এই ধরনের উদ্যোগগুলোকে আরো সাদরে গ্রহন করার। এতে করে বাচ্চাদের মোবাইলের নেশাটা তাও যদি একটু ছাড়ানো যায়। আমরা তো এখনো এমন অ্যামিউজ পার্ক দেখলে মনে হয় যে যদি একটু খেলতে পারতাম।
অনেক ভাল লাগলো ভাইয়া আপনার আজকের ব্লগটি পড়ে। পার্কের ছবি দেখে মনটা শান্তি পেল।এমন পরিবেশে বাচ্চারা খুব আনন্দ পাবে।আপনার পোস্টের মাধ্যমে অনেক কিছু জানতে পারলাম, ভাল লাগলো। অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া আপনাকে।